বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সন্ধ্যে নেমে আসছে পাহাড়ের কোলে | খাদের ধার দিয়ে উদ্দেশ্যহীন ভাবে হেঁটে চলেছে এক যুবক | ভয় নেই ওর ? নেই কি প্রাণের মায়াও ? ওই সুগভীর খাদে একবার পড়ে গেলে দেহটাও খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে ! সামনেই একটা বাঁক, বাঁক পেরিয়ে মিলিয়ে গেল ওই যুবক !
হোম স্টের বারান্দা থেকে দেখছিলাম যুবককে | শহুরে জীবনযাত্রায় ক্লান্তি ঘিরে ধরলেই মুক্তির খোঁজে পাহাড়ে চলে আসি | আমি সুনন্দন মুখার্জি, একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জেনারেল ম্যানেজার পোস্টে আছি | পেশাগত চাপে জর্জরিত, সকালে অফিস টার্গেট পূরণের চাপ, রাতে পার্টিশেষে নেশাতুর ঘুম....এই আমার জীবনযাপন | বিয়ে করি নি এখনো, করার খুব একটা ইচ্ছেও নেই | মাঝে মাঝে পাহাড়ের বুকে একলা কাটানো এই বোহেমিয়ান জীবনটাকে আমি ভীষণ ভালোবাসি | ইচ্ছে আছে আর কয়েক বছর কাজ করে বেশ কিছু টাকা জমিয়ে এই পাহাড়ের কোলেই বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেব .....
ডিনার সেরে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিলাম | হঠাৎ করে ঘুমটা ভেঙে গেল | নিশুতি রাত....ঘরের দরজাটা খুলে বারান্দায় এলাম | আকাশ জুড়ে যেন তারাদের মেলা বসেছে | কলকাতায় এরকম পরিস্কার আকাশ বহুদিন দেখি নি | দূরে পাহাড়ের সারি মগ্ন স্তব্ধবাক...... পূর্ণিমা চাঁদের অপার্থিব আলোয় ভেসে যাচ্ছে চরাচর | কে যেন হোম স্টের সদর দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দিচ্ছে ! এত রাতে আবার কে এলো ? আলো জ্বালতে গেলাম.... জ্বলল না ! এ আবার কি ? লোডশেডিং নাকি ? হোম স্টের মালকিন যে বলেছিল এখানে লোডশেডিং হয় না....হোম স্টের মালকিন কিছুক্ষণ আগেই ওনার নিজের বাড়িতে চলে গেছেন, ওনার বাড়িটা আমি দেখেছি, এখান থেকে পাঁচ মিনিটের দূরত্ব | গোটা হোম স্টেতে আমি একাই আছি, এই অফ সিজনে টুরিস্টের ভীড় নেই ! অথচ তখন বোকামি করে ওনার কাছ থেকে জেনারেটরের সুইচ কোনটা সেটাও জেনে নিইনি ! ওনাকে কি একবার ফোন করব ? কিন্তু এত রাতে সেটা কি উচিত হবে ! বাইরে কুকুরগুলো তারস্বরে চেঁচাচ্ছে | ওদের আওয়াজকে ছাপিয়ে যাচ্ছে দরজার ধাক্কা | কেউ নিশ্চয়ই খুব বিপদে পড়েছে | হঠাৎ বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হল, ঝলসে উঠল বিদ্যুৎ, বজ্রপাতের তীব্র শব্দে কেঁপে উঠল ছোট্ট হোম-স্টেটা ! দরজায় ধাক্কা বেড়েই চলেছে, এই হিমশীতল রাত নিকষ অন্ধকারে একটা টর্চ হাতে সিঁড়ি বেয়ে আমি নীচে নামতে লাগলাম | আমার কৌতুহলী মন বারবার প্রশ্ন করছে, কে ? কে এই নিঝুম রাতের আগুন্তুক ?
দরজা খুলে টর্চ জ্বেলে দেখি দুজন মানুষ দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, চেহারা দেখে স্বামী-স্ত্রী বলেই মনে হল | ব্যাটারিটা মনে হচ্ছে খুবই কমে গেছে, যে কোনো মুহুর্তে আমার হাতে ধরা টর্চটা নিভে যাবে ! ঘোলাটে আলোয় ছেলেটাকে চিনতে পারলাম | সন্ধ্যেবেলার সেই খাদের ধার দিয়ে হাঁটা যুবক | যুবকটি বলল, দেখুন স্যার আমরা বড় বিপদে পড়েছি | যদি আজ রাতের মতো আমাদের একটু আশ্রয় দেন | সন্ধ্যে থেকে হোম স্টেগুলোতে পাগলের মতো ঘুরছি | মিসেস সারাক্ষণ গাড়িতেই বসেছিল | সন্ধ্যে হতেই গাড়ির ড্রাইভার পাহাড়ী রাস্তার দোহাই দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেল ! আমি এরকম হঠাৎ করে আসতে চাই নি জানেন | ও এমন করে জোর করল ! আসলে ওর হঠাৎ করে রুমটেক মনাস্ট্রি দেখার ইচ্ছে হল.... আমিও আর না করতে পারলাম না | অনিশ্চিতের ভরসায় বেরিয়ে পড়লাম | বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি পড়ছে, যদি দয়া করে একটু '....... আসুন, আসুন ভেতরে আসুন | আমার পাশের রুমটা ফাঁকাই আছে | কাল হোম স্টের মালকিন এলে নিশ্চয়ই একটা কিছু ব্যবস্থা করা যাবে | ছেলেটা বলল আমরা আপাতত বসার ঘরের সোফায় বসছি | জামাকাপড় একটু শুকোলে না হয়....আমি সদর দরজায় তালা দিয়ে ওপরের বারান্দায় এসে বসলাম | আজকের রাতটা যেন অস্বাভাবিক ঠান্ডা, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে | এই নিঝুম রাতে দূরের কোনো মনাস্ট্রি থেকে গমগমে গলায় ভেসে আসছে ' বুদ্ধং শরণাং গচ্ছামি !
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now