বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পম্পেই ধ্বংসপ্রাপ্ত ইতিহাসের সাক্ষী (২)

"ভিন্ন খবর" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ᴍᴅ. ɪǫʙᴀʟ ᴍᴀʜᴍᴜᴅ (০ পয়েন্ট)

X খ্রিষ্টাব্দ ৭৯ সালের ২৪ আগস্ট। দুপুর বেলা ইতালির পম্পেই শহরের অধিবাসীরা কেউ কেউ আনন্দ উদ্দীপনায় নিজেদের মত্ত রেখেছিল। ঠিক সেই সময় হঠাৎ শহরের অধিবাসীদের ওপর প্রকৃতির নির্মম দুর্যোগ নেমে আসে। শহরের পাশে অবস্থিত ভিসুভিয়াস পর্বতে কোন প্রকার পূর্ব সংকেত ছাড়াই এক বিরাট ধরনের ক্যাটাস্ট্রোফিক অগ্নুৎপাত ঘটে ঐ সময়। সাধারণ কোন অঞ্চলে অগ্নুৎপাত হওয়ার কিছুক্ষণ আগে ঐ অঞ্চলের পশুপাখির আচারের মধ্যে এক ধরনের পূর্ব সংকেত লক্ষ্য করা যায়। পম্পেই শহরের বেলায় তার কিছুই পাওয়া যায়নি বলে ঐতিহাসিকরা বর্ণনা করেছেন। ফলে পম্পেই শহরসহ শহরের ২০ হাজার অধিবাসী দিনে-দুপুরে মাত্র অল্প কয়েক ঘন্টার মধ্যে প্রায় 20 ফুট আগ্নেয় লাভা আর ছাইভস্মের নিচে বিলীন হয়ে যায়। শহরের সব মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদরাজির তাৎক্ষণিক জীবন্ত কবর হয়। তারপর থেকে প্রকৃতির অভিশপ্ত এবং পাপিষ্ঠ শহর হিসেবে এই শহর প্রায় ১৭০০ বছর ধরে আধুনিক মানবসভ্যতার অগােচরে থেকে যায়, কেউ কখনও সেখানে ভুল করেও প্রবেশ করেনি। কিছু অ্যামেচার আর্কিওলজিস্ট অলৌকিকভাবে খ্রিষ্টাব্দ ১৭৪৯ সালে সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন ধ্বংস হয়ে যাওয়া পম্পেই । তারপর থেকে সেখানে উৎসাহী মানুষের আনাগােনা বাড়তে শুরু করে। ইতােমধ্যে প্রায় দুই হাজার বছর সময়ে শহরটি কয়েক হাজার ফুট মাটির নিচে বিলীন হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এখনও সেই মাটি আর ছাইভস্মের নিচ থেকে প্রাণীসহ মানুষের মৃতদেহ অবিকল ফ্রোজেন অবস্থায় সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। মৃত্যুর সময় যে যেভাবে অবস্থান করছিল তাকে সেভাবেই পাওয়া যাচ্ছে। যেমন কাউকে পাওয়া গেছে বাড়ির মধ্যে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় পরিবারের সকল সদস্যকে সমবেত অবস্থায় । বাড়ির কুকুরটার মৃতদেহ উঠানে ঠিক সেভাবেই আছে যেভাবে থাকার কথা। এটা মহান রবের নিপুণ নিদর্শন। যার মাধ্যমে আমাদের অনেক শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে । এই অগ্ন্যুৎপাতের ঠিক ১৭ বছর আগে ৬২ খ্রিষ্টাব্দে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল, যা কাম্পানিয়া অঞ্চলের। পম্পেই, হেরকুলেনিয়াম, আপ্লেন্টেস এবং আশপাশের শহরে আঘাত করেছিল। এটি ছিল আসলে প্রাকৃতিক সতর্কবার্তা, তখন কেউ বুঝতেও পারেনি তাদের শহরের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে তাদের ধ্বংসের উৎস । তবে ওই ভূমিকম্পের কারণে পম্পেই নগরীর ব্যাপক ক্ষতি হয়। কিন্তু সাথে সাথেই শহরের পুনর্নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছিল। সেই পুনর্নির্মাণের কাজ ১৭ বছর পরে যখন প্রায় শেষ, তখনি এই শহরের বাসিন্দারা ইতিহাসের সবচাইতে দুঃখজনক ঘটনার শিকার হয় এবং শহরের সময়কে চিরদিনের জন্য স্থির করে দেয়। পম্পেই এই ঘটনার পর প্রাণী ও মানুষের মৃতদেহ দিয়ে ইতালির সরকার নতুন করে তাদের ঐতিহাসিক জাদুঘর সাজাচ্ছে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে । এখন এই স্থানে জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী বছরে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ট্যুরিস্ট ভ্রমণ করেন । মহান রবের শাস্তির ভয়াবহতা সম্পর্কে জানা যায় এই পম্পেইবাসীর ওপর আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাধ্যমে । জীবন্ত কবর দিয়ে দিলেন পুরাে শহরকে আর রেখে দিলেন নিদর্শন যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now