বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নতুন ভাড়াটে পার্ট ২ শেষ পার্ট

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ʀɪᴍᴜ (০ পয়েন্ট)

X কাউকে বললে সাথে সাথে তার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। আমার হীরার জন্যে দুঃখ হল— হীরাকে এখন আমাদের মেরে ফেলতে হবে। গুপ্তধন কি হয়েছে? ছেলেটা কৌতূহলী হয়ে উঠল। হীরা অপরাধীর মত আমাদের দিকে তাকাতে লাগল। আমরা কঠোর চোখে ওর দিকে তাকালাম। কি হল? গুপ্তধন– বলে ছেলেটা শার্টের হাতার বাড়তি অংশটা দিয়ে আমার গালে চটাশ করে মেরে বসল। মনে হল গালটা ফেটে গেছে, আমি ক্ষেপে উঠে সাথে সাথে ওর ঘাড়ে ঘুষি মারলাম। ছেলেটা ঘাড়ে হাত বোলাতে বোলাতে বিড়বিড় করে বলল, বেশি জোরে হয়ে গিয়েছিল। তারপর জিজ্ঞেস করল, গুপ্তধনের কথা বললি না? ওটা বলা যাবে না। নান্টু গম্ভীর স্বরে বলল, আমরা রক্ত শপথ করেছি বলে সেও জিবে কামড় দিল। রক্ত শপথের কথা বললেও মৃত্যুদণ্ড দেয়ার নিয়ম। নান্টুটাকেও মেরে ফেলতে হবে। আমাদের দুজন লোক কমে গেল। ছেলেটা চোখ পিটপিট করে বলল, তোরা তাহলে বলবি না? না। আমার অবিশ্যি ইচ্ছে করছিল ওকে বলতে। ওকে নিলে দলটা আরো ভাল হয়। দলে একজন হাত কাটা ছেলে থাকলে দারুণ রোমহর্ষক দেখায়। বেশ! ছেলেটার মুখটা একটু ভারি দেখায়। তাহলে তোদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি ভাবলাম তোদের পাড়ায় এসেছি যখন, তোরা নিশ্চয়ই আমার বন্ধু হবি, আমাকেও তোদের সাথে নিবি। তা তোরা যখন নিবি না, না নিলি। আমার মেকানো সেট ছিল, একশোটা থেকেও বেশি কমিক ছিল, হেডফোন, ফুটবল সব ছিল ভাবলাম ওগুলো দিয়ে খেলব– একটা ফুটবল টিম খুলব! ছেলেটা বিষন্ন স্বরে বলল, তাহলে কিভাবে হাতটা কাটল তাও বলতাম! তা তোরা যখন আমাকে নিবিই না …। আমরা ভেবে দেখলাম ও যদি হাত কাটার গল্প বলে তাহলে ওকে গুপ্তধনের কথা বলা যায়। ও যখন এখানেই থাকবে, ফুটবল দেবে, ফুটবল টিম খুলবে, ওকে আমাদের দলে নিয়ে নিলে ক্ষতি হবে না। বরং অন্য সব পাড়ার ছেলেরা হিংসা করবে, ওদের তো কারো হাত কাটা ছেলে নেই। আমরা ওকে বললাম পিন ফুটো করে রক্ত বের করে স্বাক্ষর করতে হবে তাহলেই ওকে দলে নিয়ে নেব। ও রাজি হল। দরজা বন্ধ করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওকে আমাদের গোপন ব্ল্যাক মার্ডার দলে নিয়ে নিলাম। তারপর গুপ্তধনের ম্যাপ দেখালাম গুপ্তধনে কি কি আছে তাও বললাম। এরপর ওর অনেক রকম কসম খেতে হল। এরপরেও সে যদি কিছু ফাঁস করে দেয় তাহলে আমাদের কিছু বলার নেই কারণ ইহকালটাই তো শেষ নয় পরকালও আছে। পরকালে কে শয়তানের ক্রীতদাস হয়ে থাকতে চাইবে? কসম খাওয়ার সময় প্রথমেই খোদার নাম নিয়ে বলতে হয়, কিছু ফাঁস করে দিলে আমি শয়তানের ক্রীতদাস, নরক আমার স্থান। তারপর সবাই গোল হয়ে বসলাম। আমি বললাম, এবারে বল তোর হাত কি করে কাটল? তার আগে বল আমাকে তোদের সর্দার বানাবি। ইহ! আমরা হৈ হৈ করে উঠলাম, সর্দারের অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী। তাহলে কিভাবে হাত কেটেছে বলব না। ছেলেটা মুখ কঠোর করে বসে রইল। আমরা সবাই ভীষণ ক্ষেপে উঠে ওকে যা ইচ্ছে তাই বলে গালিগালাজ করলাম। এমন নিমকহারাম কেউ কোনদিন দেখেনি। বেশ। ছেলেটা মুখ শক্ত করেই বলল, আমাকে তাহলে সর্দার বানাবি না? না। তোদের সর্দার কে? হীরা আমার মুখের দিকে, আমি হীরার মুখের দিকে তাকালাম। আমাদের দুজনের ভিতরে একজন হবে কিন্তু কে এখনও ঠিক করা হয়নি। তোদের যে সর্দার তার সাথে মারামারি করব। যে জিতবে সে সর্দার হবে। এ ছাড়া হাত কাটার গল্প বলব না। প্রস্তাবটা খারাপ না, কারণ ছেলেটার সাথে জিতে ওঠা কঠিন হবে না। একটা মাত্র হাত, ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে ক্যাঁক করে ঘাড়টা আঁকড়ে ধরলেই হলো। ঠিক আছে। আমি রাজি হলাম। ঠিক হ্যাঁয়। হীরাও রাজি হল। আজ বিকালেই? হ্যাঁ, আজ বিকালেই। ছেলেটা খুশি হয়ে সবার মুখের দিকে তাকাল তারপর শার্টের হাতার বাড়তি অংশটা দিয়ে নিজের গালে চটাশ করে মেরে বসল! এমন অবাক ছেলে। তাহলে শোন, কিভাবে হাত কাটল। ছেলেটা গল্প শুরু করল। বছর দুয়েক আগে জীপ অ্যাকসিডেন্টে কিভাবে ওর হাত থেঁতলে গিয়েছিল, না কেটে উপায় ছিল না। সেই গল্প শুনতে শুনতে আমাদের দম বন্ধ হয়ে এল। এক সময় মিশু শিউরে উঠে বলল, ইশ! ছেলেটা চোখ বড় বড় করে বলল তোরা যদি দেখতি — আমার দুটো আঙুল কেটে মাটিতে পড়ে টিকটিকির ল্যাজের মতো তিড়িং বিড়িং করে লাফাচ্ছিল! যাঃ! হ্যাঁ। ছেলেটা জোর দিয়ে বলল। তারপর অনেকদিন স্কুলে যেতে হয়নি। হাসপাতালে ছিলাম। তাতেই এক বছর নষ্ট হয়ে গেল। তোরা কোন ক্লাসে পড়িস? আমি সেভেনে, নান্টুও সেভেনে, হীরা সিক্স। ছেলেটা খুশি হল। নিচের ক্লাসে হলে ওর সর্দার হওয়া একটু কঠিন হবে কিনা। আরও খানিকক্ষণ গল্প করে আমরা বাসায় চলে এলাম। দুপুর হয়ে গিয়েছিল। আসার সময় ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলাম, ডাক নামটা কি? হাকার-বিন! মানে? মানে হাত কাটা রবিন। বলে সে হিঃ হিঃ করে হাসল!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now