বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভাষার ইতিহাস

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Nurjatul Islam Tuhin (০ পয়েন্ট)

X " আছছালামু আলাইলুম, আমি তুহিন, ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আমার লেখা ‘ভাষার ইতিহাস’ এর প্রথম পর্ব প্রকাশ করছে! " বাংলা ভাষার ইতিহাস প্রাচীন-- বাংলাদেশ, ভারতের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা নিয়ে গঠিত বঙ্গ অঞ্চলের বাঙালি অধিবাসীর মাতৃভাষা বাংলা। এছাড়া ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণাংশে এবং ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অধিকাংশ অধিবাসী বাংলা ভাষায় কথা বলে থাকেন। বর্তমানে বাংলাভাষী মানুষের সংখ্যা প্রায় তেইশ কোটি, ভাষক সংখ্যার বিচারে বাংলা এখন পৃথিবীর সপ্তম ভাষা। তবে ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে সুষ্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় যে, গত শতাব্দীতে বাংলা ভাষা বাঙালি জাতীয়তাবাদ গঠনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ব্রিটিশ পরাধীনতার সময়েই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীর প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৯১৮ সালে প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা ভাষাকে অবিভক্ত ভারতের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাদানের দাবি জানিয়েছিলেন। ১৯২১ সালে নবাব সৈয়দ নবাব আলী চৌধুরী বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে লিখিত প্রস্তাব পেশ করেন। ১৯৩৭ সালের ২৩ এপ্রিলে সেই সূত্র ধরেই দৈনিক আজাদ ভারতের রাষ্ট্রভাষা' শীর্ষক এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানায়। এছাড়াও দৈনিক ইত্তেহাদ, সাপ্তাহিক মিল্লাত, মাসিক সওগাত, মাসিক মোহাম্মদীতে অনেকের রচনাতে এবং মুজিবুর রহমান খাঁর 'পাকিস্তান', হাবীবুল্লাহ বাহারের 'পাকিস্তান', তালেবুর রহমানের 'পাকিস্তানবাদের ক্রমবিকাশ' এবং 'সর্বহারাদের পাকিস্তান' ইত্যাদি গ্রন্থেও এই দাবীর প্রমাণ মেলে। তবে এই দাবী মূলতঃ কলমযুদ্ধেই সীমাবদ্ধ ছিল, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয় ১৯৪৭ সালের দেশ-বিভাগের পর। পাকিস্তান আমলে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে দু'দফা আন্দোলন হয়েছিল-- প্রথমবার ১৯৪৮ সালে এবং দ্বিতীয়বার ১৯৫২ সালে। তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পাকিস্তান' নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়নি, ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসের কথা। এ সময় দাক্ষিণাত্যের নিজাম শাসিত হায়দ্রাবাদের অন্তর্গত সেকেন্দ্রবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে প্রধান অতিথির ভাষণে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ প্রস্তাবিত পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর পক্ষে দারুণভাবে ওকালতি করে বলেন, "ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সংহতি বজায় রাখার জন্য যেমন হিন্দি ভাষাকে সেই দেশের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেয়ার বিষয়টি এক রকমভাবে চূড়ান্ত হয়ে গেছে, ঠিক তেমনিভাবে প্রস্তাবিত পাকিস্তানের সংহতি রক্ষার লক্ষ্যে উর্দুকেই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার বিষয়টিও চূড়ান্ত করা অপরিহার্য।" কিন্তু ড. জিয়াউদ্দিন কৌশলগতভাবে যে কথাটি এড়িয়ে গেছেন তা হলো, যেখানে ভারতের সংখ্যাধিক্য লোকের মাতৃভাষা হিন্দি, সেখানে পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু লোকের (শতকরা ৫৪- ৫৬ ভাগ) মাতৃভাষা বাংলা। ড. জিয়াউদ্দিনের এ ধরনের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন কলকাতা থেকে প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। ১৯৪৭ সালের ২৯ জুলাই কলকাতার দৈনিক আজাদ-এ ড. মোঃ শহীদুল্লাহর 'পাকিস্তানের ভাষা সমস্যা' নামে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার দাবিকে অগ্রগণ্য উল্লেখপূর্বক লিখেন, ‘যদি এরপরেও অন্য কোন ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদানের কথা উঠে, শুধু তা হলেই উর্দুর কথা চিন্তা করা যেতে পারে।' তার এই বক্তব্য সে আমলে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভাগ হল ব্রিটিশ ভারত-- তৈরি হল ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তান আবার দুটি খন্ডে বিভক্ত-- পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান। এই দুই ভূ-খন্ডের ভেতর ভৌগলিক দূরত্ব ছিল ১৮০০ কিঃমিঃ; আর ভাষা- কৃষ্টি- সংস্কৃতির ব্যবধান ছিল যোজন যোজন। বহু জাতিসত্ত্বা নিয়ে গড়া তৎকালীন পাকিস্তানের মাত্র ৬ শতাংশের ভাষা ছিল উর্দু, যেখানে ৫৪ শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা ছিল বাংলা। বাঙালির আত্ম-অম্বেষায় ভাষাচেতনার যে উন্মেষ, তারই সূত্র ধরে পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর- ডিসেম্বরে ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। তমদ্দুন মজলিস "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে? বাংলা নাকি উর্দু?" নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ এ, যেখানে সর্বপ্রথম বাংলাকে পাকিস্তানের একটি রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা করার দাবী করা হয়। তমদ্দুন মজলিশের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হওয়া উচিত সে ব্যাপারে একটি সভা আহবান করেন, যেখানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার ব্যাপারে পাকিস্তান সরকারের কাছে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উল্লেখ্য সেই সময়ে সরকারী কাজকর্ম ছাড়াও সকল ডাকটিকেট, পোষ্টকার্ড, ট্রেন টিকেটে কেবলমাত্র উর্দু এবং ইংরেজিতে লেখা থাকতো। তবে ইতিহাসে তমদ্দুন মজলিশের ভূমিকা বিতর্কিত এবং এই সংগঠন সম্পর্কে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ১৯৪৮ সালে রেসকোর্স ময়দানে গভর্ণর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা দেন, "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা"। এই অন্যায্য সিদ্ধান্তে তখন ক্ষোভে ফেটে পড়ে পূর্ব বাংলার সাধারণ জনগণ-- বাংলা ভাষার সমমর্যাদার দাবীতে সেই সময়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে তার চরম প্রকাশ ঘটে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now