বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
স্কুলে সেদিন এক অদ্ভুত হাসাহাসির দিন। গণিতের স্যার মিজানুর রহমান ক্লাসে ঢুকেই বড় বড় গলায় বলে উঠলেন,
— আজ আমি তোমাদের এক নতুন ধরনের অঙ্ক করাবো। অঙ্কটা হবে একটু ভিন্ন, একটু টুইস্টেড।
ছাত্ররা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। সাধারণত স্যার বোর্ডে চক দিয়ে বড় বড় সমীকরণ লিখতে শুরু করেন, আর ছাত্ররা একে একে গোগ্রাসে হাই তোলে। কিন্তু আজকের স্যারের চোখ-মুখে অন্যরকম ঝলক।
তিনি সোজা বল্টুর দিকে তাকালেন। বল্টু এমনিতেই স্যারের কাছে প্রায়শই হাসির পাত্র। বল্টু দাঁড়িয়ে যেতেই স্যার প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন,
— বল্টু বল তো, একটি ট্রেন যদি ঘণ্টায় সত্তর মাইল বেগে যায়, তাহলে আমার বয়স কত?
ক্লাস ফেটে পড়ল হাসিতে। প্রশ্ন শুনে সবাই ভেবেছিল স্যার হয়তো ভুল করে ফেলেছেন। কিন্তু স্যারের চোখে-মুখে এমন এক রহস্যময় হাসি, তাতে মনে হলো তিনি একেবারে সিরিয়াস।
বল্টু মাথা চুলকাতে লাগল। হঠাৎ চিৎকার করে বলল,
— স্যার, এটা তো একদম অর্থহীন প্রশ্ন! ট্রেনের গতি আর আপনার বয়সের মধ্যে কী সম্পর্ক?
ক্লাস খিলখিল করে হেসে উঠল। কিন্তু হঠাৎই পলি নামের ছাত্রীটি হাত তুলল। পলি ক্লাসের মধ্যে একটু ভিন্ন ধরনের মেয়ে— সব বিষয়ে কেমন যেন অদ্ভুত কিন্তু মজার উত্তর দেয়।
স্যার তাকালেন,
— হ্যাঁ পলি, তুমি পারবে?
পলি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে বলল,
— স্যার, আপনার বয়স চল্লিশ।
স্যার খানিকটা অবাক হয়ে গেলেন, আবার চোখ বড় বড় করে বললেন,
— হ্যাঁ, ঠিকই বলেছো! কিন্তু কীভাবে বুঝলে?
পলি গম্ভীর মুখে উত্তর দিল,
— আমাদের পাড়ায় একজন আধা পাগল আছে, তার বয়স বিশ। আপনি পুরো পাগল, তাই আপনার বয়স চল্লিশ!
এক মুহূর্তের জন্য পুরো ক্লাস স্তব্ধ। তারপর হট্টগোল। সবার হাসি থামছেই না। স্যারও হেসে ফেলে বললেন,
— বাপরে! তোমাদের যুক্তির সামনে আমার গণিতও হেরে গেল।
এরপর থেকে স্কুলে একটা নতুন খেলা শুরু হলো। ছাত্ররা যেকোনো জটিল অঙ্কের উত্তর বের করতে না পারলেই বলত— “স্যার, উত্তরটা আপনার বয়সের মতোই অদ্ভুত।”
ক্লাসে হাসির খোরাক শুরু হলো “পাগল তত্ত্ব” নিয়ে। একেকজন একেকভাবে স্যারের বয়স হিসাব করতে লাগল। রাকিব বলল,
— স্যার, যদি আমাদের এলাকার আধা বোকা মাস্তানের বয়স পঁচিশ হয়, আর আপনি যদি পুরো বোকা হন, তাহলে তো আপনার বয়স পঞ্চাশ।
স্যার হেসে বললেন,
— ওরে বাপরে! তোমরা আমার বয়স একদিনে বৃদ্ধ করে দিচ্ছো।
তখন রহিম বলল,
— স্যার, আপনার বয়সের অঙ্ক করতে ট্রেনের দরকার নেই। আমাদের গ্রামের গরুটি যদি আধা দিন ধরে ঘাস খায়, আর আপনি যদি একদিন ধরে আমাদের মাথা খাও, তাহলে আপনার বয়স অন্তত একশো হবে।
সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
স্যারের নিজেরও খারাপ লাগল না। তিনি বরং ভাবলেন— এই হাসি-ঠাট্টার মধ্যেই আসলে শিক্ষার আনন্দ আছে। শুধু সংখ্যা গুনে, সমীকরণ মেলালেই তো শিক্ষা নয়; ছাত্রদের বুদ্ধি, রসবোধও শেখা দরকার।
সেদিন থেকে স্যার সিদ্ধান্ত নিলেন, সপ্তাহে একদিন তিনি “হাসির অঙ্ক” নামে ক্লাস নেবেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন করবেন এমন সব অদ্ভুত সমীকরণ—
• যদি একটি কাক প্রতিদিন একবার ডাক দেয়, আর মসজিদের মাইকে প্রতিদিন পাঁচবার আজান হয়, তাহলে গ্রামবাসীর মেজাজ কবে খারাপ হবে?
• যদি গ্রামের চাচা প্রতিদিন তিন কাপ চা খায়, আর তার বয়স দিনে দিনে বেড়ে যায়, তাহলে তার দাঁতের সংখ্যা কয় বছরে শূন্য হবে?
• যদি এক বালতি পানি দিয়ে দুইটা হাঁস গোসল করে, আর আমি গোসল করতে যাই, তাহলে কতটুকু পানি বাকি থাকবে?
ছাত্ররা হেসে লুটোপুটি খেত, আবার মাথাও খাটাত। অদ্ভুত হলেও, স্যার বুঝলেন— এতে বাচ্চাদের কল্পনাশক্তি বাড়ছে।
একদিন বল্টু সাহস করে বলল,
— স্যার, আপনার এই পাগলামি ক্লাসটাকে একদম অন্যরকম বানিয়ে দিয়েছে। আগে শুধু ভয় পেতাম, এখন মজা পাই।
স্যার মুচকি হেসে বললেন,
— শিক্ষাই যদি ভয় দিয়ে হয়, তাহলে সেটা অঙ্কের মতো শুষ্ক হয়ে যাবে। কিন্তু যদি হাসির মধ্যে শেখা যায়, তাহলে তা মনে লেগে থাকবে সারাজীবন।
এভাবে স্যারের “পাগলামির সমীকরণ” পুরো স্কুলেই বিখ্যাত হয়ে গেল। অন্য শিক্ষকরা এসে দেখতেন, কিভাবে বাচ্চারা হেসে-খেলে অঙ্ক করছে।
শেষ পর্যন্ত স্যারও গর্বের সঙ্গে বললেন,
— আমার বয়স যতই হোক না কেন, যদি ছাত্ররা হাসি-খুশি থাকে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রমাণ— আমি বেঁচে আছি সঠিকভাবে।
এভাবেই একটি অদ্ভুত প্রশ্ন— ট্রেনের গতি আর স্যারের বয়সের সমীকরণ— হয়ে উঠল জীবনের এক মজার পাঠ: গণিত শুধু সংখ্যায় নয়, হাসির রসেই তার আসল আনন্দ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now