বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফার্স্ট বয় পার্ট ১

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ʀɪᴍᴜ (০ পয়েন্ট)

X মামুন হচ্ছে তাদের ক্লাশের ফার্স্ট বয়। ফার্স্ট কর হওয়া খুব কঠিন–ভাই স্কুলে যখন বাইরে থেকে কেউ আসে তখন রতিটিচার মামুনকে দেখিয়ে বলেন, “এই হচ্ছে আমাদের ফার্স্ট বয়।” গর্বে তখন মামুনের বুক এক হাত ফুলে যায় মামুনের বাসায় যখন কেউ বেড়াতে আসে তখন মামুনের আব্বা আম্মাও মামুনকে দেখিয়ে বলেন, “এই যে আমাদের ছেলে মামুন, সে সবসময় পরীক্ষায় ফার্স্ট হয় ।” সেটা শুনে মামুনের বুক দশ হাত ফুলে যায় । রাস্তা দিয়ে মামুন যখন হেঁটে হেঁটে যায় তখন ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা ফিস ফিস করে বলে, “এই যে মামুন ভাই যাচ্ছে। মামুন ভাই হচ্ছে ফার্স্ট বয়।" সেটা শুনে মামুনের বুক একেবারে একশ হাত ফুলে যায়। ফার্স্ট বয় হওয়া অবশ্যি খুব কঠিন কাজ, সেই জন্যে মামুনকে খুব কষ্ট করতে হয়। তার তিনজন প্রাইভেট স্যার আছেন তাদের কাছে বসে বসে তাকে অনেক কিছু মুখস্ত করতে হয়। বাংলা, অংক, ইংরেজী, ইতিহাস, ভূগোল মুখস্ত করতে করতে মামুন অন্যকিছু। করার সময় পায় না। রাত্রে ঘুমানোর সময় মামুন মাঝে মাঝে শুয়ে শুয়ে কল্পনা করে সে অনেক বড় হয়েছে আর সে অনেক মোটা মোটা কঠিন কঠিন বই মুখস্ত করে ফেলছে। একবার মামুন তাদের ক্লাশের সব ছেলেমেয়ে আর স্যারদের সাথে গেল একটা শালবনে। সেখানে ছোট একটা নদী, নদীর তীরে পুতুলের বাসার মতো ছোট একটা ডাকবাংলো। সব ছেলে মেয়ে সেখানে হই চই করে ছোটাছুটি করতে লাগল, শুধু মামুন এক জায়গায় বসে থাকল – ফার্স্ট বয়দের শান্তশিষ্ট এবং চুপচাপ থাকতে হয়। আজকেবাসায় থাকলে তার প্রাইভেট টিউটরদের সামনে বসে বসে সে কমপক্ষে দশ পৃষ্ঠা মুখস্থ করে ফেলতে পারত। কিন্তু এই শালবনে সে কিছুই করতে পারছে না। দুপুরবেলা খাওয়া দাওয়ার পর স্কুলের স্যার আর আপা সব ছেলে মেয়েদের নিয়ে হাঁটতে বের হলেন। প্রথমে তারা নদীর তীর ধরে হেঁটে গেল। তারপরে তারা শালবনে ঢুকে গেল—সেখানে দিনের বেলাতেই কেমন জানি সুমসাম অন্ধকার। শালবন থেকে বের হয়ে তারা একটা বড় খোলা জায়গায় এল। তখন তারা লক্ষ্য করল আকাশে হঠাৎ করে মেঘ জমেছে। সবাই মিলে আরো একটু এগুতেই শুনল আকাশে মেঘ গুড় গুড় করে ডাকতে শুরু করেছে। স্কুলের স্যার আকাশের দিকে তাকিয়ে চিন্তিত মুখে বললেন, “ঝড় আসছে। আমাদের এখনই ডাকবাংলাতে ফিরে যেতে হবে।" স্যারের কথা শেষ হবার আগেই বাতাস বইতে শুরু করল। ধূলো উড়ে চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেল। শুকনো পাতা খড়কুটো উড়তে শুরু করল আর তার মাঝে সবাই দৌড়াতে শুরু করল। মামুন হচ্ছে ক্লাশের