বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সংসার

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান FAHAD (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ আবদুর রহমান "তোমার স্ত্রী দেখতে যেমন সুন্দরী তেমনি স্মার্ট, শিক্ষিত। তোমাদের দুজনকে একসাথে দেখলে বাদরের গলায় মুক্তোর মালা কথাটি মনে পড়ে যায়।" অফিসের ফাইলগুলো হাতে দিয়ে কথাগুলো শুনিয়ে দিলো অফিসের বস। আমি শুধু স্যারের দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে আসলাম। বাসায় ফিরে দেখি পাশের বাসার ভাবী নীলাকে তার গলার হারটা দেখিয়ে বলছে "তোমার ভাইয়া আমাকে দুদিন পর পরই এমন দামী গিফট দেয়। তোমার জন্য খারাপ লাগে।মনে তো হয় না কোনোদিন কোনো ভালো উপহার পাও নিষাদের কাছ থেকে।" আমাকে আসতে দেখেই ভাবী নীলার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। নীলার দিকে চেয়ে দেখি মুখটা মলিন হয়ে গেছে। আমি যে কথাগুলো শুনেছি ওকে বুঝতে দিলাম না। জানলে আমার চেয়ে ও বেশি কষ্ট পাবে। অনেকদিন ধরেই অফিসের ব্যস্ততার জন্য নীলাকে নিয়ে বাসার বাইরে যাওয়া হয় না। ভাবলাম নীলাকে নিয়ে ওদের বাসায় ঘুরে আসি। নীলা উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে। আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ীও অনেক ভালো মনের মানুষ। দু কেজি মিষ্টি আর কিছু ফলমূল কিনে নীলাকে নিয়ে ওদের বাসায় গেলাম। আমাদের দেখে উনারা খুবই খুশি হলেন। আমার শ্বাশুড়ীর হাতে মিষ্টির প্যাকেট আর ফলমূল দিতেই কাকি শ্বাশুড়ী আমার শ্বাশুড়ী মাকে ফিসফিসিয়ে বললেন, "কেমন জামাই দেখে মেয়ে বিয়ে দিলেন দু কেজি মিষ্টি আর কিছু সস্তা ফলমূল নিয়ে এসে পড়েছে। আমার মেয়ে জামাইরা আসলে কমপক্ষে ৫ কেজি মিষ্টি নিয়ে আসে সাথে দই ফলমূল বড় মাছ তো আছেই। প্রতিবারই আমার আর আপনার দেবরের জন্য শপিংও করে দিয়ে যায়।" কথাগুলো শুনে এতোটাই খারাপ লেগেছিলো মনে হয়েছিলো এখনি বাড়ি ফিরে যাই। নীলার মুখের দিকে চেয়ে যেতে পারলাম না। এতদিন পর নিজের বাড়িতে এসে মুখের হাসি সরছেই না ওর। দুদিন পর শ্বশুরবাড়ি থেকে বাড়ি ফিরতেই নিলা বললো "কিছুদিন পর আমাদের ফার্স্ট ম্যারেজ এনিভার্সারি। আমি চাই আমাদের কিছু আত্নীয় আর প্রতিবেশীদের ইনভাইট করতে।" বিয়ের একবছর হতে চললো অথচ নীলা মুখ ফুটে আজ অবধি কিছু চায় নি। আমি ওর দিকে চেয়ে হেসে বললাম আচ্ছা ঠিক আছে। এনিভার্সারির দিন সবাই যখন একসাথে বসে গল্প করছে আমার অনুপস্থিতিতে নীলার বান্ধবী সবার সামনে বললো "তোকে যে কি দেখে এমন ছেলে দেখে বিয়ে দিলো না আছে টাকা, না আছে চেহারা। স্যার কথাটাকে সায় দিয়ে বললেন ঠিকই বলেছো নীলার মতো মেয়ে নিষাদের চেয়েও ভালো হাজবেন্ড ডিজার্ভ করে।" নীলা মুখের হাসিটা প্রশস্ত করে বললো, "তোর হাজবেন্ডের