বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কেননা শিমুল নিজের চোখকেই ফিরাতে পারছে না, সম্পুর্ন বেহুশ,
রিয়া একেবারে তার সামনে এসে দাড়িয়ে আছে, চেয়ারটা টেনে,
শিমুলের সামনে বসে পরে,
শিমুল কিছু বলতে পারছে না,
কিছু বুঝতে পারছে না,
শুধু চেয়েই থাকে রিয়ার দিকে!
শিমুলের এরকম চেয়ে থাকা দেখে রিয়ার হালকা বিব্রতবোধ হয়, তবে কেন জানি মনের গভীর থেকে শিমুল চেয়ে থাকাটা বেশ ভালো লাগে।
যেন মনের কোনো গভীর অংশ থেকে রিয়া চায়,
শিমুল তাকে আজীবন এরকম চেয়ে দেখুক,
যেন রিয়া গলে যায় শিমুলের অদ্ভুত দৃষ্টি দেখে,
কিন্তু মুহূর্তেই গলে যাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করে হৃদয়কে কঠিন করে বলে,
.
"কী ব্যাপার? "
.
তাতেও যেন শিমুলের খুব একটা হুশ হয় না,
রিয়ার শিমুল এরকম বেহুঁশ হাল দেখে বেশ ভালোই লাগে, তবে সেই ভালোলাগাকে আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে এইবার বেশ জোরেই বলে,
.
"কী অবস্থা?"
.
হটাৎ যেন স্বপ্নে বিভোর শিমুলের মুখে কেউ এক বালতি পানি ঢেলে দিল, হটাৎ করে যেন সে হুশ ফেরত পেল রিয়া চেহারা দেখে বেশ রাগে আছে বলে মনেহয়। মনে মনে, শিমুল বলতে থাকে,
"হটাৎ হটাৎ আমার কী হয়ে যায়?"
মাথা নিচু করে ফেইসবুকের দিকে মনযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে। বেশ লজ্জা পায় শিমুল
.
শিমুলের লজ্জায় শুকিয়ে যাওয়া মুখ দেখে রিয়ার বেশ ভালোই লাগে
কিন্তু মনে মনে আফসোসও হয়, "আহা ছেলেটাকে কী অকারণে বাধা দিলাম!
"
.
এর মধ্যে ভিতর থেকে রিয়ার ফোন বেজে ওঠে,
রিয়া উঠে দাড়িয়ে, হালকা দৌড় দেয় ফোনটা ধরার উদ্দেশ্যে, ইচ্ছা না অনিচ্ছা জানা নেই কিন্তু কেন জানি শিমুলের দৃষ্টি দৌড়ানো অবস্থায় রিয়ার পিছনে উন্মুক্ত কোমরের যে আকাবাকা দিক পরিবর্তন সেদিকে যায়, দেখে যেন আবার বেহুঁশ হওয়া শুরু করে,
তবে মুহুর্তেই হুশও ফিরে পায় মনেপড়ে যায় কিছুক্ষণ আগে রিয়ার তীব্র সেই ধমক। তাই নিজেকে সংযত রাখে শিমুল
।
.
রিয়া ভিতরে গিয়ে দেখে জারিফ ফোন দিয়েছে,
এত রাতে জারিফের ফোন দেখে অবাক হয়ে যায় রিয়া !রাতে তাদের কথা বলার অভ্যাস নেই এরকম না,তবে গতকালকে বাজাবাজিরর পর জারিফ বেশ কঠিন মুডে ছিল, এত তাড়াতাড়ি ভুলে গিয়েছে বিষয়টা হজম করা বেশ কঠিন হয়ে ওঠে রিয়ার ।
বহু চিন্তা ভাবনা করে অবশেষে ফোনটা ধরে রিয়া ,
বেশ সিরিয়াস গলায় বলে,
.
"হ্যালো"
.
"কেমন আছ রাজকন্যা?"
.
"ফোন দিয়েছ কেন?"
.
"ক্ষমা চাওয়ার জন্য আর একটা সুখবর দেওয়ার জন্য "
.
"কী?"
.
"আম্মাকে বহু যুদ্ধ, কষ্ট করে, নানারকমের বাহানা দিয়ে শেষমেশ তার মাথা দিয়ে বিয়ার ভুত নামিয়েছি, সো, নো টেনশন, সেদিন পার্কে বসে আমি তোমার সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করেছি,মনথেকে দু:খিত।
দরকার হলে কান ধরব,
যদি তাতেও না হয় পা ধরব। "
.
জারিফের কথাগুলো শুনে রিয়ার খুশিতে মন ভরে যায়,সে যেন আবার আশা পায়,
মনেহয় যেন তার বুক থেকে সব আতঙ্ক ভয়কে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু নিজের আনন্দকে চেপে রেখে বেশ অভিমানি স্বরে বলে।
.
"না এত সহজে মাফ করা যায় না,
তুমি জানো আমি কত কেঁদেছি? "
.
"সরি বললাম তো!
দরকার হলে তোমার পা ধরব প্লিজ,
কালকে একটু পার্কে আসো,
প্লিজ আমাকে মাফ কর, প্লিজ "
.
