বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিচে থেকে লোকটি বলল, কী বলবে?
তোমরা জান তোমরা আটকা পড়ে গেছ। তোমরা এও জান যে তোমাদের। বের হবার আর কোনো রাস্তা নেই। তারিককে যদি মেরে ফেল আমরা কোনোদিন তোমাদের ছাড়ব না, পুলিশ ডেকে আনতে মোটে ঘন্টাখানেক লাগবে, তারপর সবার ফাঁসি হয়ে যাবে। তবে মুশকিল হল কী জান? তোমরা বুঝে গেছ তারিককে মেরে ফেলার ভয় দেখালে আমরা তোমাদের ছেড়ে দেবই, বন্ধুর জান নিয়ে তো আর খেলতে পারি না–
সাহেবটিকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে দেয়া পর্যন্ত দীপুর থামতে হল। সাহেবটি গর গর করে বলল, ও ভয়টয় দেখাচ্ছে না, একটু দেরি হলে ও সত্যি গুলি করে দেবে।
দীপু বলল, শুধু শুধু ভয় দেখাচ্ছ তোমরা। আসলে কোনোদিনও তোমরা গুলি করবে না, গুলি করলে উলটো তোমাদেরই ফাঁসি হয়ে যাবে। কিন্তু যদি আমাদের কথা শোন আমরা তোমাদের চলে যেতে দেব।
কী কথা?
শুনবে তা হলে?
বলো আগে।
দীপুর মুখে একগাল হাসি খেলে গেল। ওদের আটকে রাখার জন্যে এখন একটা বিশ্বাসযোগ্য গল্প বের করতে হবে। যদি সে বলে তারিককে ছেড়ে দিলে ওরা বন্দুক দিয়ে দেবে, তা হলে এরা রাজি হয়ে যাবে, কিন্তু ওদের বিশ্বাস নাও করতে পারে। বলবে ঠিক আছে বন্দুকটা আগে দাও! এমন একটা কিছু বলতে হবে যেন বিশ্বাস করে। কি বলতে পারে? কী? কী?
ঠিক তক্ষুনি ওর মাথায় বিদ্যুতের মতো খেলে গেল—টাকা, টাকা চাইতে হবে।
আমাদের দশ হাজার টাকা দাও, ছেড়ে দেব।
কী? দশ হাজার টাকা! লোকটা হাসির মতো শব্দ করল।
দীপুর নিজেরই একটু লজ্জা লাগছিল বলতে, কিন্তু ও জানে শুধু টাকার কথা বলেই ওদের আটকে রাখা যাবে। পৃথিবীতে অনেক মানুষই টাকাকে খুব ভাল করে চেনে।
ঠিক আছে, দীপু বলল, দশ হাজার দিতে না চাও পাঁচ হাজার দাও। তোমরা তো বিদেশে এই মূর্তি বিক্রি করে লাখ টাকা পাবে, আমাদের পাঁচ হাজার দাও।
ফাজলামি পেয়েছ? এক্ষুণি বন্দুকটা ফেলে দাও, না হয় সাহেব গুলি করে দেবে।
দীপু একটু আহত স্বরে বলল, তুমি একটু বলেই দ্যাখো না সাহেবকে সাহেব কী বলে।
অনেকক্ষণ কথা হল সাহেবের সাথে লোকটার। দীপুর একটু আশা হচ্ছিল। হয়তো তাদের বিশ্বাস করতেও পারে। সত্যি সত্যি ওদের বিশ্বাস করল, ভাবল সত্যিই টাকা পেলেই বুঝি ছেড়ে দেবে! লোকটা বলল, সহেব রাজি হয়েছে একশো। টাকা দেবে বলেছে।
দীপু হাসি আটকে রেখে বলল, একশো টাকা! এটা কি চিংড়ি মাছের বাজার, যে দরদাম করছ? পাঁচ হাজার টাকার এক পয়সা কম না।
দীপু বুঝতে পারছিল না কতক্ষণ সে এইভাবে দরদাম করে যাবে। বিরক্ত হয়ে যদি গুলি করে বসে? পুলিশ আসতে আর কত দেরি কে জানে।
দীপু খুব ঠান্ডা মাথায় আবার কথা শুরু করল, দেখ, একটু পরেই সূর্য উঠে যাবে, তখন তোমাদেরই পালাতে অসুবিধা হবে। রাজি হয়ে যাও, তোমাদের ভাল, আমাদেরও ভাল। আমরা কাউকে বলব না পর্যন্ত।
আমাদের কাছে এত টাকা নেই।
কত আছে?
দু-তিন শো।
আর কিছু নেই?
না।
ঘড়ি, ক্যামেরা? দীপুর নিজের উপরে ঘেন্না হচ্ছিল এভাবে কথা বলতে, কিন্তু না বলে করবে কী, ওদের বোঝাতেই হবে টাকা পেলেই ওরা খুশি!
না, আর কিছু নেই।
কী বলছ! নিশ্চয়ই সাহেবের হাতে ঘড়ি আছে।
দেয়া যাবে না। দিয়ে দাও না, সাহেব আরেকটা কিনে নেবে!
সবাই অবাক হয়ে দীপুকে দেখছিল। সে যে এরকম করে কথা বলতে পারে কে জানত! নেহায়েত দীপুকে খুব ভাল করে চেনে, নইলে বিশ্বাস করে ফেলত দীপু সত্যি টাকার জন্যে এরকম করছে!
লোকগুলো রাজি হোক দীপু চাচ্ছিল না, কিন্তু রাজি হয়ে গেল। বন্দুকটা ফেলে দিলেই ওরা তারিকের হাতে টাকা আর ঘড়ি দিয়ে উপরে পাঠিয়ে দেবে।
দীপু রাজি হল না, উঁহু বিশ্বাস করি না। বন্দুকটা ফেলে দিলে তোমরা শুধু তারিককে ছেড়ে দেবে, টাকা দেবে না।
বলছি দেব।
দেবে না। বললাম তো দেব।
বিশ্বাস করি না! আগে টাকা দিয়ে তারিককে পাঠাও আমরা বন্দুক ফেলে দেব, কথা দিলাম।
সাহেব রেগেমেগে কী যেন বলল, তখন দীপু আরেকটু নরম হল। বলল, আচ্ছা ঠিক আছে, দু’জনের কথাই থাক। তারিক উঠে আসবে একপাশ দিয়ে, আরেক পাশ দিয়ে বন্দুকটা নামাব।
দীপুকে নিরাশ করে দিয়ে ওরা রাজি হয়ে গেল। এতেই ওর খুশ হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তখনও সে চিন্তা করে যাচ্ছিল এর থেকে ভাল কিছু করা যায় কি না। তক্ষুণি তার মাথায় আরেকটা বুদ্ধি খেলে গেল, কিন্তু একটু সময় দরকার। সময়টা কীভাবে পাবে? চিৎকার করে বলল, তারিক টাকা না গুনে নিস না, আর আসার সময় আমাদের শার্টগুলো নিয়ে আসিস, শীতে মারা যাচ্ছি।
তারিক বলল, আচ্ছা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now