বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আঁখি এবং আমরা ক'জন (৭)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (১০২৯ পয়েন্ট)



X আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে দুষ্টু ছেলে হচ্ছে সুজন, সে হাত তুলে জিজ্ঞেস করল, “ম্যাডাম। এই বেতগুলো এখন কী করবেন?” ম্যাডাম বললেন, “পুড়িয়ে ফেলব।” অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে থাকা সব ছেলেমেয়ে আনন্দে আবার চিৎকার করে উঠল। বেতগুলো পোড়ানো হবে সেটা আমরা শুনেছি কিন্তু কেউই বুঝতে পারিনি সেগুলো এখনই আমাদের সামনে পোড়ানো হবে। আমরা অবাক হয়ে দেখলাম ম্যাডাম মানিককে ডাকলেন, সে নিচে কয়েকটা ইট বিছিয়ে তার উপর বেতগুলো রাখল। তারপর একটা প্লাস্টিকের বোতল থেকে বেতগুলোর উপর কী যেন ঢালল, মনে হয় কেরোসিন না হয় পেট্রল। তারপর একটা ম্যাচ দিয়ে সেটাতে আগুন ধরিয়ে দিল। দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে আর আমরা আনন্দে চিৎকার করতে থাকি। ম্যাডাম হাত তুলে আমাদের থামালেন, তারপর বললেন, “এখন তোমরা আমাকে কথা দাও তোমরা কখনো এমন কিছু করবে না যার জন্যে তোমাদের স্যার আর ম্যাডামরা তোমাদের উপর রেগে ওঠেন–আর তারা তোমাদের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন। কথা দাও।” আমরা চিৎকার করে বললাম, “কথা দিলাম।” “কথা দাও তোমরা মন দিয়ে লেখাপড়া করবে।” আমরা বললাম, “মন দিয়ে লেখাপড়া করব।” “একটু আধটু দুষ্টুমি করলে ক্ষতি নেই, কিন্তু কেউ বড় দুষ্টুমি করবে না। কথা দাও সবাই স্কুলের নিয়ম মেনে চলবে।” একটু আধটু দুষ্টুমি করতে পারব শুনে আমরা সবাই খুশি হয়ে উঠলাম তাই আনন্দে চিৎকার করে বললাম, “স্কুলের নিয়ম মেনে চলব।” ম্যাডাম খুব খুশি হয়ে উঠলেন, তারপর বললেন, “মনে থাকে যেন, তোমরা কিন্তু আমাদের কথা দিয়েছ। কথা দিলে কিন্তু কথা রাখতে হয়। তোমরা সবাই কথা রাখবে তো?” আমরা সবাই চিৎকার করে বললাম, “রাখব ম্যাডাম, রাখব।” ছোটখাটো দুষ্টুমি করা এমন কিছু কঠিন না, এই কথাটা তো রাখাই যায়। ম্যাডাম তখন তার হাতঘড়ি দেখলেন তারপরে বললেন, “তোমাদের ক্লাসের দেরি হয়ে যাচ্ছে–এখন সবাই ক্লাসে যাও।” তখন হঠাৎ তার কী যেন একটা মনে পড়ল, আবার হাত তুলে বললেন, “আর শোনো-আমি তোমাদের স্কুল লাইব্রেরিতে গিয়েছিলাম! এটা কতোদিন খোলা হয়নি কে জানে–পুরো লাইব্রেরিতে আধ ইঞ্চি উঁচু ধুলো জমেছে। অনেক বই উঁই কেটে ফেলেছে! তবে সুখের কথা হল যেসব বইগুলো উইয়ে কেটেছে তার বেশিরভাগ হচ্ছে রাজনৈতিক বই! সরকারি টাকা নষ্ট করে এই বইগুলো কেনা হয়েছিল। ভালো বইগুলো কাটেনি!” আমরা আবার আনন্দে চিৎকার করলাম। সব স্যার-ম্যাডামের সামনে দাঁড়িয়ে। অ্যাসেম্বলিতে যে এভাবে চিৎকার করা যায় সেটা আমরা কোনোদিন কল্পনাও করিনি। আর গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে যে এতো আনন্দ সেটাও আমরা আগে বুঝতে পারিনি। আমাদের চিৎকার কমে আসা পর্যন্ত ম্যাডাম অপেক্ষা করলেন তারপর বললেন, “আমি তোমাদের জন্যে লাইব্রেরি খুলে দেব। তোমরা পড়ার জন্যে বই নিতে পারবে, বই পড়তে পারবে। আমাকে একটু সময় দাও, আমি নতুন নতুন মজার মজার বই দিয়ে লাইব্রেরিটা বোঝাই করে দেব!” ম্যাডামের কথা শেষ হওয়ার আগেই আমরা আবার গলা ফাটিয়ে আনন্দে চিৎকার করে উঠলাম। . আমাদের প্রথম ক্লাস বাংলা। বাংলা স্যার মুখ কালো করে ক্লাসে ঢুকলেন, তাকে দেখে মনে হতে লাগল কেউ বুঝি জোর করে তার গলা দিয়ে আধা গ্লাস কেরোসিন ঢেলে দিয়েছে। এই স্যার আর কোনোদিন আমাদের মারতে পারবেন না, সেটা এখনো আমাদের কারোরই