বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
বাংলার এক ছোট্ট গ্রাম। ধানের শীষে বাতাস দুলছে, পুকুরপাড়ে জোছনার আলো পড়ছে, বাঁশঝাড়ে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। সেই নিস্তব্ধতার মাঝেই বাস করত রাহেলা। বয়সে খুব বেশি নয়, বিয়ের এক দশকও হয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই সংসারের ভার যেন তাকে বুড়িয়ে দিয়েছে। দুই সন্তান—একজন স্কুলে পড়ে, আরেকজন সদ্য হাঁটতে শিখেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সংসার সামলানো, বাচ্চাদের খাওয়ানো, কাপড় ধোয়া, মাঠ থেকে ফেরা স্বামীর জন্য ভাত গরম রাখা—সবকিছুতেই তার দিন ভরে যেত।
স্বামী আব্দুল হক পরিশ্রমী মানুষ। ভোরে ক্ষেতের কাজে বের হয়, দুপুরে খেতেই সময় পায় না, সন্ধ্যা হলে ঘরে ফেরে ক্লান্ত দেহে। রাহেলাকে সে ভালোবাসে, কিন্তু তার চোখে রাহেলা যেন কেবল “বাচ্চাদের মা”। সে-ই সংসারের ভরসা, কিন্তু নারীসত্তার কোনো আলাদা পরিচয় যেন ধীরে ধীরে মুছে গেছে।
এই গ্রামেই এল নতুন শিক্ষক, নাম তার ফারুক। শহরে কলেজ শেষ করে এখানে নিয়োগ পেয়েছে। বয়সে তরুণ, কথাবার্তায় ভদ্র, চোখে-মুখে একধরনের তীক্ষ্ণতা। গ্রাম্য মানুষ সহজ-সরল, তাই তাকে সবাই খুব পছন্দ করে ফেলল।
ফারুকের চোখেও রাহেলা এড়িয়ে গেল না। একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে সে দাঁড়িয়ে বলল—
—“ভাবী! আপনি তো দুই বাচ্চার মা! অথচ আপনাকে দেখে মনে হয় এখনো মাধ্যমিক পাশ করছেন। সিরিয়াসলি বলছি!”
কথাটা শুনে রাহেলা প্রথমে হেসে উড়িয়ে দিলেও বুকের ভেতর কেমন যেন অদ্ভুত শিহরণ হলো। এতদিন পর কেউ তাকে এমন করে দেখল! যেন তার ভেতরের হারিয়ে যাওয়া তরুণী সত্তা আবার জেগে উঠল।
এরপর থেকে ফারুক প্রায়ই প্রশংসা করতে লাগল।
—“ভাবী, আপনার হাসিটা একেবারে শহরের নায়িকাদের মতো।”
—“আপনাকে দেখে মনে হয় শহরে থাকলে অনেক বড়লোক ঘরে বউ হয়ে যেতেন।”
এইসব মিষ্টি কথায় রাহেলার মনে আলোড়ন জাগত। মনে হতো, সে কেবল সংসারের যন্ত্রণা নয়, আবারো একজন কাঙ্ক্ষিত নারী। গ্রামের অন্য মেয়েরা যখন এসব খেয়াল করত, তখন ঠাট্টা করত—“আরে রাহেলা, নতুন স্যার নাকি তোকে খুব খাতির করছে!” রাহেলা বাইরে হেসে উড়িয়ে দিত, ভেতরে ভেতরে লুকোনো আনন্দ অনুভব করত।
কিন্তু একদিন বিকেলে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিল। আব্দুল হক তখনো মাঠে, বাচ্চারা উঠোনে খেলছে। ফারুক থেমে দাঁড়িয়ে বলল—
—“ভাবী, সত্যি বলছি, এই গ্রামে আপনার সৌন্দর্য মানায় না। শহরে থাকলে সবাই আপনাকে দেখে অবাক হতো।”
কথাটা শুনে রাহেলার বুকের ভেতর কেমন হু হু করে উঠল। যেন তার দীর্ঘদিনের অপ্রকাশিত আকাঙ্ক্ষা কেউ বলে দিল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই পাশের ঘরে ঘুমন্ত ছেলের কাশি শোনা গেল। চমকে উঠল রাহেলা। মনে পড়ল—সে শুধু একজন নারী নয়, সে মা, সংসারের স্তম্ভ।
সেই রাতেই সে স্বামীকে বলল—
—“শোনো, মাঝে মাঝে আমাকে বলো তো আমি কেমন? তোমার চোখে ভালো লাগি কি?”
আব্দুল হক প্রথমে অবাক হয়ে তাকাল। তারপর রোদপোড়া মুখে এক কোমল হাসি ফুটল—
—“তুমি না থাকলে এ সংসারই অন্ধকার হয়ে যেত রে। তুমি-ই তো আমার বেঁচে থাকার কারণ।”
রাহেলার চোখ ভিজে উঠল। সে বুঝল, ফারুকের প্রশংসা ছিল ক্ষণিকের আলো, ফাঁদে ভরা চালাকি। অথচ স্বামীর অচকিত স্বীকারোক্তিই তার জীবনের সত্য।
এরপর থেকে ফারুক আর কখনো রাহেলার সামনে অত প্রশংসা করতে সাহস পায়নি। রাহেলা নিজেও আর তাকে গুরুত্ব দিল না। বরং বাচ্চাদের দিকে, স্বামীর দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now