বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মা,,,,কিছু দিন যাবত তোমাকে লিখতে না পারার কারণে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমার সাথে ঘটে যাওয়া সকল বিশেষ ঘটনা ই তোমাকে শোনাই। তবে শোনানো হয়নি এ জীবনের সবচেয়ে বেদনাময় অভিশপ্ত ঘটনাটি
.
এটা সেই ঘটনা যা আমাকে প্রতি মুহূর্তে কুরে কুরে খায়,
হয়তো দিন গুলা আমি কেমন করে কাটাতাম সেটা তোমার খুব জানতে ইচ্ছা
হতো।
তুমি তো জানতে মা,,,,ছোটোবেলা থেকে ভার্সিটিতে পড়ার প্রতি আমার কেমন তিব্র বাসনা ই না ছিল।
শুনেছিলাম ভার্সিটির লাইফ একেবারেই অন্যরকম। এখানে পড়েই নাকি জীবনের মর্ম বোঝা যায়। ভার্সিটি লাইফ এর সব কিছুই অন্যরকম।
.
এস.এস.সির পর তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমার লক্ষ্য কেবল ভার্সিটি। আমি ভার্সিটিতে পড়বই। তবে এস.এস.সি তেও গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ায় যখন অন্য ভালো স্টুডেন্টদের বাবা মায়ের মতো তোমরাও আমাকে মেডিকেলে পড়ানোর ইচ্ছা পোষণ করলে, আমি তখন হতাশ হয়ে পড়ি।।
তবে বড় ভাইদের মুখে বলতে শুনেছিলাম, " নিজের ইচ্ছাকে অন্য কারোর জন্য বলিনা না দিতে। কারন তাহলে নাকি সারা জীবনটাই বরবাদ হয়ে যাবে!" আর এই চেতনা থেকেই... সম্পূর্ণভাবে ভার্সিটিতে পড়ার আকাঙ্ক্ষা আর লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করি।
,,
তোমাদেরকে বুঝাতে চেষ্টা করেছিলাম, মেডিকেলে চান্স পাওয়াটা খুব কঠিন ব্যাপার।
আর আমার মত স্টুডেন্ট দের দ্বারা তো কখনোই সম্ভব নয় আর তুমি মানতে চাইলে না । বললে তোর দ্বারা অবশ্যই সম্ভব। তুই পারবি - আমি জানি। এভাবে অনেক বুঝিয়ে জোর করে আমাকে হারমানিয়ে পাঠিয়ে দিলে ঢাকায় কোচিং করতে।
যাওয়ার আগে তুমি বলেছিলে আমি যেন নিয়মিত তোমাকে চিঠি লিখি এবং আমি সেখানে গিয়ে তোমাকে প্রথম ১৫ দিন পর পর চিঠি লিখতাম।
..
প্রত্যেকদিনের ঘটে যাওয়া বিশেষ ঘটনা গুলো উল্লেখ করতাম। আর ১৫ দিন পরপর আমার চিঠি পেয়ে তুমি হয়তো কি খুশিই না হতে।।
তবে আমি সেখানে গিয়ে..
তোমাদের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা সাথে বেইমানি করেছিলাম
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বার নেশা আমাকে পাগল করে দিয়েছিল আর তাই আমি মেডিকেলের প্রস্তুতি নেইনি।
,,
তোমাদেরকে মিথ্যা বলে মেডিকেলের কোচিং না করে ভার্সিটি কোচিং এ ভর্তি হই।
,,
আর মেডিকেলের যখন এডমিশন এর সময় আসলো আমি ফর্ম ও তুলিনি
আমি এমন কি মেডিকেলে পরীক্ষা দিইনি
,,
মেডিকেল রেজাল্ট দিলে আমি মিথ্যা জানালাম। লিখেছিলাম আমি চান্স পাইনি এটুকুই আর ভার্সিটিতে এডমিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছি...
..
প্রথমদিকে আমি ঠিকমত পড়িনি
তাই এ সময় মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলাম।
,,
তবে তোমার সাথে এত কিছু ঘটে গেলো আমাকে কিছুই জানালেনা জীবনের এই আফসোসটা আমাকে সারাটা জীবন ভুগতে হবে
যেদিন বাবা চিঠি পাঠালো তার পরের দিনই আমার ভার্সিটিতে এক্সাম। তাই টেনশনে চিঠিটা খুলেও দেখিনি মা
,,
পরের দিন পরীক্ষা শেষ করে
রুমে এসে যখন চিঠিটা খুললাম যেন আকাশটা আমার মাথার উপর ভেঙে পড়ল।
সবকিছু স্বপ্নের মত লাগছিল
বারবার ভাবছিলাম এটা যেন কোনো স্বপ্ন হয়। তবে আমার সময় পার হয়ে যাচ্ছে,,,, সপ্ন ভাংছে নাহ ☹
,,
চিঠিতে লেখাছিল..
