বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাগানের মধ্যে বেঞ্চিতে বসে ছিল মিশুত্কা আর স্তাসিক। গল্প করছিল। তবে সে গল্প ঠিক অন্য ছেলেদের মতো নয়। খাঁটি সব আষাঢ়ে গল্প; কে হারে কে জেতে।
মিশুত্কা বলল, ‘বয়স কত রে তোর, ছোঁড়া?’
‘পঁচানব্বই। তোর?’
‘আমার এক শ চল্লিশ। আগে আমি ছিলাম মস্ত বড়, বরিস কাকুর মতো। তারপর ছোট হয়ে গেলাম।’
স্তাসিক বলল, ‘আর আমি ছিলাম এইটুকুন। তারপর বড় হয়ে গিয়ে ফের ছোট্ট হয়ে গিয়েছি। শিগগিরই আবার দেখবি বড় হয়ে যাব।’
‘আর আমি যখন বড় ছিলাম, তখন গোটা নদীটা সাঁতরে চলে যেতাম।’
‘ফু! আমি সাগর পেরোতে পারতাম।’
‘ভারি তো সাগর! আমি মহাসমুদ্র সাঁতরে পেরিয়ে গেছি!’
‘আমি আগে বাতাসে উড়ে যেতে পারতাম।’
‘ওড় তো দেখি!’
‘এখন পারব না, ভুলে গেছি।’আর আমি একবার সাগরে স্নান করছিলাম,’ মিশুত্কা বলল, ‘ছুটে এল একটা হাঙর। আমি তা গদাম করে এক ঘুষি। হাঙরটা খপ করে একেবারে আমার মাথা খেয়েই ফেলল।’
‘যা, বাজে কথা!’
‘মাইরি বলছি, সত্যি!’
‘তাহলে মরলি না কেন?’
‘মরব কেন। সাঁতরে চলে এলাম তীরে, তারপর সোজা বাড়ি।’
‘বিনা মাথায়?’
‘নয়তো কী?! মাথার কী দরকার।’
‘মুণ্ডু নেই তো হাঁটলি কী করে?’
‘অমনি হেঁটে গেলাম। মুণ্ডু না থাকলে বুঝি হাঁটা যায় না!’
‘তাহলে এখন তোর এ মাথাটা এল কোত্থেকে?’
‘গজাল আবার।’তোফা ছাড়লি বটে,’ হিংসে হচ্ছিল স্তাসিকের। ইচ্ছা হলো মিশুত্কার চেয়েও খাসা কিছু একটা বলে।
বলল, ‘তবে এ আর কী! আমি একবার না গিয়েছিলাম আফ্রিকায়। কুমিরে খেয়ে ফেলে আমায়।’
‘মিথ্যুক কোথাকার!’ মিশুত্কা হেসে উঠল।
‘মাইরি, সত্যি।’
‘তবে বেঁচে রইলি কী করে?’
‘পরে আমায় উগরে দিল যে।’মিশুত্কা ভাবল একটু। ইচ্ছা ছিল স্তাসিককে ছাড়িয়ে যাবে। ভেবে ভেবে শেষ পর্যন্ত বলল:
‘একদিন জানিস, রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি, চারদিকে ট্রাম বাস লরি...’
স্তাসিক চেঁচিয়ে উঠল, ‘জানি, জানি। বলবি তো যে ট্রাম তোকে চাপা দিয়ে গেল। ও গপ্প তুই আগেই বলেছিস।’
‘মোটেই না, সে গপ্প নয়।’
‘বেশ, বল তাহলে কী হলো।’
‘আমি তো চলেছি। গা বাঁচিয়ে। হঠাত্ একটা বাস। লক্ষই করিনি। পা দিয়ে মাড়াতেই—ব্যস, একেবারে চিড়েচ্যাপটা।’
‘হা, হা, হা, মিথ্যুক কাঁহিকার।’মোটেই নয়।’
‘বাস তুই পা দিয়ে চেপে দিলে, তা কখনো হয়?’
‘বাসটা যে একেবারে এইটুকুনি, খেলনা বাস। দড়ি দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল একটা ছেলে।’
এই সময় এল পড়শিদের ছেলে ইগোর; বেঞ্চিতেই বসল ওদের সঙ্গে। মিশুত্কা আর স্তাসিকের গপ্প শুনেটুনে বলল:
‘গুল মারছিস, লজ্জাও করে না!’
স্তাসিক বলল, ‘আমরা তো কাউকে ধাপ্পা দিচ্ছি না, বানিয়ে বানিয়ে বলছি শুধু, গপ্প বলার মতো।’
‘গপ্প!’ মুখ বাঁকাল ইগোর, ‘ভারি কাজ জুটিয়েছিস বটে!’
‘তুই কী ভাবিস, বানিয়ে বানিয়ে বলা খুব সহজ বুঝি?’
‘নয়তো কী!’
‘বেশ, বানিয়ে বল দেখি একটা।’
‘ইগোর বলল, ‘বেশ তো...দাঁড়া...’মিশুত্কা আর স্তাসিক নড়েচড়ে বসল শুনতে।
‘দাঁড়া...অ্যাঁ-অ্যাঁ...হুঁ...হুম...অ্যাঁ-অ্যাঁ...’
‘কী বল, অ্যাঁ-অ্যাঁ করছিস কেন।’
‘দাঁড়া, একটু ভেবে নিই।’
‘বেশ, ভেবে নে।’
‘অ্যাঁ-অ্যাঁ-অ্যাঁ,’ ফের শুরু করল ইগোর, আকাশের দিকে তাকাল, ‘দাঁড়া—অ্যাঁ-অ্যাঁ...’
