বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ শিক্ষা
লেখাঃ আবির হাসান
.
আদরের ছোট বোনের বিয়ে দিয়েছি দু মাসও পার হয়নি কিন্তু এখনই বাড়িতে এসে ওর স্বামীর নামে অভিযোগের শেষ নেই।
আব্বু আম্মু সব শুনে বলল।
--মা রে সংসার জীবন এমনই!একটু মানিয়ে নেও
কিন্তু বোন আমার বিরতিহীন ভাবে বলে যাচ্ছে।
--কেন মেনে নিব?কেন সহ্য করব?কেন সেক্রিফাইস করব?এমন গ্রাম্য ভূতের সাথে কি ভাবে বিয়ে দিলে আমাকে?
আর এখন জোর করে মিলানোর কি দরকার? আমি ছেড়ে দিব! আমার মনের মত নতুন কাউকে খুঁজে নিব।
.
ছোট বোনের কথা শুনে আব্বু আম্মু একেবারে চুপসে গেল।
একমাত্র মেয়ে কখনো শাষণ করেনি আমরা কয়েক ভাইও কখনো ফুলের টোকা অবধি দেইনি।
সব চাওয়া রেখেছি।
আর ওর ভালোর জন্যই গ্রামের সহজ সরল ছেলের সাথে সবাই পছন্দ করে বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এখন কি সব বলছে?
আমরা তো মাশাআল্লাহ ধার্মিক পরিবার। নৈতিকতা সব সময় বেশি প্রধান্য দিয়েছি।
আর আমাদের ভাইদের নামেও আলহামদুলিল্লাহ কোন ব্যাড রিপোর্ট নেই বাবা মায়ের সাথেও জ্ঞান হওয়ার পর থেকে উচু গলায় কথা বলেনি কিন্তু বোন এসব বালা শিখল কোথাথেকে?
এমন টা তো নয় ছেলে বাজে নেশা করে বা
চরিত্র খারাপ,বোন কে গালি দেয় এমন তো অভিযোগ করলনা অথচ কি সব কথা বলল যা শুনে আমি আর চুপ না থেকে।
শান্তনা স্বরুপ করে বললাম।
--তুমি কিসের কথা বলছ?
কেন মেনে নিব? এটা বলছ!
তুমি জানো আমাদের আব্বুর পরিবার আম্মুর পরিবার থেকেও গরীব ছিল।
আব্বু ওতটা স্মার্টও ছিল না কিন্তু মা ছিল সে যুগের ধনী পরিবারের মেয়ে।
জমিদার বাড়ি থেকে আম্মার নাকি বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল কিন্তু নানাভাই বিয়ে দেইনি কারণ নানা ভাই চেয়েছিল গরীব খেটে খাওয়া ছেলের সাথে বিয়ে দিতে আর সেটাই হয়েছে।
কেন আমাদের মা কি মেনে নেইনি?
অথচ আব্বু আম্মুর এখন দেখলে মনে হয় তাদের জনম জনমের সম্পর্ক।
আর তুমি এসব বলার সাহস পাও কি ভাবে?
আম্মার দিকে তাকিয়ে বললাম।
--আম্মু তুমিই বলে দেও তো? তুমি তো প্রথম জীবনে আমার আদরের বোন থেকেও সুন্দরী তো ছিলে এবং সেই সাথে ধনী বাবার একমাত্র মেয়ে হয়ে আব্বুর মত আনস্মাট ছেলে কে কেন সহ্য করলে?
আমি আবার আব্বু আম্মুর সাথে বেশ ফ্রেন্ডলি তাই আম্মা কথার কোন সংকোচ না করে বলল।
--তোমাদের আব্বু আনস্মাট হলেও মনটা ছিল একেবারে ফ্রেশ কোন ক্রুটি ছিল না।নৈতিকতা ছিল পাথরের মজবুত। ভালোবাসা ছিল আকাশ ছোঁয়া।
আমার ভয়েস শুনে আমার না বলা কথা বুঝতে পারত।আমাকে সম্মান করত।
আমাকে কখনো শুধু স্ত্রী হিসাবে গন্য করেনি। আমাকে গুড, বেটার, বেস্ট ফ্রেন্ডের মত মনে করত। এমন কি তোমাদের আব্বুর সব চাওয়া পাওয়া আমাকে ঘিরে ছিল। যদিও মাঝেমধ্যে মনোমালিন্য বা কথা কাটাকাটি হত বৈকি। কিন্তু কখনো গায়ে হাত তুলেনাই আমাকে গালি দেইনি। তোমাদের আব্বুর শুধু হাতে গোনা দুইটা দিক ছিল না।
সেটা হল টাকাপয়সা, আর সুন্দর চেহারা তাছাড়া সব ছিল।
ছোট্ট বোন কে শুনানোর জন্য বললাম
--তুমি কেন মেনে নিলে সেটা বলো?
--সত্যি কথা বলতে আমিই চাইনি আর্থিক অবস্থা ভালো। এমন কোন ছেলে আমার জীবন সঙ্গী হক কেননা বাস্তবতা সম্পকে ধনী পরিবারের ছেলেদের অনেক কিছু অজানা থাকে আর সুন্দর চেহারার জীবন সঙ্গী দিয়ে কি করব?
