বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
গাব্বু (৪)
"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (০ পয়েন্ট)
X
যে গাব্বুর পরপর তিন দিন তিন রাত না ঘুমিয়ে থাকার কথা ছিল, দেখা গেল ভোরবেলা তাকে কিছুতেই ঘুম থেকে তোলা যাচ্ছে না। আম্মু ডাকলেন, “এই গাবু, ওঠ, স্কুলে যেতে হবে না?”
গাব্বু বিড় বিড় করে কিছু একটা বলে পাশ ফিরে ঘুমিয়ে গেল। আম্মু আবার ডাকলেন, “ওঠ বলছি, ওঠ, দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
গাব্বু বিড় বিড় করে আবার কিছু একটা বলল, উঠল না। আম্মু এবার গাব্বুকে ধরে ঝাঁকুনি দিলেন, তখন সে চোখ খুলে তাকাল, ঘুম ঘুম গলায় বলল, “আম্মু, আর এক সেকেন্ড।” তারপর আবার ঘুমিয়ে গেল।
টুনি মাথা নেড়ে বলল, “আম্মু, তুমি গাব্বুকে তুলতে পারবে না। খামোখা চেষ্টা কোরো না।”
“কেন তুলতে পারব না?”
“গাব্বু সারা রাত জেগে বসে থাকে। কয়েক রাত না ঘুমিয়ে জেগে থাকলে না কী হ্যালুসিনেশান হয়–গাব্বু সেই হ্যালুসিনেশান দেখবে।”
“কী বলিস? মাথা খারাপ দেখি!”
“হ্যাঁ আম্মু। তোমার এই ছেলের পুরোপুরি মাথা খারাপ। তুমি একে ঘুম থেকে তুলতে পারবে না।”
মিঠু কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল, বলল, “আমি পারব।”
টুনি জিজ্ঞেস করল, “কীভাবে?”
“দেখবে? এই দেখো।” বলে কেউ কিছু বলার আগেই মিঠু টেবিলে রাখা পানির গ্লাসটা নিয়ে গ্লাসের পুরো পানিটা গাব্বুর শরীরের উপর ঢেলে দিল। গাব্বু তখন তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠে চিৎকার করে ওঠে।
মিঠু বলল, “কিছু হয় নাই ভাইয়া। আমি তোমার শরীরে পানি ঢেলে দিয়েছি!”
গাব্বু মিঠুর দিকে তাকিয়ে চোখ পাকিয়ে বলল, “তুই তুই তুই…” কিন্তু বাক্যটা শেষ করতে পারল না।
মিঠুকে খুব বিচলিত হতে দেখা গেল না, সে হাসি হাসি মুখ করে বলল, “মনে নাই ভাইয়া তুমি আমাকে বলেছিলে শরীরের মাঝে নার্ভ না কী থাকে, ঠাণ্ডা কিংবা গরম লাগলে কী যেন কী হয়, ব্রেনের মাঝে কী যেন সিগন্যাল যায়”
গাব্বুকে বিজ্ঞানের আলোচনাতেও খুব আগ্রহী হতে দেখা গেল না, নিজের ভেজা শরীরে হাত বুলিয়ে আবার বলল, “তুই তুই তুই…।”
আম্মু বললেন, “ঠিক আছে, যা হওয়ার হয়েছে। এখন ওঠ। স্কুলে যেতে হবে।”
গা মুখ গোঁজ করে বলল, “আমি স্কুলে যেতে চাই না।”
আম্মু বললেন, “স্কুলে না গেলে কেমন করে হবে? ওঠ।–”
গাব্বু খুব অনিচ্ছার সাথে বিছানা থেকে নামল। মিঠু গলা নামিয়ে টুনিকে বলল, “ভাইয়া তো সায়েন্টিস্ট। সায়েন্টিস্টদের সবসময় ঠাণ্ডা পানি দিয়ে তুলতে হয়।”
.
খাবার টেবিলে বসে সবাই নাস্তা করছে, হঠাৎ দেখা গেল গা তার দুধের গ্লাস হাতে নিয়ে পানির গ্লাসে একটু দুধ ঢেলে নিল। মিঠু চিৎকার করে সবাইকে সতর্ক করে দিল, “দেখো দেখো, ভাইয়া আবার সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট করছে।”
আম্মু ভুরু কুঁচকে বললেন, “কী হচ্ছে গাব্বু? পানির গ্লাসে দুধ ঢালছিস কেন?”
গাব্বু দুধ মেশানো পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে বলল, “দুধ হচ্ছে কলয়েড। পানিতে যদি একটু দুধ মেশাও তা হলে পানিতে দুধের কণাগুলো ভাসতে থাকে।”
“তোর দুধের কণা পানিতে ভাসানোর কথা না, দুধ খাওয়ার কথা।”
গাব্বু আম্মুর কথা শুনল বলে মনে হল না, অনেকটা নিজের মনে বলল, “এখন যদি এই দুধ মেশানো পানির ভেতর দিয়ে সাদা আলো দেওয়া হয় তা হলে কী হবে জানো?”
