বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মনির চৌধুরী
কোন একটা কর্মের সন্ধানে, শীতের মধ্যে সবে মাত্র ঢাকা শহরে নতুন এসেছি। ঢাকা শহরে আসার সাথে সাথে শীতের তীব্রতা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের চাপে ঘরের বাইরে যাওয়াটা খুব দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাতের আকাশে একটা দুইটা তারা মিটিমিটি জ্বলছে। রাত তখন একটা বাজে। হঠাৎ করে কোন একটা বিশেষ কাজের জন্য বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হল। কিন্তু, প্রচণ্ড শীতের কারণে সেদিন বাইরে যেতে মন বলছি না। এমনিতেই গভীর রাত হয়ে গেছে, শহরের অলিগলি সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। তবু বিশেষ কাজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে কোন উপায় না পেয়ে, শেষমেশ প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে বাইরে দিকে গেলাম। বাইরে দিকে যাওয়ার পর ঘন কুয়াশার কারণে দূর প্রান্তের কোনকিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। সবকিছু ঘোর ঘোর লাগছিল। তবু গুরুত্বপূর্ণ দরকারের জন্য দোকানে উদ্দেশ্যে হাঁটতে থাকি। এক পা দু'পা করে হাঁটার এক পর্যায়ে রাস্তার পাশে গাছের নিচে একটা বৃদ্ধ মহিলার দিকে নজর গেল। তিনার কাছাকাছি গিয়ে দেখি, পাতলা একটা চাদর মুড়ি দিয়ে গাছের নিচে ঘুমিয়ে আছে। আর প্রচণ্ড শীতে থরথর করে কাঁপছে। মাঝে মধ্যে একা একা কি সব হিজিবিজি কথা বলছে।
আমি তখন ঢাকা শহরে এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে নির্বাক হয়ে যায়। নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার মত কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বারবার নিজের বিবেক প্রশ্ন করছে, এখনও এই ঢাকা শহরে বিবস্ত্রহীন মানুষ রাস্তার ধারে পড়ে থাকে? খাবার খেতে না পেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরে? কি নিষ্ঠুর এই জাঁকজমকপূর্ণ ঢাকা শহর? এই কথা ভাবতে ভাবতে তখন আমি মনে মনে ঠিক করলাম, বৃদ্ধ মহিলাটির জন্য দোকান থেকে একটা শীতের কম্বল কিনে নিয়ে আসতে হবে। আর এই শীতের কম্বলটি বৃদ্ধ মহিলাটিকে দিতে হবে, যাতে তিনি শীতের কম্বল পেয়ে আরামে ঘুমাতে পারবে। কনকনে শীতের কষ্টটা দূর করতে পারে। সেদিন আমি এই আশা-প্রত্যাশা মনের মাঝে রেখে, একটা দোকান থেকে শীতের কম্বল কিনে বৃদ্ধ মহিলাটির কাছে ছুটে আসি। তখন বৃদ্ধ মহিলাটি আমাকে দেখে বলে , কে বাবা তুই? কেনে এখানে এসেছিস? কি প্রয়োজন তোর?
আমি তখন বৃদ্ধ মহিলাটির বললাম, বুড়িমা! দোকানে যাওয়ার সময় দেখলাম তুমি এই গাছের নিচে প্রচণ্ড ঠান্ডায় থরথর করে কাঁপছো। এই জন্য তোমাকে শীতের ঠান্ডায় কাঁপতে দেখে তোমার জন্য একটা কম্বল কিনে এনেছি। এই নাও শীতের কম্বল, গায়ে দিয়ে আরামে ঘুমিয়ে থাক। কিন্তু, বৃদ্ধ মহিলাটি কোন মতেই শীতের কম্বলটি নিতে চাইল না। তিনি আমাকে সেই মূহূর্তে বলল, ‘বাবা, তুই এখান থেকে চলে যা। আমার কোন শীতের কম্বল-টোম্বল লাগবে না। এমনিতেই যখন কোন কিছু ছাড়া কয়েকটা বছর পর হয়ে গেছে। বাকী জীবনটা এমনিতেই চলে যাবে। নিজের ছেলেমেয়েদের কাছে শেষ বয়সে যখন কোন ঠাঁয় পেলাম না। তুই তো পরের ছেলে আমাকে দরদ দেখিয়ে কি করবি। তুই আমার জন্য একটু ভাবিস না।’ বৃদ্ধ মহিলাটির মুখে অদ্ভুত কথাবার্তা শুনে সেদিন আমার দু'চোখে পানি চলে এসেছিল। বাবা-মায়ের কথা মনে পড়ে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কোনকিছু বোঝে উঠতে না পেরে, অবশেষে শীতের কম্বলটি বৃদ্ধ মহিলাটির পাশে রেখে হোস্টেলে ফিরে এসেছিলাম।
ঠিকানাঃ দামুড়হুদা,চুয়াডাঙ্গা
মোবাইল নং ০১৬১৯১৫৬৫১১
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now