বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ফরাসত আলি চিঠিটা নিয়ে আরও কয়েকবার পড়লেন এবং ধীরে ধীরে হঠাৎ চিঠির অর্থ পরিষ্কার হতে শুরু করল। এই এলাকার কোনো কোনো মানুষ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে পথচারী স্কুল খুব বিপজ্জনক কাজেই স্কুলটা তুলে দেয়া হোক। তাঁদের এরকম চমৎকার একটা স্কুলের বিরুদ্ধে কেউ যে অভিযোগ করতে পারে সেটা ফরাসত আলি এবং ফারুখ বখত বিশ্বাস করতে পারলেন না। তারা অনেকক্ষণ চিঠির দিকে মনমরা হয়ে তাকিয়ে রইলেন, শেষে ফারুখ বখত একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “এই স্কুলের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছে তারা হচ্ছে শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক আর সরকারি কর্মচারী। আমরা যদি পালটা একটা চিঠি পাঠানোর চেষ্টা করি যেখানে একজন করে শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক আর সরকারি কর্মচারী লিখে দেয় যে স্কুলটা খুব ভাল তা হলে কেমন হয়?”
ফরাসত আলি বললেন, “আইডিয়াটা মন্দ না। কিন্তু পাব কোথায় এরকম মানুষ?”
“কেন, আমাদের রইসউদ্দিন হচ্ছে অঙ্কের প্রফেসর, তাকে শিক্ষাবিদ বলে চালিয়ে দেয়া যাবে। অ্যাডভোকেট আব্বুল করিমকে আইনজীবী বলে চালিয়ে দেব। ডাক্তার তালেব আলি হবে চিকিৎসক আর আমাদের কাস্টমসের এমাজউদ্দিন হবে সরকারি কর্মচারী। কী বলিস?”
ফরাসত আলির চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল, মাথা নেড়ে বললেন, “তা-ই তো, এই সহজ জিনিসটা আমার আগে মনে হয়নি। কী আশ্চর্য!”
ফারুখ বখত মাথা চুলকে বললেন, “লটারির টিকেট নিয়ে যে-ব্যাপারটা হয়েছিল সেটা কি মনে রেখেছে নাকি কে জানে!”
ফরাসত আলি হাত নেড়ে বললেন, “ধুর, এসব কি কেউ মনে রাখে নাকি? তা ছাড়া আমার কতদিনের বন্ধু। আমাদের বিপদে সাহায্য করবে না?”
“তা তো করবেই। নিশ্চয়ই করবে।”
“তা হলে চল যাই, কবে যাবি?”
“আজ বিকালেই চল।”
সেইদিনই বিকালবেলা তারা তাদের বন্ধুর বাসায় রওনা দিলেন। অঙ্কের প্রফেসরের বাসায় গিয়ে দেখলেন কেউ নেই, সেখান থেকে গেলেন ডাক্তার তালেব আলির বাসায়। দরজায় শব্দ করতেই কাজের মেয়েটি দরজা খুলে জিজ্ঞেস করল, “কাকে চান?”
“ডাক্তার সাহেব আছেন?”
“জি আছেন। আসেন আমার সাথে।”
মেয়েটার পিছুপিছু একটা ঘরে ঢুকে দেখেন সেখানে ডাক্তার তালেব আলির সাথে আছে প্রফেসর রইসউদ্দিন, অ্যাডভোকেট আব্বুল করিম আর কাস্টমসের এমাজউদ্দিন। চারজন মাথা কাছাকাছি রেখে কী-একটা গল্প করতে করতে খিকখিক করে হাসছিলেন। এই দুজনকে দেখে তাঁরা ভূত দেখার মতো চমকে
উঠলেন। প্রফেসর রইসউদ্দিন বললেন, “তো-তো তোমরা?”
“হ্যাঁ।” ফারুখ বখত একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসে বললেন, “অনেকদিন খোঁজখবর নেই তোমাদের।”
ফরাসত আলি দাড়ি চুলকাতে গিয়ে থুতনি চুলকে ফেলে বললেন, “স্কুল নিয়ে খুব ব্যস্ত, অন্য কিছুতে সময় পাই না।”
তাঁর বন্ধুরা কিছু না বলে মাছের মতো চোখে তাঁদের দিকে তাকিয়ে রইলেন। ফরাসত আলি কিছু বলার না পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা ভালো আছ?”
তার বন্ধুরা কথা না বলে মাথা নাড়লেন, সম্ভবত ভালোই আছে। তারপর আবার সবাই চুপ করে বসে রইলেন, বোঝা গেল তাদের মাঝে কথাবার্তার বিশেষ কিছু নেই।
এভাবে বেশ খানিকক্ষণ সময় কেটে যাবার ফারুখ বখত ঠিক করলেন কাজের কথা শুরু করবেন। একটু কেশে বললেন, “আমরা একটু কাজে তোমাদের কাছে এসেছি।”
“কী কাজ?”
“তোমরা তো নিশ্চয়ই জান আমরা গরিব বাচ্চাদের জন্যে একটা স্কুল খুলেছি, তাদের বেশির ভাগ এমনিতে পথে পথে ঘুরে বেড়ায় বলে নাম দিয়েছি পথচারী স্কুল। বাচ্চাদের ফ্রি পড়ানো হয়, খাওয়া দেয়া হয়, দরকার হলে চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার কী জান?”
“কী?”
“কিছু মানুষ আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now