বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পের নাম :আজ অধরার বিয়ে
-আচ্ছা তুমি সিরিয়াস হবে কবে? (অধরা)
-আমি আবার কি করলাম (বিজয়)
-আমার বিয়ের জন্যে বাসা থেকে ছেলে দেখতেছে , গতকালকেও এক দল এসে দেখে গেছে।
-আচ্ছা বাবা দেখে গেছে বিয়ে তো আর হয় নি।
-যদি হয়ে গেল তখন কি করবা?
- তোমার বরকে খুন করে তোমাকে নিয়ে পালাব
-সব সময় দুষ্টুমি ভাল লাগে না বিজয়, আর কত দিন বেকার থাকবা একটা ভাল জব খুজে আমার বাবার কাছে তুমি তোমার ফ্যামিলিকে পাটাও না ।
বিজয় বাবা মায়ের এক মাত্র বেকার সন্তান। বাবা মায়ের যেমন আদুরের সন্তান তেমনি অধরার খুব পছন্দের এক জন মানুষ। খুব ভাল বাসে মেয়ে টা বিজয়কে। বিজয় যে কম ভালবাসে তা না, বিজয় ও খুব বেশি ভালবাসে বিজয় কে হয়তো বা তার জীবনের চেয়েও বেশি। মাস্টার্স পাস করেও ভাল চাকুরি পাচ্ছে না। ওই দিকে অধরার বাবা ঠিক করে রেখেছে অধরাকে সরকারি চাকুরি ওয়ালা ছেলের কাছে বিয়া দিবে। তার বাবার ধারনে সরকারি চাকরি মানে সোনার হরিণ। বন্ধুকের গুলি যেমন একবার বের হলে আর ফিরিয়ে আসে না তেমনি অধরার বাবার মুখের জবান ও, যে কথা একবার বলবে তা আর নরচর হবে না। এই নিয়ে অধরা আর বিজয় খুব চিন্তিত।
-বিজয় আজকেও আমাকে দেখতে আসছে?
-বাহ ভালই তো, মুখ দেখে যা টাকা পাবে আমাকে কিন্তু অর্ধেক টাকা দিতে হবে।
-তোরে সব টাকাই দিব, হ্রামি, কুত্তা, বিড়াল ইদুর খালি ইত্রামি ছাড়া কিছু পারে না, ইত্রামি না করে একটা চাকুরি খুজতে পারো না।
-আরে বাবা মহারানী দেখি রেগে গেছে। বেশি রেগে যেও না রাগলে তোমাকে অসম্ভব সুন্দর লাগে, পরে ছেলে তো তোমাকে পছন্দ করে ফেলবে তখন আমাকে সুইসাইড.......
-ওই চুপ এই কথা মুখে আনবা না। আচ্ছা এখন রাখি পরে কথা হবে।
বিজয় খুব টেনশনে আছে, যদি অধরার বিয়ে টা হয়ে যায় তাহলে কি হবে। আজ কত দিন ধরে চাকুরির জন্যে চেস্টা করতেছে বাট চাকুরি হচ্ছে না। সরকারি চাকুরি পাওয়া এত সোজা নয়। ওই দিকে গাব্বার সিং সরকারি চাকরি পাওয়া ছেলে ছাড়া মেয়ে বিয়া দিবে না।
বিজয় একটা অফিসে চাকুরির ইন্টার্ভিউ দিতে গেছে। সে একা না আরো ২৫ জনের মত আছে। বিজয় ভাবতেছে আজকেও বুঝি চাকুরিটা হবে না। লোক নিবে দুই জন মানুষ হল দুই ডজনের উপরে। অনেকেই আছে এমপি মন্ত্রীর রেফারেন্সে এসেছে তার মানে তারাই চাকুরি পাবে বাকি গুলা শুধু শুধু এসেছে। বিজয় নিজেকে গালি দিতে লাগল কারন আজকেও চাকুরিটা হল না। এটা ছিল ৪৫ নাম্বারের ইন্টার্ভিউ।
-চাকুরি টা কি হল
-না
দুই জনেই নিরব, অধরাই বা বিজয়কে কি বলবে। সরকারি চাকুরি পাওয়া চারটি খানি কথা না।
-আরে আমার জানটার মন খারাপ বুঝি।
- না আমি ঠিক আছি!
-সত্যি বলছো তো?
-হুম, আচ্ছা অধরা আমি যদি সরকারি জব না পাই তাহলে তুমি কি তোমার বাবার পছন্দের ছেলেকে বিয়া করবা?