ফার্স্ট বয় সে কখনো দৌড়াদৌড়ি করে না কিন্তু এখন তাকেও ছুটতে হচ্ছে। চেচামেচি চিৎকার করে সবাই ছুটছে, কে কৌটিকে যাচ্ছে ভাল করে কেউ বলতে পারছে না। তার মাঝে হঠাৎ ঝমঝম করে বৃষ্টি শুরু হল, সেই বৃষ্টিতে সবাই ভিজে চুপচুপে হয়ে গেল মামুন শুনল, কে জানি বলছে, “ঐ যে সামনে গাছ, গাছের নিচে দাড়াও।" দিনের বেলাতেই সন্ধ্যেবেলার মতো অন্ধকার, মামুন তার মাঝে তাকিয়ে দেখল সামনে একটা গাছ, সে দৌড়ে গিয়ে গাছের নিচে দাড়াল। প্রচণ্ড ঝড়ে তখন গাছের ডালগুলো ঝাপটা দিচ্ছে। মামুন প্রায় কেঁদেই ফেলছিল তখন তাকিয়ে দেখলো গাছের নিচে তারা মাত্র কয়েকজন। সে ভয় পেয়ে বলল, “অন্যেরা কোথায়? স্যার কোথায়? আপা কোথায় ? কাছাকাছি একটা ছেলে দাড়িয়েছিল, তার নাম সুজন। সে এদিক সেদিক তাকিয়ে বলল, “আমি তো জানি না।" মামুন বলল, “আমরা কি হারিয়ে গেছি?” সুজন মাথা নেড়ে বলল, “হ্যা।” মামুন জিজ্ঞেস করল, “অন্য সবাই কোনদিকে গেছে?” সুজন বলল, “এখন তো বলা যাবে না। আগে ঝড় কমুক।” মামুন কী একটা কথা বলতে যাচ্ছিল ঠিক তখন খুব কাছে প্রচণ্ড শব্দ করে একটা বজ্রপাত হলো। এতো জোরে শব্দ হল যে মামুনের মনে হলো তার কানের পর্দা ফেটেগেছে। সে তখন ভয়ে হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগল। সুজন আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল, একটু পরে পরে আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। সে তখন সবাইকে ডেকে বলল, “আমাদের এখনই এই গাছের নিচ থেকে চলে যেতে হবে।” মামুন কাঁদতে কাঁদতে বলল “কেন?” “যখন বজ্রপাত হয় তখন ফাঁকা জায়গায় গাছের নিচে থাকতে হয় না।” “কেন থাকতে হয় না?” “কারণ ফাঁকা জায়গায় যেটা সবচেয়ে উঁচু সেখানে বজ্রপাত হয়। এখানে এই গাছটা সবচেয়ে উঁচু, কাজেই এখানে বজ্রপাত হতে পারে।” মামুন চোখ মুছে বলল, “তুমি কেমন করে জান?” সুজন বলল, “আমি বইয়ে পড়েছি।” মামুন জিজ্ঞেস করল, “তুমি কোন বইয়ে পড়েছ?” সুজন একটু অধৈর্য হয়ে বলল, “আমি কত বই পড়েছি, তার কোনটাতে এটা পড়েছি মনে আছে নাকি?" মামুন সুজনের দিকে তাকিয়ে রইল, হঠাৎ করে কঝতে পারল সে তার ক্লাশের অনেক বই মুখস্ত করেছে কিন্তু এর বাইরে কোন বই পড়ে নি। মামুন আবার কিছু একটা জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল কিন্তু তখন আবার খুব কাছে একটা বজ্রপাত হল। তখন সুজন সবাইকে ধাক্কা দিয়ে বলল, “চল সবাই। মাহের মাঝখানে গিয়ে শুয়ে থাকতে হবে।" সুজনের কথা শুনে সবাই দৌড়ে মাঠেছ মাঝখানে গিয়ে যখন কাদা এবং পানির মাঝে শুয়ে পড়েছে তখন প্রচণ্ড শব্দ করে নিপড়া গাছটার উপর বজ্রপাত হলো। তারা স্পষ্ট দেখতে পেল নীল বিজলি গাছটার উপরে এসে পড়েছে আর গাছের মাথায় দাউ দাউ করে আগুন ধরে