বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ট্রেন ছাড়ার আর মাত্র দশ মিনিট বাকি। আম্মা ওর টিকেট বদলে ওকে ফাস্ট ক্লাসের টিকেট কিনে দিয়েছেন। একটা আস্ত বাংক ওর নিজের, ওর ঘুমুতে আর অসুবিধে হবে না। আম্মা বললেন, তোর আব্বা শুনে আমার উপর রাগ করবে না। যে ফার্স্ট ক্লাসের টিকেট কিনে তোকে বাবু বানিয়ে দিচ্ছি?
না! এক দুদিন চড়লে কিছু হয় না।
হ্যাঁ। তুইই বল ট্রেনে কষ্ট করে যাবি আর তা হলে আমি শান্তি পাব? বল।
দীপু মাথা নেড়ে মেনে নিল।
বল, তুই আমাকে চিঠি লিখবি?
লিখব।
বড় বড় চিঠি লিখবি?
বড় বড় চিঠি লিখব।
আর বল তুই শরীরের যত্ন করবি?
করব।
বেশি করে দুধ খাবি?
খাব।
আর বেশি করে ফলমূল খাবি?
খাব।
আর বেশি করে পড়াশোনা করবি?
করব।
আর তুই যখন খুব বড় হবি আমি তখন সবাইকে বলব, এই যে বিখ্যাত মুহম্মদ আমিনুল আলম, এটা আমার ছেলে। ঠিক?
দীপু লজ্জা পেল।
আম্মা ওকে এত এত খাবার কিনে প্যাকেট করে দিয়েছেন। ট্রেনে পড়ার জন্যে চমৎকার সব কমিক কিনে দিয়েছেন। কমিক পড়তে ওর খুব ভাল লাগে আম্মা কেমন করে বুঝতে পারলেন?
রাতে ঘুমুতে যেন অসুবিধে না হয় সেজন্যে একটা বালিশ কিনে দিয়েছেন ফু দিয়ে ভেতরে বাতাস ভরিয়ে নেয়া যায় এরকম। একটা কম্বল কিনে দিতে চাইছিলেন, দীপু কিছুতেই কিনতে দেয়নি, এত গরম যে কম্বল মোটেই দরকার পড়বে না।
দীপু খেলতে খুব ভালবাসে শুনে ওকে একটা ফুটবল কিনে দিয়েছেন। এত দামি ফুটবল সে জীবনে দেখেনি আজ পর্যন্ত। বড় বড় লীগের খেলাতেও বোধ হয় এগুলো ব্যবহার করা হয় না।
আম্মা অনেকক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, আমার ইচ্ছে করছে তোকে জোর করে ধরে নিয়ে যাই।
দীপু উত্তর না দিয়ে একটু হাসার চেষ্টা করল।
বল, তোকে আমেরিকা থেকে কী পাঠাব?
কিছু পাঠাতে হবে না, শুধু তুমি মাঝে মাঝে চিঠি দিও।
কিছু পাঠাব না?
না, আমার কিছু লাগবে না।
আম্মা একটু হেসে বললেন, বুঝেছি, তোর আব্বা তোকে বুঝিয়েছে এমনি এমনি কিছু নিতে হয় না, কষ্ট করে পেতে হয়, ঠিক না?
দীপু মাথা নাড়ল।
কিন্তু আমি তো তোর আম্মা। আম্মা ছেলেদের কিছু কিনে দেবে না?
দীপু চুপ করে রইল।
ঠিক আছে, শুধু তোর জন্মদিনে তোকে উপহার পাঠাব। কী লাগবে লিখিস। আর যদি না-ও লিখিস আমি ভেবে ভেবে একটা পাঠাব। আচ্ছা?
তুমি আমার জন্ম তারিখ জান?
আম্মা শব্দ করে হেসে উঠলেন, আমি তোর মা, আর জন্মতারিখ জানব না!
দীপু লজ্জা পেয়ে গেল, সত্যিই তো!
ঠিক এ-সময় ট্রেন ছাড়ার হুইসল পড়ল। আম্মা উঠে দাঁড়ালেন, ওকে ধরে একটু আদর করলেন। ট্রেন নড়ে উঠল। আম্মা তখন ওকে ছেড়ে ট্রেন থেকে নেমে গেলেন। দীপু জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। আম্মা বাইরে থেকে ওকে ধরে জানালার পাশে পাশে হাঁটতে লাগলেন আর বাচ্চা মেয়ের মতো কাঁদতে লাগলেন। দীপুর ইচ্ছে করছিল ওর আম্মার চোখ মুছিয়ে দেয়, কিন্তু ট্রেনের বেগ বেড়ে যাচ্ছে, আম্মা আর সাথে সাথে হাঁটতে পারছিলেন না—ওকে একবার মুখের সাথে চেপে ধরে ছেড়ে দিলেন। আম্মা দাঁড়িয়ে রইলেন আর ট্রেন ঝিকঝিক ঝিকঝিক করে ওকে দূরে সরিয়ে নিতে লাগল। ও ঝাঁপসা চোখে দেখতে পেল ওর আম্মা দাঁড়িয়ে আছেন মূর্তির মতো আর আস্তে আস্তে ছোট হয়ে যাচ্ছেন, আরও ছোট, আরও ছোট…
ভেতরে ঢুকে দীপু হু হু করে কেঁদে উঠল। সামনে এক ভদ্রমহিলা বসেছিলেন, উঠে এসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বললেন, ছিঃ খোকা কাঁদছ কেন? আবার তোমার স্কুল যখন ছুটি হবে তোমার আম্মার সাথে দেখা হবে। এই তো সামনেই ছুটি!
দীপু ভাবল, যদি জানত, আর কোনোদিনই দীপুর সাথে ওর আম্মার দেখা হবে না!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now