বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দীপু নাম্বার টু (৮)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (০ পয়েন্ট)

X এই তারিকের জন্যই যত গন্ডগোল, দীপু তারিকের উপর রেগে উঠল। কিন্তু রেগে তো আর সমস্যার সমাধান হয় না। সত্যি সত্যি যদি নান্টু নামার সাহস না পায় তা হলে অবস্থাটা কী হবে ভাবতে পারে না। তারিককে খুব বেশি চিন্তিত মনে হল না। সে দীপুর উপর সমস্ত দায়দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে নেমে গেল। উপর থেকে দেখল, তারিক শিস দিতে দিতে হেঁটে হেঁটে চলে যাচ্ছে রাস্তা ধরে। দীপু একা একা বসে রইল নান্টুকে নিয়ে। অনেক বুঝিয়ে ধমক দিয়ে বা ভয় দেখিয়েও কোনো লাভ হল না। নান্টু ঐভাবে বসে কেঁদে যেতে লাগল। দীপু বুঝতে পারছিল, ও ঠিক স্বাভাবিক নেই, হঠাৎ খুব বেশি ভয় পেয়ে একটা কিছু ঘটে গেছে ওর ভেতর। কিন্তু বুঝেই-বা লাভ কী। আরও কিছুক্ষণের ভেতর নিশ্চয়ই খোঁজাখুঁজি শুরু হবে। তখন কী হবে সে ভেবে পায় না। এক হতে পারে সে নিজে নেমে গিয়ে নান্টুর বাসায় খবর দিয়ে পালিয়ে যায়, তারপর নান্টুর বাসার লোজকন যা ইচ্ছে হয় করুক! কিন্তু পর মুহূর্তে সে এটা উড়িয়ে দেয়। পুরো ঘটানার দায়িতু ওকেও নিতে হবে। আব্বাকে জানালে আব্বা নিশ্চয়ই একটা ব্যবস্থা করবেন, কিন্তু তার আগে তার গলায় দড়ি দিয়ে মরতে হবে। ওর আব্বা ওকে যত স্বাধীনতা দিয়েছেন তত স্বাধীনতা আর কাউকে কারো আব্বা দেননি। স্বাধীনতা পেয়ে যা ইচ্ছে করে ঝামেলা বাধিয়ে আব্বার কাছে হাজির হওয়ার থেকে লজ্জার কী আছে? আব্বা হয়তো কিছু বলবেন না—হয়তো ভুরু কুঁচকে ওর দিকে তাকাবেন, দীপু বুঝতে পারে ও তার আব্বার সামনে লজ্জায় মরে যাবে তা হলে। তার ইচ্ছে হল বসে বসে খানিকক্ষণ কেঁদে নেয়। প্রায় আধ ঘণ্টা পরে হঠাৎ দীপু নিচে থেকে তারিকের গলার স্বর শুনতে পেল, হেই–হেই দীপু। কী? এখনও আছিস তোরা? আছিই তো কী করব তা হলে? নান্টু এখনও কাঁদছে? হ্যাঁ। লাথি মেরে ফেলে দে নিচে। দীপুরও তাই ইচ্ছে করছিল, কিন্তু সত্যি সত্যি তো আর ফেলে দেয়া যায় না। কী করবি এখন? জানি না। দীপু চিন্তিত মুখে বলল, আমার আব্বাকে খবর দিতে পারবি একটু? মাথা খারাপ! আমি ওসবের মাঝে নাই। তারিক চলে গেল না, নিচে ঘুরে বেড়াতে লাগল। খানিকক্ষণ পর বলল, তুই দাঁড়া, আমি আসছি। বেশ খানিকক্ষণ পর তারিক এক গাছা দড়ি নিয়ে ট্যাংকের উপরে উঠে আসে। দীপু ভারি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, দড়ি দিয়ে কী করবি? হারামজাদার গলায় বেঁধে লটকে দেব। যাঃ। ফাজলেমি করিস না, কী করবি বল। নান্টুকে ঘাড়ে করে নামাব। কিন্তু হারামজাদাকে বিশ্বাস নাই। ওটাকে পিঠে তুলে নেবার পর তুই শক্ত করে আমার শরীরে সাথে বেঁধে দিবি। দীপুর চোখ কপালে উঠে গেল। অবাক হয়ে বলল, তুই নান্টুকে ঘাড়ে করে নামাবি? এখান থেকে? হ্যাঁ। মাথা খারাপ? বকবক করিস না। এছাড়া কী করবি? সত্যি কিছু করার নেই। কিন্তু নান্টুকে ঘাড়ে করে