গত মাসে তুমি বড় অসস্থ হয়ে পড়েছিলে। পরে চেকআপ করে তোমার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ল্। ৫ দিন পর আমার অ্যাডমিশন মেডিকেলে। তাই মা তুমি চিঠি লিখতে দাওনি। পরে যখন জানলে আমি চান্স পায়নি বাবা আমাকে চিঠি লিখতে চাইলে তুমি তবুও লিখতে দাও নি। কারণ আমি যেন অন্তর্ত ভার্সিটিতে চান্স পাই। তবে ১২ তারিখ তুমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে আর বাবা না পেরে আমাকে চিঠি লিখল তোমাকে
না জানিয়ে।
আহ মা আহ্,,,,
প্রতিটা নিঃশ্বাসই প্রতিনিয়ত ভার হতেই চলেছে। ভাবলাম আসলেই
কি আমি স্বপ্ন দেখছি না তো!
,,
অনেক আগে ছোটবেলায় এমন স্বপ্ন
দেখতাম আর উঠে কান্না করতাম।
তবে আমার সময় পার হয়ে যাচ্ছে...স্বপ্ন ভাঙছে না।
,,
আমি সাথে সাথেই উঠে ব্যাগ
গোছানো শুরু করলাম। হাতের
মাথায় যা পেলাম তাই ব্যাগে
ঢুকিয়েনিয়ে চোখ মুছতে মুছতে
বেরিয়ে পড়লাম, কাউকে না জানিয়েই।
,,
হোস্টেল থেকে বাস স্ট্যান্ড ৫ মিনিটের
পথ। চোখ মুছতে মুছতে এক দৌড়ে
চলে আসলাম বাসস্ট্যান্ডে।
এসে একটা ঢাকা-মাগুরাগামি বাস
পেয়ে গেলাম কিছু না ভেবেই উঠে
পড়লাম। বাসটি আল্লাহর রহমতে
যাত্রী বোঝায় ছিল আর তাই সাথে সাথে
যাত্রা শুরু করেল। আমার ভেতরে যেন একটা পাগলা ঘোড়া ছুটেচলেছে অজানা গন্তব্যের দিকে। যতই ছুটছে, হয়ত পথ আগাচ্ছে তবে মনের ভিতর একটা অজানা আশঙ্কা বিরাজ করছে। আজ ভার্সিটিতে এক্সাম ছিল
তবুও ফেরিঘাটে তেমন জ্যাম ছিল না। তিন ঘন্টার পর আরিচাফেরী ঘাটে বাস পৌঁছালো । জ্যামের কথা মনে উঠলেই ইচ্ছা করছে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে
সাঁতরিয়ে চলে যেতে।
জীবনে এতটা নিরুপায় আমি কখনোই হয়নি।
,,
যাইহোক আধাঘন্টা পর ফেরি ছেড়ে
দিল। দুই ঘন্টার মধ্যেই নদী পার
হয়ে আমাদের বাস মাগুরা বাস স্ট্যান্ডে এসে পৌঁছালো।
,,
বারবার মনে পড়ছিল যখন প্রথমবার ঢাকায় যাচ্ছিলাম...
মাগো... তুমি আমাকে বলছিলে.. বাবা সাবধানে যাবি। টাকাপয়সা সাবধানে রাখবি।
দোয়া পড়ে গাড়িতে উঠবি।
কেউ কিছু দিলে খাবি না,,,,
প্রত্যেকটি কথা ভাবতে ভাবতে আমার সময় পার হচ্ছিল আমি ভাবছিলাম মাগো তোমার প্রত্যেকটি বাণী প্রত্যেকটি উপদেশ প্রত্যেকটি কথা কত মধুর! কত মূল্যবান !
আহ মা আহহ!!
