বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ ভাতিজার চাচা
রিয়ার বয়স তখন ১৯ সেই সময় মা জোর করে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিল, ১৬ লাখ টাকার ঋণ ছিল বাবার,
ঘর বাড়ি যা ছিল মোটামুটি তার বাবা জুয়া,ব্যাবসায় হারিয়ে ফেলেছিল সব কিছু, সামান্য একটা ব্যাংক একাউন্টে ৫০০০ টাকাও বাকি ছিল না,
অসভ্য,লোভী এই কুকুরটা পৃথীবি ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু নিজের স্ত্রী আর কন্যাদের মাথার উপর রেখে যায় এক গাদা বোঝা, কেউ সাহায্য করার ছিল না এই অসাহয়দের, শ্বশুর বাড়ি এমনিতেই রিয়ার মাকে সহ্য করত না, সাহায্য দূরের কথা, বাবার বাড়ি ১ মাস গিয়ে থেকেছিলো কিন্তু সেখানে বড়ভাইর অত্যাচারে ঘর ছাড়া হতে হয়, দুইটা মেয়েকে নিয়ে কোথাও যাবার উপায় ছিলো না রুপা আক্তারের,
অত:পর শেষ চেস্টা হিসেবে ছোটবেলার এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী রুবিনা খানের কাছে যায় সাহায্য ভিক্ষার জন্য। বান্ধবীও তার মতন বিধবা তবে বান্ধবী ছিলেন একজন, 'সাকসেসফুল ওম্যান',
একজন সফল নারী বলতে যা বোঝায়!
একজন শিক্ষিত এবং সফল ব্যবসায়ী মহিলা,
প্রচুর টাকার মালিক,নিজ যোগ্যতায় এইরকম অর্থ উপার্জন করতে পেরেছে এইরকম মহিলা বাংলাদেশে হয়ত খুবই রেয়ার। রুপা আক্তার যখন নিজের বান্ধবীর কাছে গিয়ে সাহায্যের জন্য ভিক্ষা চায় তখন খুব সহজেই তার বান্ধবী রাজি হয়ে যায়।
অবাক হয়ে যান রুপা আক্তার,
নিজের বান্ধবীর উদারতা দেখে,
তবে পৃথিবীতে আসলে কেউই উদার না,
প্রত্যেক উদারতার পিছনেই লুকিয়ে থাকে স্বার্থ এই ক্ষেত্রও ব্যতিক্রম ছিল না।
রুপা আক্তারকেও তার বান্ধবী একটা শর্ত দিয়ে দেয় আর সেই শর্ত ছিল 'রিয়াকে'।
রুপা আক্তারকে ১৬ লাখ টাকা দিতে আর সাথে তার গার্মেন্টসে চাকরি দেবার জন্য ঠিকই রাজি হন রুবিনা খান তবে বদলে তার ছেলের সাথে রিয়ার বিয়া দিতে হবে এইটা ছিল তার শর্ত,
কিন্তু হাত-পা বাধা রুপা আক্তারের আর কোনো রাস্তা ছিল না, বাধ্য হয়ে তার এই শর্তেই রাজি হতে হয়,
জোর করে নিজের মেয়েকে শিমুলের সাথে বিয়া দিতে বাধ্য হন। সেই ক্লাস সেভেন থেকেই রিয়া জারিফকে ভালোবাসত, একেবারে প্রকৃত ভালোবাসা বলতে যা বোঝা যায়। নিজের মাকেও এই ঘটনা খুলে বলে কিন্তু রুপা আক্তারের কোন উপায় ছিলনা,
এমন না যে, তার মা প্রচুর রক্ষণশীল ছিল,
তার মেয়ের মতামতের মূল্য তার কাছে অনেক,
কিন্তু হাত-পা সম্পুর্ন বাধা ছিল রুপা আক্তারের,
তার আরো একটা মেয়ে ছিল,
সেই মেয়েকেও মানুষ করবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা তার, রিয়াকেও জীবনে বড় জায়গায় দেখার প্রবল আকাঙ্ক্ষা রুপা আক্তারের মধ্যে,
তবে সেই আকাঙ্খা তো আর এমনিতেই বাস্তব হবে না, এইটাকে বাস্তব করতে হবে,
তার দুই মেয়েকে তার বাচাতে হবে,
তাদের পেটে ৩ বেলা ভাত দিতে হবে তাছাড়া নিজের মেয়েদের কল্যানের স্বার্থে,
নিজের জিবনের স্বার্থে তাকে জোরপূর্বক রিয়া কে বিয়ে দিতেই হল। এমন না যে রিয়ার স্বামী এই বিয়ারে প্রচুর খুশি ছিল! তাকেও রুপা আক্তারের মতনই জোর করে তার মা রিয়া কে বিয়া করতে বাধ্য করে।
এইটা মোটেও তার বিয়ার বয়স ছিল না,
বরং এই বয়সে তার মতন ছেলেরা গেইমস খেলে,
ক্রাশ খায়, প্রথম প্রেমে পরে সেই বয়সে তাকে বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়,
আইন হিসেবে রিয়া একজন প্রাপ্তবয়স্ক ১৯ বছরের একজন মেয়ে হলে শিমুলের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। যদিও বিয়ের পর রিয়ার উপর তার শাশুড়ি মোটেও মেজাজে থাকতো না অথবা তাকে শাসন করারও কোনো চেস্টা করত না,
বরং লেখাপড়ার পুর্নাঙ্গ সুযোগ,
রিয়াকে তার বাবার বাসায় থাকতে দেওয়া মোটামূটি প্রায় সব সু্যোগই দিয়ে দিয়েছিল
.
