বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সময়কে আলিঙ্গন করা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X ___লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ । __________________________________ গ্রামের কিনারায় ছোট্ট একটি বাড়িতে বাস করত আরিফ। বয়স ঠিক কুড়ি বছরের আশেপাশে, কিন্তু জীবনের অনেক বিষয়ে সে ছিল সচেতন। আরিফের বাবা একজন কৃষক, মা বাড়ির সমস্ত কাজ সামলাতেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় আরিফকে অনেক কিছুতেই সাহায্য করতে হতো। তবে আরিফের মনে এক আলাদা ধরনের আগ্রহ জন্মেছে—সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করার। প্রতিদিন সকালে আরিফ সূর্যের প্রথম কিরণ দেখে উঠে। সে জানত, দিনের শুরুটা যদি ঠিকভাবে না হয়, তবে পুরো দিনটাই ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। তাই সে প্রথমেই নিজের ঘরে গিয়ে একটি ছোট লিস্ট বানাতো। লিস্টে থাকত পড়াশোনা, বাড়ির কাজ, খেলার সময় এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু সময়। একদিন স্কুলে গিয়েই আরিফ দেখল তার ক্লাসমেট জিম, মোবাইল হাতে বসে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করছে। আরিফকে দেখে জিম হেসে বলল, “তুমি সারাদিন কি করে? সময় তো কখনোই থাকছে না।” আরিফ শান্তভাবে বলল, “সময় নেই না জিম, সময় তো সবার কাছে সমান আছে। কেবল আমরা সেটা ঠিকভাবে ব্যবহার করি না।” বিকেলে বাড়ি ফিরে আরিফ প্রথমে তার পড়াশোনার অংশ শুরু করল। মেধার সঙ্গে পরিকল্পনা করে সে দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আগে শেষ করত। আজ সে গণিতের একটি কঠিন সমস্যা সমাধান করল। শেষ করার পর, সে অনুভব করল যে সময়ের সঠিক ব্যবহার করলে কাজ সহজ হয়ে যায়। তারপর সে তার মায়ের সঙ্গে রান্নাঘরে গিয়ে রান্নার কাজ শিখল। মা খুশি হয়ে বললেন, “ওরে আরিফ, তুমি তো নিজের সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সাহায্য করছ।” আরিফ হাসল, “সময়কে যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করি, তবে সবাই উপকৃত হয়।” দিনের শেষ দিকে আরিফ কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখত। সে বই পড়ত, নতুন কিছু শিখত, আর কখনও কখনও বাড়ির ছাদের ওপর বসে আকাশের তারা গুনত। সেই সময়গুলো তার মনকে সতেজ রাখত। আরিফ জানত, বিশ্রাম ছাড়া কোনো কাজই ভালোভাবে করা সম্ভব নয়। তাই সে নিয়মিত ঘুমোত, সঠিক খেত এবং মাঝে মাঝে হাঁটাহাঁটি করত। একদিন স্কুলে একটি প্রতিযোগিতা হলো, যেখানে প্রতি ছাত্রকে তার একটি দিনের রুটিন শেয়ার করতে বলা হলো। অনেকেই বলল, “আমি তো সময় পাই না। পড়াশোনা আর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো দুটোই মেলে না।” আরিফ হেসে বলল, “সময় আমরা হারাই না, আমরা সময়কে নষ্ট করি। আমি চেষ্টা করি প্রতিদিনের ২৪ ঘণ্টা পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করতে। কাজগুলো আগে শেষ করি, নিজের জন্যও সময় রাখি। আর ছোট ছোট অভ্যাসই বড় সাফল্য এনে দেয়।” শুধু শিক্ষকেরা নয়, পুরো ক্লাস আরিফের কথায় মুগ্ধ হলো। প্রতিযোগিতার শেষে আরিফের নাম ঘোষণা করা হলো বিজয়ীরূপে। সে বুঝল, সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করা সত্যিই জীবনে সাফল্যের চাবিকাঠি। দিনগুলি কেটে গেল, আরিফ বড় হতে থাকল। সে কখনও মোবাইল বা তুচ্ছ কাজে সময় নষ্ট করল না। বরং সে পড়াশোনা, নতুন দক্ষতা অর্জন এবং পরিবারকে সময় দেওয়ার মধ্যে সমন্বয় রাখল। ফলে কলেজের পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং সমাজসেবার কাজগুলো সবই সফলভাবে করতে পারল। একদিন আরিফের ছোট ভাই কাঁদতে কাঁদতে তার কাছে এল। সে বলল, “আমি কোনো কিছুতেই মন দিতে পারি না। সময়টা যেন সব সময় কম হয়ে যায়।” আরিফ হাসল, তাকে বুকে ধরে বলল, “সময় কম হয় না, ছোট ভাই। তুমি শুধু সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শিখো। প্রতিদিনের ২৪ ঘণ্টাকে পরিকল্পিতভাবে কাটালে, জীবন আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। আজকের সঠিক সিদ্ধান্তই তোমার আগামীকালকে উজ্জ্বল করবে।” আরিফের কথা সেই ছোট ভাইয়ের মনে গেঁথে গেল। সে দেখল, দিনের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। আরিফের মতো সে তার জীবনকে সঠিকভাবে সাজাতে শুরু করল। সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহারের ফলে সে শান্তি, আনন্দ, এবং সফলতা লাভ করল। আরিফের পরিবারও তার এই অভ্যাস দেখে অনুপ্রাণিত হলো। ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো ধীরে ধীরে পুরো পরিবারের জীবনকে সুন্দর ও সহজ করে তুলল। বছরগুলো কেটে গেল, আরিফ একজন সফল ব্যক্তি হয়ে উঠল। তার জীবনের মূল শক্তি ছিল সময়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সঠিক ব্যবহার। সে বুঝতে পারল, টাকা-পয়সা হারালে আবার উপার্জন করা যায়, কিন্তু সময় হারালে তা আর ফিরে আসে না। আরিফ তাই প্রতিদিন সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে উঠে নতুন দিনের জন্য পরিকল্পনা করত, প্রতিটি কাজ গুরুত্ব দিয়ে করত এবং ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করত।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now