-না আমি তোমাকে ভালবাসি আর তোমাকেই বিয়া করব।
-খুব বেশি ভালবাসি আমি আমার পাগলিটাকে।
-এই পাগলিটাও তোমাকে খুব বেশি ভালবাসে। পাগলিটা তোমার না হতে পারলে এই দুনিয়ার কারো হতে পারবে না।
বিজয় সব সময় আতংকে থাকে তার হবু শশুর গাব্বার সিং কখন যেন অধরার বিয়ে দিয়ে দেয়। এটা শশুর না যেন জম। বেশ কিছু দিন ভালই কাটতেছিল তাদের দিন কাল
-কালকে একবার দেখা করতে পারবা (অধরা)
-হ্যা কোথায় আসতে হবে সেটা বল (বিজয়)
-নদীর পাড়ে বিকাল ৪ টায়
এই কথা বলে ফোন রেখে দিল। এই দিকে বিজয়ের তো সেই পরিমানে চিন্তা হচ্ছে , এভাবে তো কখনো ফোন রেখে দেয় না তাহলে কি অধরার বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। নানা এ হতে পারে না, আমি এগুলা কি ভাবতেছি। এই সব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরল বিজয়।
বিকাল ৪ টায় দুই জন নদীর পাড়ের বট গাছের নিছে বসে আছে। দুই জনেই নিরব কেউ কারো সাথে কথা বলতেছে না, হঠাৎ অধরা বিজয়কে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিল।
-আরে বাবা কান্না করছো কেনো কি হইছে বল।
-বিজয় বাবা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলছে, সামনে শুক্র বারে আমার বিয়ে। আমি তোমাকে ছাড়া বাচব না।
-মানে?
-হুম, তোমার কথা বলার পর বাবা আরো বেশি রেগে গিয়া তারাতারি বিয়ে ঠিক করে ফেলছে । তুমি কিছু কর বিজয় আমি তোমাকে ছাড়া বাচব না।
- চল পালিয়ে যাই?
-না বিজয় এই কাজ আমি করতে পারব না তাহলে বাবা খুব কস্ট পাবে, ওনি অলরেডি দুই বার স্টোক করছে আমি বাবাকে কস্ট দিতে পারব না, তুমি অন্য কোন রাস্তা খুজ না হলে আমি বাচব না।
-আর কোন পথ খোলা নাই অধরা।
-আমি এই কাজ করতে পারব না।
আজ বৃহস্পতি বার কাল অধরার বিয়ে আর আজ আমারও একটা চাকরির ইন্টারভিউ আছে। জীবনের শেষ পরিক্ষা হবে এটা আর যদি চাকরিটা না হয় তাহলে আর জীবনেও চাকরি করবো না।ভাবছি যদি চাকরিটা হয়ে যায় তবে কাল অধরার বাড়ির গিয়ে তার বাবার কাছে অধরাকে ভিক্ষে চাইবো। আর যদি ওনি মানা করে তখন কি হবে নাহ এসব আর ভাবতে পাড়ছি না। এইসব কথা ভাবলেই একটা ভয় চারপাশ থেকে চেপে রাখে আমাকে।
অফিসের সামনে দাড়িয়ে আছি আর ভাবছি যদি আজও চাকরিটা না হয় তাহলে কি হবে,,,??
নাহ আজ যে করেই হোক চাকরিটা আমায় পেতেই হবে না হলে জীবনের সব থেকে দামি জিনিসটা হাড়িয়ে যাবে। একপা দুপা করে অফিসের সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলাম। যেই রুমে সকলকে জিগ্গাসাবাদ করা হয় সেখানে আমি ছাড়াও আরও ৬জন আছে কিন্তু লোক নিবে ৩জন দেখা যাক কপালে কি আছে।ভেতর থেকে ডাক আসলো আমাকেই ডাকছে মনে ভিতর একধরনের ভয় কাজ করছে।
,
ভেতরে আসতেই দেখলাম তিন জন লোখ সুটকোর্ট পড়ে বসে আছে। সালাম দিয়ে চেয়ারে বসে পড়লাম। ভালোভাবেই ইন্টারভিউ শেষ হলো কিন্তু এখনও কিছু জানায়নি বলছেন রাতে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিবে।অফিস থেকে ফেড়ার পথে অধরাদের বাসার দিক দিয়ে আসলাম। মেয়েটা সকাল থেকে এই পর্যন্ত ৪বার ফোন দিয়ে শুধু একটা কথাই জানতে চেয়েছে। চাকরিটা কি হবে,,,,,???আমি শুধু হেসে উওর দিয়েছি রাতে জানাবে হবে কিনা আর মেয়েটা মন খারাপ করে ফোনটা রেখে দিয়েছে।অনেক কষ্ট বুকে চেপে তারপর সেই কৃএিম হাসিটা দিতে সক্ষ্যম হয়েছিলাম তখন।
বাসার নিচে আসতেই দেখতে পেলাম বাড়িটা খুব সু্ন্দর করে সাজানো হয়েছে।পুরো বাড়িতে হড়েক রকমের আলো জ্বলছে লাল নীল হলুদ সবুজ।অধরাকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলাম কিন্ন্তু মেয়েটা ফোনই তুলছে না।বাড়িতে উচ্চ সাউন্ডে মিউজিক বাজছে তাই হয় তো শুনছে না। যাই হোক রাতে কথা বলবো আর দেখি চাকরিটার কি জবাব আসে। মনটা ভার করে বাসার দিকে রওনা হলাম মাথাটা নিচু করে হাটছি আর ভাবছি অধরাকে বিয়ের সাজে কেমন লাগবে দেখতে। মেয়েটাকে দেখতে অনেক ইচ্ছে করছে যদিও তা এখন সম্ভব না। মানুষের সব চাওয়া পূর্ণ হয় না।
