বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকের নাম- মাজহারুল মোর্শেদ
গল্পের নাম- নীতি কথার বিড়ম্বনা
নীতি কথা মানুষকে সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক হতে উদ্বুদ্ধ করে। এ ধরনের কথা আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি। কিন্তু সমাজে নীতি কথা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাস্তবতা হারিয়ে ফেলে এবং শুরু হয়, নীতি কথার বিড়ম্বনা।
আমার স্কুলশিক্ষক আজিজ স্যার। আমরা বলতাম সত্যবাদী, একেবারে খাঁটি সোনা। তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন না। আজিজ স্যার ক্লাসে এসে পাঠ্যবইয়ের পাঠদান শুরু করার পূর্বে কোন না কোন নীতিবাক্যের অবতারণা করতেন। কারণ হলো, কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা যেন সেই বাক্যের উপর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত রাখে। জীবন আলোকিত করে।
যাহোক, স্যার একদিন ক্লাসে বললেন-
“যতোই পড়িবে ততোই শিখিবে,-রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত কাগজের টুকরোটি কুড়িয়ে দেখ, তার ভেতরেও জ্ঞানের ভাÐার লুকিয়ে আছে”।
আমি মাধ্যমিক পাস করে সবে মাত্র কলেজে পা দিয়েছি। বুকে নতুন স্বপ, চোখে রঙিন চশমা। মনের মধ্যে এমনিতেই একটু ফুরফুরে ভাব এই ভেবে যে, আমি এখন কলেজে পড়ি। তবে থাক ওসব কথা-এবার আসল কথাটা বলি। একদিন কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশে দেখি বেশ যত্ন করে ভাজ করা একটি কাগজ পড়ে আছে। কাগজটি দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্রই স্যারের সেই নীতিবাক্যের কথা মনে পড়ে গেল-
“যতোই পড়িবে ততোই শিখিবে-রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত কাগজের টুকরোটি কুড়িয়ে দেখ তার ভেতরেও জ্ঞানের ভাণ্ডার লুকিয়ে আছে”।
তবুও মনের হেয়ালিতে দু’চার পা এগিয়ে গেলাম, কেউ দেখে ফেললে আবার পাগল-টাগল ভেবে বসে। হঠাৎ নিজের বিবেক আমাকে বললো-এই পাগলা থাম, স্যারের সাথে বেয়াদবি? যা কাগজটি কড়িয়ে নে, পড়ে দেখ, সেখানেও ‘জ্ঞানের কথা’ থাকতে পারে। কি আর করা, স্যারের আদেশ বলতে কথা। ফিরে এসে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলাম না, কেই নেই। আমি চট করে কাগজটি কুড়িয়ে নিয়ে পকেটে ভরে রাখলাম। নতুন চকচকে কাগজের উপর নীল কালিতে লেখা দেখে পড়ার জন্য মনটা উসখুস করছে। কিন্তু রাস্তায় লোকজন থাকায় পড়তেও কেমন লজ্জা লাগছে। একটু পর রাস্তা ফাঁকা হলো, আশেপাশে কেউ নেই আমিও সুযোগবুঝে একটা গাছের নিচে বসে পড়লাম। এবার পকেট থেকে কাগজখানা বের করে দেখি খামের মতো ভাজ করা একখানা চিঠি। হয়তো কোন ভাগ্যতহ প্রেমিকের পকেট ফসকে পড়ে গেছে। আমিও খুব সাবধানে, মনোযোগ দিয়ে চিঠির ভাজগুলো খুলছি যেন কোনভাবে ছিঁড়ে না যায়। এবার পড়তে শুরু করলাম-ওরে বাপরে! একি চিঠি নাকি বঙ্কিমের সাহিত্য ভাণ্ডার চিঠিতে প্রাপক এবং প্রেরক উভয়ের নাম ইংরেজি অক্ষরের সংক্ষিপ্ত রূপ লেখা।
