বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জীবনের শেষ দিনঃ
লেখকঃ নাফিজ আহমেদ,,
কোন একদিন দক্ষিণা বাতাসের সাথে ভেসে আসবে একটি শোক সংবাদ। সিয়াম আজ সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেছে। ইন্না-লিল্লাহি ও ইন্না ইলাহি রাজিয়ুন।
প্রতিদিনের ন্যায় আজও যখন আধারকে লুকিয়ে প্রভাত উকি দিয়েছে আমি রজনীর নিদ্রা থেকে লাফিয়ে উঠলাম। ফজরের আজান ভেসে প্রবেশ করছে কর্ণকহরে। নামাজের জন্য প্রস্তুত হলাম। যথা সময়ে মসজিদে গেলাম নামাজের জন্য। নামাজ আদায় করে ফিরলাম নিজ বাসভবনে। আপনি আপনি সম্পাদন করছি নিজের দৈনন্দিন জীবনের কাজ। কিছুক্ষণ সাহিত্য অধ্যায়ন করলাম। এরপর ঘুরতে গেলাম নদীর ধারে। আমি অবলোকন করছি সৃষ্টিকর্তার সৃজনকৃত সৃষ্টিকে। নেতৃপল্লব দুটি জুড়িয়ে গেল এমন সৃষ্টি দেখে। এই নিখুঁতভাবে ধরণীকে চক্ষু জুড়ানো সাজে একমাত্র আল্লাহ তায়ালা ব্যাতিত অন্য কেউ সাজাতে সক্ষম হবেনা। এরপরও মানুষ পদার্পণ করে নিকোষ আধারে ঘেরা এক অন্য পৃথিবীতে যেখানে মালিকের কোন মূল্য নেই। নিজেরাই নিজেদেরকে প্রভু মনে করে। কিছুক্ষণ নদীর ধারে থাকা কালীন আপন মনে আবিষ্কার করলাম শরীরটা যেন একটু অন্য রকম লাগছে। আর সময় অতিবাহিত না করে যথাসময় বাড়িতে আসলাম৷ নিজের অন্যান্য কাজগুলো শেষ করতে বিকাল হয়ে গেল। যাই হোক আসরের নামাজ আদায় করতে আসলাম মসজিদে। নামাজ আদায় করে গেলাম মাঠে। শেষ বিকালের আকাশটা নিজের খুব কাছ থেকে অবলোকন করছি। যতই দেখছি মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছি। আল্লাহ তায়ালা কত সুন্দর করে সব কিছু সাজিয়েছেন। এটা অন্য কোন মানুষের দ্বারা কখনো সম্ভবপর হয়ে উঠবে না। মাঠের পরিবেশটা আসলেই অনেক মনোমুগ্ধকর। মাঠ থেকে আমি চলে আসলাম। নিজের নীড়ে এসে কিছু এলোপাতাড়ি কাজ করে। অগ্রসর হচ্ছি পড়ার টেবিলের দিকে। পড়তে পড়তে হঠাৎ বুকের ভেতর জ্বালা শুরু হয়ে গেল। আমি উপলব্ধি করতে পারলাম হয়তোবা সময় ফুরিয়ে এসেছে। চোখের সম্মুখে এক বিশাল আকারে কে যেন এসে দন্ডায়মান হয়েছে। বুঝতে পারলাম এনিই হয়তোবা সেই সৃষ্টি যাকে সৃষ্টিকর্তা সকল প্রাণীর রুহ কবজ করার জন্য পয়দা করেছে। আমি এই ভেবে কষ্ট পাচ্ছি যে কয়েক গজ দূরে আমার জননী, আমার মা অবস্থান করছে। কিন্তু আমি এখন তাকে এত করে ডাকা সত্বেও হয়তোবা তার কর্ণকহরে কোন শব্দ পৌঁছাচ্ছে না। এক মূহুর্তের ভিতরেই পৃথিবী নামক এই বিরাট ভূখণ্ড থেকে আমি অনেক দূরে চলে গেলাম। চলে গেলাম অজানা অচেনা জগতে। আমি আর কোনদিনই আমার প্রাণ প্রিয় মাকে একবারের জন্য মা বলে ডাকতে পারব না। কিছুক্ষণ পর আমার মা আমাকে ডাকতে আমার ঘরে আসল। তখনো আমার বই উন্মুক্ত ছিল। আমার ঘরে তখনো বাতি জ্বলছিল। কিন্তু মা আমার ঘরে প্রবেশ করতেই অবলোকন করল যে আমার নিথর দেহটা বিছানার উপরে টান টান হয়ে শায়িত আছে। সে মনে করল আমি হয়তো ঘুমিয়ে আছি। কিন্তু আমিতো পাড়ি জমিয়েছি এমন এক জগতে যেখান
