বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। বাবা মাগরেবের
নামাজ শেষ করে জায়নামাজে বসে আছেন। এশার
নামাজ শেষ করে তিনি উঠবেন। এই তার নিয়ম। দুই
নামাজের মাঝখানে তিনি তসবি টানতেন, তবে সাধারণ
কথাবার্তাও বলতেন। সেদিন ইশারায় আমাকে
জায়নামাজের একপাশে বসতে বললেন। আমি
বসলাম। তিনি আমার মাথায় হাত রেখে কিছু দোয়া-
দরুদ পড়ে যথারীতি বললেন, বাবা, সত্যি কথা
বলতে হবে। সবসময় সত্যি।
আমি বললাম, আচ্ছা বাবা মনে করো তুমি একটা নৌকায়
বসে আছ, নদীর ঘাটে নৌকা বাঁধা, তখন একটা
মেয়ে দৌড়ে এসে নৌকার পাটাতনে লুকিয়ে পড়ল।
তাকে কিছু দুষ্টু লোক তাড়া করছে। মেয়েটি
লুকানোর কিছুক্ষণ পর ডাকাত দল এসে পড়ল। তারা
তোমাকে বলল, একটা মেয়েকে আমরা খুঁজছি।
তাকে কোনো দিকে যেতে দেখেছেন?
তার উত্তরে তুমি কি সত্যি কথা বলবে?
বাবা কিছুক্ষণ আমার দিকে হতাশ চোখে তাকিয়ে
বললেন, দুষ্ট তর্ক ভাল না বাবা।
মোমবাতি আবার বাতাসে নিভে গেছে। মিসির আলি
বাতি জ্বালালেন।
আমি বললাম, আপনার তর্কবিদ্যার সেটাই কি শুরু?
মিসির আলি বললেন, শুরুটা বাবা করে দিয়েছিলেন।
তবে তর্কবিদ্যা না। তাঁর ছিল চিন্তাবিদ্যা। চিন্তা বা
লজিকনির্ভর অনুমানবিদ্যা।
বলুন শুনি।
মিসির আলি বললেন, বাবার আমার প্রতি বিশেষ
দুর্বলতা ছিল। দু'বছর বয়সে আমার মা মারা গেছেন।
মা'র স্নেহ পাই নি। এ নিয়ে তার মনে কষ্ট ছিল।
তিনি আমাকে আনন্দ দেবার জন্যে নানান খেলা
খেলতেন। প্রধান খেলা ছিল টিনের কৌটায় কিছু
মার্বেল ঢুকিয়ে ঝাঁকানো। ঝাঁকানোর পরে
বলতেন- বাবা, বলো মার্বেল কয়টা? বলতে
পারলে লজেন্স।
আমি যেকোন একটা সংখ্যা বলতাম। কৌটা খুলে
দেখা যেত সংখ্যা ঠিক হয় নি। বাবা বলতেন, যা মনে
আসে হুট করে তাই বলবা না। চিন্তা করে অনুমানে
যাবা। যদি একটা মার্বেল থাকে সেই মার্বেল
টিনের গয়ে শব্দ করবে। দু'টা মার্বেল থাকলে
টিনের গায়ে শব্দ হবে, আবার মার্বেল
মের্বেল ঠোকাঠুকি হয়ে আরেক ধরনের শব্দ
হবে। তিনটা মার্বেল থাকলে তিন রকমের শব্দ।
মূল বিষয় হল শব্দ নিয়ে চিন্তা। মানুষ এবং পশুর
মধ্যে একটাই প্রভেদ। মানুষ চিন্তা করতে পারে,
পশু পারে না।
আমি বললাম, বাবা পশুও হয়ত চিন্তা করতে পারে।
মুখে বলতে পারে না।
বাবা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন। আমার কারণে
তাকে অনেকবার দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলতে
হয়েছে। সেই দীর্ঘ নিশ্বাস পুত্রের ভবিষ্যৎ
চিন্তায় হতাশার চিহ্ন ছিল। বাবার কথা বাদ থাক। আপনি
এসেছেন আমার যেকোন একটা অমীমাংসিত
রহস্যের গল্প শুনতে। তেমন একটা গল্প বলি।
আমি বললাম, আপনার বাবার গল্প শুনতে ভাল লাগছে।
বাবার গল্পই বলুন। মার্বেলের শব্দ নিয়ে তার
খেলাটা তো শুনতে খুবই ভাল লাগল। কোন বাবা
তার সন্তানকে নিয়ে এ ধরনের খেলা খেলেন
বলে মনে হয় না।
মিসির আলি বললেন, অমীমাংসিত রহস্যের গল্পটা
বাবার সিন্দুক নিয়ে। সেই অর্থে এটা হবে বাবারই
গল্প। শুরু করি?
করুন।
(আর দেয়া হবে না বাকিটা পড়তে আপনাকে পড়তে হবে "মিসির আলি Unsolved" বইটি)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now