বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গোধূলির ডাক!!!

"অদ্ভুতুড়ে" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান তানিইইইইইম (০ পয়েন্ট)

X বেলকনিতে বেতের চেয়ারে বসে পত্রিকাটা নাড়াচাড়া করছেন একেএম শফিউদ্দিন সেরনিয়াবাত সাহেব,এই পেন্ডামিকে করোনা ভাইরাসের নিয়মিত খোজখবর রাখছেন তিনি!!ভাইরাসের উর্ধগতি আর নিম্নগতি দেখে.. নিজেই আনমনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন আবার দুঃখ ও প্রকাশ করেন!! খোজখবর এর ব্যাপারটা তিনি এমনভাবে পালন করেন..যেন মনে হয় এটা উনার উপর অর্পিত দায়িত্ব!! প্রতিদিন শনাক্ত-মৃত্যু এসব নিয়ে খাতা-কলমে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন! এবং দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত,তা একটি ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করেন! --চৈতি,মা চা কি হয়েছে? চৈতিকে তিনি কিছু সময় আগে চা আনতে বল্লেন..কিন্তু মেয়েটা এখনো আনেনি!!বারবার রান্নাঘরে দূর থেকে উকি দিতে লাগলেন সেরনিয়াবাত সাহেব!! ও হ্যাঁ.. চৈতি তার একমাত্র মেয়ে,পরিবারে তিনি আর তেনার মেয়ে এই চৈতিই আছে/- স্থানীয় পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এ সিভিল টেকনোলজির ৫ম সেমিষ্টারে পড়ে সে..খুব মেধাবী! পথিমধ্যে..বেলকনিতে চা এর ট্রে নিয়ে ঢুকলো চৈতি! --কিরে মা..কোথাও গিয়েছিলি নাকি..এত্তো লেট যে!! --আর বলোনা বাবা..চা অলরেডি হয়েই গেসিলো..হাতের ধাক্কা লেগে কেটলি থেকে চা টা সিঙ্কে পড়ে যায়..তাই আবার বানাতে হলো!!! --ও আচ্ছা,তোর হাতে লেগেছে নাকি,মা?সাবধান কিন্তু..গরম জিনিস..ফোস্কা পড়ে যাবে!!! --না বাবা..আমার হাতে লাগে নি..তুমি চা টা খেয়ে নাও!!! --ইয়ে মা,চিনি/- --ও হ্যাঁ..না বাবা..চিনি তো দেই নি..তোমার তো চিনি খাওয়া নিষেধ, .. খাওয়া যাবে নাহ! --হ্যাঁ রে মা,তা ঠিক,কিন্তু মিষ্টি ছাড়া তো ভালো লাগে নাহ!!! --তাহলে বাবা,জিরোকল ট্যাবলেট দুইটা চায়ে ছেড়ে দেই,একটু মিষ্টি মিষ্টি লাগবে খেতে...মজা পাবা!!! --তাইলে, মা -তাই দেওও....পানশে তো খাওয়া যায় নাহ! চায়ে চুমুক দিয়ে পত্রিকায় আবার মনোনিবেশ করলেন সেরনিয়াবাত সাহেব!!! সন্ধ্যার আকাশে প্রকৃতি তার শেষ মায়া বিলিয়ে বেড়াচ্ছে!.. বিদায় ঘন্টার ডাকে সাড়া দিয়ে বাসায় ফিরছে কাক-পক্ষী! ডান পাশের রুমের গলিতে একটু লাঠি ভর দিয়ে হাটার শব্দ পেলেন! পত্রিকা থেকে চোখ সরিয়ে সেদিকে তাকাতেই প্রতিদিনের মত সেই মানুষটাকে আজ ও দেখতে পেলেন সেরনিয়াবাত সাহেব!! এ যেন আরেক সেরনিয়াবাত, হবহু তার মতো দেখতে, নির্বিকার ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে সেরনিয়াবাত সাহেব এর দিকে....