বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রাথমিক বিদ্যালয় চিন্তা ভাবনাহীন সুখীজীবন।

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X শুভ স্কুলের দুষ্টের রাজা। শুভদের প্রাইমারি স্কুল ছিল পশ্চিম মজিদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর অবস্থান বাড়ী হতে এক দেড় কিলোমিটারের মতো হবে। প্রত্যেকদিন স্কুলে যাওয়া আর আসার পথে চলত নানান রকমের দুষ্টমী; কারো আমগাছে মাটির চাকার ডিল; কারো বড়ই গাছে মাটির ডিল, কাউকে পায়ে ল্যাংটি মেরে ফেলে দেয়া অথবা দৌড়ে কে আগে আসতে পারে ইত্যাদি ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। বর্ষাকালে মাঝে মধ্যে নৌকা খেলানো বা নৌকাবাইচ তো ছিলই। বর্ষাকালে একজন কোষা নৌকা নিতো আর অন্যরা সবাই একটা একটা করে বৈঠা নিতো। বৈঠা ছিল বাধ্যতামুলক। এক্ষেত্রে মেয়েরাও বৈঠা নিতো। একজন বয়স্ক শিক্ষক আমাদেরকে ছন্দের তালে তালে শতকিয়া পড়াতেন। ছড়া পড়াতেন। খুব ভাল লাগতো। উনাকে হাইজন মুন্সী নামে সবায় চিনতো। ক্লাশ টু এ পড়ার সময় শুভর বাড়ির কাজ ভুল করেছিল বিদায় একদিন ভীষম ব্যাত্রাঘাত খেয়েছিল। শুভ সব স্যারের নাম ভুলে গেলেও ঐই জসীম উদ্দিন স্যারের কথা ভুলবে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ার চেয়ে বেশ অংশ ছিল দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, চোরা রাজা গোল্লা, ডাংগুটি, বউছি, কানামাছি, জোরখেলা (কুস্তি/বলিখেলা) এবং ফুটবল খেলা। জোসনারাতে বয়স্ক লোকের নিকট পুথি শোনা বা কিচ্ছা (গল্প) শোনা ছিল রাত্রিকালীন প্রতিনিয়ত কাজ। বয়স্কদের কাছ থেকে পুথি বা কিচ্ছা শোনাও ছিল একটি নৈতিক বিদ্যালয়। এখানে গল্পের ছলে শিশুদের নৈতিক শিক্ষা দেয়া হয়।শিক্ষা দেয়া হয় বয়স্কদের সালাম আদাব দেয়া, ভাল কাজের ভাল পুরস্কার বা প্রতিদান পাওয়া যায়, খারাপ কাজ করলে ফলাফল ভাল পাওয়া যায় না, সত্যের জয় হয়, ইত্যাদি। শুভদের গ্রামে হিন্দু মুসলিমদের সম্পৃতি খুবই গভীর। হিন্ধুদের অনুষ্ঠানে মুসলিমদের দাওয়াত দেয় আবার মুসলিমদের অনুষ্ঠানেও হিন্ধুদের দাওয়াত দেয়। শুভর স্কুলের বন্ধুরা তালিকায় হিন্দু মুসলিম আছে যথাঃ আনিছ, শামীম,প্রদীপ, রতন,ফরহাদ, হেলাল, জাহাঙ্গীর, শান্তনা, রাজিয়া,রিতা আশ্চায্য, সুবেদ চদ্র, ধরণী চদ্র দাস, হরিমন চন্দ্র দাস, ক্ষীতিষ চন্দ্র দাস, শ্যামল চন্দ্র দাস, নারগিছ প্রভৃতি। তাদের সঙ্গে অনেক সময় গ্রামের সবচেয়ে বড় এবং প্রাচীন বটগাছের তলায় আড্ডা হয়। বৈশাখ মাসে মেলায় তাদের সঙ্গে লাল আইসক্রিম খাওয়া হয়। লাল আইসক্রিমের দাম চার আনা আর আট আনায় তিনটি আইসক্রিম পাওয়া যায়। প্রধান শিক্ষক দয়ালু ও রাগী ছিলেন। একদিন শুভকে বাদ দিয়ে সবাইকে পিটাইছেন। কারন শুভ বাধ্যগত ছাত্র এবং প্রধান শিক্ষকের কথা মত ক্লাশরূম পরিস্কার করেছে যা অন্যরা করে নাই। শুভ দাড়িয়াবান্ধা খেলায় খুভ ভাল। আলেক ভাই গোল্লাছুট খেলায় উস্তাদ। আলেক ভাইকে গোল্লাছুট খেলায় কয়েকজন মিলে পাহাড়ায় রাখত। এই জন্যে চোরা গোল্লায় আলেক ভাইয়ের দলের সাথে পারা যেত না। সবাই আলেক ভাইকে আটকাতো আর আরেকজন সহজে ছুটে গিয়ে জয়ী হত। উইকিমিডিয়ামতে, "বৃত্ত তৈরি করে ঘুরতে হয় বলে একে 'গোল্লা' এবং আঞ্চলিক ভাষায় ছুট হলো দৌড়ানো। এভাবেই খেলার নাম হয়েছে গোল্লাছুট। খেলার শুরুতে প্রথম দুজন দলপতি নির্ধারন করা হয়। দলপতিদের বলা হয় ‘গোদা’। দুদলেই সমান সংখ্যক খেলোয়াড় থাকে (৫ অথবা ৭ জন)। দলপতি মাটিতে পুঁতা কাঠি এক হাতে ধরে অপর হাতে তার দলের অন্য খেলোয়াড়ের হাত ধরে থাকে। এভাবে তারা পরস্পরের হাত ধরে কেন্দ্র স্পর্শ করে ঘুরতে থাকে। তাদের লক্ষ্য হলো বৃত্তের বাইরে যে কাঠি বা গাছ (দ্বিতীয় লক্ষ্যবস্তু) থাকে তা দৌড়ে স্পর্শ করা। অপরদিকে দৌড়ে কাঠি স্পর্শ করার আগেই বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা যদি ওই দলের কোন খেলোয়াড়কে স্পর্শ করতে পারে তাহলে সে এই দানে (পর্ব) খেলা থেকে বাদ যাবে। এভাবে শেষ পর্যন্ত দলপতিরও দৌড়ে কাঠি স্পর্শ করতে হবে। কোন খেলোয়াড়ই লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারলে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা দান পায়”। স্কুলে আরেকটি মজার খেলা হলো কৃষ্ণচুড়ার ফুল দিয়ে কাটা-কাটি খেলা। স্কুলের দক্ষিণ পাশে দুটি বিরাট কৃষ্ণচুড়ার গাছে আছে। এই ফুল দিয়ে তাদের খেলা জমে। কৃষ্ণচুড়ার ফুল ফোটার আগে একটা বোটায় আটকানো থাকে সেখানের ফুলের পুংদন্ডটি মাথায় একটি মুন্ড থাকে সেই মুন্ড দিয়ে আরেকজনের ফুলের পুঙ্গদন্ডের মুন্ডকে টানা হয়; এই টানায় যার ফুলের দন্ডের মুন্ড পড়ে যাবে সে হেরে যাবে। কৃষ্ণচূড়া ফুলের রং উজ্জ্বল লাল। শীতকালে এই গাছের পাতা থাকে না। গাছটা তখন ন্যাঙ্কটা দেখায় তবে বসন্ত কালে রানীর মাথার তাজের ন্যায় সুন্দর আকৃতি ধারণ করে। কৃষ্ণচুড়া বোটার ফুল ফুটলে অসম্ভব সুন্দর দেখায় যা ভাষায় প্রকাশ সম্ভব নয়। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত। পাপড়িগুলো প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মত লম্বা হয়। কৃষ্ণচুড়ার ফল দিয়েও খেলা হত। কৃষ্ণচুড়া ফল পাকলে কালচে শক্ত দেশী কড়ই ফলের মত লম্বা একটা ফল হয়। এই ফলের ভিতরে বীজ থাকে। পাকা ফল নাড়াচাড়া করলে ঝন ঝন আওয়াজ হত। তখন এই ফল দিয়ে তলোয়ার খেলা হত। গ্রামের যাত্রা-নাটকে রাজা বাদশার তলোয়ারের যুদ্ধের মহড়া চলত এই কৃষ্ণচুড়ার ফল দিয়ে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now