প্রায় দুশো ফিট খাড়া সিঁড়ি বেয়ে নেমে যাওয়া কি সোজা কথা! দীপু ভাবতে গিয়ে ভয় পেয়ে গেল, বলল, তারিক, বেশি বাড়াবাড়ি করতে যাসনে, একটা-কিছু হয়ে গেলে– তুই ভাদর ভ্যাদর করবি না। আমি তোদের মতো ডিম মাখন খাওয়া বড়লোকের ন্যান্যাদা বাচ্চা না! ছোটলোকের পোলা আমি—ওই হারামজাদার মতো দু-চারটা বোঝা আমি ঘাড়ে করে মাইল মাইল যাই প্রায় রোজ। দীপু চুপ করে রইল। সত্যি যদি সে সাহস করে, তা হলে ঠিকই নেমে যাবে। নান্টু কিছুতেই তারিকের পিঠে উঠতে রাজি হচ্ছিল না। দীপু নিজেও ওরকম অবস্থায় কখনও রাজি হতো না। কিন্তু ওকে রাজি করানোর জন্যে তারিক যে কাজটি করল সেটির তুলনা নেই! পকেট থেকে একটা ছোট চাকু বের করে চোখ লাল করে দাঁতে দাঁত ঘষে বলল, যদি পিঠে না উঠিস, চাকু মেরে দেব শালার! অন্ধকারে তারিকের চকচকে চোখ আর হিসহিসে গলার স্বর শুনে নান্টু সত্যি ভয় পেয়ে গেল। ডাক ছেড়ে কেঁদে উঠতে চাইছিল, তার আগেই তারিক চাকুটা গলার মাঝে ধরল। বলল, খবরদার, খুন করে ফেলব হারামির বাচ্চা। নান্টু শুকনো মুখে খাবি খেতে খেতে ফ্যাসফাস করে কাঁদতে লাগল, তারপর বাধ্য ছেলের মতো তারিকের পিঠে উঠল। দীপু খুব শক্ত করে নান্টুকে তারিকের সাথে বেঁধে দিল যেন ভয়ে ছেড়ে দিলেও পড়ে না যায়। তারিক কোথা থেকে গরুর। দড়ি খুলে এনেছে, ছিঁড়ে যাবারও ভয় নেই! তারিক নামাতে শুরু করার আগে হঠাৎ দীপুর ভীষণ ভয় করতে লাগল। ওঠার সময় দেখেছে খাড়া সিঁড়িতে সবসময় মনে হয় পেছন দিকে কে যেন টানছে, হাত একটু ডিল করলেই বুঝি পড়ে যাবে। শক্ত করে ধরে রাখতে রাখতে হাত ব্যথা হয়ে যায়। এর মাঝে কেউ যদি কাউকে পিঠে নিয়ে নামতে চেষ্টা করে তা হলে যে কী ভয়ানক লাগবে সে চিন্তাও করতে পারে না। কিন্তু তারিক যখন সত্যি সাহস করছে, তখন ওর কিছু বলার নেই। আস্তে আস্তে বলল, তুই আগে নিচে নামবি, না আমি? তুই আগে শুরু কর। একটু ঝামেলা-টামেলা হলে ইয়ে করিস। আচ্ছা, ঘাবড়াস না—আমি থাকব তোর নিচে নিচে। দীপু নামতে শুরু করে। নিচে—কত নিচে কে জানে ছোট ছোট গাছপালা, ছোট ছোট ঘর বাড়ি! কত ওপরেই না ওরা দাঁড়িয়ে আছে! সিঁড়ি বেয়ে দু-তিন ধাপ নেমে ও দাঁড়ায়, তারিককে ডেকে বলল, এবারে তুইও নাম। নামছি, বলে তারিক নামার জন্যে এগিয়ে আসে। দীপু উপরে তাকাতে পারছিল না ভয়ে। কিন্তু তারিকের সাহস আছে সত্যি, ঠিকই সিঁড়িতে পা দিয়ে। নামতে শুরু করে দিল। মুখে বলতে লাগল, নান্টু হারামজাদা যদি একটু নড়িস তা হলে শুয়োর হাত ফসকে যাবে, আমি তো মরবই, তুইও মরবি নান্টু কোনো শব্দ করছিল না, শব্দ করার মতো সাহস বা ইচ্ছে কোনোটাই নেই। তারিক এক পা এক পা করে নামতে থাকে। সাথে সাথে দীপুও, তারিক নিচে তাকাতে পারছিল না, যতটুকু সম্ভব সোজা হয়ে সিঁড়ির সাথে মিশে নামতে হচ্ছিল। দীপু সাবধানে মাঝে মাঝে তারিকের পা সিঁড়িতে লাগিয়ে দিচ্ছিল। খুঁজে সিঁড়ির। ধাপ না পেয়ে তারিকের পা ফসকালে হাত দিয়ে ধরে তাল সামলাতে পারবে না। কত নিচে নামতে হবে কে জানে! দীপুর