বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কুলের নাম পথচারী (২৩)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (১০২৯ পয়েন্ট)



X রইসউদ্দিন, তালেব আলি, আব্বুল করিম আর এমাজউদ্দিন দাঁড়িয়ে একজন আরেকজনের দিকে চোখ পাকিয়ে তাকাতে লাগলেন। দেখে মনে হতে লাগল তারা পারলে একজন আরেকজনকে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলবেন। ফারুখ বখত মুখ টিপে হেসে বললেন, “তোমরা যখন জেলের ভাত খেয়ে ফিরে আসবে তোমাদের কোনো চাকরিবাকরি থাকবে না। যদি কাজ চাও আমার কাছে এস। আমাদের স্কুলের দারোয়ানের চাকরি দিয়ে দেব!” ফরাসত আলি সাধারণত ঠাট্টা-তামাশা করেন না, আজকে তিনিও লোভ সামলাতে পারলেন না, বাম চোখটা একটু ছোট করে বললেন, “মানুষ যেরকম করে লেখে, কুকুর হইতে সাবধান’–আমরা সেরকম করে লিখে দেব, ‘জেলফেরত হইতে সাবধান। ফরাসত আলি আর ফারুখ বখত একে অন্যকে জাপটে ধরে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেলেন, কিন্তু অন্য চারজন তার মাঝে এতটুকু রসিকতাও খুঁজে পেলেন না। এর মাঝে বেশ অনেকদিন পার হয়ে গেছে। প্রথমদিকে যেরকম সবার ধারণা ছিল ছোট ছোট বাচ্চারা হবে জ্ঞানপিপাসু এবং তারা দিনরাত পড়াশোনা করে কয়েকদিনের মাঝেই সবাই একেকজন ছোটখাটো আইনস্টাইন হয়ে বের হয়ে আসবে দেখা গেল সেটা সত্যি নয়। রাস্তাঘাটে ঘোরাঘুরি করে বড় হওয়া বাচ্চা ছেলেমেয়েদের জীবন সম্পর্কে ধারণা সম্পূর্ণ অন্যরকম। তারা সবাই জানে এই স্কুলের পুরো ব্যাপারটা বড়লোক কয়েকজন মাথা-খারাপ মানুষের খেয়াল। কয়েকদিন পরে তাদের এই খেয়াল ছুটে যাবে এবং তারা তখন আবার আগের মতো রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াবে। কাজেই পথচারী স্কুলের ছোট ছোট ছাত্রছাত্রী এটাকে একটা খেলা হিসেবে নিয়ে সময় কাটাতে আসছে। তবে রীতিমতো আসার জন্যেই হোক বা শিক্ষকদের উৎসাহের জন্যেই হোক বাচ্চা ছেলেমেয়েদের প্রায় সবাই মোটামুটি পড়তে শিখে গেছে। কেউ-কেউ ছোটখাটো ইংরেজি পড়তে পারে, কখনো কখনো বলতেও পারে। কিন্তু মজার ব্যাপার হল এই বিদ্যাটি ঠিক কী কাজে লাগবে সে-সম্পর্কে তাদের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। কাজেই পথচারী স্কুলে যারা পড়ান তারা সবসময় সবাইকে পড়াশোনার গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অনেক চেষ্টাচরিত্র করে মোটামুটি সব বাচ্চাকেই পড়াশোনার গুরুত্ব খানিকটা বোঝানো গেছে–কয়েকজন ছাড়া। তাদের মাঝে যে এক নম্বর তার নাম কাউলা। কাউলা যে কারও নাম হতে পারে সেটা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবার কথা না। তবে তাকে দেখে কেউ যদি তার নাম অনুমান করার চেষ্টা করে সম্ভবত কাউলা নামটিই অনুমান করবে, কারণ এই ছেলেটির গায়ের রং কুচকুচে কালো। রাণুদিদি প্রথম দিনেই কাউকে কাউলা নামে ডাকতে অস্বীকার করলেন। ভুরু কুঁচকে বললেন, “একটি বিশেষণ কার নাম হতে পারে না।” কাউলা মাথা চুলকে রাণুদিদির দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল রাণুদিদি তাকে বকাবকি করছেন কি না এবং যদি বকাবকি করে থাকেন তা হলে তার কারণটা কী। পরিষ্কার কিছু বুঝতে না পেরে সে দুর্বলভাবে বলল, “কিন্তু আমারে সবাই ডাকে কাউলা।” “ডাকুক। তাতে কিছু আসে যায় না। কে তোমার এই নাম দিয়েছে? তোমার বাবা?” “আমার বাবা নাই।” “তা হলে মা?” “আমার মাও নাই।” “তা হলে তোমার এই নামের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তোমাকে আমি নতুন নাম দেব। বলল, তোমাকে কী নামে ডাকব?” ক্লাসে ফাজিল ধরনের একজন বলল, “ময়লা।” নামটি সত্যি হতে পারত, তাই পুরো ক্লাস হো হো করে হেসে ওঠে। কাউলা ঘুষি পাকিয়ে ফাজিল ছেলেটিকে একবার হুমকি দিয়ে রাণুদিদির দিকে তাকাল। রাণুদিদি হাসি গোপন করে বললেন, “না, ময়লাও কারও নাম হতে পারে না। তার কারণ দুটো। এক : এটাও বিশেষণ। দুই : কোনোদিন যদি সে সাবান দিয়ে স্নান করে ফেলে তা হলে কী হবে?” কাউলার নামটি কী হতে পারে সেটি নিয়ে খানিকক্ষণ গবেষণা হল এবং তার নতুন নামকরণ করা হল কালাম, আগের নামের কাছাকাছি যেন অভ্যস্ত হতে বেশি সময় না নেয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...