বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্টাডি অব এ ব্ল্যাক গ্যাং

"ক্রাইম" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD.MONIRUL ISLAM(guest) (০ পয়েন্ট)

X স্টাডি অব এ ব্লাক গ্যাং প্রথম পর্ব" রিও তার জিবনে যে কয়টা মামলা সলভ করেছে তার ভিতর সব চেয়ে ভয়ংকর মামলা হল এটা। এই মাললা হাতে আসার পর থেকে রিওকে সব সময় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয়। এ কেসে রিও বলে ছিল ক্রিমিনাল নাকি খুব ধ্রুর্ত। কিন্তু রিওর থেকে ধ্রুর্ত কেউ সারা দুনিয়ায় আছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। কাজের কথায় আসি। শনিবার রাত ন'টা। আমি আর রিও বাসায় ফিরলাম। এসে দেখলাম, বসার ঘরে টেবিলের উপর একটা সিগারেটের বক্স আর একটুকরা কাপড় সাথে একটা গ্যাস লাইটার পড়ে আছে। রিও একবার সে দিকে অবাক হয়ে তাকাল। তারপর সেটি হাতে তুলে নিল। ৫মিনিট উল্টে পাল্টে দেখল। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললঃবুঝলে প্রফেসর। যে ভদ্রলোক এসেছিলেন তিনি লেফট হ্যান্ডেড। চোখে অনেকটা কম দেখেন। তাই চশমা পরেন। বয়স মোটামুটি ৪০+ হবে। যদিও এক সময় বেশ আভিজাত্যর মাঝে ছিলেন। কিন্তু এখন ভদ্রলোকের আর্থিক অবস্থা পড়ে গেছে। তবুও যে এখনো ভদ্রলোক বেশ সোখিন। নিজের অভ্যাস চেঞ্জ করতে চাইলেও সম্মানের ভয়ে পারছেন না। এমন সময় আমাদের কাজের মেয়েটা এসে বললঃ স্যার একজন লোক এসেছিলেন। বেশ কিছু ক্ষন বসে থেকে চলে গেছেন। তিনি আবার আসবেন সেটাও বলেছেন। কাজের মেয়েটাকে রিও চা দিতে বলে নিজের আরাম চেয়ারে বসে বললঃকি, প্রফেসর? আবাক হচ্ছ? আমি রিওর কথার উত্তর না দিয়ে জিনিসগুলো উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখতে থাকলাম। সত্য কথা বলতে কি, আমি কিছুই পেলাম না। তাই বললামঃ তুমি যদি গোয়েন্দা না হয়ে ভেলকিবাজির দোকান দিতে। তবে আমি সিওর, সারা বিশ্ব তোমায় নিয়ে গবেষনা শুরু করে দিত। _নো। প্রফেসর। আমাকে নিয়ে সারা বিশ্বের মাতা মাতির দরকার নেয়। ঢাকা শহরের ক্রিমিনালরা যে ভাবে মেতে আছে তাতেই চলবে।(রিও) আমি আরও কিছু বলতে যাব ঠিক তখন কলিং বেল টং করে উঠল। দরজা খুলে দিতে যিনি প্রবেশ করল, তার উচ্চতা প্রায় সাড়ে পাচ ফুট। গায়ের রং ইংল্যান্ডের বাসিন্দাদের মত, ধব ধবে সাদা। গায়ে ব্লাক সুট টাই। চোখে সাদা চশমা। দেখে অনেক পাওয়ারি বলে মনে হল। পায়ের জোতা ব্লাক। জুতা দেখে বোঝা গেল বেশ দামি কিন্তু পুরানো। কয়েক বার হয়ত জুতা নিয়ে তাকে মুচির সরাপন্ন হতে হয়েছে। আর্থিক অবস্থা ভাল হলে হয়ত নতুন জুতা পরতেন। কারন জুতার কয়েক জায়গায় চামড়া উঠে গেছে। নিছক কালি দিয়ে তাকে লুকাবার চেস্টা হয়েছে। তার মানে রিও যা বলেছিল