‘বললি খুব সোজা, তো অত ভাবছিস কী?’
‘দাঁড়া না...হ্যাঁ শোন! একদিন না আমি একটা কুকুরের পেছনে লেগেছিলাম। কুকুরটা খপ করে আমার পা কামড়ে দিল। এই দ্যাখ, এখনো দাগটা আছে।’
‘তা এর মধ্যে বানালি কী তুই?’ জিজ্ঞেস করল স্তাসিক।
‘কিছুই না। যা হয়েছিল, তা-ই বললাম।’
‘তবে যে বললি বানিয়ে বলার ওস্তাদ তুই।’ওস্তাদ তো বটেই, তবে তোদের মতো নয়। তোরা কেবল বাজে সময় নষ্ট করিস। আমি কাল যা বানিয়ে বানিয়ে বলেছি, তার একেবারে হাতেনাতে ফল।’
‘কী রকম ফল?’
‘তবে শোন। কাল সন্ধ্যাবেলা না মা-বাবা সব বেরিয়ে গিয়েছিল, ঘরে কেবল আমি আর ইরা। ইরা ঘুমিয়ে পড়ল। আমি আলমারি খুলে আধ বয়াম জ্যাম মেরে দিলাম। পরে ভাবলাম, যদি ধরা পড়ি। করলাম কী, ইরাটার ঠোঁটে খানিকটা জ্যাম মাখিয়ে দিলাম। মা এসে বলল, “কে জ্যাম খেয়েছে?” আমি বললাম, “ইরা।” মা দেখল সত্যি ওর ঠোঁটে জ্যাম লেগে আছে। আজ সকালে মার কাছ থেকে বকুনি খেল ইরা আর আমায় আরও জ্যাম দিল। দেখলি তো কেমন ফল।’
‘তার মানে, তোর জন্য অন্যে বকুনি খেল, আর তুই দাঁত কেলাচ্ছিস!’ মিশুত্কা বলল।
‘তাতে তোর কী?’
‘কিছুই না, তবে তুই হলি একটা...সেই যে কী বলে?..একটা মিথ্যাবাদী! বুঝলি?’
‘তোরাই মিথ্যাবাদী!’
‘যা ভাগ এখান থেকে! তোর সঙ্গে এক বেঞ্চিতে বসব না আমরা।’
‘তোদের সঙ্গে বসতে আমার নিজেরই ভারি বয়ে গেছে।’
ইগোর উঠে চলে গেল। মিশুত্কা আর স্তাসিকও বাড়ির পথ ধরল। রাস্তায় দেখল আইসক্রিম বিক্রি হচ্ছে। কী আর করে, পকেট হাতড়ে দেখতে লাগল কটা পয়সা আছে। দেখা গেল দুজনের যা আছে, তা জড়ো করে কেবল একটি আইসক্রিমই কেনা যায়।স্তাসিক বলল, ‘একটাই কিনি, আধাআধি করে নেব।’ দোকানি মেয়েটা একটি আইসক্রিম তুলে দিল ওদের হাতে।
মিশুত্কা বলল, ‘চল বাড়ি যাই, ছুরি দিয়ে কেটে ভাগ করব। একেবারে সমান সমান হবে।’
‘তাই চল।’
সিঁড়ির গোড়ায় দেখা গেল ইরা দাঁড়িয়ে আছে। কেঁদে কেঁদে চোখ ফোলা।
‘কাঁদছিলি যে?’ জিজ্ঞেস করল মিশুত্কা।
‘মা আমায় রাস্তায় যেতে মানা করেছে।’
‘কেন?’
‘জ্যামের জন্য। আমি কিন্তু খাইনি। ইগোর আমার নামে লাগিয়েছে। ওই খেয়েছে বোধ হয়, দোষ দিয়েছে আমার।’
মিশুত্কা বলল, ‘ইগোরই তো খেয়েছে। ও নিজেই বলছিল। কাঁদিস না ইরা, চল তোকে আমার ভাগের আইসক্রিম দেব, আয়।’আর আমি তোকে দেব আমার ভাগ। একবার এই একটুখানি চেখেই দিয়ে দেব,’ কথা দিল স্তাসিক।
‘কেন, তোরা নিজেরা খাবি না?’
‘উঁহু, মুখ মরে গেছে। মিশুত্কার সঙ্গে আজ আমরা গোটা দশেক করে আইসক্রিম খেয়েছি কিনা।’
ইরা বলল, ‘তার চেয়ে এক কাজ করি, তিন ভাগ করা যাক আইসক্রিমটাকে।’
‘ঠিক বলেছিস,’ স্তাসিক বলল, ‘তুই যদি একাই সবটা খেয়ে নিস, তবে গলায় ঠান্ডা লেগে যেতে পারে, বুঝেছিস...’
ঘরে ফিরে তিন ভাগ করা হলো আইসক্রিমটাকে।
মিশুত্কা বলল, ‘ভারি মিষ্টিরে! আইসক্রিম পেলে আর আমি কিছু চাই না। জানিস, একবার আমি পুরো এক বালতি আইসক্রিম খেয়েছিলাম।’
‘যত বাজে কথা,’ হেসে উঠল ইরা, ‘এক বালতি আইসক্রিম খেয়েছ বললেই অমনি সবাই বিশ্বাস করবে আরকি!’
‘বারে, বালতিটা যে এইটুকুনি, কাগজের বালতি, যাতে করে আইসক্রিম বিক্রি হয়...’
এই গল্পটার লেখক আমি না
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now