প্রিয় পাঠক, আপনারা বুঝতেই পারছেন-একে তো কলেজের নতুন জীবন, তার ওপর আবার প্রেমের চিঠি আমার হাতে। আমারও তো মন বলতে একটা জিনিস আছে, না কি? নাই বা হতে পারলাম কোন প্রেয়সীর প্রাণ উজার করা ভালোবাসার প্রেমিক, কিন্তু প্রেমের চিঠির উষ্ণতা তো পাচ্ছি, সেটাই বা কম কিশে? চিঠিখানা কোন না কোন প্রেয়সীর সান্নিধ্যহীন হৃদয়ের আকুলতা, প্রিয়জনকে না পাওয়ার বেদনায় ডুকরে ওঠা হাহাকারের অশ্রুজলে লেখা। আমার নিজের মধ্যেই কেমন একটা প্রেমিক প্রেমিক ভাব এসে গেলো। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে সারারাত ধরে সেই বঙ্কিম সাহিত্যের চিঠিটা মুখস্ত করতে লাগলাম। এমনভাবে মুখস্ত করলাম যেন কেয়ামত পর্যন্ত আর ভুলে না যাই। সত্যি তাই হলো- যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই চিঠির একেবারে দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন পর্যন্ত ভুলি নাই। চিঠিখানা হুবহু আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।
“প্রিয় এম,
জানি না তুমি কেমন আছ। আমিও ঠিক তেমনি। গভীর রাতের নির্জনতায় সমস্ত প্রকৃতি ঘুমের নেশায় মগ্ন। তুমি হয়তো ভাবছ, আমিও ঠিক তেমনি। বাহিরে দেখ ভরা পূণিমার অবারিত জোছনায় ভেসে যাচ্ছে প্রকৃতি, ভেসে যাচ্ছে আমার নির্জন বারান্দা। আমার নির্ঘুম চোখের ঝাপসা দৃষ্টি এদিক-সেদিক শুধু তোমাকেই খুঁজছে। আমার কল্পলোকের অববাহিকায় নীড়হারা স্বপ্নগুলো ডুকরে ডুকরে কেঁদে আজ মধ্যরাতের বাতাস ভারী করছে। নিরবচ্ছিন্ন জীবনের বিষন্ন প্রহরে নিদারুন কষ্টের ক্ষত-বিক্ষত স্মৃতিগুলো জমদুতের মতো দাঁড়িয়ে আছে। আমার মাথার ওপরে বিশাল আকাশ, দৃষ্টির সামনে ধুধু প্রান্তর, হৃদয় জুড়ে কেবলি হাহাকার শুধুই তোমার জন্য।”
“প্রিয়, আমার এই ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বারবার প্রশ্ন জাগে, আমার হৃদয় বাগানে তুমি যদি ফুল হয়ে নাই ফুঁটতে পারবে তবে কেন ভালোবাসার প্রগার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কলি হয়ে ফুঁটেছিলে? তোমাকে হারিয়ে আজ আমার অনুভুতির আকাশটা বিবর্ণ, শুকতারা দর্শনের কোন সম্ভাবনা নেই। তুিম যদি নিজ হাতে বিষতুলে দাও অমৃত ভেবে পান করব আমি। স্বর্গ হতে আসে প্রেম, “স্বর্গে যায় চলে। মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়। কারণে অকারণে বদলায়, সকালে বিকেলে বদলায়”। আমি কি বোকা, তাই না? তুমি যে মানুষ-আমি সেটা দিব্বি ভুলে গিয়ে বসে আসি, অবুঝ বালিকার মতো। যেন আমাকে ভালোবাসতেই হবে, তুমি শুধুই আমার, অন্য কারও হতে পারো না।
সেদিন ১৮ তারিখে পিকনিকেও এলে না। তুমি আসবেই, এমন একটা প্রতিজ্ঞা নিয়ে বসেছিলাম, সেই প্রতিক্ষীত সময়ের পিছু টানে। তুমি ভাবতেও পারবে না, কতো প্রতীক্ষার মাঝে যে বিকেল হলো, প্রতীক্ষা ব্যাকুল হৃদয়ের শব্দে আমি চমকে উঠেছিলাম বারবার। প্রতীক্ষিত সন্ধ্যায় আমি গোধুলির সাথে নির্জন হতে চলেছি, দম বন্ধ হওয়া দীর্ঘশ্বাসে করুণ নিঃসঙ্গতা এসে চাপিয়ে বসে। জান এম, এমন নিঃসঙ্গ, এমন ফাঁকা-ফাঁকা আমাকে কোন দিন লাগেনি। আমি জানি, তুমি ব্র²চারি-অনাসক্ত হৃদয় তোমার, সেই অস্থির সন্ধ্যার ব্যাকুলতা তোমার কাছে মূল্যহীন।
