বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পশুপাখি পালন করার শখ কম বেশি সব মানুষের মাঝে বিদ্যমান আছে। ছোট ছেলেমেয়েদের পাশাপাশি বড়রাও শখের বশে পশুপাখি পালন করে থাকে। সেই কারণে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে পাখি পালনের দৃশ্য দেখা যায়। অনেকেই শখের বশে বিভিন্ন রকমের পাখি পালন করে যেমন– ঘুঘু, ময়না, টিয়া ও কবুতর। আবার কেউ বা পালন করে বিড়াল ছানা।
ঠিক তেমনি ছিল পশুপাখিদের বন্ধু দুষ্টু বালক সাজু। সে ক্লাস চতুর্থ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর, নতুন বই পেয়ে সারাদিন বাংলা বইয়ে পশুপাখিদের ছবি দেখত। বিভিন্ন ছলনায় তার মায়ের কাছে জেনে নিত কোন পাখির কি নাম। কোন পাখিকে কি নামে ডাকতে হয়।
একবার সে ছবিতে সবুজ রঙের একটা পাখি পছন্দ করেছিল। তার খুব শখ জেগেছিল সবুজ রঙের পাখিটি খাঁচায় বন্দি করে পোষার জন্য। এই জন্য সেদিন সাজু বাংলা বই নিয়ে দৌড়ে মায়ের কাছে ছুটে যায় এবং সবুজ রঙের পাখিটি দেখিয়ে বলে, ‘ও আম্মু, এই সবুজ রঙের পাখিটির নাম কি? এরা কোথায় বসাবাস করে?’ তখন তার আম্মু বললেন, ‘এই সবুজ রঙের পাখিটির নাম টিয়া পাখি। এই পাখি দেখতে খুব সুন্দর। এরা আমাদের দেশে বনজঙ্গলে বসাবস করে।’
তাতক্ষণিক সাজু সবুজ রঙের পাখিটির নাম জানার সাথে সাথে, ওর আম্মুর কাছে সবুজ রঙের টিয়া পাখি কিনে আনার বাইনা ধরে। আর কান্নার ছলনায় বলে, ‘ও আম্মু, আমি এই সবুজ রঙের টিয়া পাখি খাঁচায় বন্দি করে পুষতে চাই। তুমি আব্বুকে ফোন করে বল না, অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় বাজার থেকে এই সবুজ রঙের টিয়া পাখি কিনে আনতে। আমি এই সবুজ রঙের টিয়া পাখিটি পোষবো। আমার খুব শখ এই সবুজ রঙের টিয়া পাখি পোষার।’
সাজুর মুখে টিয়া পাখি পোষার কথা শুনে তার আম্মুর ইতস্তত বোধ করলেন। তিনি মনে মনে ভাবতে থাকলেন, যে কিনা নিজেকে ঠিক মত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পারে না। এখনও মুখে তুলে খাবার খেয়ে দিতে হয়। সে কিনা টিয়া পাখি পোষার কথা বলছে। এমনিতেই সারাদিন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে। ঠিক মত পড়ালেখা করতে চায় না। টিয়া পাখি কিনে দিলে তো ওর সবকিছু গোল্লায় যাবে। কি করি এখন ওতো আবার নাছোড়বান্দা। টিয়া পাখি কিনে না দিলে তো আমাদের উপর অভিমান করবে। ঠিক মত স্কুলে যাবে না। আমাদের সাথে কথা বলবে না।
সেই মুহূর্তে কোন উপায় না পেয়ে, সাজুর আম্মু সাজুর আব্বুকে ফোন করে জানিয়ে দিলেন– ‘হ্যালো! সাজুর আব্বু শুনছো, তোমার ছেলে সাজু আমার সাথে দুষ্টুমি করছে।’ সাথে সাথে সাজুর আব্বু উত্তর দিলেন– ‘সাজুর কি হয়েছে? তোমার সাথে ও দুষ্টুমি করছে কেনে ?’ পরক্ষণে সাজুর আম্মু উত্তর দিলেন– ‘তোমার ছেলে সাজু সকাল থেকে টিয়া পাখির জন্য আমার কাছে কান্নাকাটি করছে। আমার সাথে দুষ্টুমি করছে। ঘরবাড়ির জিনিসপাতি নষ্ট করছে। নতুন বইখাতা গুলো ছিঁড়ে ফেলছে। তুমি অবশ্যই মনে করে সাজুর জন্য বাজার থেকে একটা টিয়া পাখি কিনে আনবে তো। নয়তো ও আমার সাথে দুষ্টুমি বন্ধ করছে না।’
টিয়া পাখি কিনে নিয়ে যাওয়ার কথা শুনে সাজুর আব্বু সাথে সাথে রাগান্বিত হয়ে গেলেন। তিনি তাতক্ষণিক সাজুর আম্মুকে ধমক দিয়ে বললেন, ‘তুমি কি সব আজেবাজে কথা বলছ। তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি। তুমি জানো না, খাঁচায় বন্দি করে পাখি পোষা উচিত নয়। এতে করে ঐ সব প্রাণীগুলো খুব কষ্ট পায়। খাঁচার ভিতরে বন্দি থাকা পাখিদের দেখতে পাও না, তারা মাঝেমধ্যে কেমন ডানা ঝাপটায় মুক্ত আকাশে উড়ার জন্য। কিন্তু লোহার খাঁচায় বন্দি থাকার কারণে পাখিগুলো উড়তে পারে না। ওদের ও তো আমাদের মত স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার আছে। ওরা তো আমাদের সামাজিক পরিবেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সমাজের উপকারী প্রাণী। ওদেরকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কোন সময়ের জন্য ওদেরকে পরাধীনতার শিকলে বেঁধে রাখা আমাদের শোভনীয় নয়।’
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now