বিশ্বাস হতে চায় না। আমরা সবাই চোখ বড় বড় করে স্যারের দিকে তাকিয়ে রইলাম। স্যার টেবিলে চক ডাস্টার আর রেজিস্টার খাতা রেখে আমাদের দিকে তাকালেন। আগে তার সাথে একটা বেত থাকতো–আজকে নেই। ম্যাডাম সেটা পুড়িয়ে ফেলেছেন। আমাদের ভেতরে সবচেয়ে দুষ্টু হচ্ছে সুজন, এই স্যারের হাতে সবচেয়ে বেশি মারও খেয়েছে সুজন। তাই তার আনন্দ হল সবচেয়ে বেশি। সে দাঁত বের করে হেসে স্যারকে জিজ্ঞেস করল, “স্যার, ম্যাডাম যে আপনার বেতটা পুড়িয়ে ফেলেছেন সেই জন্যে আপনার কি একটু মন খারাপ হয়েছে?” আমরা সবাই নিশ্বাস বন্ধ করে বসে রইলাম, বাংলা স্যারকে কেউ এরকম একটা প্রশ্ন করতে পারে সেটা নিজের কানে শুনেও আমাদের কারো বিশ্বাস হল না। স্যার চোখ লাল করে সুজনের দিকে তাকালেন। মানুষের চোখ দিয়ে আগুন বের হবার ব্যবস্থা থাকলে সুজন এতক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যেত। সুজন পুড়ে ছাই হয়ে গেল না আর আমরা সবাই বুঝতে পারলাম ভয়ংকর বাংলা স্যার এতদিন ছিলেন একটা বাঘের মতো–এখন সেই বাঘের সব দাঁত আর নখ তুলে ফেলা হয়েছে, এখন স্যার আর বাঘ নেই, বড় সাইজের বিড়াল হয়ে গেছেন। স্যারকে আর ভয় পেতে হবে না। তাই আমিও সাহস পেয়ে গেলাম, বললাম, “স্যার, আপনি বলেছিলেন আমাদের লাইব্রেরিতে যেতে দেওয়া হবে না। কিন্তু নতুন ম্যাডাম বলেছেন লাইব্রেরিটা খুলে দেবেন।” এটা কোনো প্রশ্ন না, স্যারের উত্তর দেবার কিছু নেই তাই স্যার উত্তর না দিয়ে চোখ লাল করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন, আগে হলে এই চোখের দৃষ্টি দেখে আমার হাত-পা শরীরের ভিতরে ঢুকে যেত-আজকে কিছুই হল না। আমি উল্টো জিজ্ঞেস করলাম, “আমরা কখন লাইব্রেরিতে যাব স্যার? আমাদের কি আলাদা লাইব্রেরি ক্লাস হবে?” স্যার আমার প্রশ্নের উত্তর দিলেন না, নাক দিয়ে ফোঁস করে একটা নিশ্বাস ফেলে রেজিস্টার খাতাটা রোল করার জন্যে খুললেন। তখন মামুন বলল, “স্যার! ম্যাডাম বলেছেন কোনো স্যার যদি আমাদেরকে মারেন তা হলে তার জেল হয়ে যাবে। কয় বছরের জেল হবে স্যার?” এটা মোটেও হাসির কথা নয় কিন্তু কয়েকজন নিচু গলায় খুক খুক করে হেসে উঠল। স্যার ভান করলেন যেন কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না। মামুন একটু গাধা টাইপের, সে একটা কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত ঘ্যানঘ্যান করতে থাকে। এবারেও তাই শুরু করল, আবার জিজ্ঞেস করল, “কয় বছর স্যার?” স্যার কোনো উত্তর দেবার চেষ্টা করলেন না তাই ক্লাসের ছেলেমেয়েরা নিজেরাই উত্তর দেওয়া শুরু করল, রিতু বলল, “এটা নির্ভর করে কতটুকু মেরেছেন তার উপর। মনে কর কান ধরে টানলে এক বছর, চড় মারলে দুই বছর, বেত দিয়ে মারলে তিন বছর। তাই না স্যার?” মাসুম বলল, “আর চড় দিয়ে কানের পর্দা ফাটিয়ে দিলে?” সারা ক্লাস চুপ করে গেল, আমরা সবাই জানি কবিতা মুখস্থ বলতে পারেনি দেখে এই বাংলা স্যার চড় মেরে মাসুমের কানের পর্দা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। কয়েক সেকেন্ড কেউ কোনো কথা বলল না, তখন সুজন বলল, “মনে হয় ফাঁসি হয়ে যাবে।” বাংলা স্যারকে ফাঁসির আসামির মতো দেখাতে লাগল, আর ঠিক ফাঁসির আসামির মতোই বাংলা স্যার কাঁপা গলায় রোল কল নেওয়া শুরু করলেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প


Warning: mysqli_fetch_array() expects parameter 1 to be mysqli_result, boolean given in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/story.php on line 344

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...