হুবহু চেহারা....শুধু ওই লোকটার চোখের ডার্ক সার্কেল একটু বেশি গাঢ়...ভুতুড়ে টাইপ! পাঞ্জাবির হাতা দিয়ে কপাল মুছলেন সেরনিয়াবাত সাহেব!!!! জবান যেন বন্ধ হয়ে আছে,কিছুই বলতে পারছেন নাহ!!! অথচ,প্রতিদিন ই তার সাথে এই ঘটনা ঘটে,কিন্তু,উনার কাছে মনে হয়,এইটা যেন আজই প্রথম!!!! লাঠির উপর ভর সেই লোকটা ঠায় দাঁড়িয়ে...... -চৈতি মা,লাঠিটা কোথায়, মা? -বাবা,তোমার চেয়ারের হাতলে ঝুলানো! -লাঠিটা খুজে,নিজ রুমের দিকে আস্তে আস্তে হাটা ধরলেন সেরনিয়াবাত সাহেব! শেষবারের মতো তাকালেন সেদিকে,নাহ সেই লোকটা আর নেই...... --আমাকে খুজছো? সেরনিয়াবাত সাহেব হতভম্ব হয়ে আবার তাকালেন,সেই লোকটা সেখানে দাঁড়িয়ে......নির্বিকার ভঙ্গিতে তাকিয়ে....... --চৈতি, চৈতি,চৈতি মা! --কি বাবা, ডেকেছো? -হ্যাঁ, দেখতো ওখানে, ওইটা কি দেখা যায়!ওখানে কে? -ও বাবা,ওইটা আমার সাদা ফ্রক,গতবার ঈদে যে নিউমার্কেট থেকে কিনে দিলে.... -ও আচ্ছা, ও আচ্ছা!আমিতো ভাবলাম...... -চলো বাবা! কিন্তু,সেরনিয়াবাত সাহেবের পা যেন চলছে নাহ,ভূমির সাথে যেন আটকে গেসে! নিজ খাটের উপর বসে, ভাবছেন তিনি.... কে সেই লোকটা,কী চায় সে? সেটা তো আমিই,হুবহু আমি! কি হচ্ছে,প্রত্যেকটা দিন এমন............!! ঘটনাটি এমন, তিনি কারো সাথে শেয়ার করার ও সাহস পাচ্ছেন নাহ!তিনি জানেন,এমন আজগুবি ঘটনা একবিংশ শতাব্দীতে এসে কারো সাথে শেয়ার করলে,মানুষ তাকে নির্ঘাত পাগল বলবে আর হাসাহাসি করবে! শফিউদ্দিন সেরনিয়াবাত সাহেব কর্মজীবনে ছিলেন, একজন সেনাবাহিনীর মেজর(অব.)! এখন অবসর জীবন লিড করছেন! জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী হিসেবে টানা ৭ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন মালিতে... বেশ দায়িত্বশীল, সুদক্ষ, ক্ষিপ্র,চৌকস সেনা অফিসার হিসেবে খ্যাতি রয়েছে তার...... বাংলাদেশ প্যারা-কমান্ডো বিগ্রেড জালালাবাদ শাখায় ও দায়িত্ব পালন করেন তিনি কিছুদিন...এবং স্নাইপার ইউনিট ব্ল্যাক ইগলেও ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেছেন......মোটামুটি অভিজ্ঞ এক বাঘ বলা যায় তাকে! এখন সংসার তার পেনশন আর প্রভিডেন্ট ফান্ড এর মাধ্যমেই চলে! সরকারি তেমন সুবিধা তিনি নেন নাহ! প্রতি মাসের ৩ তারিখে সরকারি খামে তার পেনশন চলে আসে,এতে দিব্যি চলে তার সংসার! মাঝেমধ্যে তার বাসায় কিছু সেনাবাহিনীর মেজর ও সেনা অফিসার এর আগমন ঘটে,খোশগল্প,যুদ্ধ কলাকৌশল,বিভিন্ন টেকনিক সহ বিভিন্ন পলিসি শিখিয়ে দেন ও রনক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া