বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সালাত শেষ করে এবার আমরা বাসস্ট্যান্ডের পথ ধরলাম। মসজিদ থেকে ক্ষানিকটা সামনেই বাস রোড। ওখানে গেলাম আমরা সবাই। গাড়ি আসছে চলে যাচ্ছে, গাড়ির ছুটাছুটি আর হেলপারের হাঁকডাক দেখতে লাগলাম। আমাদের মাঝে কেও বলছে বাসে যাবে আবার কেও বলছে পিকআপ বা সি এন জি তে যাবে। কী করা যায় ভাবতে লাগলাম। একসময় সীদ্ধান্ত হলো পিকআপে চড়ে যাবো। ওঠে পড়লাম সবাই। গাড়ি আমাদের নিয়ে যেতে লাগলো আপন উদ্দেশ্য। আমি গাড়িতে থাকলেও আমার চোখ ছিলো প্রকৃতির মাঝে ডুবন্ত। জানালার ফাঁকফোকর দিয়ে দেখতে লাগলাম পার্বত্য অঞ্চলের মনোহরী দৃশ্য। পিকআপ আমাদের নিয়ে যাচ্ছিলো একটি বাইপথে। দুপাশে সারিসারি গাছপালা। গাছের ডালেডালে সবুজ পাতাপল্লবের ছোটো পরিবার। কোথাও কোথাও দুয়েল কুয়েল আর কুকিলের মনকারা কলরব! এ যেন এক হৃদয় জোরানো প্রানবন্ত চমৎকার পরিবেশ। গাড়ি কিছুটা আগানোর পর দেখা পেলাম এক বিস্ময়কর চিত্রের। wow! পাহাড়! দেখতে লাগলাম আনন্দভরা মনে। কি সুন্দর তাই না! কথাটা বলে পাশের বন্ধুদের দৃষ্টিকার্ষণ করলাম ওই পাহাড়টা প্রতি। পাহাড়ে তলদেশ দিয়ে বয়ে গেছে একটি ছোটো সচ্চ পানির নালা। এই নালাটা দেখে মনে পরে গেলো কনস্টান্টিনোপলের সেই নালাগুলোর কথা,যেগুলো দিয়ে সুলতান আব্দুল ফাতিহ তাঁর নৌকা ভাসিয়ে ছিলেন। পাহাড় আর নালার মিলনমেলা দেখা শেষ। সামনে দেখা পেলাম আর্মি ক্যাম্পের। পাহাড়ের ঝুপড়ী পরিস্কার করে তারা এখানে এই ক্যাম্প তৈরি করেছে। আজিব ব্যবহার কী জানেন? এতটা পথ আমরা চলে এসেছি। কিন্তু পায়ে হেঁটে চলাচল করতে মানুষকে খুব কম দেখেছি এই পথে। এর অবশ্য অনেক কারণ ও আছে। কোথাও কোথাও দেখলাম বাংলাদেশ আর ইন্ডিয়ার সীমান্ত নাম্বার দেয়া। আবার পাহাড়ি ডাকাতদেরও একটা ভয় থাকতে পারে। যাইহোক আটারো কি.মি. পথ আমরা এই পিকআপে চড়ে আসলাম। যখন ভাড়া দিতে যাবো তখন একটু অবাকেই হলাম বটে। ১৮ কি.মি. পথ মাত্র ২০টাকা ভাড়া?! আমাদের ময়মনসিংহ বা অন্য কোথাও হলে ২০টাকার জায়গায় ৫০টাকা দেয়া লাগতো। তাদের আরেকটা ভালো দিক আছে। সেটা হলো, পাহাড়ি এলাকা থাকার দরুন তাদের অনেক সময় নিচ থেকে উপরে, কখনো বা পাহাড়ের উপর দিয়ে বা পাশ দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। এক্ষেত্রে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ার কারণে কোনো বিপদের সম্মুখীন না হতে হয় সেদিকে তারা পূর্ণ খেয়াল রাখে। আর স্বল্প ভাড়া নেয়ার রীতিটা সম্ভবত কেবল এই পাহাড়ি এলাকাতেই সীমাবদ্ধ।
পিকআপ আমাদের গন্তব্যে নামিয়ে চলে গেলো। এবার আমরা সি.এন. জি. তে চড়ে চলে আসলাম হাটহাজারি মাদরাসায়।
(অসমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now