বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জাদরেল জনি পার্ট ১

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ʀɪᴍᴜ (০ পয়েন্ট)

X জনির লোকটিকে পছন্দ হচ্ছে না। মাথাটা অনেক বড়, মনে হয় অন্য কারো কাছ থেকে ধার করে এনে ওর শরীরের ওপর বসানো হয়েছে। সেই বড় মাথার ভারে শরীরের কাহিল অবস্থা, টালমাটাল ভাব। যে কোনো সময় উল্টে পড়ে একটা রক্তারক্তি কাণ্ড হতে পারে। রক্ত বেরোলে এত সুন্দর টাইলস লাগানো ফ্লোরটা ভিজে যাবে। তাছাড়া জনি শুনেছে রক্তের দাগ খুব সহজে মুছে না। তখন কী হবে? জনি লোকটির সম্ভাব্য পতন এবং ফলে ফ্লোর রক্তাক্ত হওয়া নিয়ে খুব চিন্তিত হয়ে পড়ল। একে জরুরি ভিত্তিতে বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এমনিতে অবশ্য এই ধরনের লোকদের বসানোর কোনো নিয়ম নেই। বসাতে হয় তাদেরকে, যারা সম্মানী মানুষ, যাদেরকে দাওয়াত করে বাসায় আনা হয়। যারা বিনা দাওয়াতে ঢুকে পড়ে, নিজের পরিচয় দিতে নয়-ছয় করে এদের কাছ থেকে সাবধান থাকার নিয়ম। কিন্তু করবে কী? লোকটা হুট করে ঘরে ঢুকে পড়েছে। জনি প্রথমে ভেবেছিল ভুল করে এসেছে। ইদানীং এই ভুলের ঘটনাটা খুব ঘটছে। জনিদের উল্টা দিকের যে বাসা সেখানেও একটি ছেলের নাম জনি। আর কী আশ্চর্য, সেই জনির ভাইয়ের নামও মনি। ফলে গোলমাল হয় খুব। ওদের বাসার বদলে অনেকে চলে যায় ওই বাসায়। সে বাসার লোক আবার চলে আসে এখানে। কাজেই অপরিচিত কাউকে দেখলেই তেড়ে ওঠা যায় না। জানতে হয়। বুঝতে হয়। যদি লোকটি ওই বাসার মেহমান হয় এবং জনি দুর্ব্যবহার করে বসে তাহলে পরে সমস্যা হবে। ওই জনির ভাই মনির মুখটা খুব খারাপ। জনি মারামারিকে ভয় পায় না কিন্তু গালাগালি সে সহ্য করতে পারে না। কয়েক দিন আগে মনি বলেছে ওর মুখটা নাকি বানরের মতো। কেউ শোনেনি কিন্তু জনির এমন লজ্জা লাগতে শুরু করল যে সে ঘরে এসে নিজের মুখ কয়েকবার আয়নায় দেখল।তারপর চুপিচুপি একটা বানরের হার যেয় দক্ষ্য করল। বানরের সঙ্গে ওর কোনো মিল নেই। একেবারেই নেই। তবু ওর ভয়, মনি হয়তো অন্য কাউকে কথাটা বলতে পারে। ওদের বন্ধুরা সব নির্মম প্রকৃতির। বানরের সঙ্গে ওর মুখের আদৌ মিল আছে কি না সেটা যাচাইয়ে কেউ যাবে না কিন্তু ওকে বানর ডাকা শুরু করবে। ওর নাম হয়ে যাবে বানর জনি। কেউ কেউ আবার আরো অশ্লীল করে বলবে, বান্দর জনি। সে প্রতিবাদ করলেও লাভ হবে না। বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর কেউ কেউ আবার নুনের ছিটা দিয়ে বলবে, আরে বানর নিয়ে তুই এত রাগছিস কেন? মানুষ তো বানর থেকেই এসেছে। তোর আমার বাবা-চাচারা তো বানরই ছিলেন। বাবা-চাচারা বানর ছিলেন কোথায়? তাঁরা তো দিব্যি মানুষ। ঐ হলো আর কী! বাবা-চাচা না হলে দাদারা ছিলেন। আমার দাদাও বানর ছিলেন না। আমি দেখেছি। তাহলে তাঁর বাবা ছিলেন। তাঁকে তো আর দেখিসনি। মনির সঙ্গে তুচ্ছ লাগালাগির ফল এত দূর পর্যন্ত গড়াতে পারে। কাজেই তাঁকে কোনো সুযোগ দেয়া যাবে না। সেদিন সামান্য ঘটনাতে বলেছে বানর, এরপর সুযোগ পেলে বলবে শিম্পাঞ্জি। মনির এই সম্ভাব্য কুকথার ভয়েই দরজা খুলে জনি হাসি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে থাকল। লোকটি হাসল না। জানতে চাইল, জনি? জনি উত্তর দেয়ার আগেই সে অদ্ভুত ভঙ্গিতে হেঁটে ঢুকে গেল ভেতরে। বাসায় কেউ নেই, বাবার অফিসের কার যেন বিয়ে, সেখানে গেছে সবাই, জনিকে নেয়া হয়নি কারণ ওর দুটো কবিতা মুখস্থ করা হয়নি। বাবা সপ্তাহের শুরুতে পাঁচটা কবিতা মুখস্থ করতে দিয়েছিলেন, আজ শেষ দিন অথচ জনির দুটো কবিতা এখনো বাকি। কাজেই ওকে এই সময়ে দুটো কবিতা মুখস্থ করতে হবে। বাবা বলেছেন, তিনি এসে পরীক্ষা নেবেন। না পারলে...। আর মা বলে