নিজের জীবনের সবথেকে প্রিয় মানুষের এত করুন কন্ঠে ক্ষমার জন্য অনুরোধ শুনে রিয়া র মন যেন গলে যায়
,
.
"ঠিক আছে, কিন্তু কালকে পার্কে আসার পর সরি বলতে হবে কিন্তু!"
.
"আচ্ছা একবার না ১০০বার চাব দরকার হলে,
প্লিজ শুধু একটাবার আমার কাছে আসো রিয়ার তোমাকে ছাড়া আমার পক্ষে বাচা অসম্ভব। "
.
"ঠিক আছে কালকে পার্কে আসবো।
.
"ঠিক আছে, লাভ ইউউউউউউ প্রিন্সেস। "
.
"এত ঢং দেখানো লাগবে না।"
বলে একটা হাসি দিয়ে ফোন রেখে দেয় রিয়া ।
.
রিয়ার মন থেকে যেন আনন্দের ধারা বয়ে যাচ্ছে,
কিন্তু সেই আনন্দ কেন জানি তার কাছে কৃত্রিম মনে হতে থাকলো, কেন জানি বারবার শিমুলের কাছে যেতে চাচ্ছিল মন।
.
আবার বারান্দার দিকে যায় রিয়া ,
শিমুলের এক হাতে সিগারেট অন্য হাতে মোবাইল,
মনেমনে খুবই রাগ হতে থাকে রিয়ার।
সিগারেট খায় এরকম ব্যক্তিদের কোনো সময়ই তার খুব একটা পছন্দ না
।
.
রিয়া কে দেখে শিমুল সিগারেটটা বাইরে ফেলে দেয়, মোবাইলটাও পকেটে ঢুকায়।
.
"ওগুলা কি খাও সারাদিন? "
.
চুপচাপ মাথাটা নিচু করে রাখে শিমুল সিগারেটের প্যাকেটটা পাশেই ছিল, বেশ রাগে সিগারেটের প্যাকেটটা বাইরে ছুড়ে ফেলে দেয় রিয়া প্যাকেটটায় ৮-৯টা সিগারেট ছিল ১০০ টাকা+ লস।
.
কিছু বলে না শিমুল চুপচাপ বসে থাকে,
শিমুলের যথেষ্ট বদমেজাজ আছে,
অন্য কেউ এই কাজ করলে হয়ত বিশাল বড় ঝামেলা হয়ে যেত। হয়ত রিয়া মায়াবী চেহারার প্রতি শিমুলের যথেষ্ট ভয় আছে তাই কিছু বলার সাহস পায় না চুপচাপ থাকে।
.
রিয়ার ও বোঝে রাগ অতিরিক্ত দেখানো হয়েছে হয়ত শিমুল কষ্ট পেয়েছে অথবা খুব রাগ হয়েছে।
.
"এখানে বসে থাকো এখন ঘুমাতে যেও না।"
বলে রিয়া ভিতরে যায়।
.
শিমুল মনে মনে ভাবতে থাকে,
.
"কী আবার হল?"
আবার ফেইসবুকে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
.
প্রায় ৫-৬ মিনিট পর আবার রিয়া আসে,
আবার মেজাজটা গরম,
.
"তোমার অবস্থাটা কি বলতো?
মোবাইলটা রাখো।"
.
রিয়ার আদেশে মোবাইলটা রেখে দেয়,
মনেমনে ভাবে,
রিয়া কে কী কারণে সে এত ভয় পায়!
কোনভাবেই উত্তর খুজে পায় না।
.
চায়ের কাপটা শিমুলের হাতে দেয় রিয়া ,
আরেক হাতে নিজের জন্য চা।
.
শিমুল চা পাগল ব্যক্তি,
কিন্তু রিয়া যেভাবে চুমুক আর প্রত্যেকবার তার ঠোটে যে চায়ের ফোটা লেগে থাকে সেদিকে শিমুলের র দৃষ্টি যায় বারবার। সচারাচর রিয়া সাথে শিমুল খুব কম কথা বলে, কিন্তু চা আসলেই অসাধারণ হয়েছে।
.
"চা কিন্তু খুব ভালো হয়েছে।"
.
"এতক্ষণ পর মুখ থেকে একটু কথা বের হল, তাহলে?"
.
আবার যেন বোবা হয়ে যায় শিমুল কিছুক্ষণ চুপ থেকে টপিক চেঞ্জ করে বলে,
.
"কালকে সারাদিন বাসায় থাকব না,
রাতে আসতে দেরি হবে। "
.
"কেন?"
.
"ঐ আমার বান্ধবীর জন্মদিন।"
.
"নাম কি?"
.
"নিপা"
.
"ওহ! তোমার সাথেই পড়ে?"
.
"হ্যা।"
.
"আচ্ছা ঠিক আছে। "
.
মনেমনে বেশ ভালোই লাগে কোনো চিন্তা ছাড়া জারিফের সাথে সারাদিন ঘুরতে পারবে।
শিমুল আর রিয়া লম্বা সময় আড্ডা মারতে থাকে, যদিও 'আড্ডা' বলা সঠিক হবে কিনা জানি না।
কেননা ৯০% কথাই রিয়া বলে,
চলবে।।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now