তুমি যে আমার জীবনে যে কি তা
আমি ছাড়া আর কেউ জানে না.. তোমাকে ছাড়া আমার জীবন অসম্ভব
মা, তোমার কিছু হলে আমি বাঁচব না।
তুমি আমার প্রথম ও শেষ ভালোবাসা lতুমি আমার জীবনের সবকিছু! তোমার কিছু হলে আমি বাঁচব না মা
তোমাকে ছাড়া আমার জীবন অসম্ভব মা
,,
যশোর চাপড়া স্টেশনে পৌঁছে রাস্তার
পাশে টেলিফোনের দোকান থেকে
বাসায় একটা কল দিলাম ব্যাকুল হয়ে। মুঈন কল ধরলো।
[ প্রিয় পাঠক-পাঠিকার উদ্দেশ্য বলে রাখি মুঈন আমার কাজিন+বেস্ট ফ্রেন্ড ]
বললাম মা কেমন আছে..?
ও কিছু বললো না।
বললো, তুই কোথায়?
আমি বললাম, আমি চলে আমি চলে এসেছি।
আমি এখন যশোর বাস স্ট্যান্ডে আছি বাসে এখনই ছেড়ে দিবে।
ও আমাকে কিছুই বলল না, বলল
আমি সাতক্ষীরা বাস স্ট্যান্ডে তোকে
রিসিভ করতে আসছি এক্ষুনি।
বলেই ফোনট কেটে দিল।
ওর কথা শুনে আমি বুঝলাম,,,
হয়ত মা আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছিলে তুমি।
আমার টেনশন অনেক বেড়ে গিয়েছিল
,,
আর এটি লোকাল বাস ছিল তাই এখানে সেখানে থামছিল আর
আমি ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছিলাম।
,,
আমি মুঈনের কথা শুনে খুবই
টেনশনে পড়ে গিয়েছিলাম।
হয়তো মা তোমার শরীর আরো বেশি
খারাপ করেছে...
তাই আমি শুধু কাদছিলাম আর
কাছে দোয়া করছিলাম আর কাঁদছিলাম।
,,
সাতক্ষীরা বাস স্ট্যান্ডে এসে দেখি...
ওর সাথে রাকিব আর রিফাত ও
এসেছে আমাকে নিতে। ওদের চোখগুলো চোখগুলো ভেজা
দেখাচ্ছিল ।
ওরা কি কাঁদছে!
আমি ভাবছিলাম হয়তো কিছু না কিছু তো হয়েছে।
ওদের কাছে যখন তোমার সম্পর্কে জানতে চাইলাম... তখন ওরা কোনো
রকম উত্তর দিল না শুধু বললো বাসায়
চল...
বলেই আমাকে বািকে তুলে নিল আমি।
মনেমনে বলছিলাম, শুধু বাসায় গিয়ে নিই.. তোমাকে এমন করে যত্ন করব এমন সেবা করবো আর সারাদিন ধরে আল্লাহর কাছে এমন
করে দু'হাত পেতে চাইব যেন তিনি
কখনোই তোমাকে আমার কাছ থেকে আলাদা না করেন
আমার কাছে যেন আবার আগের মতো তোমাকে ফিরিয়ে দেন
,,
যখন হাটখোলা দিয়ে আসছিলাম....
এমন কেউ ছিলো না যে আমার
দিকে তাকিয়ে ছিল না...
আমি বাসায় গেটের সামনে আসতেই দেখি লোক আর লোক
আমার মনটা হঠাৎ চঞ্চল হয়ে উঠল।
আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না যে
এত লোক, এসব কি হচ্ছে..আমার সাথে!
এত মানুষ! কেন কান্নার আওয়াজ! কেন কি হচ্ছে এসব বাসায়!
সবাই বলাবলি করছে..
ফাহিম চলে এসেছে..ফাহিম চলে এসেছে..!
আমার কাঁধে হাত রেখে আমাকে ধরে মূঈন ভিতরে নিয়ে যাচ্ছে...
ভিতরে ঢুকেই দেখলাম বাসার সামনে গোল হয়ে চেয়ারে বসে থাকা মানুষগুলো আমাকে দেখে দাড়িয়ে গেল।
ভেতর থেকে খালামনিরা আমাকে এসে জড়িয়ে ধরল
সবাই হাউমাউ করে কাঁদছে আর আমার বুকে মাথায় হাত বুলাচ্ছিল
আমি চিৎকার করে বললাম.. কি হয়েছে আমাকে বল.. মা কোথায়? আর এত মানুষ কেনো এখানে?
কি হলো কেউ কিছু বলছো না কেন?
দেখলাম বাবা ঘর থেকে বের হয়ে আমাকে দেখে দুহাত বারিয়ে সিড়ি থেকে আস্তে আস্তে নামছে।
বাবা আমার কাছে এসে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলো।
পিঠে হাত ঘষে ঘষে বলল, বাবা... তুই বড্ড দেরি করে ফেললি রে..!