আল্লাহ যদি আমাদের দুইজনের জান্নাত নসিব করে তাহলে তো দুইজনেই অনেক সুন্দর হয়ে যাব।
সিরিয়াস মুহুর্তে আম্মু হাসি দিয়ে
কথাটি আব্বুর তাকিয়েই বলছিল।
সেই সাথে আমাদের সমানেই আম্মু আব্বুকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে বলল।
--এমন হাজবেন্ড কজন মেয়ের ভাগ্যে জুটে।
আম্মু রীতিমতো অন্য টপিকে চলে গিয়েছে আমি কথা ঘোরানোর জন্য বললাম।
--বোন তুমি শুনছ? তোমার থেকে সুন্দরী আর ধনী একটা মেয়ের জীবন কাহিনি?
আর কি বলছ তুমি? কেন সেক্রিফাইস করব
এটা?
তুমি পৃথিবীর সকল মায়ের দিকটা দেখো
তারা যদি সন্তানের জন্য সেক্রিফাইস না করে, প্রসব বেদনার কষ্ট মেনে না নেয় তাহলে তুমি আমি কি এই পৃথিবীর মুখ দেখতাম।
বলো আমাকে? আর তুমি নিজের সংসারের জন্য সেক্রিফাইস করবা না এটা কি ঠিক?
বোন চুপচাপ
আবার বলতে শুরু করলাম।
--আচ্ছা পৃথিবীতে এমন কোনো একটা সম্পর্ক কি কেউ দেখাতে পারবে??
যেখানে সেক্রিফাইস বা ছাড় দেওয়া বিষয়টা নাই! যেকোনো সম্পর্কের ভিত্তিইতো সেক্রিফাইস! কোথায় যেন পড়েছিলাম ভালোবাসার থেকে বড় সেক্রিফাইস।
আর তুমি সেটা করতে পারবা না?
তুমি জানো?একটা পুরুষ একজীবনে যে পরিশ্রম করে, সেটা শুধুমাত্র তার নিজের জন্য করেনা। পুরুষের যা চাহিদা শুধুমাত্র সেইটা পূরণের জন্য যদি সে কাজ করতো তবে কি তার এই পরিশ্রম করতে হতো?
বোন নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।
ভাবলাম শিক্ষাটা দিয়ে দেই।
--আবার তুমি অহংকার করে তোমার স্বামী কে অবহেলা করেছ।স্বামী মানে কি জানো তুমি? অধিপতি,প্রভু,মালিক,মনিব।
এসব শব্দ ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক তাই বলা হয়না কিন্তু স্বামী মানে অনেক কিছু ঠিকি। কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে।
আবার বলল।
কিসের ভিত্তিতে তুমি এমন করো?
তুমি যে বাবার বাড়ি থেকে সারাক্ষণ বসে বসে রুপ চর্চা করে করে নিজকে অহংকারী ভাবলে?
তোমার অধিপতিও যদি তার বাবার বাড়ি বসে বসে সারাক্ষণ রুপ চর্চা করত তাহলে সেও দেখতে সুন্দর হত।গ্রামের ছেলে ঝর, বৃষ্টি, রোদ্দুর তার উপর দিয়ে যায়। যার জন্য গায়ের রংটা কালো হয়েছে । আর তুমি কি বলো?গ্রাম্য ভূত! তুমি যদি তোমার স্বামীর মত কাজ করতে তাহলে এই রুপের কি হাল হত জানো তুমি?
তোমার সাধারণ জ্ঞান নাই।
আম্মা যে বলেছিল ঠিকই ধনী পরিবারের সন্তানেরা বাস্তবতা সম্পকে অনেক কিছু জানে না আজ আল্লাহ রহমতে আব্বু আম্মু তিল তিল করে অভাবি সংসারটা সচ্ছল করেছে। কিন্তু তুমি দেখছি আমাদের পরিবার থেকে কিছু শিখনি উল্টো অহংকারে ভরা তোমার মন। শুনেছি মেয়েরা নরম মনের হয় কিন্তু তুমি কি হয়েছে ছিঃ আমি আর কথা বলতে পারছি না তোমার সাথে।
কথাটি শেষ করতে না করতেই বোন পায়ে পড়ে হাওমাও করে কান্না করতে করতে বলল।
--ভাইয়া আমাকে আর বলো না।
আমি বুঝতে পারিনাই।
তোমরা কোন সময় অভাব বুঝতে দেওনি।
হঠাৎ করে স্বামীর বাড়ির পরিবেশ মানাতে পারিনি।
--তাই বলে তোমার এমন কথা বলা মোটেও ঠিক হয়নি।
আর পা ছাড় আজই তুমি তোমার স্বামীর বাড়ি চলে যাবা।
তোমার স্বামী পা ধরে মাফ চাইবে।
তোমার স্বামী অনুমতি দিলে এই বাড়ি আসবে না দিলে আসবেনা।
জান্নাতে স্বামী স্ত্রী একসাথে থাকবে বাবা মা ভাই থাকবেনা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now