বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শুভর নতুন জীবনে পদার্পণ

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে শুভ পদার্পণ করল কলেজে। শুভ যে কলেজে ভর্তি হয়েছে সেই কলেজটি নতুন কলেজ। কলেজে থাকা, খাওয়া ও বেতন ফ্রি। থাকা খাওয়া ফ্রি বলতে কলেজের গর্ভনিং-বডির সদস্যগণ কলেজের আশে পাশের গ্রামগুলোতে কলেজ ছাত্রদের লজিং এর ব্যবস্থা করে দেয়। আর কিছু ভালছাত্রদের হোস্টেলে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। হোস্টেলের ছাত্রদের বৃত্তি নামে কিছু টাকা দেয়া হয় যা খাওয়া-দাওয়ার খরচ চলে। কলেজে কোন বেতন নেয়া হয় না। গরীব ও মেধবী ছাত্রদের জন্য ইহা অতুলনীয় প্রতিষ্ঠান। এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা একজন সনামধন্য অধ্যাপক এবং লেখক। কলেজটি তাঁর শ্বশুরবাড়িতে নিজের নামেই প্রতিষ্ঠা করেন। শুভ এই কলেজের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র। অর্থাৎ এই কলেজ তাদের আগে একটি ব্যাচ আছে। শুভ জানে না কলেজের কোন অনুমোদন আছে কি না? আর কলেজের অনুমোদন নিয়ে ভাবনা কিছুই নাই। শুধু লিখা পড়া করে পরীক্ষায় পাশ করতে পারলেই চলে। মার্কসীট আর প্রশংসাপত্র দিয়ে ভর্তি হলো। কলেজের কতৃপক্ষ জানালো আগামী চার তারিখে কলেজের ক্লাস শুরু, আপনি আপনার বই-পুস্তক এবং বেডিংপত্র নিয়ে আসবেন। চার তারিখে শুভ কিছু বই এবং জামাকাপড় নিয়ে কলেজে হাজির। শুভদের বাড়ি হতে কলেজ অনেক দূর। প্রথম টেম্পু বা গাড়িতে ১৮কিলোমিটার তারপরে লঞ্চে যেতে হয়। লঞ্চ ঘাটে বা লঞ্চে ছাত্রদের ভাড়া দিতে হয় না। শুভ অবশ্য এই ব্যাপারে জানে না। দুপুর বারটার দিকে কলেজে হাজির হল। একজন স্যার বলল, আপনার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে বালুয়াকান্দি আওলাদের বাড়িতে। আলম ভাই আপনাকে ওখানে পৌছায়ে দিবে। আলম ভাই মানে কলেজের দপ্তরী। আলম ভাই শুভকে আওলাদ সাহেবের বাড়িতে পৌছায়ে দিল যা কলেজ থেকে প্রায় তিন/চার কিলোমিটার দূরে। শুভ আল্লাহ কাছে শোকরিয়া জ্ঞাপন করল। আওলাদ সাহেবের একটি মেয়ে এবং একটি ছেলে পড়াতে হবে। মেয়েটি ক্লাস থ্রিতে পড়ে আর ছেলেটি ক্লাস ওয়ানে পড়ে। রাতে ঘুমানের সময় শুভ লক্ষ্য করলো খট্টর খট্টর আওয়াজ হচ্ছে। শুভ ঘুমানো জন্য শুয়ে পড়েছিলেন আবার উঠে দাড়ালো এবং ঘর থেকে বের হলেন। ঘর থেকে বের হয়ে লক্ষ্য করলেন বাড়ির আশে পাশে কয়েকটি ঘরে হারিক্যানের আলো জ্বলছে আর আওয়াজগুলো ঐই আলোর কাছ থেকেই আসে। শুভ একটু কাছেই একটি আলোর নিকট গেল। শুভ যে আলোর নিকট গেল সেই আলোর ঘরটির বেড়া নাই তাই শুভ সহজে তাঁতকল দেখতে পেল। তাঁতকলের চালক একটু গর্তের ভিতর বসা। শুভকে দেখে বললেন, স্যার আপনি কি