থেকে আর কোনদিনই আসা সম্ভব নয়। মা আমাকে এক নাগারে ডাকতে আরম্ভ করল কিন্তু আমার কোন শায় শব্দ না পেয়ে একটু ভয় পেয়ে গেল। তিনি যেটা ভাবল আমার সাথে সেটাই হয়েছে। আমি এক ঘন্টা আগে এই মায়া মরিচিকা ছেয়ে চলে গেছি। সঙ্গে সঙ্গে একটুও দেরী না করে আমার পিতাকে ফোন করল। সে যতদূত সম্ভব চলে আসল। সেই এসে আমার নিথর শরীরটাকে দেখতে পেল। কান্নাকাটির হেয় লেগে গেল। কান্নার আওয়াজ শুনে অনেকেই আমাদের বাড়িতে ছুটে আসল। মোবাইল ফোনের কল্যানে জানাজানি হয়ে গেল যে আমি আর এই পৃথিবীতে নেই। কিছুক্ষণ পরই মসজিদের মাইক এলান হয়ে গেল, একটি শোক সংবাদ মাশিলা গ্রামের আঃ মজিদের ছোট্ট ছেলে সিয়াম আহমেদ আজ সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেছে। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। পাঠকবৃন্দ একটু নিজের জীবনের সাথেও মিলিয়ে দেখেন এই পৃথিবীতে আপনাকে কেউ নিজের নিকটে মৃত্যুর পর এক ঘন্টাও কাছে রাখবে না। আমার নিথর শরীরটা সকলে ধরে নিচে রেখে দিল। এখন আর কেউ মায়া করে মাথার নিচেই একটা বালিশও দিল না। আমার বিছানায় পরে থাকা দামী কম্বলটাও কেউ দিল না। সকলে আমার থেকে অনেক দূরে চলে গেল। যেই মসজিদটাতে একটু আগে মাগরিবের নামাজ আদায় করে আসলাম। সেই একই মসজিদে আজ এশার পরে আমার মৃত্যুর এলান হয়ে গেল। আমার মৃত্যুর সংবাদ শুনে নিজের কাছের লোকগুলো আমাকে দেখতে এলো। এই পৃথিবীর মানুষগুলো আর এক ঘন্টা বেশিও আমাকে রাখবে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাকে ঔ নির্জন একাকী ঘরে রেখে আসবে। আমার সব থেকে কাছের লোক আমার প্রাণ প্রিয় ভাই মাওঃ রুহুল কুদ্দুস আমার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে নেতৃপল্লব দুটি দিয়ে বেয়ে যাওয়া অশ্রুধারা মুছতে মুছতে আমার বাড়িতে আসল। তাঁর দায়িত্বে এক দল লোক বাস কাটতে গেল। এক দল লোক কবর খুৃঁজতে গেল। আর এক দল আমাকে গোসল দেওয়ার জন্য সবকিছু বন্দবস্ত করছিল। তখনো আমার মা এক নাগারে কাঁদতেছিল। সবকিছু জোগাড় করার পর আমাকে সাদা কাপড়ে মুড়ে দিল। কত কাপড় যে আমার ঘরে ছিল তার কোন ইয়ত্তা নেই। কিন্তু আজ আমাকে শুধু এক খন্ড সাদা কাপড় নিয়েই চলে যেতে হচ্ছে। আমার বোন, ভাগ্নে ভাগ্নি সকলেই কেঁদে যাচ্ছে। পরেদিন সকালে আমার জানাযার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বাড়ি থেকে যখন আমার লাশটা নেওয়া হচ্ছে। আমার মা, বোন,ভাগ্নে ভাগ্নি সকলেই চিল্লায়ে চিল্লায়ে কাঁদতেছিল। আমার স্কুল মাঠেই আমাকে জানাযা দেয়া হবে। আমার কত শিক্ষক এসেছে তার কোন ইয়ত্তা নেই৷ আমার জানাযার ইমামতি করল আমার কাছের মানুষ প্রাণ প্রিয় ভাই মাওঃ রুহুল কুদ্দুস। কতশত জানাযায় সে মন খুলে কথা বলেছে। কিন্তু আজকে কেন জানি সে কথা বলতে পারছে না। আজ তাঁর কন্ঠনালী ভেদ করে কথা বাহির হচ্ছে না। কত বিকাল যে এক সাথে পার করেছি তার কোন হিসাব নেই। কিন্তু সময় আজ আমাকে খাটিয়ায় এনে শায়িত করেছে। জানাযা শেষে আমাকে কবরস্থ করবার জন্য আনা হলো। আমি একটু পরেই অন্ধকার ঘরে একা থাকব। আমাকে কবরস্থ করে মাটি চাপা দেওয়া হলো। আমার পৃথিবীতে আমি একা হয়ে গেলাম। কবরে আমার হিসাব শুরু হয়ে গেল। সকলে চলে আসল। আমার পরিবারকে একটু সকলে শান্তনা দিয়ে যার যার বাড়িতে ফিরল। গত কালও এই সময় নদীর পাড়ে আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি দেখে বারংবার মুগ্ধ হচ্ছিলাম। কিন্তু আজ কবরে ভাবলেই কেমন লাগে। এই জন্যই হযরত ওমর (রাযিঃ) বলেন তোমার মৃত্যুর আগে তুমি একবার মর।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now