বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সেই ভয়ঙ্কর রাত (part2)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ★mAhIrA★ (০ পয়েন্ট)

X তন্ময় হয়ে শুনছিলাম, হঠাৎই শরীরে কাঁপুনির আভাস, আমার ভীষণ ভয় লাগছে .... মৃত্যুর তীব্র শীতলতা যেন আমায় একটু একটু করে গ্রাস করছে | এই রাত হয়ত কোনদিন শেষ হবে না | অশুভ ছায়া ক্রমশঃই দীর্ঘ হচ্ছে | রাত্রির নিস্তব্ধতা ভেদ করে ভেসে এলো এক অমানুষিক চিৎকার ! আমি দৌড়ে নীচে নামতে লাগলাম | সিঁড়ির শেষ ধাপে এসে পৌঁছতেই ঘোলাটে টর্চের আলোটা দপ দপ করতে করতে নিভে গেল | বসার ঘরটা লন্ডভন্ড, রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারদিক..... কার্পেটে লুটিয়ে পড়ে আছে আজকে রাতের অতিথি মেয়েটা .... কাছে গিয়ে দেখি পেটে একটা ছুরি ঢোকানো, মেয়েটার নিঃশ্বাস পড়ছে না, পেট থেকে বেরিয়ে আসছে রক্তের স্রোত ! রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘরের মেঝে ! কিন্তু ওর পেটে কে ছুরি মারল ? আমার পা রক্তে মাখামাখি, কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমি স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি | আমার ভীষণ ভয় লাগছে ! ওই ছেলেটা কোথয় গেল ? এখন কি হবে ? আমি কেন না জেনেশুনে ওদের আশ্রয় দিতে গেলাম ? আতঙ্কে আমারর শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল ! পুলিশ কেসে ফেঁসে যাব না তো ! কি হবে এবার ? মেয়েটাকে ছুরি মেরে ছেলেটা পালিয়ে টালিয়ে যায় নি তো ! অন্ধকারে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলাম | তীব্র ভয়, আতঙ্কে আমার সর্বাঙ্গ যেন অবশ হয়ে আসছে | সিঁড়িতে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলাম, দু-এক জায়গায় চোট পেলাম | ব্যথার তোয়াক্কা না করে হাঁচোড় পাঁচোড় করে উঠতে লাগলাম | বুকের ভেতরটা শূন্য হয়ে যাচ্ছে | কোথায় গেল ছেলেটা ? হাতড়ে হাতড়ে বারান্দায় গেলাম, ওখানেই তো সদরের চাবিটা ফেলে এসেছি .... একি ! ওই তো সেই যুবক ! আবার সেই বিপজ্জনক বাঁক ধরে হেঁটে চলেছে..... ছেলেটা ইচ্ছে করে খাদে লাফিয়ে পড়ল ! আমি চাবিটা নিয়ে দৌড়ে নীচে নামতে লাগলাম | পা বেঁধে সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে পড়লাম | কোমরে বেশ লেগেছে, বুড়ো আঙুলের নখটা বোধহয়... এখন ওসব ভাবার সময় নয়, তালা খুলে বাইরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম .... সম্ভব নয় তবুও যদি ছেলেটা বেঁচে থাকে ! কুকুরগুলো ভয়াবহ চিৎকার করছে , অন্ধকারে ওদের চোখ জ্বলছে.... দাঁতগুলো ঝিকিয়ে উঠছে, বাইরে বেরোলেই ওরা যেন আমায় ছিঁড়ে খেয়ে ফেলবে | প্রচন্ড ঠান্ডা হাওয়ায় দাঁতে দাঁত লেগে ঠকঠক শব্দ হচ্ছে | সামনের ভয়ঙ্কর খাদ আমায় ডাকছে..... বলছে আয় আয় | সমস্ত শরীরে জাল বুনছে মৃত্যুর শীতলতা | হঠাৎ বিদ্যুতের ঝলক, তীব্র আলোয় এক মুহুর্তের জন্য যা দেখলাম সে দৃশ্য দেখে ভয়ে, আতঙ্কে আমার সর্বশরীর শিউরে উঠল | ড্রইংরুমের কার্পেট কোন দেহ পড়ে নেই, মেঝে কোনো রক্ত টক্ত নেই | সবকিছুই আগের মতো সুন্দরভাবে সাজানো আছে | আমার মাথা ঘুরছে, দুচোখে অন্ধকার নেমে আসছে, এক অজানা আতঙ্কে অবসন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে গেলাম | পরের দিন ভোরে হোম স্টের মালকিন এসে আমার চোখে-মুখে জলের ছিটে দিতেই আমার চেতনা ফিরে এল | আমি অবাক হয়ে বললাম, আপনি ? আপনি কখন এলেন ? হোম স্টের মালকিন রোজি বলল, আমি সকালে এসে দেখি সদর দরজা খোলা, বাবুজি উপুড় হয়ে পড়ে আছেন আর হাতে ধরা টর্চটা তখনও জ্বলছে | আমি বললাম, এ হতেই পারে না | কাল রাতেই তো ওটার ব্যাটারি শেষ হয়ে গেছে | রোজি মিষ্টি করে হেসে বলল, আপনি একবার জ্বালিয়ে দেখুন না বাবুজি | সুইচ টিপে দেখলাম দিব্যি জ্বলছে | এই সূর্যের আলোতেও বুকের ভেতর এক তীব্র ভয়ের অস্বিত্ব টের পেলাম | পিঠের শিরদাঁড়া বেয়ে যেন একটা বরফের স্রোত নেমে গেল ! গরম চা খেতে খেতে কাল রাতে যা দেখেছি রোজিকে তার সবটাই খুলে বললাম | ঘটনাটা শুনতে শুনতে সে শিউরে উঠতে লাগল | বলল বাবুজি, কাল আপনি খুব জোর বেঁচে গেছেন | এবাড়িতে বহু বছর আগে এরকম এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেছে | আমার জোরাজুরিতে সে যা বলল, সে কাহিনী যেমনই ভয়ঙ্কর তেমন মর্মন্তুদ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now