বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গুড্ডুবুড়া পিঁপড়া পোষে
লেখক:আনিসুল হক
-------------------------------------
ক্লাসে টিচার জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কার কার পেট আছে?
গুড্ডুবুড়া সবার আগে হাত তুলল।
এই টিচার পড়ান পরিবেশ পরিচিতি। তাঁর নাম সুফিয়া খাতুন। সবাই অবশ্য তাঁকে ডাকে চশমা মিস বলে।
চশমা মিস বললেন, গুড্ডু, তোমার পেট আছে?
গুড্ডু দাঁড়িয়ে নিজের শার্টটা তুলে বলল, এই যে আমার পেট!
ক্লাসের বন্ধুরা হাসতে লাগল। জামিলটা তো সবচেয়ে পাজি, সে বলল, আরে গুড্ডু, তুই তো খাস না, তোর আবার পেট থাকবে কেমন করে? তোর যেটা আছে, সেটা হলো নাভি। পেট আছে আমাদের পিয়াসের। আহ, পেট তো নয়, যেন কোলবালিশ।
চশমা মিস হেসে বললেন, গুড্ডুবুড়া, আমি এই পেটের কথা বলিনি। আমি বলেছি পি-ই-টি পেট। মানে পোষা প্রাণীর কথা।
গুড্ডুবুড়ার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে বলল, হ্যাঁ, মিস, আমারও পোষা প্রাণী আছে।
তোমার পোষা প্রাণী কী? মিস হাসিমুখে বললেন।
গুড্ডুবুড়া বলল, আমার পোষা কতগুলো পিঁপড়া আছে।
পিঁপড়া? শব্দ করে হেসে উঠলেন মিস। তাঁর চশমা পর্যন্ত হাসিতে কেঁপে উঠল।
তাদের ক্লাসের বুশরা সামনের বেঞ্চে বসে আছে। সে পেছনে তাকিয়ে বলল, পিঁপড়া কি কেউ পোষে? পাগল!
গুড্ডুবুড়ার কান্না পেয়ে গেল। সে বলল, আমি পুষি।
এবার ক্লাসের সব ছাত্রছাত্রী একযোগে উঠল হেসে।
পিয়াস বলল, এই, তোর পিঁপড়া টয়লেট কোথায় করে রে?
জামিল বলল, এই গুড্ডু, তোর পিঁপড়া কি তোর সঙ্গে কথা বলে? তোর সঙ্গে ঘুমায়?
মাইশা বলল, গুড্ডু, পিঁপড়া কি তোকে গান শোনায়?
চশমা মিস চশমাটা কানের মধ্যে ঠিকঠাক করে বসিয়ে নিলেন। তারপর কঠিন গলায় বললেন, ডোন্ট টক। কেউ কথা বলবে না। সাইলেন্স! সাইলেন্স!
গুড্ডুবুড়া কাঁদতে লাগল। হেঁচকি উঠছে। সে কিছুতেই কান্না থামাতে পারছে না।
গুড্ডুবুড়া আসলেই পিঁপড়া পোষে। একদিন সে দেখল, তাদের বাথরুমের বেসিনে একটা মরা পোকা টেনে নিয়ে যাচ্ছে অনেকগুলো লাল রঙের পিঁপড়া। গুড্ডুবুড়া হাত ধুতে এসেছে। পানির কল ছাড়লে পিঁপড়া সব পানিতে ভেসে যাবে। সব পিঁপড়া মরে যাবে। পিঁপড়া সে মারবে কেন? সে তখন একটা কাঠি জোগাড় করল। মরা পোকাটা তুলল কাঠি দিয়ে। তারপর একটা বয়াম আনল রান্নাঘর থেকে। তার ভেতরে রেখে দিল পোকাটাকে। পোকার গায়ের সঙ্গে অনেকগুলো পিঁপড়া। সে কৌটার মুখ বন্ধ করে দিল।
সে খানিকক্ষণ পরপর দেখতে যায়, পিঁপড়াগুলো বেঁচে আছে তো! আছে! ভালো আছে তো!
পিঁপড়ারা, তোমরা কেমন আছ? গুড্ডুবুড়া ফিসফিস করে বলে।
পিঁপড়ারা জবাব দেয় না।
আবারও সে জিজ্ঞেস করে, পিঁপড়ারা, তোমরা কেমন আছ?
নিজে নিজেই গুড্ডুবুড়া জবাব দেয়, ভালো। তবে...
তবে?
তবে?
তবে আমাদের পেটে খিদে। আমাদের কিছু খেতে দাও।
তাই তো! তোমাদের তো খেতে দিতে হয়। কেন, পোকা খাওয়া শেষ?
না মানে। কত আর পোকা খাওয়া যায়। এবার আমাদের প্রিয় খাবারটা এনে দাও।
প্রিয় খাবার! তোমাদের আবার প্রিয় খাবার আছে নাকি?
আছে। আছে। আমাদের প্রিয় খাবার হলো চিনি।
ও তা–ই বলো। এনে দিচ্ছি চিনি।
গুড্ডুবুড়া একাই কথা বলে। একাই প্রশ্ন করে। একাই জবাব দেয়। পিঁপড়াও সে, আবার গুড্ডুও সে।
এবার সে চলল রান্নাঘরে। কোন কৌটায় চিনি আছে, সে জানে। কিন্তু চিনির কৌটা কি রান্নাঘর থেকে সরানো উচিত হবে। তার চেয়ে চিনির কৌটাতে পিঁপড়া ঢোকানো সহজ। সমস্যা হলো, পিঁপড়াগুলো সব মরা পোকাটার গায়ে বসে আছে। পিলপিল করছে। কিন্তু পোকার গা তারা ছাড়ছে না। এখন কিছু চিনি যদি সে পিঁপড়ার কৌটায় রাখে, তাহলে কি মা বকা দেবেন? নাকি পিঁপড়াগুলো যদি সে চিনির কৌটায় রাখে, তাহলে মা বকা দেবেন?
গুড্ডুবুড়া ভেবে কুলাতে পারে না।
শেষে সে ঠিক করে পিঁপড়াগুলোকেই চিনির কৌটায় ছেড়ে দেবে।
[চলবে ]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now