তুই বড্ড দেরি করে ফেললি...
,,
আমি হাউমাউ করে কেঁদে ফেললাম
দেখলাম বারান্দার পানি সিঁড়িতে গড়িয়ে মাটিতে এসে পড়ছে...
আমি আস্তে আস্তে বাবাকে রেখে টলতে টলতে ঘরের দিকে যাচ্ছি...
মাটিতে পানি দেখে জুতা খুলে
ফেললাম। খানিক পরে হেঁটে
হেঁটে সিড়ি দিয়ে ভিতরে ঢুকে দেখি, মহিলারা ঘরের ভিতর চলে গেল, দরজার সামনে সাদা কাপড়ের মধ্যে কেউ
শুয়ে আছে। আমি মুখটা খুলে দেখি
তুমি
,,
তোমার মুখটা সাদা ধবধব করছে। কিছুটা হাসছিলে যেন তুমি
সাদা কাপড়ে কিছুটা রক্ত???? লেগে
আছে।
আমার চোখ দিয়ে টপটপ জল
পড়তে পড়তে চোখটা ঝাপসা হয়ে গেল।
,,
কাপড়টা আবার ঢেকে দিয়ে.. তোমার পাশে বসে বসে পড়লাম।
ওগো খোদাহ.. এটা আমার সাথে কেমন জীবন নাট্য
,,
তোমার খাটিয়ায় এক হাত রেখে.. জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে..... আহ্ কি চমৎকার - জীবন আমার!
,,
ভাবছিলাম..এক এক করে তোমার সাথে মধুর সব মুহূর্তগুলোর কথা
ছোটবেলার কথা,
এডমিশনের যাওয়ার আগের কথা।
প্রত্যেকটা জিনিস ভাবছিলাম আর আমার মনটা নতুন যন্ত্রণায় মেতে উঠছিলো।
কেউ এসে আমাকে বলল.. মরহুমার পাশে কেঁদোনা বাবা, উনি কষ্ট পাবেন।
,,
আমি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম.. উদ্দেশ্যহীনভাবে।
তারপর হঠাৎ দেখলাম তাকে আমি চিনি না। সেই আন্টি হয়ত পাশের কোন বাসার।
তারপর.. অন্য দিকে তাকিয়ে ভাবলাম মারা যাওয়ার আগে তোমাকে আমি যে কি কষ্টই না দিয়েছি ,এখন মারা যাওয়ার পরেও দিচ্ছি।
জানি তবুও তুমি আমাকে মাফ করে দিবে কিন্তু আমি নিজেকে কখনো মাফ করতে পারব নাহ মা।
তারপর খালামণি এসে আমাকে জড়িয়ে
ধরে আগের দিনের কথা বলতে লাগলো। তুমি নাকি গতকাল খুব ছটফট করেছিলে যন্ত্রণায় আর বারবার আমাকে দেখতে চাচ্ছিলে মা
বাবা বলছিল, "আমি চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি। দেখো ও খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবে।"
দুপুর গড়িয়ে রাত হয়ে গেলো আমি আসলাম না। আজ সকালে অনেকক্ষণ অজ্ঞান ছিলে তুমি। তারপর জ্ঞান ফিরলে আমাকে আবার দেখতে চেয়েছিলে। মাগো আমার অনেক ভুল হয়ে গেছে।
,,
তারপর সবাই আমাকে জোর করলো যে লাশ নাকি আর বেশিক্ষণ রাখা যাবেনা
মাগো আমি ওদেরকে ঠেকিয়ে রাখতে পারিনি। তোমাকে আমার কাছে রেখে দিতে পারিনি আমি।
বাবা এসে আমাকে তোমার ঘরে নিয়ে গেল। তারপর পাঞ্জাবি পড়ে বাবার সাথে ঘর থেকে বের হলাম। তারপর তোমাকে নিয়ে ঈদগাহে জানাজা পড়ানো হলো। এভাবেই পরিশেষে অন্ধকার কবরে তোমাকে নিজ হাতে শুইয়ে দিয়ে আসলাম মাগো।
আমি জানি তুমি যেখানে আছো খুব ভালো আছে.. ইনশাল্লাহ মাগো।
পরে বাবা-মুঈন সবাই মিলে আমাকে ধরে বাসায় নিয়ে আসলো জোর করে।
,,