“আচ্ছা -এম? তুমি কি মনে কর যে ‘এস’ আমার হবে? কলেজ লাইব্রেরির সেই ফাঁকা করিডর, লম্বা বেঞ্চে দু’জনে মুখোমুখী বসা। কি ছেলেমানুশিই না করেছিলে তুমি, কি অভিমান! ওরে বাপরে! একদিন কলেজে না আসলে, একদিন দেখা না হলে, একটা চিঠি না লিখলে শ্রাবণের এক আকাশ কালো মেঘ তোমার চোখের কোণে জমা হতো। প্রিয় এম, আমি জানি-নির্ঘুম রাত কাটাবার কি যে যন্ত্রণা সেটা তোমারও কম জানা নেই। আর ভালোবাসা যে যাকে-তাকে বিলাবার জিনিস নয়, সেটা আমার চেয়ে তুমিও কম জানো না। খুব ভালো থেকো তুমি, এ প্রত্যাশায় তোমারই
চলমান............ “এস”।
জানিনা কোন হতভাগ্য প্রেমিক তার এ অমূল্য সম্পদকে (চিঠিখানা) হারিয়ে কতো হা-হুতাশ করছে, নিজের চুল নিজেই টেনে ছিড়ছে। আর আমিও বুঝতে পারিনি যে, নাম না জানা সেই চিঠিখানা পদে পদে আমাকে এতোটা বিড়ম্বনায় ফেলবে”। তবে এও সত্য যে, সেই বঙ্কিমা স্টাইলের চিঠিখান মুখস্ত করে তার ভাষার যে সাবলিল গাঁথুনি, সেটা আমার সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে বেশ কাজ দিয়েছে। চিঠিখানার ঠিক নিচের কোণায় বাঁকা করে লেখাছিল চলমান এবং তারপরে আনেকগুলো ডট ব্যবহার করা হয়েছে। আমি এই ভেবে মনে মনে একটু সান্ত¦নাও পেলাম যে, যাক ভাগ্যহত প্রেমিক এ ছিঠিখানা হারিয়ে ফেললেও এরূপ আরও অনেক চিঠি হয়তো তার হস্তগত হয়েছে।
ছাত্র জীবনের নানামুখী ঝুটঝামেলায় আমার কাছ থেকেও একদিন সেই চিঠিখানা হারিয়ে যায়। আমার ধারণা এই যে, হয়তো কোন নব প্রেমিক তার প্রেয়সীর হৃদয়ের উষ্ণতা জাগ্রত করার জন্য সেই চিঠিখানা চুরি করেছে। কিন্ত হারিয়ে যাওয়া আর ভুলে যাওয়া এক জিনিস নয়। চিঠিখানা হারিয়ে গেলে কি হবে? সেই যে কলেজ জীবনে রাত জেগে জেগে একেবারে দাড়ি-কমা-সেমিকোলনসহ মুখস্ত করে রেখেছি, সেটা তো হারাবার নয়। তাই বহদিন পরেও সেই কালজয়ী চিঠিখানা পাঠকের সামনে তুলে ধরতে পেরেছি।
অনেকদিন পরের কথা, আমি সবে সবেমাত্র কলেজে জয়েন্ট করেছি। একদিন সকাল থেকেই তুমুল বৃষ্টি, আমার ক্লাস ছিলো সাড়ে দশটায়। বৃষ্টির জোরটা একটু হালকা হলে আমি বেড়িয়ে পড়ি কলেজের উদ্দেশ্যে। ক্যাম্পাসের সরু রাস্তা দিয়ে ডিপার্টমেন্ট যেতে হাতে বামে বটগাছের নিচে ঠিক উল্টোমুখে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী পাশাপাশি বসে গল্প করছে। প্রচণ্ড বৃষ্টি বাদলকে উপেক্ষা করে ছাত্র-ছাত্রীদের কলেজে উপস্থিত হওয়া এবং তাদের চোখ-মুখের উৎফুল্লতা। তাদের এ অবস্থা দেখে আমার সেই কালজয়ী চিঠিখানার কথা মনে পড়ে গেলো।
আমাদের পাড়ায় এক দাদু ছিলো। আপনজন বলতে তার কেউ নেই। পালিত এক বিধবা মেয়ে আর তার ছেলে। ছেলেটি আমার সহপাঠি হওয়ায় বেশ আড্ডা জমে দাদুর সাথে। সংসারে তার কোন অভাব নাই, জমি জায়গা অনেক। সেগুলো বর্গা দিয়েই যা আসে তাতেই সারাবছর খেয়ে পরে বাঁচে। পাড়ার সবাই তাদে দাদু বলেই ডাকে। স্কুল ছুটি হলে বই রেখে আমরা চলে যেতাম দাদুর কাছে। দাদুর গল্প শুনতে শুনতে কখন যে সন্ধ্যা হয়েতো সেটা টেরই পেতাম না।
একদিন দাদু একটা নীতিকথার গল্প বললেন-গল্পটি হলো-
“বোউকে মনের কথা বলতে নেই আর পুশিশের সাথে বন্ধুত্ব করতে নেই”।
আমরা বললাম, কেন দাদু?
