বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লিটন ভুরু কুচকে তাকাল। বলল, “হ্যাঁ দেখতে চাই।”
আমি তখন মাইক্রোবাসের পিছনের দরজাটা খুলে লিটনকে মামার যন্ত্রপাতি দেখালাম। সে দেখে একেবারে হা হয়ে গেল। একটু পর জিজ্ঞেস করল, “তোমার মামা এই সব যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করে?”
“হ্যাঁ।”
“তুমি এই যন্ত্রগুলো চিনো?”
আমি কিছুই চিনি না, কিন্তু সেটা বলি কেমন করে? কয়েকদিন পর তো চিনেই যাব তাই না হয় একটু আগেই বলে ফেলি! বললাম, “যা, চিনি।”
লিটন বিস্ফোরিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর আঙুল দিয়ে একটা যন্ত্রকে দেখিয়ে বলল, “এইটা কী যন্ত্র?”
আমার কোনো ধারণা নেই কিন্তু মুখ গম্ভীর কার বললাম, “এইটা হচ্ছে গামা রে স্পেকট্রোস্কোপি।”
আরেকটা যন্ত্র দেখিয়ে বলল, “ঐটা কী যন্ত্র?”
“ঐটা হচ্ছে বিংগুটি বাঙ্গাট্রনিক।” বানিয়ে একটা শব্দ বললাম।
আরেকটা যন্ত্র দেখিয়ে বলল, “ঐটা কী?”
বানিয়ে বললাম, “পিন্টাসি মিন্টুস।” আমার জ্ঞানের বহর দেখে লিটন মুগ্ধ হয়ে গেল।
আরেকটা যন্ত্র দেখিয়ে বলল, “ঐটা কী?”
“ঐটা ক্রিটারিটন।”
“তুমিও ঐ যন্ত্র দিয়ে কাজ করো?”
“এখনও পুরোপুরি শুরু করিনি। একটু একটু করি।”
“তার মানে তুমি সায়েন্টিস্ট?”
“এখনও হই নাই, আস্তে আস্তে হয়ে যাব।”
লিটন কিছুক্ষণ চুপ করে রইল তারপর বলল, “আমি কী বড় হলে সায়েন্টিস্ট হতে পারব?”
“পারবে না কেন? চাইলেই পারবে।”
“আগে ভেবেছিলাম আমি বড় হয়ে পাইলট হব। এখন মনে হচ্ছে সায়েন্টিস্ট হয়ে যাই।”
আমি গম্ভীর মুখে বললাম, “ভেরি গুড।”
তারপর দুইজন আবার হাসপাতালের বারান্দায় বসে চিপস আর কোল্ড ড্রিংকস খেতে লাগলাম।
ঘণ্টা খানেক পরে মামা বের হয়ে এসে আমাদের ভিতরে নিয়ে গেল। তিন তলায় উঠে একটা ঘরে গিয়ে দেখি পাশাপাশি দুইটা বিছানায় লিটনের আব্রু আর আম্মু শুয়ে আছে। লিটনের আব্বুর চোখ বন্ধ এবং মাথায় ব্যান্ডেজ। লিটনের আম্মু বিছানায় পা তুলে বসে আছেন তার পায়ে প্লাস্টার। লিটন তার আম্মুর কাছে ছুটে গিয়ে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল, “আম্মু, আব্বু কী মরে গেছে?”
আম্মু আঁতকে উঠে বলেন, “কী বলে ছেলে? মারা যাবে কেন? তোর আব্বুকে ঘুমের ওষুধ দিয়েছে, তাই ঘুমিয়ে আছে।”
লিটন বলল, “ও।”
আম্মু তার ছেলেকে জড়িয়ে ধরে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনাকে যে কী বলে ধন্যবাদ দেব বুঝতে পারছি না। একসিডেন্টের পর এতো ভয় পেয়েছি এতো ফ্রাস্ট্রেটেড লাগছিল তখন যেন আপনি এসেছেন একেবারে আশীর্বাদের মতো।”
লিটন আমাকে দেখিয়ে বলল, “আর টোপন ভাইয়াও এসেছে আম্মু।”
“হ্যাঁ, হ্যাঁ, আর আপনার ভাগনে, এইটুকুন ছেলে কিন্তু কতত রেসপন্সিবল। থ্যাংক ইউ সো মাচ।”
মামা বললেন, “আপনার ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে। উনি চলে আসছেন কয়েক ঘণ্টার মাঝে।”
“হ্যাঁ। আমিও কথা বলেছি। সে দল বল নিয়ে আসছে।”
“তাহলে আমাদের বিদায় দেন, আমরা যাই।”
“অবশ্যই, অবশ্যই। সাবধানে যাবেন। আর প্লিজ যোগাযোগ রাখবেন।”
আমি আর মামা বিদায় নিয়ে বের হয়ে এলাম। মামা মাইক্রোবাসে উঠে একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “বুঝলি টোপন, তুই একটা প্ল্যান করবি আর কোনো নোটিশ ছাড়া সবকিছু ওলট পালট হয়ে যায়।”
“তোমার কোনো ঝামেলা হবে না তো?”
