বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্যাঙ!!

"অদ্ভুতুড়ে" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Farhan Hossain (০ পয়েন্ট)

X রাতে জঙ্গলটা খুব শান্তশিষ্ট থাকে। সেজন্য এই সময়টা খুব ভালো লাগে জ্যাক এর। মনের আনন্দে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে পারে কেউ বাঁধা দেয় না তাকে। দিনের বেলা একেবারে যুদ্ধই লেগে থাকে বলা যায়।তাতে এমনিতেও কিছু যায় আসে না তার,দিনে খুব ভালো দেখতে পায় না সে। রাতকানা নয় দিনকানা রোগে আক্রান্ত সে!! হুম ঠিকই ধরেছো, জ্যাক একটা বাদুড়। রাতে কেউ তাকে কিছু বলে না ঠিক আছে তবে মাঝেমধ্যে বয়স্ক ট্রিনা তাকে ধমক দেয় দেখলেই। ওদের সমাজের সবচেয়ে বয়স্ক হচ্ছে ট্রিনা ব্রেন্ডেন। একটা প্যাঁচা। সবাই তাকে খুব সম্মান করে,তার কথা মেনে চলে। জ্যাক অবশ্য মাঝেমধ্যে তাকে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করে কিন্তু ট্রিনার হাত থেকে ঠিক বাঁচতে পারে না। আজকে কথা শুনেনি সেজন্য তাকে শাস্তি হিসেবে কোবাল্টের আস্তানার সামনে থেকে ফল নিয়ে আসতে। বেশ বিরক্ত এবং ভয় দুইটাই একসাথে লাগছে তার। তারপরেও যেতে হবে,নয়তো একঘরে করে দিতে পারে।ট্রিনার উপর বিশ্বাস নেই। জঙ্গলে বাঘ মহারাজের পরই দ্বিতীয় যেই প্রাণীটার নাম শুনলেই সবাই ভয় পায় সে হচ্ছে কোবাল্ট, নেকড়েদের ভয়ংকর একটা দল। মাঝেমধ্যে রাজামশাইয়ের কোথাও যাওয়ার দরকার হলে কোবাল্টদের তিনি দায়িত্ব দিয়ে যায়। ঐ সময় কাউকে আশেপাশে দেখলে আর রক্ষা নেই। সেজন্য ভয়ে ভয়ে সামনে এগুচ্ছিল জ্যাক, ঠিক তখনই একটা আর্তচিৎকারে বেশ চমকে গেল। নিচে তাকিয়ে দেখতে পেল একটা ব্যাঙকে! যাকে পেঁচিয়ে রেখেছে একটা সাপ। দুজনের কাউকেই চেনে না সে, ইদানিং বেশ নতুন নতুন মুখ দেখা যায় জঙ্গলে। ব্যাঙটার জন্য মায়া হলো তার। এরকম হঠাৎ বিপদ থেকে বাঁচার অনেক উপায় আছে তার কাছে,তারই একটা ব্যবহার করলো সে। কৌশলে গাছের ডালকে এমনভাবে নাড়াতে লাগলো যেন মনে হচ্ছে বড় কোনো প্রাণী এগিয়ে আসছে। এই কৌশলটা ট্রিনা তাকে শিখিয়েছে। অনেক মার খেয়ে অনেক কষ্টে এই কৌশলটা আয়ত্ব করতে পেরেছে সে। সাপটা কিছুক্ষণ এদিক সেদিক দেখে মূহুর্তেই ব্যাঙকে ছেড়ে পালালো। জ্যাক এগিয়ে গেল ব্যাঙটার দিকে। প্রায় মরো মরো অবস্থা ব্যাঙটার। আশেপাশে কেউ নেই যে সাহায্য চাইবে। খুব সাবধানে ব্যাঙটাকে টেনে কোনোরকম নিরাপদ জায়গায় রেখে সে ছুটতে লাগলো ট্রিনার বাড়ির দিকে। অসময়ে ট্রিনা তাকে দেখে বেশ অবাক হলো। কাহিনী খুলে বলাতে সে সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হেজেল ফক্স এর শরণাপন্ন হলো। বেশ কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল ওখানে যেতে যেতে। ততক্ষণে ব্যাঙটাও আর বেঁচে নেই। ট্রিনা জ্যাককে তার বোকামির জন্য বেশ কিছুক্ষণ বকা দিতে লাগলো। এদিকে হেজেল দেহটার দিকে