বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শামীম ও শুভ পরীক্ষায় কাছা-কাছি নাম্বার পায় কিন্তু তাদের মধ্যে কোন প্রতিহিংসে নেই। আছে সহমর্মিতা। শুভ প্রায় সময় শামীমকে না বলে শামীমের কলম নিয়েছে তাঁর ইয়াত্তা নেই। অনেক সময়ই ফেরত দিয়েছে আবার কদাচিত ফেরত দেয়নি। একদিন গণিত ঘন্টার আগে শুভ কলম হারিয়ে ফেলল। শুভ খুবই মর্মাহত হলো এবং বুঝতে পারলো অন্যজনের কলম না বলে আনলে তারও এইরকম মনোকষ্ট হয়। এরপর থেকে শুভ মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছে না বলে কারো খাতা-কলম বা বই নিবে না। শামীম সারাক্ষণ পাঠয়পুস্তক পড়ে। মা বাবার কড়া শাসনে থাকে। একটার পর প্রাইভেট পড়ে। যতটুকু দেখা শামীমের বাবা খুব রাগী এবং শামীমকে কড়া শাসন করে। শাসনের দিকে শুভ একেবারেই স্বাধীন। শুভকে শাসন করে অভাব।
অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায়ও শুভ প্রথম স্থান অধিকার করে। নবম শ্রেণিতে শুভ বিজ্ঞান গ্রুপে পড়বে কারণ বিজ্ঞান গ্রুপে নাকি ভাল ছাত্ররা পড়ে। ভবিষ্যতে কী হবে না হতে তা নিয়ে ভাবনা নেই শুভর। কারণ জীবনের লক্ষ্য নেই। আর লক্ষ্য থাকলেও লক্ষ্যানুসারে কি পড়বে তাও জানে না। শুভ জীবনে লক্ষ্য রচনায় একবার লিখেছে শিক্ষক হবে আরেকবার লিখেছে ডাক্তার হবে। যে রচনাটি সহজে মুখস্ত করতে পেরেছে সেটাই পরীক্ষার খাতায় লিখেছে। শামীম, শুভ, উত্তম, রবী,আঞ্জু বিজ্ঞান গ্রুপে ভর্তি হয়েছে। আর হাসান,লাভলী, আসমা, কবির, সেলিম প্রভৃতি কমার্স গ্রুপে ভর্তি হয়েছে। মানবিক গ্রুপে কেউ ভর্তি হয়নি। ছাত্র/ছাত্রী কম হওয়ায় শ্রেণি রোল একত্রে রাখা হয়েছে।
মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক কিন্তু ছেলেদের বেলায় ভিন্ন চিত্র। ছেলেরা সংসারের হাল ধরার উপযুক্ত হলেই কেবল বিয়ের উপযুক্ত হয়। একদিন খরর আসলো নবম শ্রেণির সেলিম বিয়ে করেছে। সেলিম, জাহাঙ্গীর, রবী একই গ্রামের অধিবাসী। রবীই শুভদেরকে জানাল যে, সেলিম গতকাল রাতে বিয়ে করেছে। সেলিমের বিয়ে নিয়ে শুভদের ক্লাশে মুখরোচক গল্প আর সেলিমের বাক্য বিবাহের কথা চলছে। ছেলেদেরও বাল্য বিবাহ হয়। শুভ ভাবছে। এত অল্প বয়সেও বিয়ে করা যায়? শুভ ভাবনার জগতে দেখে, যখন শুভ বিয়ের উপযুক্ত হবে তখন শুভদের ক্লাসের মেয়েদের ছেলে-মেয়ে বড় হবে। কাজে বিয়ের ব্যাপারটি ভাবনায় আসলেও অসম মনে করে চলে যায়। সেলিমের বাবা সৌদি-আরবে থাকে। কয়েকমাস পর পর মোটা অংকের টাকা পাঠায়। সেলিমের মা সেলিমের কথায় উঠা বসা করে। মনে হয় সেলিমই ঘরের কর্তা। কাজেই সেলিমের বিয়ে করা তেমন কঠিন হয়নি। কয়েকদিন সেলিমের বিয়ে নিয়ে ক্লাসে গুঞ্জন চলছিল। সেলিম বিয়ে করার পর আর স্কুলে আসে নাই।
নবম শ্রেণিতে প্রাইভেট পড়তে হয় কারণ নবম শ্রেণিতে ব্যবহারিক(প্র্যাক্টিক্যাল) আছে। একটা রেওয়াজ আছে, প্রাইভেট না পড়লে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নাম্বার পাওয়া যায় না। শুভ তো প্রাইভেট পড়তে পারে না। তবে ক্লাসের সব পড়া মুখুস্ত পারে। পরীক্ষায়ও ভাল নাম্বার পায়। ঢাকা শহর থেকে থেকে আমেনা আক্তার শামীমা নামে একটা মেয়ে নতুন ভর্তি হয়েছে শুভদের ক্লাসে। শামীমার বক-কাইট চুল। গায়ের রঙ সাদা না হলেও শরীরের কাঠামো অনেক সুন্দর। দশম শ্রেণির ছেলেরা শামীমার পিছনে ঘুরঘুর করে। শুভদের ক্লাসের ফরহাদ শামীমার জন্য দেওয়া হয়েছে। ফরহাদ শামীমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য অনেক তকবীর করেছে। শামীমার সাথে চলে এই মেয়েদের মাধ্যমে কয়েকবার প্রেমের প্রস্তাব পাঠিয়েছে কিন্তু শামীমা তাকে পছন্দ করে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। সর্বশেষে শুভকে ধরেছে ফরহাদ। ফরহাদ শুভকে বলল, “দোস তুই আমাকে সাহায্য কর, আমি শামীমাকে ভালবাসী কিন্তু শামীমা আমাকে পাত্তা দেয় না। তুই যদি শামীমাকে বুঝিয়ে বলিস তাহলে হয়তো আমাকে ভালবাসবে”। শুভ বলল, “তুই কি তাকে বিয়ে করবি? না ভঙ-চঙ করবি?”। ফরহাদ বলল, “শামীমা যদি রাজি থাকে তাহলে আজিই বিয়ে করব”। শুভ বলল, “কাকা শুনলে তোরে ঠাংগাবে”। ফরহাদ বলল, “আমি আব্বাকে রাজী করাব, তু শামিমাকে রাজী করা”। শুভ বলল, “ঠিক আছে আমি শামীমার সাথে আলাপ করে দেখি”।
ক্লাস বিরতির সময় শামীমাকে শুভ বলল, “তোমার সাথে একটু আলাপ আছে”। শামীমা তো মহাখুশী হয়েছে। বিরতির ঘন্টার সাথে সাথেই শুভকে ঈশারা স্কুলের পিছনে ঈদ্গায়ের আড়ালে নিয়ে গেল। শুভ এদিক ওদিক তাকায় কেউ দেখে ফেলে কি না। শামীমা কোন পরোয়ানা করে না। শামিমা বলল, "কি বলবা,বল।" “শুভ বলল, "তোমাকে ফরহাদ ভালবাস। তোমাকে বিয়ে করতে চায়।" “ শামীমা হেসে বলল, "এই কথা! আমি তো ভাবছিলাম, তুমি আমাকে বলবা আই লাভ ইউ”। এই কথা শোনার পর শুভর বুক কেঁপে উঠল এবং মনে মনে ভয়ও পেলো। শামীমা শুভকে জানাল, শামীমা শুভকে ভালবাসে। শুভ ভয়ে ইদগায়ের আড়াল থেকে দ্রুত চলে আসল বন্ধদের আড্ডায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now