দাদু বললেন, তাহলে গল্পটা শোন-
এক গ্রামে একজন কৃষক ছিলো, সন্তান বলতে মন্টু তার একটি মাত্র ছেলে। ছেলের বোউয়ের হাতে দুতভাত খেয়ে মরার শেষ ইচ্ছে তার। ইচ্ছে পূরণের জন্য একদিন মন্টুকে বিয়ে দিয়ে সুন্দরী বোউ ঘরে আনলো। এখন সমস্যাটা হলো, মন্টু আর বোউয়ের কাছ থেকে নড়ে না। সারাক্ষণ বোউয়ের পিছে ঘুরঘুর করে বেড়ায়। তাহলে এখন সংসারের কি হবে? একমাত্র ছেলে তার সে ছাড়া সংসার দেখা শোনা করার আর কে বা আছে। সেই গ্রামে এক অশীতিপর বৃদ্ধ ছিলো, একদিন সেই কৃষক তার কাছে গেলো পরামর্শ করার জন্য। বৃদ্ধ বললো ছেলেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও। আমি বুঝে-সুঝে কিছু একটা বলবো।
যেই কথা সেই কাজ, কৃষক একদিন মন্টুকে সেই বৃদ্ধের কাছে পাঠিয়ে দিলো।
বৃদ্ধ কৃষকের মন্টুর সাথে এ কথা- সে কথা নিয়ে অনেক গল্প করার পর তাকে দু’টো উপদেশ দিলো। বৃদ্ধের উপদেশ হলো-
“বোউকে মনের কথা বলতে নেই আর পুশিশের সাথে বন্ধুত্ব করতে নেই”। মন্টু এ যুগর তরুণ-টগবগে যুবক, বুড়ো মানুষের কথা শোনার সময় তার কোথায়? একদিন রাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে সে ভাবে যে বুড়ো আমাকে কেন বোউকে মনের কথা বলতে আর পুশিশের সাথে বন্ধুত্ব করতে মানা করলো? কি সমস্যা আছে এ কাজে। আচ্ছা আমি কাজ দু’টো করেই তাকে দেখিয়ে দেব যে, এসকল নীতি বাক্যের কোন দাম নেই।
এখন কথা হলো সে তার বোউকে যে মনের কোন কথা বলবে? সে কি বলবে,
আর কথাটাই বা কি? সে মনে মনে প্লান করলো যে, তার একজন প্রেমিকা ছিলো এ কথাই সে বোউকে বলবে। আর পুশিশের সাথে বন্ধুত্ব বলতে, তার স্কুল জীবনের বন্ধু রহমান তো আছেই। তাকে একদিন বাড়িতে ডাকলেই হয়। তার সাথে বন্ধুত্বটা একটু গভীরে নিয়ে গেলেই হয়।
ঐাহোক, একদিন রাতে খাওয়া -দাওয়ার পর বিছানায় শুয়ে সে বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে বোউয়ের সাথে কথা বলতে বলতে, কথার এক পর্যায়ে সে তার প্রেমিকার কথা বলে। সে এও বলে যে, তার প্রেমিকা তাকে খুব ভালো বাসতো।
তার কথা বলা শেষ হতে না হতেই নেভা আগুনে কেরসিন ঢেলেদিলে যেমন দপ করে আগুন জ্বলে ওঠে, ঠিক তেমনি তার বোউ, প্রেমিকার কথা শোনা মাত্রই কেরসিনের আগুনের মতো দপ করে জ্বলে ওঠলো।
সে এক লাফে বিছানা থেকে ওঠে বসলো। তারপর বলতে শুরু করলো- তুমি আমার সাথে রাত কাটাবে মনে মনে প্রেমিকার কথা ভাববে, তা কখনো হয়। তোমার প্রেমিকা আছে তোমার বুকের ভেতর, তোমার অন্তর জুড়ে। সেখানে আমার কি কোন জায়গা থাকতে পারে?। তোমার সব ভালোবাসা শুধু তার জন্য, আমার জন্য নয়। আমাকে যে মিষ্টি মিষ্ট মধুমাখা কথা বলো, ভালোবাসার কথা বলো, তা শুধু মুখে মুখে, অন্তর থেকে নয়। তোমর অন্তর জুড়ে আছে তোমার প্রেমিকা, আমি নই, বুঝেছ?