“ঝামেলা হলেই আবার কী, না হলেই কী!”
“এখন আমরা কী করব মামা?”
দেখি আশেপাশে থাকার মতো কোনো হোটেল পাওয়া যায় কিনা, যদি পাওয়া যায় তাহলে একটা রাত হোটেলে থেকে যাব। ভালো করে গোসল করে খেয়ে একটা ঘুম দেওয়া যায় কিনা দেখি।”
আমি হাতে কিল দিয়ে বললাম, “গুড আইডিয়া।”
.
রাত্রে একটা হোটেলে মামা আমাদের রক্তমাখা জামা কাপড় বিছানার চাদর ভালো করে ধুয়ে ঘরের ভিতর ফ্যানের নিচে টানিয়ে দিল। আমরা দুইজনই গরম পানিতে রগড়ে রগড়ে গোসল করলাম। তারপর নিচের রেস্টুরেন্টে খেতে গেলাম। মামা ভাত, সবজি, চিকেন ঝাল ফ্রাই, বেগুন ভর্তা আর ডাল অর্ডার দিল। খাওয়ার পর দই মিষ্টি আর কড়া লিকারের দুধ চা। এর থেকে ভালো খাবার আর কী হতে পারে?
আমরা যখন খাবারের জন্য অপেক্ষা করছি তখন আমি মামাকে জিজ্ঞেস করলাম, “মামা, মনে আছে একসিডেন্টের পর যখন সবাইকে হাসপাতালে নিচ্ছিলাম তখন যে একজন মানুষ তোমাকে বলছিল”
মামা কথার মাঝখানে আমাকে থামাল, “ঐ ছাগলটা? যে বলছিল পুলিশ আমাদের ধরবে”
“হ্যাঁ। হ্যাঁ। ঐ মানুষটা কী সত্যি সত্যি বলছিল?”
মামা হা হা করে জোরে জোরে হাসল, বলল, “হতে পারে সত্যি বলেছিল, কেন? তোর ভয় লাগছে?”
“না না ভয় লাগবে কেন?”
“তোর ভয়ের কিছু নাই, আমরা যাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি সে পুলিশের একজন এস পি! এখন গিয়ে দেখ, হাসপাতালে পুলিশ গিজ গিজ করছে।”
মামা পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে আমার হাতে দিল, বলল, “এই যে আমাকে তার কার্ড দিয়েছে। তোর কাছে রাখ, হারিয়ে ফেলিস না। ফোন করে খোঁজ নিতে হবে।”
আমি কার্ডটা হাতে নিলাম, মামা আসলেই দরকারি কাজে আমাকে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। কার্ডটা আমার ডাইরিতে লাগিয়ে রাখতে হবে। আমার একটা ডাইরি আছে, সব সময় ভাবি প্রত্যেক রাতে ডাইরিতে সারাদিন কী হয়েছে সেটা লিখে রাখব। লেখা হয় না। আজ রাতে অবশ্যই সবকিছু লিখতে হবে, বাড়িয়ে চাড়িয়েই লিখব! অনেক কিছু লেখার আছে।
আমার ডাইরি পড়লে যে কেউ ভয় পেয়ে যাবে, কিন্তু কেউ পড়ার সাহস পাবে না। কারণ ডাইরির প্রথম পৃষ্ঠায় বড় বড় করে লেখা আছে :
“নিম্ন স্বাক্ষরকারীর অনুমতি ছাড়া এই ডাইরি পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি কেউ পড়িবার চেষ্টা করে তাহলে তাহার উপর অভিশাপ বর্ষিত হইবে। সেই অভিশাপ অত্যন্ত জ্বালাময়ী এবং তাহার কারণে যে পড়িবে তাহার হাত পা ভাঙ্গিয়া লুলা হইয়া যাইবে এবং শরীরের মাংস পচিয়া পচিয়া খসিয়া পড়িবে এবং পোকা কৃমি কিলবিল কিলবিল করিয়ে এবং চিরদিনের জন্য নরকবাসী হইবে।”
আমি অনেক চেষ্টা করে এটাকে সাধু ভাষায় লিখেছি, সাধু ভাষায় লিখলে পুরো জিনিসটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now