কাপড় বোনা দেখতে এসেছেন। শুভ উত্তর দিলেন জি। এই জীবনে প্রথম তাঁত কল দেখলো শুভ তাই ভালই লাগলো। আশে পাশে এই রকম আরো তাঁত কল আছে। হারিক্যানের আলোতে রাতে কাজ করছে তারা। শুভ আবার ঘরে ডুকে ঘুমানোর চেষ্টা করল। কিন্তু তাঁত কলের আওয়াজে একটু বিরুক্তিই আসল। উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে জানা যায়, “তাঁত হচ্ছে এক ধরনের যন্ত্র যা দিয়ে তুলা বা তুলা হতে উৎপন্ন সুতা থেকে কাপড় বানানো যায়। তাঁত বিভন্ন রকমের হতে পারে । খুব ছোট আকারের হাতে বহন যোগ্য তাঁত থেকে শুরু করে বিশাল আকৃতির স্থির তাঁত দেখা যায়। আধুনিক বস্ত্র কারখানা গুলোতে স্বয়ংক্রিয় তাঁত ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাধারণত তাঁত নামক যন্ত্রটিতে সুতা কুণ্ডলী আকারে টানটান করে ঢুকিয়ে দেয়া থাকে । লম্বালম্বি সুতাগুলিকে টানা এবং আড়াআড়ি সুতাগুলিকে পোড়েন বলা হয়। যখন তাঁত চালু করা হয় তখন নির্দিষ্ট সাজ অনুসারে সুতা টেনে নেয়া হয় এবং সেলাই করা হয়। তাঁতের আকার এবং এর ভেতরের কলা কৌশল বিভিন্ন রকমের হতে পারে। বাংলা তাঁত যন্ত্রে ঝোলানো হাতল টেনে সুতো জড়ানো মাকু(spindle) আড়াআড়ি ছোটানো হয়। মাকু ছাড়াও তাঁতযন্ত্রের অন্যান্য প্রধান অঙ্গগুলি হল - শানা, দক্তি ও নরাজ । শানার কাজ হল টানা সুতার খেইগুলিকে পরস্পর পাশাপাশি নিজ নিজ স্থানে রেখে টানাকে নির্দিষ্ট প্রস্থ বরাবর ছড়িয়ে রাখা। শানার সাহায্যেই কাপড় বোনার সময় প্রত্যেকটি পোড়েনকে ঘা দিয়ে পরপর বসানো হয়। শানাকে শক্ত করে রাখার কাঠামো হল দক্তি। একখানি ভারী ও সোজা চওড়া কাঠে নালী কেটে শানা বসানো হয় আর তার পাশ দিয়ে কাঠের উপর দিয়ে মাকু যাতায়াত করে। শানাটিকে ঠিক জায়গায় রাখার জন্য তার উপরে চাপা দেওয়ার জন্য যে নালা-কাটা কাঠ বসানো হয় তার নাম মুঠ-কাঠ। শানা ধরে রাখার এই দুখানি কাঠ একটি কাঠামোতে আটকে ঝুলিয়ে রাখা হয় । এই সমগ্র ব্যবস্থাযুক্ত যন্ত্রটির নাম দক্তি । শানায় গাঁথা আবশ্যকমত প্রস্থ অনুযায়ী টানাটিকে একটি গোলাকার কাঠের উপর জড়িয়ে রাখা হয়, একে বলে টানার নরাজ । আর তাঁতি যেখানে বসে তাঁত বোনে , সেখানে তার কোলেও একটী নরাজ থাকে- তার নাম কোল-নরাজ । টানার নরাজের কাজ হল টানার সুতাকে টেনে ধরে রাখা আর কোল-নরাজের কাজ হল কাপড় বোনার পর কাপড়কে গুটিয়ে রাখা । "তাঁত বোনা" শব্দ কটি এসেছে "তন্তু বয়ন" থেকে। তাঁত বোনা যার পেশা সে হল তন্তুবায় বা তাঁতী। আর এই তাঁতের উপর যারা বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করে তাদেরকে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ার বলা হয়।“


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now