.
দেখতে দেখতে ৫ বছর কেটে গেলো,
রিয়া এইবার মাস্টার্স পরিক্ষা দিল,
অন্যদিকে শিমুল মাত্র ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে।
এই ৫ বছরে দুইজনের মধ্যে সামান্য সম্পর্ক গড়ে উঠেনি, রিয়া এখনো জারিফকে পাগলের মত ভালোবাসে, তাদের রিলেশন এখনো টিকে আছে,
এইটা পরকীয়া না ভালোবাসা সেটা বলা বেশ মুশকিল, এইটা ব্যক্তি মতামতের উপর নির্ভরশীল,
এই ৫ বছরে শিমুলের সাথে তার খুব একটা কথাও হয়নি। অপরদিকে শিমুল হয়ে গেছে প্রচন্ড বদমেজাজি একটা ছেলে, মেয়েদের প্রতি তার সামান্য ফিলিংস নেই, ফিলিংস নেই বলতে তার যে এই ৫ বছর কোনো গার্লফ্রেন্ড ছিলোনা তা না,
তবে তার কাছে 'মেয়ে' শব্দটা ছিল একটা খেলার জিনীস। মায়ের সাথে ঝগড়া, বাজাবাজি তার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার,দিনে ৮-৯টা করে সিগারেট খাওয়া, মারামারি পিটাপিটি এগুলো তার রোজকার জীবনের অংশ। লেখাপড়ায় খুব একটা বাজে তা নয় লেখাপড়ায় মোটামুটি একেবারে খারাপ বলা ভুল হবে।
ছেলের এইরকম বিপর্যয় দেখে শিমুলের মা চরম দুশ্চিন্তায় ভোগেন। শেষমেশ ভাবলো রিয়া আর তাকে একটা বাসা ভাড়া করে দেবে রিয়া ফিজিক্সের ছাত্রী যথেষ্ট মেধাবী আর হয়তো রিয়ার ভালোবাসায় তার ছেলের মধ্যে থেকে এই নেগেটিভ ভাব বের হয়ে যাবে, রিয়া কে নিয়ে এইরকম রোজ রোজ ঝগড়া শেষ করার এইটাই সর্বোত্তম পদ্ধতি মনে করলেন তাছাড়া রিয়া তাকে পড়ালেখায়ও যথেষ্ট মনযোগী করতে সাহায্য করবে। তাই রিয়াকে একদিন বাসায় ডেকে তার প্রস্তাবনা রিয়ার সামনে তুলে ধরলেন,
.
রিয়া একটা কথা বলতে চাই তোমাকে"
.
"বলুন আন্টি"
.
"তোমাকে আর শিমুল কে যদি একটা বাসা ভাড়া করে দেওয়া হয় রাগ করবে না তো"
.
"কেন?"
.
"দেখো না শিমুলের পড়াশোনার কী অবস্থা,
আমি চাই তুমি ওকে পড়াও "
.
"জ্বী সেইটাতো এই বাসায় এসেই পড়াতে পারি"
.
"না শুধু লেখাপড়া না,
ও বাসায় প্রচুর ঝামেলা, ঝগড়া করে,
ও তোমাকে নিজের সমস্যা মনে করে,
আমি চাই তুমি ওকে নিজের আদর ভালোবাসা দিয়ে তোমার গুরুত্বটা ওকে বুঝিয়ে দেও,
প্লিজ মা না বলো না" প্রায় অশ্রুসিক্ত চোখে শিমুলের মা রিয়াকে বলল।
.
রিয়াে কোনো উপায় নেই শিমুলের মা'র কাছে সে চিরঋণি, আজকে এই জায়গায় দাড়িয়ে আছে,
মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে,
ছোট বোনটা এসএসসি দিচ্ছে,
তাদের পরিবার এখনো বেচে আছে এইসব কিছুর পিছনেই এই মহিলার অবদান তাই না বলার কোনো উপায় নেই রিয়ার বাধ্য হয়েই বলতে হল,
.
"আপনি যা ভালো মনে করেন "
.
"ধন্যবাদ মা,
অনেক অনেক ধন্যবাদ তোমাকে "
রিয়ার হাত দুটো ধরে কেদেই ফেললেন রুবিনা খান
.
মনে মনে বিরক্তবোধ হচ্ছে রিয়া কিন্তু কোনো উপায় নেই বাধ্য হয়েই এই অভিনয় তাকে করতে হবে।
.
শিমুল বাসায় আসার পর তার মা যখন তাকে এই কথা বলে, রাগে প্রায় উম্মাদ সে,
তুমুল ঝগড়া শুরু হয় মা ছেলের,
লাস্টে র
চলবে।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now