ঘরে বসে আমি-খালামণি-বাবা আর পারিশা তোমাকে নিয়ে গল্প করছিলাম। সবাই আমাকে তোমার কথা ভুলানোর চেষ্টা করছিল, মা। আমি শুধু ফাঁক খুঁজতে ছিলাম। আছরের নামায পড়ে যখন তোমার কবরের পাশে যাব.. দেখলাম, বাবা তোমার কবরের পাশে গিয়ে তোমার সাথে গল্প করছে। আমি আর ডিস্টার্ব করলাম না। পরে যখন পিছন ফিরল আমাকে দেখে চোখ মুছে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে আমাকে ডাকলো। আমি গেলাম।
বাবা তোমার স্বপ্নের কথা আমাকে জানালো। ..আমি যখন ঢাকায় ছিলাম, তখন নাকি তুমি রাতের বেলা বাবাকে গল্প করে বলতে, দেখবে আমার ছেলে বড় ডাক্তার হবে।
গরিব মানুষদের কে ফ্রিতে চিকিৎসা করবে।ও আমাদের বংশের মুখ উজ্জ্বল করবে।
,,
বাবা আমাকে অনেক কথা বলল আর আমি শুধু নিরবে চোখের পানি ঝরিয়ে গেলাম।
নিজের প্রতি ঘৃনা হচ্ছিল আমার।
আমার আমার মনটাও কত ছোট। তোমার সন্তান হওয়ার কোনো যোগ্যতা আমার নেই।
তারপর দোয়া করে বাসায় ফিরলাম।
,,
রাতের বেলা আমি খালামণি, আমি, বাবা আরো অনেকে তোমার ঘরে বসে গল্প করছিলাম। সবাই চলে গেল পারিশা আর আমি গল্প করছিলাম।
[ প্রিয় পাঠক-পাঠিকার উদ্দেশ্যে বলে রাখি, পারিশা আমার খালাতো বোন। সে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে। আগে পড়াশোনার চাপের প্রায় ৪ বছরের মধ্যে ওদের বাসায় যাওয়া হয়নি। মোবাইলে কথা হলেও নিয়মিত ওর সাথে কথা বলার সময় হতো না। তবে ও আমাকে খুব সম্মান করে। খালামণি তার দুই মেয়েকে সবসময় আমার মত হওয়ার কথা বলেন। কারণ ছোটবেলা থেকে আমি সবার প্রিয় পাত্র আর পড়াশোনায় খুব ভালো তাই ]
কিছুক্ষণ পর ও তোমার আলমারি থেকে কয়েকটা খাম বের করে আনল। যখন এগুলো খুলে দেখলাম...এর মধ্যে আমার পাঠানো চিঠি গুলো ছিল।
আমার চিঠি এত যত্ন করে রেখে দিয়েছো, মাগো!
আমার চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারলাম না ছোট বোনের সামনে।
ও বলল্, আপনি চলে যাওয়ার পর আমি একবার এসেছিলাম আপনাদের বাসায়.. খালামণি আপনার পাঠানো প্রথম দুইটা চিঠি আমাকে দেখিয়েছিলো। আর দেখতাম অনেক রাতে উঠে আপনার চিঠিগুলো খুলে খুলে পড়তো। আর চোখের পানি মুছতো।
খালামণির যখন ক্যান্সার ধরা পড়েছিল.. তখন বারবার আপনার চিঠিগুলো দেখছিল।
আহ।. মাগো..!
তুমি আমাকে কেন এত বেশি ভালোবাসো?
আহ.. মাগো এই চিঠিগুলো কেন আমাকে দেখতে রেখে দিলে?
এগুলো দেখলে তো আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারবো না।
যদিও এখন থেকে এগুলো আমার কাছে তোমার চিহ্ন। কারণ এতে তোমার হাতের ছোঁয়া লেগে আছে। হয়তো লেগে আছে তোমার চোখের পানির অগুনিত ফোঁটা।
আহ.. আহ..
আজ আর লেখার শক্তি আর ধৈর্য আমার নাই।
আর আমি পারছি না।
চিঠিটা আমি আলমারিতে তুলে রাখছি।
আর.. সারাটা জীবন তোমাকে আমার জীবনের গল্প এভাবেই শুনিয়ে যাবো।
হয়তো আজ তুমি আমার কাছে নাই, তবে আছো আমার বুকের মাঝে।
এই লেখা তোমাকে আমার মাঝে সারাটি জীবন বাঁচিয়ে রাখবে।
এই অধমের পক্ষ থেকে হাজারও দোয়া মহান প্রভুর দরবারে।
মৃত্যুর পর দেখা হবে একসাথে..ইনশাআল্লাহ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now