ভদ্রলোকের অবস্থা অগে ভাল ছিল তাই সে সময় এত দামি জুতা পরতেন। কিন্তু এখন সে অবস্থা পড়ে গেছে তাই নতুন জুতাও নিতে পারছেন। আবার কমদামি জুতাও পরতে পারছেন না। ইগোতে লাগছে। নিজ সম্মানের একটা ব্যাপার স্যাপার এসে যাচ্ছে। আর বয়স রিও যা বলেছিল তাই। এবার ভদ্রলোক একটা কাশি দিল তাতেই দেখলাম, বাম হাত মুখের সামনে উঠে আসল তার। বুঝলাম তিনি বা হাতি। এবার লোকটা বললঃআসলে আমি কি প্রাইভেট ডিটেকটিভ রিও স্যারের সাথে কথা বলতে চাই। _আপনি আগে বসুন। তারপর কথা বলা যাবে।(রিও) _আপনি রিও? (লোকটা) _জি, আমি রিও। ভদ্রলোককে এবার তার ফেলে যাওয়া জিনিস দিল। আর আমার দিকে দেখিয়ে রিও বলল, ইনি প্রফেসর ইফতি। আমার খুব কাছের লোক। যে রিওর নাম শুনেছে, সে হয়ত ইফতিকেও চিনে।(রিও) _হ্যা। আমি সরি। আসলে এগুলো ভুল করে রেখে গিয়েছিলাম। _সরি বলার কিছু নেই। আপনায় কি ভাবে হেল্প করতে পারি? _আমি সামির আহমেদ। থাকি পুর্ব তেজকুনি পাড়া। আসলে আগে আমার আর্থিক অবস্থা ভাল থাকলেও এখন আর সেটা নেই। জুয়ার নেশায় সব হারিয়েছি। নিতান্ত সাধারন মানুষ আমি। শত্রু নেই আর বন্ধুও তেমন নেই। এখন একটা ভাড়া বাড়ি থাকি। আমার স্ত্রী আর এক ছেলে ইমনকে নিয়ে আমাদের সংসার। ছেলের বয়স ১২ বছর হবে। এলাকার স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ে। _তোহ?( রিও) _হ্যা আসছি সে কথায়। তার আগে আমার ছেলের একটা বর্ণনা দিয়ে দেয়, যাতে আপনার বুঝতে সোজা হয়। _জি,,(রিও) _আসলে ঢাকা শহরে আমরা সবাই বন্ধি। আমরা ছেলে বেলায় কত কিছু করেছি।। কিন্তু এখনের ছেলে মেয়েদের সে সুযোগ আর নেই। আমার ছেলেটা পড়া লেখার পর যা সময় পেত সব সময় কম্পিউটার আর ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকত। ওর বন্ধু বলে আদ্যো কেউ ছিল বলে জানা নেই। গত এক সপ্তাহ হল আমার ছেলেকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল আটটার দিকে সে স্কুলের জন্য বের হয়। স্কুল বাসার পাশে তাই একাই যেত। কিন্তু যখন স্কুল ছুটির পরও সে বাসায় ফিরছে না। তখন খোজ নিয়ে জানতে পারলাম, সে না কি স্কুলেই যায় নি। _পুলিশে খবর দিয়েছেন?(রিও) _জি হ্যা। সাধারণ রিপোর্ট লেখা হয়েছে। কিন্তু এক সপ্তাহ তারা চেষ্টা করেও কোন খোজ দিতে পারেনি। তা ছাড়া খবরের কাগজে ছবি সহ বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোন ফল হয়নি। ভাবছিলাম কেউ হয়ত ছেলের জন্য মুক্তি পন দাবি করবে। কিন্তু তাও কেউ চায়নি। কিন্তু মিষ্টার রিও, আমার ওই একমাত্র ছেলে তাকে ফিরে পাবার জন্য আমি আমার সর্বস দিতে রাজি। যদি আপনি একটু সাহায্য করতেন তবে সারা জিবন কৃতঘ থাকব। কেউ কোন সাহায্য করতে পারেনি। এখন শেষ ভরসা আপনি। শুনেছি আপনি কত শত জটিল জটিল কেস সলভ করেন। প্লিজ আমায় এ সাহায্য টুকু করেন। ভদ্রলোকের কাকুতি মিনতি দেখে আমার কেমন যেন মায়া হচ্ছিল। এবার রিও বললঃএখন গিয়ে তোহ আর কিছু করতে পারব না। আমি আগামি কাল সকাল এগারটা নাগাদ আসছি। ভদ্রলোক ধন্যবাদ দিয়ে তার ঠিকান লিখে দিয়ে চলে গেলেন। ভদ্রলোক চলে যেতেই রিওকে অনেকটা চেপে ধরে বললামঃভাগিনা সিগারেটের বক্স আর লাইটার দেখে কিভাবে বুঝতে ভদ্রলোক বাম হাতি আর তার অবস্থা আগে অনেক অনেক ভাল ছিল এখন নেই। আবার বয়স প্রজন্ত বলে দিলে। ইভেন লোকটা পাওয়ারি চশমা পরেন,? রিও এবার হো হো করে হেসে দিয়ে বললঃপ্রফেসর।তুমি যদি কোন জিনিস বেশ কয়েক বছর ব্যবহার কর। তবে দেখবে সে জিনিসটার যে জায়গাতে তুমি নিয়মিত স্পর্স কর সে যায়গার কালার চেঞ্জ হয়ে যায়। একটা স্পস্ট ক্ষয় দাগও পাওয়া যায়। _মানে? _ ভদ্রলোকের সিগারেটের বক্স এ দাগ ছিল। তাই বোঝা গেল। _সেটা তোহ ঠিক। কিন্তু এতে যে ব্যবহার কারি বা হাতি সেটা কি করে বোঝা যায়? _যদি তুমি ডান হাতি হও। তাহলে বক্সটা বের করে বা হাত দিয়ে সেটি ধরে তার ভিতর থেকে ডান হাতে সিগারেট বের করবে। আর বা হাতি হলে করবে ঠিক উল্টা টা। তাই বক্সের ডান পাশে জায়গাটা বেশ রং চটা হয়ে গেছে। আমি একটু কল্পনা করে নিলাম। ঠিক আমি বা হাতি হলে ডান হাতে বক্সটা ধরে বা হাত দিয়ে সিগারেট বের করতাম। এতে বক্সের ডান পাশে আমার আংগুলের চাপ পড়ত। এভাবে বেশ কিছু দিন করলে ছাপ স্পষ্ট পড়বে। আবার বললামঃকিন্তু ভাগিনা তার ইকোনমিকস ব্যাপারটা আসল কি করে? _বক্সটা দেখেছো? রুপার বক্স। বেশ দামি। কিন্তু ভিতরের সিগারেট গুলো লো ব্যান্ড। তাই বোঝা যায় যে তার একসময় তার আর্থিক অবস্থা অনেক ভাল ছিল। তাই তখন এ বক্স ব্যবহার করার সমর্থ ছিল। কিন্তু এখন অবস্থা খুব খারাপ তাই এত দামি বক্সেও কম দামি সিগারেট। নিতান্ত অবস্থা খারাপ না হলে তিনি এ ব্যান্ড খেতেন না। _বুঝলাম।কিন্তু বয়স? _কাপড়ের টুকরো খেয়াল করলে দেখতে সেটা ফাইনাল অপটিকের। আর্থাৎ দেশে সর্ব বৃহত অপটিক কোম্পানি। এরা পাওয়ারি চশমা ছাড়া অন্য কিছু লঞ্চ করে না। তাই বুঝলাম তিনি পাওয়ারি চশমা পরেন। আর যে লোক এত দামি জিনিস রেখেও ভুলে যান তার বয়স চল্লিশ আপ হবেই। কারন আপন ভোলা রোগ গুলো চল্লিশের পরেই মানুষের দেহে হানা দেয়। ভাগিনার কথা গুলো শুনে যতটা ইজি মনে হল। কিন্তু বাস্তব পক্ষে সেটা বের করতে হলে আমার আরো হাজার বার জন্ম নিতে হবে। এবার বললামঃকেস টা নিয়ে কি কিছু ভাবলে? _কিছু না জেনে, না বুঝে শুধু গাধারা চিন্তা শক্তির অপচয় করে। কাল সেখানে না গিয়ে কিছুই ভাবতে চাইনা।(রিও) বুঝলাম ভাগিনা পরক্ষ ভাবে গাধা নামের বাশটা আমায় দিয়ে দিল। ছি,,,,,,,,,,,,,, (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now