বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রেমের জেলখানা

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। গাঁয়ের মাঝখানে কাকাবাবুর খামার। সেখানে হাঁস-মুরগির ভিড় লেগেই থাকে। মোরগরা সকালে ডাকে, হাঁসরা টুংটাং করে হেঁটে বেড়ায়, আর খামারের মালিক প্রতিদিন ডিম কুড়িয়ে নিয়ে হাসিমুখে বাজারে যায়। কিন্তু সবার অগোচরে খামারের ভেতর ঘটছিল এক অদ্ভুত কাহিনি। এক মোরগ আর এক হাঁস একদিন হঠাৎ করে একে অপরের চোখে চোখ রাখল। প্রথমে মোরগটা ভেবেছিল, হাঁসটা হয়তো তার দিকে রাগ করে তাকাচ্ছে—কারণ মোরগের স্বভাবই হলো বড় গলায় ডাকাডাকি। কিন্তু হাঁস যখন ঠোঁট নামিয়ে লাজুক ভঙ্গিতে জলে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখল, তখন মোরগ টের পেল—এটা রাগ নয়, অন্য কিছু। মনের ভেতর এক অচেনা ধকধকানি। হাঁসটাও একই অবস্থা। দুজনার মধ্যে গোপন প্রেম শুরু হলো। মোরগ তার ঝকঝকে লাল ঝুঁটির কথা বলে হাঁসকে হাসাতো, হাঁস পাল্টা তার চওড়া ঠোঁট দিয়ে মোরগকে খোঁচা মারত। অন্য হাঁসেরা আর মুরগিরা আড়চোখে তাকিয়ে বলত, “অরে বাবা! স্বজাতি ভুলে প্রেম নাকি?” খামারের গুজব ছড়িয়ে পড়তে দেরি হলো না। শেষমেশ মালিকও টের পেল। তিনি গম্ভীর মুখে ঘোষণা দিলেন— “এরা নিয়ম ভেঙেছে। স্বজাতির বাইরে প্রেম মানা যায় না। তাই সাজা হবে।” আর সেই সাজা হলো—ওদের দুজনকে পাঠানো হলো জেলখানায়! ________________________________________ জেলখানায় ঢোকার পর হাঁসটা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। চারপাশে উঁচু দেয়াল, লোহার শিক। মোরগ দম ফেলে বলল, “হাঁস, আমাদের প্রেম বুঝি কারাগারে শেষ?” হাঁস চোখ মুছে বলল, “না গো, প্রেম কি দেয়ালে আটকে যায়? প্রেম তো পালকের মতো, উড়ে যায় আকাশে।” কথা শুনে মোরগের বুকটা কেমন নরম হয়ে গেল। কিন্তু হঠাৎ মনে এক ভয়ানক প্রশ্ন এসে ধাক্কা দিল। সে হাঁসকে জিজ্ঞেস করল, “হাঁস, ওরা কি আমাদের পালক ছেঁটে দেবে?” হাঁস হতবাক হয়ে তাকাল। “আমি তো জানি না। তুমি বরং ওই কোনায় বসে থাকা ইঁদুর ভায়াকে জিজ্ঞেস করো।” মোরগ তাড়াতাড়ি ডেকে উঠল— “ইঁদুর ভায়া, বলুন তো, ওরা কি আমাদের পালক ছেঁটে দেবে?” অন্ধকার কোণ থেকে গম্ভীর গলা এলো— “আমি ইঁদুর না, শজারু!” পুরো কারাগার কেঁপে উঠল হাসিতে। হাঁস তো হেসে গড়িয়ে পড়ল, পালকের ঝাপটায় মেঝে ভরে গেল। মোরগ লজ্জায় ঝুঁটি চুলকালো, কিন্তু মনের মধ্যে এক শান্তি নেমে এলো—এখনও হাসতে পারছে মানে, প্রেম মরে যায়নি। ________________________________________ শজারু তাদের কাছে এসে বলল, “তোমাদের প্রেমের কাহিনি শুনে আমি অবাক হইনি। পৃথিবীতে যত বৈষম্যই থাকুক, প্রেম তার পথ খুঁজে নেয়। তবে পালক কাটার ভয় কোরো না। এখানে ওরা শুধু কাগজ কাটে, পালক না।” মোরগ-হাঁস দুজনেই হেসে ফেলল। ধীরে ধীরে জেলখানাটা তাদের কাছে ভয়ঙ্কর জায়গা মনে হলো না। অন্য কয়েদিদের সঙ্গে গল্প শুরু হলো—কেউ টিয়া পাখি, কেউ কবুতর, কেউ বা একটা ভ্যাঙ। সবাই তাদের আলাদা আলাদা অপরাধের গল্প বলে। কেউ বলল, “আমি বাজারের চাল চুরি করেছিলাম।” কেউ বলল, “আমি তো শুধু গান গেয়েছিলাম, সেটাকেই নাকি বিশৃঙ্খলা বলেছে।” মোরগ-হাঁসের প্রেমের গল্প শুনে সবাই একসাথে তালি দিল। টিয়া পাখি চিৎকার করে উঠল, “প্রেম বন্দি হয় না, প্রেম স্বাধীন!” ________________________________________ দিন কেটে যেতে লাগল। জেলের ভেতর সবার কাছে মোরগ-হাঁস হয়ে উঠল অনুপ্রেরণা। যেখানেই তারা হাঁটত, সেখানেই হাসির ফোয়ারা। মোরগ মাঝে মাঝে হাঁসের জন্য গান গাইত—“কুঁকড়ু কুঁক…”, আর হাঁস উত্তর দিত—“প্যাক প্যাক…”। দুই ভিন্ন সুর একসাথে মিলে গিয়ে এক অদ্ভুত সিম্ফনি তৈরি করত। একদিন কারারক্ষী এসে দাঁড়িয়ে হেসে বলল, “তোমাদের কারণে এই জেলখানার পরিবেশ পাল্টে গেছে। আগে এখানে শুধু হাহাকার ছিল, এখন হাসি।” অবশেষে খবর গেল খামারের মালিকের কানে। তিনি এলেন দেখতে। ভেতরে ঢুকে দেখলেন, মোরগ-হাঁসকে ঘিরে হাসির ঝড়। টিয়া পাখি কবিতা পড়ছে, শজারু নাচছে, আর সবাই হাততালি দিচ্ছে। মালিক থমকে দাঁড়ালেন। তিনি ভাবলেন— “আমি তো শাস্তি দিতে এনেছিলাম, অথচ এরা আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রেম যদি এমন শক্তি হয়, তবে এর শাস্তি নয়, স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।” ________________________________________ শেষমেশ মোরগ আর হাঁসকে মুক্তি দেওয়া হলো। খামারের গেট খুলে দেওয়া হলো, আর মালিক ঘোষণা দিলেন, “আজ থেকে খামারে কোনো বৈষম্য নেই। প্রেমের স্বাধীনতা সবার।” মোরগ খুশিতে ঝুঁটি দুলিয়ে হাঁসকে বলল, “দেখলে হাঁস, জেলখানাই আমাদের প্রেমকে শক্তি দিল।” হাঁস ঠোঁট টিপে হেসে বলল, “হ্যাঁ গো, প্রেমে জেল হলে কি আসে যায়? যতক্ষণ আমরা একসাথে হাসতে পারি, ততক্ষণ সব জেলই ফুলের বাগান।” পুরো খামারে সেই দিন উৎসব হলো। মুরগি, হাঁস, কবুতর, সবাই নাচল, গান গাইল। আর মাঝখানে মোরগ আর হাঁস দাঁড়িয়ে হাসল, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাধীন প্রাণী তারা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now