বেশ মনোযোগ দিয়ে দেখে বললো,এটা আমার কাছেই থাকুক। ট্রিনা ভুরু কুঁচকে বললো, এবার ব্যাঙ খাবে নাকি? হেজেল বিরক্তির স্বরে বললো, আমার আর খেয়ে দেয়ে কাজ নেই! সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। পরীক্ষা করতে চাচ্ছি,চাইলে তোরাও আসতে পারিস। ট্রিনাই দেহটাকে নিয়ে চলতে লাগলো। হেজেল আরো কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো সেই জায়গাতে, তারপর কি যেন একটা ভাবতে ভাবতে চললো ওদের পেছনে। হেজেল একাই থাকে বাড়িতে। সেজন্য বেশিরভাগ সময়ই অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে তার গুহাটা। কোনোরকমে নিভু নিভু একটু আলো জ্বেলে সে হাতের নখ দিয়ে ব্যাঙটার দেহটাকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। কিছুক্ষণ ধরে খুচাখুচি করার পরেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে পুরো চামড়াটাই উঠে গেল। ট্রিনা বেশ অবাক হয়ে গেল। হেজেলকে ততোটাও অবাক হতে দেখা গেল না। জ্যাক এগিয়ে গিয়ে কি যেন মনে করে একটা কামড় বসিয়ে দিল!! হেজেল প্রায় আর্তনাদ করে উঠলো। এক ধাক্কায় তাকে সড়িয়ে দিতে যাচ্ছিল মাঝপথে থেমে ট্রিনাকে খপ করে ধরে ফেললো। ট্রিনা ভয় পেল সামান্য। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারলো কেন তাকে খপ করে ধরেছে আর কেন জ্যাক কামড় বসালো হুট করে।ব্যাঙটার গায়ের রংটা অনেকটা তার প্রিয় ফলের মতো। যা সামনে দেখলে জ্যাক শান্ত থাকতে পারে না। কামড় দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্যাক ব্যাঙটার পাশেই পরে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার নাড়াচাড়া বন্ধ হয়ে গেল! বিষ?? হেজেল ট্রিনাকে নিয়ে বাইরে এসে গুহার সামনের একটা গাছের নিচে বসলো। ট্রিনা ঘটনাটা ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না। হেজেল গম্ভীর গলায় বললো,phrynomantis bifasciatus!! আফ্রিকার অধিবাসী। এদের ত্বক বিষাক্ত। ট্রিনা কিছু বললো না। হেজেল অন্যমনষ্কভাবে বলতে লাগলো, কিন্তু ও এখানে আসলো কিভাবে? জ্যাক কী বলেছিল মনে আছে? ট্রিনা মৃদু স্বরে বললো, সাপ…। হেজেল কিছু একটা মিলানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই শীতল একটা স্পর্শ অনুভব করলো সে! চোখে ঘোর দেখতে লাগলো। চোখ বন্ধ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রিনাকে দেখলো এলোমেলো ভাবে উড়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে, তার পেছনে? ওটা কে? কোবাল্ট না? কিছু বলতে পারলো না সে, পরে গেল মাটিতে।…… কী লিখসি আমি নিজেও জানি নাgj নিজ দায়িত্বে পড়ুন এবং কোনো প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন। আমার মাথার অদ্ভুত আইডিয়া গুলোর একটা ঝলক দেখেই খুশি থাকুনyucky © আমার ইউজলেস মস্তিস্ক!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now