বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কুলের নাম পথচারী (২৪)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (১০২৯ পয়েন্ট)



X কালাম অত্যন্ত চালাক-চতুর ছেলে। তার সত্যিকারের বয়স কেউ জানে না, দেখে মনে হয় আট থেকে দশের মাঝে হবে। এই বয়সের একটা ছেলে যে এত চালু হতে পারে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হতে চায় না। সে যে-কোনো চলন্ত বাসে উঠে বিনা ভাড়ায় যে-কোনো জায়গায় চলে যেতে পারে, ট্রেনের ছাদে বসে সারা দেশ ঘুরে আসতে পারে। চলন্ত লঞ্চ কিংবা স্টিমার থেকে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে চলে আসতে পারে। মাথায় বোঝা নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরে বেড়াতে পারে, পাইকারি দোকান থেকে এককাঁদি কলা কিনে তিনগুণ দামে বিক্রি করে ফেলতে পারে। প্রয়োজন হলে সে হাত বাঁকা করে নুলো শিশুর ভঙ্গি করে নাকি সুরে ভিক্ষা করে কিছু অর্থোপার্জন করে ফেলতে পারে। তার মতো মারপিট বা গালিগালাজ এই এলাকায় কেউ করতে পারে না এবং শুধুমাত্র এই কারণেই এই এলাকার যাবতীয় বাচ্চারা তাকে নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছে। এতরকম গুণ থাকার পরও পড়াশোনা নামক অত্যন্ত সহজ বিষয়টিতে সে কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারে না। কাগজে অর্থহীন আঁকিবুকি করে কেন সেটা দেখে সবাই অর্থহীন শব্দ করে সেটাকে পড়াশোনা নাম দিয়েছে সে এখনও বুঝে উঠতে পারেনি। পুরো ব্যাপারটা তার কাছে একধরনের কৌতুক ছাড়া আর কিছু না! প্রতিদিন সকালে কালামকে নিয়ে একধরনের ধস্তাধস্তি হয়। মির্জা মাস্টার বলেন, “কালাম, তুমি বলো। পড়াশোনা কেন করতে হয়?” কালাম মাথা চুলকে বলে, “স্যার ভুলে গেছি।” মির্জা মাস্টার হুংকার দিয়ে বলেন, “ভুলে গেছি মানে? এক্ষুনি বলো।” কালাম মুখ কাঁচুমাচু করে বলে, “পড়াশোনা করলে মনে হয় চোখে কম দেখে। তখন চশমা পরতে হয়। আর চোখে চশমা থাকলে সবাই সালাম দেয়।” মির্জা মাস্টার তখন হাল ছেড়ে দিয়ে ব্লকবোর্ডে একটা বড় ‘অ’ লিখে বলেন, “এইটা কী?” কালাম খানিকক্ষণ মাথা চুলকে বলে, “দেখে নৌকার মতো মনে হয় স্যার। কিন্তু ছবিটা ভালো হয় নাই। একটা পাল দেয়া দরকার ছিল।” মির্জা মাস্টার তখন হুংকার দিয়ে বলেন, “এইটা নৌকা না, এইটা ‘অ’। কালাম তখন তাড়াতাড়ি মাথা নেড়ে বলে, “মনে পড়েছে স্যার। এটাই। অ। অ অ অ।” পরের দিন দেখা যায় আবার সে ভুলে গেছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...