গেছে। মামুন বুঝতে পারল যদি তারা সুজনের কথা শুনে গাছের তলা থেকে বের হয়ে না আসতো তাহলে এতক্ষণ তারা কেউ বেঁচে থাকত না। ঝড়টা যেরকম দেখতে দেখতে শুরু হয়েছিল ঠিক সেরকম দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেল। বৃষ্টি থেমে গেল এবং মেঘ কেটে আকাশও পরিস্কার হয়ে গেল। সবাই তখন কাদা এবং পানি থেকে উঠে দাড়াল। বৃষ্টিতে ভিজে কাদা মেঘে সবাইকে ভূতের মত লাগছে। মামুন শীতে ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে বলল, “এখন নিশ্চয়ই জ্বর উঠে যাবে।” সুজন বলল, “জ্বর হচ্ছে জীবাণু কিংবা ভাইরাসের আক্রমণ। ভিজলে কোন জীবাণু বা ভাইরাসের আক্রমণ হয় না। ভিজলে শীত লাগে।” “তুমি কেমন করে জান?” সুজন বলল, “আমি বইয়ে পড়েছি।” মামুন জিজ্ঞেস করল, “কোন বইয়ে পড়েছ।” সুজন বলল, “আমার মনে নাই।"মামুন মনে মনে ভাবল, কী আশ্চর্য! মুখস্ত না করেই সুজন কত বই পড়েছে। কত কিছু জেনেছে। তখন মামুন, সুজন এবং অন্য কয়েকজন হাঁটতে শুরু করল। কয়েক পা হেঁটে মামুন দাড়িয়ে গিয়ে বলল, “আমরা তো হারিয়ে গেছি। এখন আমাদের কী হবে? আমরা কেমন করে ডাকবাংলোয় যাব?" সুজন বলল, “আমরা খুঁজে খুঁজে বের করে ফেলব।” মামুন কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, “তুমি কেমন করে খুঁজে বের করবে? তুমি কী এই জায়গা চিনো?” "না চিনি না।" “তাহলে?" সুজন বলল, “কিন্তু আমরা চিন্তা করে করে বের করে ফেলব।” "চিন্তাকরে?" মামুন অবাক হয়ে বলল, “মানুষ কেমন করে চিন্তা করে?” মামুন ক্লাশের ফার্স্ট বয়। সবকিছু তার মুখস্ত থাকে তার কখনোই চিন্তা করতে হয় না। সে কখনোই কিছু নিয়ে চিন্তা করে নাই। কোন কিছু চিন্তা কেমন করে করতে হয় সে জানে না। সে অবাক হয়ে সুজনের দিকে তাকিয়ে বইল। সুজন দূরে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলল গার্যে দূরে কী দেখা যায়?" “মামুন বলল, “নৌকা।” “তার মানে আমরা । আমাদের খুঁজে পেয়ে গেছি।” “কেমন করে খুঁজে পেয়েছিি সুজন বলল, “কারণ নৌকা থাকে নদীতে। আর আমাদের ডাক বাংলোটা ছিল তীরে।" নদীর মামুন মাথা চুলকে বলল, “কিন্তু নদীর কোন দিকে? ডান দিকে না বাম দিকে?" সুজন বলল, “মনে নাই আমরা যখন নদীর তীর ধরে হাঁটছিলাম তখন একটা গাছের গুড়ি আমাদের সামনে থেকে ভেসে এসেছিল?” “হ্যা, সেখানে একটা কাক বসেছিল।” “তার মানে আমরা স্রোতের উল্টো দিকে হাঁটছিলাম। এখন নদীর কাছে গিয়ে স্রোতের দিকে হাঁটতে হবে।” মামুন মাথা নাড়ল, সত্যিই তো, কী সহজ! চিন্তা করা ব্যাপারটা তো ভারী মজার। কতো কঠিন সমস্যা কত সহজে সমাধান করে ফেলা যায়। তারা সবাই নদীর দিকে হাঁটতে শুরু করল, এবং সত্যি সত্যি কিছুক্ষণের মাঝে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now