বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইতালির এক ছােট শহর, এর নাম পম্পেই । পম্পেই
নগরী যা ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে ধ্বংস
হয়ে গিয়ে ছিল । ভাবতেই অবাক লাগে । একটি
নগরীর ধ্বংস হয়েছিল মুহূর্তের মধ্যে! চোখের পলক ফেলারও
সুযােগ পায়নি একটি মানুষও । জীবন্ত মােমিতে পরিণত হয়
অনাচার আর পাপাচারের প্রতীক মানুষগুলাে। আজকে
তােমাদের জানাব পম্পেই শহরের কথা । আশা করি ভালাে
লাগবে তােমাদের ।
ইতালির নেপল উপসাগরের উপত্যকায় অবস্থিত ছিল এই
পম্পেই নগরী । এই শহরের গােড়াপত্তন হয় প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ৬-৭
শতাব্দীর দিকে মধ্য ইতালির তৎকালীন রাজা ওসকানের দ্বারা।
ভেজিভিয়াস পাহাড়ের পাদদেশে নেপল উপসাগরের
উপত্যকায় শহরটি গড়ে ওঠে । শহরের একপাশে
হারকুলেনিয়াম শহর এবং অন্য পাশে স্ট্যাবি শহর অবস্থিত ।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিপুল সমাহার ছিল এই শহরে । গ্রিক
বাণিজ্যিকরা সে সময় পম্পেই শহরকে ব্যবহার করতো। শহরটি
বাণিজ্যিক বন্দর হিসেবে । ইউরােপের বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধের সাম্রাজ্যের
মাধ্যমে খ্রিষ্টপূর্ব ৮০ এর দিকে এই শহরটি রােমান সাম্রাজ্যের
দ্বারা অধিকৃত হয় এবং সেখানে গড়ে ওঠে রােমান সাম্রাজ্যের
অন্যতম বাণিজ্য বন্দর। বাণিজ্যিক টুরিস্টদের জন্য সেখানে
গড়ে উঠেছিল অত্যাধুনিক দৃষ্টিনন্দন অট্টালিকা প্রাসাদ, বাজার
ইত্যাদি।
অভাব অনটন বলতে কোনাে কিছু ছিল না পম্পেইবাসীর।
শহরটি ধীরে ধীরে প্রাচীনকালের আধুনিক সভ্যতার সকল
ধরনের চিত্তরঞ্জনের জন্য প্রাণবন্ত একটি শহরে পরিণত হয়ে
ওঠে। তৎকালীন অভিজাত মানুষগুলাের আমােদপ্রমােদের
কেন্দ্রস্থল ছিল এই নগরী । রােমের সব সম্পদশালী মানুষের
অবসর কাটানাের শহর ছিল এই পম্পেই । কিন্তু প্রকৃতির এত সম্পদ পাওয়ার পরও ধীরে ধীরে প্রকৃতির
নিদর্শনকে অস্বীকার করে পাপাচারে লিপ্ত
হতে থাকে পম্পেইবাসী।
‘গ্লাডিটোরিয়াল কমব্যাট’ নামক
একটি খেলা এবং নৈতিক অবক্ষয়ে
দিনের পর দিন অভ্যস্ত হতে থাকে
পম্পেইবাসী। গ্লাডিটোরিয়াল কমব্যাট
হচ্ছে কোন স্টেডিয়ামের মাঠে কিছু
পুরুষ মানুষের মধ্যে আমৃত্যু এক ধরনের
সশস্ত্রযুদ্ধ যা স্টেডিয়ামের দর্শকদের
বিনােদনের জন্য পরিচালিত হতাে ।
যোদ্ধারা যুদ্ধ করতাে যতক্ষণ না একজন
যােদ্ধার দ্বারা অপর যােদ্ধার রক্তাক্ত মৃত্যু
হয়। আর এই মৃত্যুকে উপভােগ
করতাে সে সময়ের রােমান এলিট শ্রেণীর
দর্শকরা।
ধীরে ধীরে খ্রিষ্টান ধর্ম থেকে বিচ্যুত
হতে থাকে তারা । সকল ধর্মযাজক নগরী
ছেড়ে চলে যায় । ধর্মীয় মানসিকতায়
সামাজিক বা ধর্মীয় কনন্টেশন বা
ব্যাকল্যাশের ভয়ে ইউরােপের
কনজারভেটিভ ধর্মীয় সম্প্রদায় সাধারণত
পম্পেই শহর পরিভ্রমণে বিরত থাকতাে।
.......... চলবে........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now