,
রাত ১০টা ৪৫মিনিট ছাদের এক কোনে বসে আছি আর একদৃষ্টিতে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছি।এই মুহূর্তে দুজন ব্যক্তির ফোনের অপেক্ষায় আছি একজন হলো অধরা আরেক জন অফিসের ফোন। হঠাৎ একটা ফোন আসলো একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে। কাপা কাপা হাতে ফোনটা রিসিভ করলাম রিসিভ করতেই ফোনের ওপাশ থেকে একটা গম্ভীর কন্ঠ স্বর ভেসে আসলো আর যা বললেন তা শুনে খুশিতে প্রায় পাগলই হয়ে যাবার মত ছিলো।অবশেষ চাকরিটা হলো আমার তাও সরকারি চাকরি এবার অধরার বাবা আমাকে না করতে পাড়বেন না।
সাথে সাথে অধরাকে ফোন দিলাম কিন্তু ফোনটা অফ বলছে।ভাবলাম হয় তো মন খারাপ করে অফ করে রেখেছে তার চেয়ে বরং ওর বাসার সামনে যাই তাহলেই হবে। আর এই খুশির সংবাদটা দেওয়ার পর তার ঐ চাঁদ বধন মুখখানা দেখতে কেমন হয় তাও নিজের চোখেই দেখতে পাবো,,,,,,,,????
আর তর সইছে না আমার দৌড়ে সিড়ি দিয়ে নেমে মেন রাস্তায় আসতেই কোনো গাড়ি বা সিএনজি কিছুই পাচ্ছি না তাই পায়ে হেটেই যেতে শুরু করলাম। খুশিতে এতটাই পাগল ছিলাম যে রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাটছি না পাশ দিয়ে তাই খেয়াল নেই।হঠাৎ পেছন থেকে একটা গাড়ি এসে জোড়ে ধাক্কা দিলো তারপর আর কিছুই মনে নেই।
,
চোখ খুলতেই নেজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করলাম আর পাশে মাকে দেখতে পেলাম চোখের পানি মুছে আমার দিকে হাসি মাখা মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে।আম্মু একটা খাম আমার দিকে এগিয়ে দিলেন। খামটা খুলতেই দেখলাম আমার চাকরির জয়েন লেটার অনন্দে বিছানা থেকে ওঠতে গিয়েও উঠতে পাড়ছি না,,,,,
,
আম্মু আমাকে অধরাদের বাড়ি নিয়ে চলো না একটু,,,,,,,
মেয়েটা আমার জন্য অপেক্ষায় আছে প্লিজ আম্মু,,,,,,??
,
গিয়ে কি হবে তার তো বিয়ে হয়ে গেছে কাল,,,,,, (অধরা)
,
কি বলছো আম্মু এটা হতে পাড়ে না কিছুতেই না তুমি মিথ্যে বলছো,,,,,???(আম্মুর কথা শুনে মনে হলো আকাশটা আমার উপর ভেজ্ঞে পড়েছে)
,
না সত্যি বলছি তোর আজ একদিন পড় জ্ঞান ফিড়েছে,,,,,,,, (আম্মু)
,
আমার কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিলো না অধরা আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে পাড়ে।কিন্তু তারপরেও এটাই ছিলো সত্য কথা।বার বার একটাই কথা মনে হচ্ছিলোএই ছিল তোমার ভালবাসার নমুনা। এই ছিল তোমার ওয়াদা। বলেছিলে তুমি শুধু আমার হবে কিন্তু না তুমি সব কিছু মিথ্যে বলেছিলে। আমার জন্য অপেক্ষাও করতে পাড়লে না ভাবতেই অবাক লাগছে।তুমি না বলেছিলে আমার জন্য সারা জীবন অপেক্ষা করবে তাহলে এটাই ছিলো তোমার অপেক্ষা,,,,,???
,
খুব দেখতে ইচ্ছে করছে বিয়ার সাজে তোমাকে কেমন লাগছিলো বেনারসি শাড়িতে তোমাকে নিশ্চয় হুর পরীর মত লাগছিলো তাই না,,,,,???
দুচোখ থেকে অঝর ধারায় গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু নামক বন্তুটা। আজ আর এই চাকরি দিয়ে কি করবো আমি কোনো প্রয়োজন নেই আমার এই চাকরির কোনো প্রয়োজন নেই।জয়েন লেটারটা টুকরো টুকরো করে ছুড়ে ফেলে দিলাম। তুমিই যখন নেই তাই এই চাকরিরও আমার জীবনে কোনো মূল্য নেই।ভালো থেকো তুমি অনেক অনেক ভালো আমিও ভালোই থাকবো হয় তো আগের চাইতেও একটু বেশি,,,,,,,,,,,
,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now