গেছেন, কলিং বেলের শব্দ শুনলে আগে ভেতর থেকে মানুষটার চেহারা দেখার চেষ্টা করবে। দেখতে পারলে ভালো, না পারলে জিজ্ঞেস করবে কে? যদি পরিচিত কেউ হয় তাহলে দরজা খুলবে। নইলে একেবারে না। মনে থাকবে? জনির মনে ছিল। তবু দরজা খুলে দিল। আর লোকটি সোজা ঢুকে গেল জনির ঘরে। নতুন কেউ আসলে প্রথমে ড্রইংরুম খোজে, খুব বেশি হলে গেস্টরুম, এই লোক সোজা চলে গেল জনির ঘরে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাশেই দুটো চেয়ার আছে, বসতে কোনো বাধা নেই, তবু দাঁড়িয়ে আছে কেন? তখনই জনি খেয়াল করল তার বড় মাথা, নড়বড়ে শরীর। তখনই সে লোকটার পড়ে যাওয়ার এবং রক্তপাতের ভয় পেতে শুরু করে। জনি বাস্ত ভঙ্গিতে বলল, আপনি বসুন না। বসুন। লোকটি জনির দিকে তাকিয়ে বলে, বসব। কিন্তু শর্ত আছে একটা । বসার আবার শর্ত? হ্যা। তুমি রাজি থাকলে বলো। আমি তো আপনাকে ঠিক... আপনি কি লম্বা জনিদের বাসা খুঁজছেন? হ্যা। ওদের বাসা উল্টা দিকে। ওরা দুই ভাই জনি মনি, আমরাও দুজন লম্বা জনি? জনি-মনি। এজন্য সবাই ভুল করে। আমি ভুল করিনি। তাহলে আপনি আমাদের বাসাতেই... হ্যা। তোমাদের বাসাতেই। নির্দিষ্ট করে বললে তোমার কাছেই এসেছি। আমার কাছে? তুমি তো জাদরেল জনি? জনি চমকে যায়। বন্ধুদের কাছে এটাই ওর নাম। নামকরণটা ওর কাছে ঠিক পরিষ্কার নয়। ও কথায় কারো কাছে হার মানতে চায় না, যুক্তি কুযুক্তি দিয়ে সবাইকে ধরাশায়ী করে দেয় বলে ওরা ওর নাম দিয়েছে জাদরেল জনি। সঠিক নামকরণ নয় একটুও। জাদরেল বলতে ডাকাবুকো বোঝায়, জনি তেমনটি নয়। ওর ধারণা, জাদরেলের সঙ্গে জনি ছন্দটা ভালো মিলে বলে ওর নাম জাদরেল জনি। কিন্তু লোকটা জানল কীভাবে? ক্লাসের বাইরে এই পরিচয় কেউ জানে না। তাছাড়া এত তুচ্ছ বিষয় নিয়ে একজন বড় মানুষ ভাববে কেন? জনি আবার লোকটাকে দেখে। বয়স চল্লিশের মতো হবে, পরনে একটা পুরনো ধরনের জিন্স, সঙ্গে একটা ঢোলা পাঞ্জাবি। জিন্সের সঙ্গে টি শার্টটাই জনির হিসাবে শুদ্ধ পোশাক, শার্ট পর্যন্ত তবু মেনে নেয়া যায় কিন্তু পাঞ্জাবি একদম চলে না। জনির লোকটার উপর আবার মেজাজ খারাপ হলো। জিন্সের সঙ্গে ওকে পাঞ্জাবি পরতে বলেছে কে? গাঁইয়া ভূত কোথাকার! লোকটি হোলে দেয়। বলে, তুমি আমাকে গাঁইয়া ভূত ভাবছ? লেন? আপনি কী আমি জানি। লোকটি হাসে। আপনি কে? এত তাড়াতাড়ি বলব না। কী চান আমার কাছে? আগে বলো তুমি কী চাও? যা চাবে তা-ই পাবে। জনি অনেক কিছু চায়। ক্লাসে ফার্স্ট হতে চায়। শিলার সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ হতে চায়। প্লেনে চড়ে বিদেশে চলে যেতে চায়। বাবার বকাবকি থেকে রক্ষা পেতে চায়। ঘুম থেকে দেরিতে উঠতে চায়। শীতের দিনে বিনা গোসলে থাকতে চায়। আরো অনেক কিছু। লোকটি আবার হাসে। বলে, এত কিছু তো একসঙ্গে হবে না। একটা কিছু চাও। আমি চাইলেই হবে? চেয়েই দেখো না! কী চাইবে জনি? চাওয়ার তালিকা এত বড় যে এর মধ্য থেকে একটা বের করা খুব মুশকিল। কী চাইবে সে? সবার আগে তাঁর কী দরকার? সে ভাবছে আর লোকটি হাসছে। আর ঠিক সে সময়েই আবার কলিং বেল। সর্বনাশ । বাবারা ফিরে এসেছে বোধহয়। জনির আজ রক্ষা নেই। অপরিচিত লোককে ঘরে ঢুকিয়েছে। কবিতা মুখস্থ করেনি। কী যে হবে! জনি লোকটির দিকে তাকায়। সে ভাবলেশহীন গলায় বলল, তোমার বাবা-মা চলে এসেছে বোধহয়। এখন তো আমি দরজা দিয়ে বেরোতে পারব না। এক কাজ করি। তোমার খাটের নিচে ঢুকে যাই । কথা শেষ না করেই সে হামাগুড়ি দিয়ে চলে যায় খাটের নিচে। ভঙ্গিটা এমন অদ্ভুত যে জনির এই আশু বিপদের মধ্যেও হাসি পেয়ে যায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জাদরেল জনি পার্ট ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now