ও আচ্ছা, আমি এখন বুঝেছি-এ জন্য তুমি মাঝে মধ্যে একা একা চুপচাপ বসে থাক, কোন কথা বললে উত্তর দাও না। ছিঃ ছিঃ আমি কি বোকা, আমার নিজেকে ঘৃণা করতে ইচ্ছে করছে। আমি এতোটুকু বুঝতে পারি নাই। আমি এখন বুঝলাম যে, যখন তুমি একা একা চুপচাপ বসে থাক, তখন তুমি প্রেমিকার কথা ভাবো। তোমার অতীতের মোহনীয় স্মৃতিগুলোর কথা ভাবো। কোথায় প্রেমিকার দেখা হয়েছিলো, কোথায় দু’জনে হাত ধরে পাশাপাশি হেঁটে বেড়িয়েছিলে, ঠিক বলছি না? আমি কি ভুল বলেছি? তোমার মনটাকে একবার জিজ্ঞাসা করে দেখ, আমাকে বলতে হবে না, সব তোমর মনে ধরা পড়বে। শোন, তুমি তার কাছে চলে যাও। সে তোমার পথ চেয়ে বসে আছে। সে তোমাকে অনেক ভালোবাসবে, অনেক আদর করবে, অনেক সুখ দেবে। আমিতো তোমাকে ভালোবাসতে পারি নাই, আদও করতে পারি নাই, কোন সুখ দিতে পারি নাই। তোমার জন্য কিছুই করতে পারি নাই। আমি তোমার অপদার্থ বোউ। এই বলে সে শোয়ার বালিশ হাতে নিয়ে শাশুড়ি মায়ের ঘরে চলে যায়।
পরের দিন সে মন্টুর পুলিশ বন্ধু রহমানের সাথে স্বাক্ষাৎ করে বলে যে, মন্টুর সাথে তার প্রেমিকার নিয়োমিত যোগাযোগ হয়। তাই সে আমার প্রতি বিতৃষ্ণ। যখন তখন আমাকে শারীরিক ও মানশিক ভাবে নির্যাতন করে। যা কোন মেয়ের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়। আপনার বন্ধু একটা ফুচকা শয়তান, ওর চ্যেদ্দ গোষ্ঠী শয়তান। মুখে মুখে কি মিষ্টি কথা! আর অন্তরে বিষের হাড়ি। আমার সাথে সংসার করে আর প্রেমিকাকে নিয়ে পার্কে পার্কে ঘুরে। রহমান ভাই একটা ব্যবস্থা করেন, এভাবে সংসার হয়না, এভাবে আর বেঁচে থাকা যায় না। আমি চাই, হয় তার প্রেমিকা-নয় আমি, দু’জনার একজন সংসার করুক।
রহমানের সাহায্যে থানায় সে এফ, আই, আর করলে, পুলিশ এসে তাকে ধরে জেলে ভরে দেয়। দিন রাত জেলে বসে রহমান ভাবে-বোউয়ের জন্য সে সংসার ছেড়ে দিলো, তাকে সুখী করার জন্য যা নয় তাই করলো। অথচ ছোট্ট একটা বিষয় নিয়ে, আমার প্রেম, প্রীতি, ভালোবাস, এতোদিনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, সব মিথ্যে সাব্যস্ত করে নদীর জলে ভাসিয়ে দিয়ে, আমাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলো। আমার জীবনটাও তার কাছে মূল্যহীন হয়ে গেলো। মানুষ স্বার্থবাদী হয়, সেটা জানি, কিন্তু এতাটা স্বার্থবাদী কি কেউ হতে পারে! যে স্বার্থের কারণে নিজের জীবন সঙ্গীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়? তাহলে কি এতোদিনের প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসা সব মিথ্যে! নাকি স্রেফ অভিনয়। একবারও সত্য-মিথ্যাটা যাচাই করারও প্রয়োজনবোথ করলো না।
কয়েক দিনপর জামিনে মুক্তি পেয়ে মন্টু বাড়িতে আসে। কিন্তু সে আর আগের মন্টু নেই, হাসি-খুশিতে ভরা মুখ, চঞ্চলতায় ভরা দেহ-মন। আগেড়র মন্টু আর এখনকার মন্টুর মধ্যে আসমান জমিন তফাৎ। সে এখন শুধইু ভাবে এক নিমিষেই কি থেকে কি হয়ে গেলো। মিথ্যার পরিণাম যে এত্টোাই ভয়ঙ্কর হবে সেটা কোন দিনই সে ভাবতে পারে নাই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now