বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আবছা....!

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মেহেদী হাসান হৃদ্ধ (০ পয়েন্ট)

X "এতদিন পর দেখা করতি এলি যে!" "কই এতদিন পর। মাত্র ৩ বছর হলো।" "এত বড় একটা সময়কে তুই মাত্র বলছিস।" "আরে বাদ দে। একটা গান শুনা।তুই না খুব ভালো গান পারতি।" "পারতাম তো।" "একটা গা না।" "ধুর বাদ দে।এই ৩ বছরে আমাকে এক বিন্দু মনে পড়েছে?" "পরবে না কেন? তুই আমাকে স্মৃতিহীন মানুষ মনে করিস নাকি?" "স্মৃতিশক্তিহীনই তো।বলতো আজকের এই দিনে কে জন্ম করেছিল?" "ধুর।কে জন্মগ্রহণ করসে তা জেনে আমার নাভ আছে?" "এই তো তোর স্মৃতিশক্তি নাই।" "এগুলা বাদ দে।" "তুই এই ৩ বছরে আমাকে কোনো ফোন দিয়েছিস? " "সেখানে নেটওয়ার্কই নাই ফোন দিব ধুরের কথা।" "তুই আমাকে কোনোদিন চিঠিও তো লিখিস নি।" "আমাদের ওখানে কোনো পোস্টঅফিস থাকলে তো লিখতাম।" "তুই তো লিখিস নি।আমি তোর চিঠির জন্য প্রত্যেকদিন অপেক্ষা করতাম।আমাদের বাসায় কোনো ডাকপিয়ন আসলে ছুটে যেতাম আমার নামে কোনো চিঠি আসতো কিনা তা দেখতে।বকুল চিঠি লিখত, আবিরও লিখত, শানুও লিখত।" "আরে বাদ দে না!" " তুই কোন গ্রহের বাসিন্দারে? তোদের ১টি দিন কি প্রথিবীর ১ বছরের সমান?" "তোর কথা শনে মনে হচ্ছে কাল তোর ফিজিক্স পরীক্ষা।" "হুম " আমি আর বলার মতো কোনো কথা খুজে পেলাম না। কোনো কথা যে বলব তাও খুজে পেলাম না।ছোটবেলা থেকেই আমার এই অভ্যাস কথা চালিয়ে যেতে পারি না। আজ বাড়িতে কেউ নেই।আমি একা।সবাই বিয়ে খেতে গেছে। আমার এক কাজিনের বিয়ে। আমি খুব কম মিশুক।যাওয়ার কোনো ইচ্ছাই ছিল না।আজ আমাকে তারা জোর করেও নিয়ে যেতে পারে নি। অবশ্য না যাওয়ার আরও একটি কারন আছে।কাল আমার পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা। এতক্ষন ধরে পড়ছিলাম। হটাৎ মনটা বিষন্ন হয়ে উঠল। ঠিক কি কারনে জানি না।বিষন্নতা কাটাতে বাড়ির পিছনের বাগানে এসেছি। বাগানে সবসময় দুটো চেয়ার থাকে। একটি চেয়ারে বসতে যাব ঠিক তখনই লক্ষ্য করলাম আরও একটি চেয়ারে কেও একজন বসা। চিনতে দেরি হলো না তাকে । সে তানভীর। হঠাত করে মনে হলো ঠিক তিন বছর আগে তার সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিল। "তুই কি এখনও এই অভ্যাস তৈরি করিস নাই?" "কোনটা?" "কারও সাথে কথা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা। "না" "এজন্যই তুই কোন প্রেম ধরে রাখতে পারিস না, "তুইও তো দেখছি একটা অভ্যাস তৈরি করতে পারিস নাই।" "কোনটা? " "বাক্যে প্রেম শব্দটা না বলে কথা বলাটা।" "ঠিক বলেছিস।"একটু মুচকি হেসে বলল সে। একটু ক্ষন নিস্তব্ধ থাকার পর আমি বলতে শুরু করলাম, "সেই দিনগুলি ছিল খুব সুখের। আমরা একসাথে নামজে যেতাম। আর বিকালে খেলা তো ছিলই। তোদের ঘরে গিয়ে খেলা দেখতাম। আর কত কি!" “হুম” অনেকটা মনমরা হয়ে বলল সে। আরও কিছুক্ষন নিস্তব্ধ থাকার পর সে বলল, "আমরা যে মাঠে খেলতাম সেই মাঠটা এখন আছে?""সেই মাঠে এখন বাসা নির্মানাধীন। সেই মাঠে আমি একজন বার ৬ বলে ৫ টা ছক্কা মেরেছিলাম! মনে আছে?" "মনে থাকবে না কেন? সেটা তুই মেরেছিলি রাবার বল দিয়ে। আর সাজিদ ভাই মনে করেছিল বলটা কাঠের!" "ঠিক বলেছিস । সাজিদ ভাই তখন আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট খেলত।আর রাবার বল আর কাঠের বল দেখতেও একরকমই। " বলেই হাসতে লাগলাম আমরা। "আমি যাওয়ার পর তুই কি আর ওই মাঠে খেলিসনি?" "না" আবার নিস্তব্ধ পরিবেশ। গাড় সবুজ প্রকৃতি একেবারেই নিশ্চুপ। মাঝে মাঝে যা হাওয়া বইছে তাও ক্ষীণ। মাঝে মাঝে ঝি ঝি পোকা ডেকে উঠছে। বাগানের পাশেই একটা মস্ত বড় পুকুর। সেই পুকুরে সূর্যের একটা প্রতিভিম্ব দেখা যাচ্ছে । কিছুক্ষনের মধ্যেই সূর্যটা অন্ধকারে ডুব দিবে। হয়তো আর কিছুক্ষন পর ঠিক বিপরীত মেরুতে সূর্যোদয় হবে……………. "তোকে এত আবছা লাগছে কেন রে?" "কই আবছা?" "খুব ঝাপসা লাগছে।" "তোর মনে হয় অবতল আয়নার একটা চশমা লাগবে।" "চশমা কখনো অবতল আয়নার হয় না রে গাধা! অবতল লেন্সের হয়।" "তা হতে পারে! তুই একটা কিনে ফেল,ভালো দেখবি।" বাড়ির উত্তর দিকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে একটা সাইনবোর্ড টাঙ্গানো আছে। জায়গাটি বিক্রয় হবে- লেখাটা আমি স্পষ্ট দেখতে পারছি। কিন্তু তানভীর কে ক্রমশ ঝাপসা লাগছে। কেন? সে স্বপ্ন নয় তো? "সরি রে এখন আমাকে যেতে হবে।" বলেই সে মিলিয়ে গেল বাতাসের সাথে।চোখের পাতা ফেলার আগেই তাকে বাতাসে মিলিয়ে যেতে দেখলাম । মনটা আবার বিষন্ন হয়ে উঠল। চোখ জোড়ায় পানি এসে গেল। কাছেই একটা মসজিদে মাগরীবের আজান হচ্ছে। আর কিছু না ভেবেই চোখ জোড়া মুছে মসজিদের দিকে হাটা ধরলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now