বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক: মোঃ রায়হান কবির
অফিসে কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে। আর বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটা এমন এক বিষয়, যা নিয়ে সব কর্মীর ভেতর একটা উত্তেজনা বিরাজ করে। নিজের কত বেতন বৃদ্ধি পেল সেটার চেয়ে বেশি টেনশন সহকর্মীর বেতন না আবার বেশি বেড়ে যায়!
অফিসের সবার আর কিছু নিয়ে আগ্রহ না থাকলেও অন্যের বেতন কত? এটা নিয়ে আগ্রহের সীমা নেই। যা হোক, অফিসের সবার বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ তৈরি হয়ে আছে মানবসম্পদ বিভাগে। মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান হঠাৎ একটা ফোন কল পেয়ে সেই বেতন বৃদ্ধির কাগজটা টেবিলের ওপর ফেলেই রুমের বাইরে চলে গেলেন। যদিও তার রুম ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে লক করা। তবুও কাচের রুমের বাইরে থেকে সেই কাক্সিক্ষত ফলাফল টেবিলের ওপর পড়ে থাকতে দেখে কারওই তর সইছিল না। বিশেষ করে সেই কাগজে যেহেতু অন্যের ফলাফলও জানা যাবে, ফলে কেউই লোভ সামলাতে পারছিল না।
মিনিট বিশেক পর যখন মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ফিরে এলেন, দেখলেন তার রুমে অবৈধভাবে ঢোকার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি আইটি বিভাগের একজনকে ডেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট চেক করে দেখলেন বিশজন কর্মীর উনিশ জনেরই ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলে যায়, শুধু একজন ছাড়া!
মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান তো খুশি হয়ে গেলেন। যাক, অফিসে অন্তত একজন সৎকর্মী আছে, যে কিনা আমার রুমে ঢোকার চেষ্টা চালায়নি। এমন অপরাধের জন্য সবাইকে একটি রুমে জড়ো করা হলো। এবার আইটি বিভাগের লোককে দিয়ে ঘটনা ব্যাখ্যা করা হলো এবং যে ভদ্রলোক এমন কাজের বাইরে ছিলেন আইটি বিভাগ থেকে তার নাম ঘোষণা করা হলো। মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান খুব প্রশংসা করছিলেন সেই কর্মীর, যিনি নিজের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করেননি তার রুমে ঢোকার জন্য।
সেই ভদ্র কর্মীর প্রশংসা শুনে বাকিরা জ্বলে উঠে বললেন, ‘স্যার, ও আঙুল দিয়ে খোলার চেষ্টা করেনি, করেছে ওর গাল দিয়ে! আজ সকালে আপনি যে কোনো কারণেই হোক ওর গালে হাত দিয়েছিলেন! ও সিনেমার স্টাইলে ভেবেছিল আপনার আঙুলের ছাপ ওর গালে আছে। কিন্তু ওর ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচ করেনি।’ শুনে মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান বিস্মিত হয়ে গেলেন। তাহলে কি একজনও সৎকর্মী নেই এ অফিসে?
অর্থাৎ সবাই সবার সুযোগ কাজে লাগায়। একটা কথা প্রচলিত আছে, সুযোগের অভাবে ভদ্রলোক! সুযোগ পেলে বোঝা যায়, সুযোগ কে কতটা কাজে লাগায়। অফিস ছুটি হতেই রবিউল বুলবুল ঈদের স্বল্প ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন। আবার অফিস ধরতে হবে জেনে ঈদের একদিন পরই রওনা দিয়েছিলেন ঢাকায়। কিন্তু সদরঘাট নেমেই পড়ে গেলেন বিপদে। কোনো পরিবহণ নেই! রিকশা কিছু আছে যারা ভাড়া চাইছে তার দুই-তিন দিনের বেতনের সমান! রবিউল বুলবুল মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান হিসাবে কাজ করেন অথচ আজকের রিকশা ভাড়া শুনে তিনিও আঁতকে উঠলেন। মানুষ যত বাড়তে লাগল আর রিকশা যত কমতে লাগল রিকশা চালকদের ডিমান্ড শুনে তিনি রীতিমতো বেহুঁশ হয়ে গেলেন! যখন হুঁশ ফিরল তখন তিনি নিজেকে একটা সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আবিষ্কার করলেন। একজন নার্স এসে বললেন, ‘আপনাকে সদরঘাট থেকে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে আনা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স খরচ বাবদ পাঁচশ টাকা, আর হাসপাতালের টিকিটের জন্য দশা টাকা। মোট পাঁচশ দশ টাকা দিন।’
বিল শুনে তিনি যেন শরীরে আরও শক্তি ফিরে পেলেন। কেননা এই হাসপাতালের পাশেই তার ভাড়া বাসা। সদরঘাট থেকে এখানে আসতেই কোনো কোনো রিকশা চালক ১৫০০-২০০০ টাকা ভাড়া চেয়েছিল! অথচ অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত এবং নিরাপদে ফেরা গেল মাত্র ৫১০ টাকাতেই। মূল ঘটনা হলো তাকে সদরঘাটে বেহুঁশ পড়ে থাকতে দেখে জনৈক যাত্রী জরুরি সেবা নম্বরে কল দিলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
হাসপাতালের বিল মিটিয়ে উনি বাড়ি ফিরতে ফিরতে চিন্তা করলেন, আজ রিকশা ভাড়া শুনেই জ্ঞান হারাতে হলো! সুযোগ বুঝে কোনো কোনো রিকশা চালকও আজ সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ফেলল? আমি না হয় কিছুটা ভালো চাকরি করি, যারা আরও কম বেতনে চাকরি বা কাজ করেন তাদের তবে কী অবস্থা! বাইরে থেকে দেখলে রিকশা চালকরা দু’হাত দিয়ে রিকশা চালায়। কিন্তু এদের কেউ কেউ রিকশা চালায় ‘তিন’ হাতে। বাড়তি সেই তৃতীয় হাতটি হচ্ছে অজুহাত! রোদ বেশি তাই ভাড়া বেশি, বৃষ্টি হচ্ছে তাই ভাড়া বেশি, ঈদের ছুটি তাই ভাড়া বেশি, লকডাউন তাই ভাড়া বেশি! কত যে অজুহাত! অবশ্য সমাজের অনেকেই যখন সুযোগ পেলে নীতি ভাঙতে চান, তখন ওরাই বা বাদ যাবে কেন! ভাবতে ভাবতে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন রবিউল বুলবুল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now