কাছে একেকটি মুহূর্ত মনে হচ্ছিল একেকটি বছর। উপর থেকে আবার তারিকের গলার স্বর শোনা গেল, দেখে তো মনে হয় শুকনো, শালার ওজন তো ঠিকই আছে। কী খাস হারামজাদা? সীসা নাকি? বাবাগো! হাত না ছিঁড়ে যায়! খবরদার—খবরদার নান্টু—নড়বি না। তুই মরতে চাস মরিস, আমার কোনো আপত্তি নেই, আমাকে নিয়ে মরিস না। নান্টু কোনো উত্তর দিল না, উত্তর দেয়ার মতো অবস্থাও নেই। প্রথম অংশটুকু সবচেয়ে ভয়ানক, একেবারে খাড়া আর ভয়ানক লম্বা। এক সময়ে সত্যি সেটা শেষ হয়ে গেল। পরের অংশটুকু শুরু হবার আগে খানিকটা জায়গা রেলিং দিয়ে ঘেরা, পা ছড়িয়ে বসাও যায় ইচ্ছে হলে। তারিক নেমে এসে মুখ হা করে শ্বাস নিতে থাকে—ভীষণ পরিশ্রম হয়েছে ওর। পরিশ্রম থেকে বড় কথা, সারাক্ষণ পড়ে যাবার ভয়ে তারিক গলগল করে ঘামছিল। দীপু জিজ্ঞেস করল, একটু বিশ্রাম নিবি? বিশ্রাম? এই হারামজাদাকে ঘাড়ে নিয়ে বিশ্রাম নেব কেমন করে? খুলে দিই কিছুক্ষণের জন্যে? নাহ্, থাক। খোলা, আবার বাঁধা অনেক ঝামেলা। নে শুরু কর। আবার নামতে শুরু করে ওরা। প্রথম প্রথম তারিক নান্টুকে গালিগালাজ করছিল, মাঝে মাঝে দীপুর সাথে কথা বলছিল। আস্তে আস্তে তার গলার স্বর থেমে গিয়ে শুধু লম্বা লম্বা নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। নান্টুকে ঘাড়ে করে নিয়ে নামতে যে কী পরিমাণ পরিশ্রম হচ্ছে দীপু খুব ভাল করে বুঝতে পারে। কতক্ষণ লেগেছিল কে জানে! শেষ ধাপটা নেমে দীপুর ইচ্ছে করছিল আনন্দে চিৎকার করে উঠতে। তারিক টলতে টলতে কোনোমতে দাঁড়িয়ে থাকে। মুখ হা করে শ্বাস নিতে নিতে বলে, খুলে দে তাড়াতাড়ি। দীপু তাড়াতাড়ি খুলে দিতে চেষ্টা করে। খুব শক্ত হয়ে এঁটে গিয়েছিল, তাই তারিকের কাছ থেকে চাকু নিয়ে দড়ি কেটে নান্টুকে আলগা করল। সাথে সাথে তারিক লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে। নান্টু অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে রইল, তখনও ফোঁসফোঁস করে কাঁদছিল, কী। জন্যে কে জানে! দীপু তারিককে জিজ্ঞেস করল, বাতাস করব খানিকক্ষণ? তারিক হাত নেড়ে না করল। দীপু তবুও শার্ট খুলে বাতাস করতে থাকে। তারিকের জন্যে একটা-কিছু করতে ইচ্ছে করছিল ওর। তারিকের উঠে দাঁড়াতে বেশ খানিকক্ষণ সময় লাগল। বারকয়েক হাত-পা ছুঁড়ে একটু তাজা হয়ে দীপুকে বলল, বাড়ি যা এখন, মার খাবি গিয়ে। কত রাত হয়েছে দেখেছিস? তারপর নান্টুকে ডাকল ঠান্ডা গলায়, নান্টু শোন। কী? শোন বলছি। নান্টু ভয়ে ভয়ে কাছে এগিয়ে আসে আর কিছু বোঝার আগেই পেটে প্রচন্ড ঘুষি! বাবাগো বলে নান্টু নাক মুখ চেপে পেটে হাত দিয়ে মাটিতে বসে পড়ে। তারিক ওর দিকে না তাকিয়ে হালকা শিস দিতে দিতে হেঁটে চলে গেল। দীপু খানিকক্ষণ তারিককে চলে যেতে দেখল। তারপর নান্টুকে ঘাড় ধরে টেনে তুলল। হাসতে হাসতে বলল, কাদিস না বেকুব কোথাকার! আমি হলে অন্তত দশটা ঘুষি মারতাম, তারিক তো মোটে একটা মারল!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now