বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আঁখি এবং আমরা ক'জন (৮)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (১৮৪ পয়েন্ট)



X প্রত্যেক দিনই আমরা ক্লাস নেবার সময় অধৈর্য হয়ে অপেক্ষা করি কখন টিফিন ছুটি হবে–আজকে আরো বেশি অধৈর্য হয়ে গেলাম। যখন শেষ পর্যন্ত টিফিন ছুটির ঘণ্টা পড়ল তখন আমরা রীতিমতো ছুটতে ছুটতে লাইব্রেরির সামনে হাজির হয়েছি, নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস হয় না, লাইব্রেরির দরজাটা খোলা। আমরা হুড়মুড় করে ভিতরে ঢুকে গেলাম। লাইব্রেরি ঘরের মাঝখানে বড় বড় টেবিল, সেই টেবিলের দুই পাশে চেয়ার। দেয়াল ঘেঁষে সারি সারি আলমারি, আলমারি বোঝাই বই। লাইব্রেরির এক কোনায় আমাদের নতুন ম্যাডাম দাঁড়িয়ে একজনের সাথে কথা বলছিলেন, আমাদের ঢুকতে দেখে মাথা ঘুরিয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। আমরা সবসময় দেখেছি স্যার আর ম্যাডামরা আমাদের দেখলেই তাদের ভুরু কুঁচকে ফেলেন, তাদের মুখ কঠিন হয়ে যায়, মুখ খিঁচিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “কী চাই?” নতুন ম্যাডামের সেরকম কিছু হল না। উল্টো তার মুখে এক ধরনের হাসি ফুটে উঠল, হাসি হাসি মুখে বললেন, “কী খবর তোমাদের?” আমি বললাম, “ম্যাডাম, আমরা লাইব্রেরি দেখতে এসেছি।” ম্যাডাম বললেন, “ভেরি গুড! এসো, দেখো।” রিতু বলল, “ম্যাডাম আমরা বই পড়তে পারব!” ম্যাডাম হাসলেন, বললেন, “অবশ্যই পারবে। লাইব্রেরিতে যদি বই পড়তে পার তা হলে কোথায় বই পড়বে?” মামুন জিজ্ঞেস করল, “ম্যাডাম, আমরা বাসায় বই নিতে পারব?” “পারবে। সেই জন্যে অবশ্যি একটা সিস্টেম দাঁড় করাতে হবে। এখনো কোনো সিস্টেম নেই–তাই দুই-একদিন সময় দিতে হবে। এখন এখানে বসে বসে পড়।” “যেটা ইচ্ছা পড়ব?” “হ্যাঁ। যেটা ইচ্ছা।” “আলমারি খুলে বই বের করব? যেটা ইচ্ছা?” ম্যাডাম হাসলেন, বললেন, “যেটা ইচ্ছা।” ম্যাডামের কথা শেষ হবার আগেই সবাই চিৎকার করে আলমারিগুলোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, টেনে টেনে বই নামাতে লাগল, কাড়াকাড়ি করে বইগুলো দেখতে লাগল। আমি ভয়ংকর একটা ভূতের বই পেয়ে গেলাম, প্রচ্ছদে মানুষের কাটা একটা মাথা, সেটা পচে ফুলে আছে, চোখের ভেতর থেকে একটা কিলবিলে পোকা বের হয়ে আসছে, বইটা দেখে আমার জিবে একেবারে পানি এসে গেল। আমি তখন তখনই একটা চেয়ার টেনে বইটা নিয়ে বসে গেলাম। ম্যাডাম ঘুরে ঘুরে দেখলেন, তারপর বললেন, “আমাদের লাইব্রেরির জন্যে এখন কোনো স্টাফ নেই, তাই নিজেদের একটু কাজ করতে হবে। বই পড়া শেষ হলে যেখান থেকে যেটা নামিয়েছ সেটা সেখানে তুলে রেখো।” “রাখব ম্যাডাম।” লাইব্রেরি দেখতে আরো কয়েকজন স্যার-ম্যাডাম এসেছেন। তাদের একজন হতাশভাবে মাথা নেড়ে বলল, “রাখবে না। কেউ ঠিক জায়গায় রাখবে না।” আরেকজন আরো জোরে মাথা নেড়ে বলল, “বইয়ের পৃষ্ঠা কেটে নেবে।” “পৃষ্ঠা কাটা কী বলছেন?” আমাদের বিজ্ঞান স্যার বললেন, “পুরো বই নিয়ে চলে যাবে। দুই দিনে লাইব্রেরি ফাঁকা হয়ে যাবে।” ইংরেজির ম্যাডাম ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “ইস! কী সুন্দর বইগুলো আলমারির মাঝে সাজানো ছিল–সবগুলো ওলটপালট করে দিল!” নতুন ম্যাডাম ইংরেজি ম্যাডামের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন তারপর হাসতে শুরু করলেন, তার হাসি থামতেই চায় না। ইংরেজি ম্যাডাম তো হাসির কোনো কথা বলেননি-ঠিকই বলেছেন নতুন ম্যাডাম এর মাঝে এতো হাসির কী পেয়েছেন কে জানে! আমি অবশ্যি সেটা নিয়ে মাথা ঘামালাম না, আমি ভূতের বইটার মাঝে ঝুঁকে পড়লাম, পোড়ো বাড়িতে দুইজন রাত কাটাতে এসেছে, পুরোনো সিন্দুক থেকে মাথা কাটা একটা মানুষ বের হয়ে এসেছে সেই নিয়ে ফাটাফাটি গল্প। কীভাবে কীভাবে যে টিফিনের সময়টা কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। ঘণ্টা পড়া মাত্র আমি বই বন্ধ করে উঠে দাঁড়ালাম। নতুন ম্যাডাম বলেছেন যেখান থেকে আমরা যে বইটা নামিয়েছি সেখানে বইটা তুলে রাখতে হবে কিন্তু তা হলে আমার বইটা আরেকজন নিয়ে নিবে। তাই আমি উঁইয়ে খাওয়া রাজনীতির কিছু বইয়ের পিছনে ভূতের বইটা লুকিয়ে রাখলাম যেন আর কেউ খুঁজে না পায়। ম্যাডাম বলেছেন আমরা ছোটখাটো দুষ্টুমি করতে পারব–এটা তার ভিতরেই পড়ে–এটা মোটেও বড় ধরনের দুষ্টুমি না। আমি যদি প্যান্টের ভিতরে খুঁজে লুকিয়ে বাইরে নিয়ে যেতাম সেটা হত বড় ধরনের দুষ্টুমি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪১ জন


এ জাতীয় গল্প


Warning: mysqli_fetch_array() expects parameter 1 to be mysqli_result, boolean given in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/story.php on line 344

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...