বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
“আসছে নতুন এডভেঞ্চার উপন্যাস! তিনমূর্তি সিরিজের এই উপন্যাসে দেখা পাওয়া যেতে পারে সবার প্রিয় টিকটিকি উরফে অভীক চৌধুরীকে”
কম্পিউটার স্ক্রিনের নিউজটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবার ভাবনায় ডুবে গেলেন ইমন সাহেব। ইচ্ছে মতো কিছুক্ষণ জোবায়ের সাহেবের বংশ উদ্ধার করলেন মনে মনে। কী মনে করে যে প্রথম বইটা তাকে দিয়েই প্রকাশ করিয়েছিলেন সেটা এখনো বুঝতে পারছেন না তিনি। অবশ্য এছাড়া তার কিছু করারও ছিল না।আর কেউ রাজিই হচ্ছিল না একদম নতুন আনকোরা লেখকের বই ছাপাতে। অবশ্য এখন অনেকেই কপাল চাপড়াচ্ছে। বইটা প্রকাশ পাওয়ার পরেই দারুন সাড়া জাগিয়েছিল। ইমন সাহেব সবচেয়ে আশ্চর্য হয়েছিলেন একটা ব্যাপারে। তার বই জনপ্রিয় হয়েছে ঠিক আছে কিন্তু প্রধান চরিত্র গুলোর জন্য নয়! একটা সাইড চরিত্র বা সহকারী চরিত্রকে পাঠকদের সবচেয়ে ভালো লেগেছিল। ভয়ানক কথা হচ্ছে তাকে একদম শেষে অনেকটা মজা করার জন্যই রেখেছিলেন তিনি। চরিত্রটার কোনো ডেভেলপ করেননি।তাকে ভিলেন রুল দিয়েছেন কিন্তু তার পেছনে কোনো কারনই নেই! সে হুটহাট করে মানুষ মারছে কোনো কারণ ছাড়াই। পাঠকের এমন চরিত্র পছন্দ হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাননি তিনি। এদিকে প্রকাশক এটারই সুযোগ নিলেন, তিনি কিছু না ভেবেই বলে ফেললেন পরবর্তী বইয়ে তাকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। অথচ ইমন সাহেব এটা নিয়ে কিছু ভাবেননি। তারচেয়ে ভয়ানক কথা হচ্ছে দুইদিন পরই দ্বিতীয় বই প্রকাশের কথা।
এসব সাতপাঁচ ভাবছিলেন তখনই কলিং বেল বেজে উঠল। দরজা খুলতেই তার মাথার চিন্তার ভার আরো বেড়ে গেল। স্বয়ং জোবায়ের সাহেব হাজির হয়েছেন। তাড়াতাড়ি ঘরে এনে বসানোর সাথে সাথেই জোবায়ের সাহেব বইয়ের সম্পর্কে জানতে চাইলেন। ইমন সাহেব কী বলবে বুঝতে পারছিলেন না, তিনি কথা ঘুরানোর জন্য চা আনার কথা বলে চলে আসলেন। চা বানানোর সময় তার মাথায় ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। কোনোভাবে প্রকাশককে কিছু একটা বলে শান্তনা দিতে হবে। চিন্তা করতে করতে অন্যমনষ্ক ভাবে কাপটা নিতে গিয়েই হাত থেকে ফেলে দিলেন। আর পড়লো তো পড়লো একেবারে পায়ে গিয়ে পড়লো। বিকট শব্দ করে চেঁচিয়ে উঠলেন তিনি। পাশের রুম থেকে জোবায়ের সাহেব এসে দেখেন কিচেনের উপর দিয়ে যেন বড়সড় ঘূর্ণিঝড় গেলো। তিনি ইমন সাহেবকে নিয়ে সোফায় বসালেন। নিজেই খুজে বের করে আনলেন ফার্ষ্ট এইড বক্স। ইমন সাহেবের মাথায় কিছু ঢুকছে না, এটাই জোবায়ের সাহেবের প্রথমবার তার বাড়িতে। তিনি কিভাবে জানলেন ফার্ষ্ট এইড কোথায় রাখা আছে? খুব সুনিপুণ ভাবে পা ব্যান্ডেজ করে দিলেন তিনি। জোবায়ের সাহেবের তো এমনভাবে কাজটা করলেন যেন মনে হচ্ছে তিনি একজন ডাক্তার বা এসব কাজে তার অভিজ্ঞতা আছে। তারপর তিনি চা করে আনলেন। দুধ চা নয় লিকার চা! আশ্চর্য আজকে এমন অদ্ভুত কান্ড হচ্ছে কেন!! জোবায়ের সাহেবের জানার কথা নয় ইমন সাহেব লিকার চা খান। কারন এখনো পর্যন্ত একবারও তার সামনে তিনি চা খাননি। জোবায়ের সাহেবের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলেন তিনি। ততক্ষণে জোবায়ের সাহেব পকেটের থেকে একটা কলম বের করলেন। অন্য পকেট থেকে ছোট একটা ডায়েরী থেকে একটা পেইজ ছিড়ে তার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। ইমন সাহেব কাপাকাপা হাতে পেইজটা নিতেই পেইজটা কেমন চেনা চেনা লাগলো তার কাছে! কোথায় যেন দেখেছে মনে হচ্ছে। পেইজের উপরের অংশে অদ্ভুত একটা চিহ্ন!!
