বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার ১৯ বছর, এবং যদি আমাকে বিয়ে দেয়া হয় এবং আমাকে বলা হয় তুমি গৃহিণী হয়ে বাকি জীবনটা কাটাতে পারো, আমি খুশি-ই হবো। সেচ্ছায়ই হবো। সচেতনভাবেই রাজি হবো। কারণ একজন গৃহিণীর কাজ কখনোই ছোট নয়, সমাজ আমাদের এটা ছোট করে দেখতে শিখিয়েছে। প্রতি বেলার রান্না মানে পরিবারের সবার পুষ্টির চাহিদা পূরণের দিকে লক্ষ্য রাখা, একজন গৃহিণী তখন হয়ে ওঠে নিউট্রশনিস্ট। বাচ্চাদের জামাকাপড় সেলাই এর ক্ষেত্রে সে হয়ে ওঠে একজন ফ্যাশন ডিজাইনার, ঘর সাজানোতে হয়ে ওঠে একজন শিল্পী।
আমার এই জীবন পছন্দ করার আরো একটা বড় কারণ আছে৷ আমার আম্মু একজন ওয়ার্কিং লেডি। একজন ল'য়ার। আমার জীবনটা কেটেছে প্রচন্ডভাবে একা। বাবা-মা দুইজনি কাজ করছে, আমি সারাদিনে হয়তো ঘুমানোর আগে ২০ মিনিট তাদের দেখতে পেয়েছি। আমিও চাইতাম অন্য সবার মায়ের মতো আমার মাও আমাকে সময় দিক, কিন্তু সেটা সম্ভব হতোনা। দেখা যেতো আমি স্কুলে গেলে আমার ৩ বছরের ছোট বোনকে বাসায় তালা দিয়ে রেখে যেতে হতো। এই জিনিসগুলো আমাদের জীবনে অনেকখানি কমতি রেখে দিয়েছে, সেটা মানসিক বিকাশ হোক কিংবা যত্নহীনতা। আমরা বনের বুনো ফুলের মতো অযত্নে বেড়ে উঠেছি,,, তাই আমি চাই আমার সন্তান আমার কাছে প্রথম প্রায়োরিটি হোক। একজন গৃহিণী নিঃসন্দেহে সহজেই একজন ভালো মা হয়ে উঠতে পারে।
একটা কথা খুব প্রচলিত সেটা হলো, "নিজের পায়ে দাঁড়া যাতে জামাই খারাপ হলে তালাক দিয়ে নিজেই কাজ করতে পারিস"। আমাদের ম্যাক্সিমাম মেয়েদের পড়াশোনার কারণ যাতে আমরা জামাইকে যাতে টপকে যেতে পারি, জামাই যাতে ছড়ি না ঘোরায়। আমার কথা হলো আমার আমার হাসবেন্ডকে টপকে যেতে হবে কেনো? আর যার ওপর আমার বিশ্বাস নেই তাকে আমি বিয়ে করবো কেনো? নিজে কিছু করতে চাওয়া আলাদা ব্যাপার, কিন্তু শুধু হাসবেন্ড তালাক দিলে যাতে সমস্যায় না পড়তে হয় তাই পড়াশোনা করে চাকরি করি এই ব্যাপারটা খুবি বাজে লাগে আমার কাছে।
যারা নিজের ইচ্ছায় এমন একটা জীবন বেছে নেয় তারা অবশ্যই ব্রেইনওয়াশড না। সবশেষে মানুষ আর ইতিহাস মনে রাখে গুটিকয়েকজনকে। সেই কঠিন প্রতিযোগিতায় না নেমে শুধুমাত্র নিজের কাছের মানুষও পরিবারকে ভালোরাখা ও ভালোবাসাকে যারা বেছে নেয় তাদের কেবল জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।
-
লিখেছেনঃ Sinthia Zohora
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now