তো চেহারা আর টাকা দুটোই আছে তাহলে দুদিন পর পর মাতাল হয়ে পিটিয়ে তোকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় কেন? আমার হাজবেন্ড দেখতে যেমনি হোক আজ অবধি ও আমাকে তুই করেও ডাকে নি, হাত উঠানোর প্রশ্নই উঠে না। আর ভাবী সেদিন বললেন না যে আমার হাজবেন্ড দামী দামী গিফট দিতে পারে না। ও নিজেই আমার জন্য অমূল্য উপহার। কারণ ও চরিত্রবান। আর পাঁচজন স্বামীর মতো স্ত্রীকে দামী দামী গিফট দিয়ে ভুলিয়ে পাশের বাসার মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে না। আমার স্বামী হয়তো শ্বশুরবাড়িতে গেলে পাঁচ দশ কেজি মিষ্টি, দই আর বড় মাছ নিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু বাবা মায়ের বিপদে সবার আগে ও এগিয়ে আসে। বাবা মাকে যেমন সম্মান করে তেমন ছেলের মতো আগলে রাখে। কাকিমা শুনেছি আপনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তবুও নাকি আপনার মেয়ের জামাই দেখতে আসে নি। আসলে আমরা যখন অন্যের সংসারের দোষত্রুটি খুজে বেড়াই নিজেদের দোষগুলো খুজি না। স্যার আপনি যে বললেন আমি নিষাদের চেয়েও ভালো স্বামী ডিজার্ভ করি। ওর চেয়ে ভালো হাজবেন্ড হতে পারে না। সমাজের কিছু মানুষ আছে যারা স্বামী স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদের জন্য দায়ী।" এক নিশ্বাসে কথাগুলো শেষ করলো নীলা। ওর কথা শুনে কারো মুখ দিয়েই কোনো কথা বের হচ্ছে না। খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই যখন যার যার বাসায় ফিরে গেলো নীলা আমার হাত ধরে বললো চলো একটু ছাদে যাই। আমি নীলার গালে হাত দিয়ে বললাম এত কথা শুনিয়ে দেওয়ার কি খুব দরকার ছিলো। নীলা আমার দিকে তাকিয়ে রাগী গলায় বললো "যা করেছি বেশ করেছি আমার বর কে বলবে কেনো, ওদের বরকে গিয়ে বলুক।" মেয়েরা আর যাই করুক অন্যের মুখে স্বামীর নিন্দা শুনতে পারে না। আমি হেসে বললাম, ওহ আচ্ছা। আর মেম আপনি যখন আমায় বাদর হনুমান ডাকেন তখন? "আমার স্বামীকে আমি যা ইচ্ছে বলবো ওরা বলবে কেনো? ওরা কি তোমার বউ?" অভিমানী স্বরে কথাগুলো বলে নীলা একদৃষ্টিতে চাঁদ দেখা শুরু করলো । আমি ওর দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখছি জোছনার আলোয়,লেপ্টে যাওয়া কাজলে অপূর্ব লাগছে আমার পাগলীটাকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বই পর্যালোচনা: প্রেম–সংসারের গল্পপুঁথি
→ পাতার নিচে সংসার
→ সংসারের আসল ইঞ্জিন
→ সংসারের সোনার সূত্র
→ তমা-তমুর কলবাজি সংসার
→ সংসারের সেতুবন্ধ
→ নদীর বুকে সংসার
→ সাঁকোর ওপারে সংসার
→ ছিন্ন ভিন্ন সংসারের কাহিনি
→ সংসার
→ বাসের নিচে সংসার পেতেছেন পান্না_লেখকঃ আনিসুল হক
→ আলো আধারের সংসার
→ আলো আধারের সংসার
→ সাজানো গোছানো সংসার (শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now