হাস্যকর ও তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন,যুদ্ধ ক্ষেত্রে পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গেলেও,কীভাবে শক্রকে মরণকামড় দেয়া যায়,সেই সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা করেন জুনিয়র অফিসারদের সাথে!!! সেনা অফিসাররা সেরনিয়াবাত সাহেব কে সরকারি সুবিধা,সেনাকুঞ্জ থেকে বিভিন্ন রেশন ও রিলিফ, বিভিন্ন সুবিধা, সরকারি কোয়ার্টারে থাকা ,বাসভবনে নিরাপত্তা রক্ষী দেওয়া, ব্যাক্তিগত গাড়ি,বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পেশ করলে,তিনি এসব গ্রহনে অপারগতা প্রকাশ করেন! তেনার সাফ কথা,সাধারণ এর মধ্যে আভিজাত্য না থাকলে ও, তৃপ্তি আছে,আর আমি তৃপ্তিই চাই...........!!! তেনার সাথে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া, এই প্যারালাল ইনসিডেন্ট টা ও সেনা অফিসারদের সাথেও শেয়ার করার সাহস পাচ্ছেন নাহ!কেমন যেন লজ্জা লাগে তার.... এই প্যারালাল ইনসিডেন্ট টাতে তিনি মোটেও ভয় পাচ্ছেন নাহ,বরং বিব্রত আর বিরক্ত হচ্ছেন!!! কারন,তিনি এই ঘটনার কোন যুগোপযোগী ব্যাখ্যা দাড় করাতে পারছেন নাহ!!! আবার তিনি এই ঘটনাটি, মেয়ে চৈতির সাথে ও শেয়ার করেন নি, মেয়েটা একা থাকে......এসব কাহিনী শোনালে মেয়েটার স্বাভাবিক কর্মকান্ডে ব্যাঘাত ঘটবে আবার ভয় ও পেতে পারে........ সপ্তাহখানেক পরের ঘটনা...................... জ্বর,মাথাব্যাথা,শরীর অসাড় হয়ে যাওয়া নিয়ে সকাল থেকেই বিছানায় পড়ে রইলেন সেরনিয়াবাত সাহেব! মাঝেমধ্যে মেয়ে চৈতি আসে স্যুপ নিয়ে,সেগুলো সামান্য খেয়ে কাশতে থাকেন তিনি, খেতে পারেন নাহ,মনে হয় স্যুপ তো নয় যেন,নালা-নর্দমার পানি,চা নিয়ে আসা হলে,চা ও খেতে পারেন নাহ তিনি,,,চা তো নয়,মনে হয় যেন পীরসাহেবের পানি পড়া!!! মোটকথা,তার মুখে কিছুই স্বাদ লাগে নাহ,খেতেও পারেন নাহ!! খালি পেটেই মেডিসিন খাইয়ে দেয় চৈতি, কী আর করবে সে,বাবা তো কিছুই খেতে পারেন নাহ,বাবাকে যে খাবার জোর করে খাওয়াবে, সেই সাহস চৈতির নেই,বাবাকে সে প্রচন্ড ভালোবাসে,বাবাকে হার্ট করা তার সিলেবাসে নেইইই!!! রাত ১১ টা.................. করিডোরের সাথে ঝুলানো খাচায় এক জোড়া লাভ বার্ড পাখি আছে,এগুলো লালল-পালন করে চৈতি......রাতে এগুলোকে খাবার দিতে এসে দেখে -তার বাবা.....বেলকনির বেতের চেয়ারে দক্ষিনমুখী হয়ে বসে আছেন...!! এই অসুস্থ মানুষটা হঠাৎ বারান্দায়.. চৈতি এগিয়ে যায়.....................!!!!! --আরে বাবা,তুমি এখানে বসে আছো?? --হ্যাঁ! --কি বাবা..