বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইংরেজি ব্রাদারহুডের বাংলা ভ্রাতৃত্ববোধ খুবই পরিচিত, প্রতিষ্ঠিত এবং নন্দিত শব্দ কিন্তু ইংরেজি সিস্টারহুডের বাংলা প্রতিশব্দ কী? নেই। কিন্তু নারীই নারীর শত্রু এটা বেশ প্রচলিত। কারা করল এই প্রচলন? আসলেই কি নারী নারীর শত্রু?
‘নারী নারীর শত্রু’ এই ভাবনাকে প্রবাদ এবং কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে গেছেন পুরুষ এবং সমাজ। শাশুড়ি-ছেলের বউ বা ননদ-ভাবির যে দ্বন্দ্ব আমরা দেখতে পাই তা যে আসলে একজন ক্ষমতাশীল পুরুষকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিজেকে ক্ষমতাবান প্রতিষ্ঠিত করা- সেই সত্যটা কেউ কোনোদিন বলে না বা তা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই।
পুরুষের ব্রাদারহুডকে চিরকাল নানাভাবে মহিমান্বিত করা হলেও নারীর সিস্টারহুডকে স্বীকারই করা হয়নি। এমনকি শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একই অবস্থা। একই অবস্থা হয়েছে আন্দোলন-সংগ্রামের ক্ষেত্রেও।
মিসরের দিকে তাকান। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসির ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে মোরসির সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড। সরকারি বাহিনীর হামলা-মামলায় ব্যতিব্যস্ত ব্রাদারহুডের পক্ষে স্বাভাবিক আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছিল তখন। গ্রেপ্তার আতঙ্কে ব্রাদারহুডের অনেক ক্যাডার আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গিয়েছিল। চলমান আন্দোলন চাঙ্গা রাখতে ব্রাদারহুডের নেতারা তখন অনেকটাই নির্ভর করছেন তাদের অঙ্গসংগঠন মুসলিম সিস্টারহুডের ওপর। আর সিস্টারহুডের নারী ক্যাডাররাও বিমুখ করেননি। প্রিয় নেতা মোহাম্মদ মোরসির ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম ভালোই চালিয়ে যাচ্ছে তারা। পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস উপেক্ষা করে রাস্তায় নিয়মিত মিছিল-সমাবেশ করেছে। পুলিশের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। সিস্টারহুডের নেতাকর্মীদের ধরে ধরে জেলে পুরছে পুলিশ। কিন্তু ‘নাছোড়বান্দা’ এই নারীদের কিছুতেই রাস্তা থেকে হটানো যায়নি। কিন্তু সিস্টারহুড নাম নিলেও এসব খবর খুব একটা আসেনি গণমাধ্যমে।
পুরুষ যখন আরেক পুরুষের সঙ্গে যুদ্ধ বা কলহে মাতে তখন সেটাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখা হয়। বলা হয়, রাজনৈতিক মতদ্বৈধতা হচ্ছে বা দর্শনগত, ব্যবসায়িক বা ক্যারিয়ারের ওপরে ওঠা সংক্রান্ত। কিন্তু নারী নারীতে ঝগড়া লাগলেই সেটাকে সংকীর্ণতায় বেঁধে ফেলে ‘কলতলার ঝগড়া’ বলে ফেলা যায়।
নারীর প্রতি সহিংসতাসংক্রান্ত যত প্রতিবেদন পাওয়া যায় সেগুলোর অপরাধ পর্যালোচনা করে দেখা যায় নারী খুন হচ্ছে, ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, অত্যাচারিত হচ্ছে পুরুষ সঙ্গীর দ্বারা। এই কিছুদিন আগেও দেশের ৮৪ শতাংশ নারী স্বামী কিংবা ঘনিষ্ঠ সঙ্গী দ্বারা পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন
এই তথ্য উঠে এসেছে বিবিএসের প্রতিবেদনে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে বিশ্বের যেসব দেশে স্বামী বা সঙ্গীর হাতে নারী নির্যাতনের হার বেশি, সেই তালিকায় বাংলাদেশের স্থান এখন চতুর্থ। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ; যেখানে প্রায় ৫২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। প্রতিদিন হাজার হাজার নারী ধর্ষণসহ নানা ধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার হন। পুরুষের সহিংস আচরণের ফলে নিজের ঘর নারীর জন্য সবচেয়ে অনিরাপদ স্থানে পরিণত হলেও ‘নারীই নারীর শত্রু’ খেতাবটির কোনো অদলবদল হয় না।
অথচ দেশে নারীর বন্ধুত্ব বা সিস্টারহুড দ্বারা সংগঠিত কোনো আন্দোলন নিয়ে ইতিবাচব আলোচনা দেখা যায়নি। এই শহরেই এন্টি রেপ মার্চ হয়েছে, রাজপথে নারীরাই আন্দোলন করে ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে নানান আইন পাস করেছে।
নারী কেন নারীর শত্রু? নারীর দুর্বল সামাজিক অবস্থান তাকে শেখায়, সংসারটাই তার একমাত্র অবলম্বন। তাই সেই সংসারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই নারীতে নারীতে শুরু হয় যুদ্ধ। আবার অনেক নারী আছেন যারা পুরুষের শাসন-শোষণকেই আদর্শ পারিবারিক ব্যবস্থা বলে মনে করেন। এই শাসন-শোষণ করার প্রবণতা পুরুষের আচরণে না থাকলে তারা অনেক সময় দুর্বল পুরুষের আখ্যা লাভ করেন। অন্যদিকে সব পুরুষ যেমন পুরুষতান্ত্রিকতার চর্চা করেন না, ঠিক একইভাবে এই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা যে শুধু পুরুষই লালন করেন, তা-ও কিন্তু নয়। কখনো কখনো নারীর মধ্যেও পুরুষতান্ত্রিক চর্চা প্রবলভাবে লক্ষ করা যায়। যে মানসিকতা একজন নারীকে অন্য একজন নারীর প্রতি সহিংস কিংবা বিরূপ করে তোলে তার উৎসমূলে পুরুষতান্ত্রিকতা; যা নিজস্ব বুদ্ধি-বিবেচনা তৈরি হওয়ার আগেই এক নারী অন্য নারীকে শত্রু ভাবতে শেখায়।
নারীর প্রধান শত্রু নারী নয়, তার প্রধান শত্রু পুরুষতান্ত্রিকতা। বরং নারীর বন্ধুত্ববোধ অনেক বেশি সমাজ আর পুরুষতন্ত্র যেটা অদৃশ্য করে রাখে সর্বদা।
লেখক ও সাংবাদিক:ইশরাত জাহান
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now