মিঠু জানতে চাইল, “কী হবে?”
“সাদা আলোর নীল অংশটা বিচ্ছুরণ হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। এর ভেতর দিয়ে যে আলোটা আসতে পারবে তার রং হবে লাল।”
মিঠু অবাক হয়ে বলল, “সত্যি?”
গাব্বু মাথা নাড়ল, বলল, “একশ ভাগ সত্যি। এটার নাম র্যালে স্ক্যাটারিং। র্যালে স্ক্যাটারিংয়ের জন্যে সন্ধ্যাবেলা সূর্যকে লাল দেখায়, দিনের বেলা আকাশকে নীল দেখায়।”
মিঠু বলল, “সাদা আলো লাল করে দেখাও দেখি।”
গাব্বু এদিক-সেদিক তাকিয়ে বলল, “সেটা দেখানোর জন্যে দরকার সাদা আলো। একটা ছোট আয়না দিয়ে রোদটাকে এর মাঝে ফেললে–”
আব্বু বললেন, “গাব্বু, তোকে এখন স্কুলে যেতে হবে। এখন আয়না দিয়ে পানির গ্লাসে রোদ ফেলার সময় না।
আম্মু বললেন, “সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট বন্ধ করে এখন নাস্তা শেষ করে আমাকে উদ্ধার কর।”
গাব্বু মুখ গোঁজ করে বলল, “তোমরা কেউ আমাকে কখনো কোনো এক্সপেরিমেন্ট করতে দাও না।”
টুনি বলল, “আউল-ফাউল কথা বলবি না। তুই কবে আমাদের কোন কথাটা শুনিস? তোর এক্সপেরিমেন্টের জ্বালায় এই বাসায় কেউ শান্তিতে এক মিনিট থাকতে পারে? তুই কখনো কারও কোনো কথা শুনিস?”
গাব্বু বলল, “অন্য কোনো বাসা হলে সবাই আমাকে সাহায্য করত। উৎসাহ দিত। তোমরা কখনো সাহায্য করো না, উৎসাহ পর্যন্ত দাও না।”
টুনি বলল, “উৎসাহ ছাড়াই আমাদের জীবন শেষ। তোকে উৎসাহ দিলে আমাদের উপায় আছে?”
আবু বললেন, “তোকে উৎসাহ দিই না কে বলেছে?”
গাব্বু বলল, “এই যে এখন এক্সপেরিমেন্টটা করতে দিলে না।”
“এখন কি এক্সপেরিমেন্ট করার সময়?”
“কখনো আমাকে কোনো বৈজ্ঞানিক জিনিস কিনে দাও না।”
“কখন তোকে কী কিনে দিইনি?”
গা মুখ শক্ত করে বলল, “কতদিন থেকে বলছি আমাকে এক বোতল সালফিউরিক অ্যাসিড আর আরেক বোতল নাইট্রিক অ্যাসিড কিনে দিতে, তুমি কিনে দিয়েছ?”
আব্বু বললেন, “দ্যাখ গাব্বু, তোকে আমি সালফিউরিক অ্যাসিড আর নাইট্রিক অ্যাসিড কিনে দেব না। সেই জন্যে তুই যদি বড় হয়ে গ্যালিলিও নিউটন
হয় আইনস্টাইন হতে না পারিস আমি তার সমস্ত দায়-দায়িত্ব নিয়ে নেব। এই পৃথিবীকে একজন কম আইনস্টাইন দিয়ে ম্যানেজ করতে হবে।”
গাব্বু ফোঁস করে একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, “এই দেখো, তুমি আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করছ।”
আব্বু বললেন, “আমি মোটেও ঠাট্টা করছি না। আমি খুবই সিরিয়াস।”
“তোমরা খালি দেখ, আমি একবার শুধু বড় হয়ে নিই, তখন আমার বাসায় আমি বিশাল একটা ল্যাবরেটরি বানাব। সেইখানে সবকিছু থাকবে, আমি পুটোনিয়াম পর্যন্ত কিনে আনব।”
মিঠু জানতে চাইল, “পুটোনিয়াম কী ভাইয়া?”
“যেটা দিয়ে নিউক্লিয়ার বোমা বানায়।”
“তুমি নিউক্লিয়ার বোমা বানাবে?”
গাব্বু শীতল গলায় বলল, “খালি একবার বড় হয়ে নিই।”
মিঠু বলল, “ভাইয়া, তুমি বড় হওয়ার একটা ওষুধ তৈরি করে। এক চামুচ খাবে আর এক বছর বড় হবে। দুই চামুচ খাবে আর দুই বছর বড় হবে।”
টুনি হি হি করে হেসে বলল, “ভুলে একদিন পুরো বোতল খেয়ে ফেলবি তখন থুরথুরে বুড়ো হয়ে যাবি।”
গাব্বু এমনভাবে টুনির দিকে তাকাল যে পারলে সে এখনই টুনিকে চোখের দৃষ্টিতে পুড়িয়ে কাবাব করে দেবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now