শরীর এখন মোটামুটি সুস্থ নাকি, বাবা!! -সুস্থ আসার প্রসঙ্গ আসলো কেন? আমি কি অসুস্থ নাকি? -কী যে বলো বাবা, সকাল থেকেই তো তুমি শয্যাশায়ী, প্রচন্ড জ্বর..... -চুপ থাক.....তোর মাথা গেসেরে পাগলী,যা তো এক গ্লাস পানি নিয়ে আয়../- চৈতি দৌড়ে গিয়ে পানি এনে বাবার হাতে দেয়! কাপা কাপা হাতে পানি খেতে গিয়ে নিজের গায়ে ফেলে দেন সেরনিয়াবাত সাহেব! --এহ,পাঞ্জাবি তো ভিজে গেলো........দাড়াও বাবা,তোমার টাওয়াল টা নিয়ে আসি রুম থেকে..... চৈতি বাবার রুমে প্রবেশ করে........... আলনা থেকে টাওয়াল নিবে তখন- --কে চৈতি? মা গরম লাগছে,গায়ের পাঞ্জাবিটা একটু খুলে দে মা! -- বাবা তুমি এখানে,তাহলে বারান্দায় কে! হাত থেকে টাওয়াল টা ফসকে পড়ে যায়.....চৈতি দৌড়ে গিয়ে বারান্দায় যায়,নাহ কেউই নেই!তাহলে কে ছিলো এতক্ষন...... আবার, দৌড়ে গিয়ে বাবার রুমে যায়,বাবা ঘুম ঘুম চোখে ঢুলছেন!! --বাবা,তুমি কি বারান্দায় গিয়েছিলে? -- কী যে বলিস মা,আমি অসুস্থ মানুষ,হাটতেই তো পারি নাহ...... বারান্দায় যাবো কী করে,তবে শুনলাম -তুই যেন কার সাথে কথা বলছিলি!কেউ এসেছিলো নাকি? -তাহলে বাবা,বা....রা..ন্দ! -কী রে কিছু হয়েছে!! -না বাবা! গায়ের পাঞ্জাবীটা খুলে দেয় চৈতি,বাবা তখন বলেন*- --জানিস,যে গরম পড়ছে,তোকে ডাকার শক্তি নাই যে,ডেকে বলবো পাঞ্জাবিটা খুলে দিতে....... -- ও আচ্ছা!! ওড়নাতে হাত মুছতে মুছতে নিজের রুমের দিকে যায় চৈতি...টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি ঢকঢক করে খেয়ে ফেলে!! একটা ঠান্ডা স্রোত,তার শিরদাঁড়া বেয়ে যায়! স্পষ্ট ভাবে অনুভব করে সে......... ৩ মাস পর.............. দুইদিন হলো সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল(সিএমএইচ) থেকে রিলিজ হয়ে বাসায় এসেছেন সেরনিয়াবাত সাহেব!হাতে তার ক্যানালার লাগানো..... করিডোরে বসে সন্ধ্যার আকাশ দেখছেন তিনি! চৈতি রান্নাঘরে রান্না করতে ব্যাস্ত! চারদিকে মাগরিবের আজান দেয়া শেষ! আকাশে মেঘ করেছে!/- ভীষন বৃষ্টি হতে পারে.... হঠাৎ ছাদ থেকে সেরনিয়াবাত সাহেব ডাক দিয়ে বল্লেন' চৈতি মা,তোর জামা-কাপড় গুলো নিয়ে যা,বৃষ্টিতে ভিজে যাবে/- চৈতি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আচলে হাত মুছতে মুছতে রওনা দেয় ছাদের উদ্দেশ্য....... ,করিডোর থেকে সেরনিয়াবাত সাহেব উঠে দাড়িয়ে চৈতির পথ রোধ করে বলেন! চৈতি মা,যেয়ো নাহ,ওই অশরীরী ডাকটা আমিও শুনছি! বাবা-মেয়ের কপাল ঘামে.............!!!! অপেক্ষা করে.............!!!!! সেই ডাকটা আবার শোনার................................!!!!!!!!! ধন্যবাদ গল্পটা পড়ার জন্য! #তানিম!!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now