“টিকটিকির চিহ্ন!!”
হাত থেকে পেইজটা পড়ে গেল তার। জোবায়ের সাহেব আমায়িক হাসি দিয়ে পেইজটা তুলে আবার বাড়িয়ে দিলো তার দিকে। ইমন সাহেব ভয়ার্ত কন্ঠে বললেন, “কে তুমি?”
“চেনার তো কথা আপনার! নাকি চিনেও না চেনার ভান করছেন? অবশ্য চেনার কথাও নয় কারন আমার তো কোনো চেহারাই নেই! হি হি”
হুট করেই মাথায় এলো কথাটা তার। টিকটিকিকে কোনো চেহারা দেননি তিনি। চেহারা ছিল তার কিন্তু তিনি তার বর্ননা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি! আবার জোবায়ের সাহেবের দিকে তাকাতেই বড়সড় একটা বৈদ্যুতিক শক খেলেন যেন। তার মুখটা একেবারে খালি। চোখ কান নাক মুখ কিছুই নেই! অথচ দিব্বি কথা বলে যাচ্ছে। চায়ের কাপটা পাশেই ছিল। তার অলক্ষে সেখান থেকে একটা ছোট্ট টিকটিকি এগিয়ে আসছিল……
*
“আইডিয়াটা কিন্তু জবরদস্ত। তো লেখা শুরু করবে কবে?”
“সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল থেকেই লেখা শুরু করবো। তবে কথা হচ্ছে গিয়ে চুক্তির বিষয়গুলো একটু সংশোধন করা দরকার মনে হচ্ছে আমার ”
“সে চিন্তা তুমি করো না, তুমি নিশ্চিন্ত মনে বই লিখে যাও। বাকি দায়িত্ব সব আমার ”
ফোনটা রেখে দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো অয়ন। নতুন লেখালেখি শুরু করেছিল সে কিন্তু কোথাও সুবিধা করতে পারেনি। অবশেষে গতকাল একটা বই পড়ার পর আইডিয়াটা মাথায় আসলো তার। বইটার নাম ছিল তিনমূর্তি! বইটার লেখক প্রথম বইয়ের পরেই রহস্যময় ভাবে মারা গিয়েছিল। তখনই তার মাথায় আইডিয়াটা আসে, কেমন হয় যদি জনপ্রিয় চরিত্র অভীক চৌধুরীর মাধ্যমে লেখককে মারা হয় এবং সেটা নিয়ে উপন্যাস লেখা হয়?? এতোদিনে এটা বুঝতে পেরেছে সে অভীক চৌধুরীকে নিয়ে যা দিবে পাঠক সবকিছুই খাবে!! প্রথম বইটার পর প্রায় দশ বছর হয়ে গেছে।এতদিনে কয়েকশোর মতো লেখা বেরিয়েছে অভীক চৌধুরীকে নিয়ে। তবে কারো মাথায় এমন অদ্ভুত আইডিয়া আসেনি এটা শিওর সে। এইসব সাতপাঁচ ভাবছিল তখনই কলিং বেলটা বেজে উঠলো……
*
গল্পটা দারুন জায়গায় এসেছিল তখনই ফোনটা আসতে হলো! বিরক্তি নিয়ে ফোনটার দিকে তাকিয়ে দেখলাম কলেজের প্রফেসর! ভয়ের একটা স্রোত বয়ে গেল সারা শরীরে। না ফোনের জন্য নয়, কলিং বেল বাজছে……
#অদ্ভুতুড়ে ক্যাটাগরিতে আমার যা লেখা পাবেন সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন করবেন না! কারন যদি এখানের ঘটনাগুলো কোনো লজিক বা যুক্তিকে অনুসরণ করে ঘটতো তাহলে কী এগুলো “অদ্ভুতুড়ে” ক্যাটাগরিতে থাকতো?:yucku:
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now