বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরীর মেয়ে মেঘবতী

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shikha (০ পয়েন্ট)

X আজকের দিনটা অন্যসব দিনের মতো না। আজ খুব আলাদা একটা দিন।কেউ তা বুঝতে পারছে না বলে নাবিলের একটু মন খারাপ লাগছে।আচ্ছা, আজকের দিনটা যে আলাদা তা কেউ বুঝতে পারছে না কেন? না না আজ তার জন্মদিন না।দু'মাস আগে নাবিলের জন্মদিন হয়ে গেছে।ছ'টা মোমবাতি জ্বালিয়ে সে গাল ফুলিয়ে ফু দিয়েছে।এক ফুঁতে সব মোমবাতি নেভাতে হবে।এক ফঁতে সব বাতি নেভাতে পারলে একটা সাংঘাতিক ব্যাপার হয়।তখন চোখ বন্ধ করে যা চাওয়া যায় তাই পাওয়া যায়।নাবিলের ভাগ্য ভালো,সে এক ফুঁতে সব নেভাতে পেরেছে।এর আগে কখনো পারে নি,এই প্রথম পারলো।গতবার সে সব বাতি নিভিয়ে ফেলেছিল।ও আল্লাহ ফুঁ বন্ধ করতেই ফুট করে একটা বাতি জ্বলে গেল।তার আর কিছু চাওয়া হলো না। এইবার সে পেরেছে।সব বাতি নিভে যাওয়ার পরেও সে অনেকক্ষণ ফুঁ দিয়েছে। যেন গতবারের মতো না হয়।সবাই এমন হাততালি দিচ্ছিল যে তার লজ্জাই লাগছিল।মা বললেন'নাবিল ব্যাটা,মেক এ উইশ।'মেক এ উইশ মানে হচ্ছে কিছু একটা চাওয়া।সে চোখ বন্ধ করে একটা জিনিস চেয়েছে।জিনিসটা হচ্ছে সে যেন আলাদা একটা ঘর পায়।সেই ঘরে সে একা থাকবে,আর কেউ থাকবে না।ঘরে থাকবে ছোট বিছানা,লিটল মারমেইড,লায়ন কিং, মুগলি। আজ সে সেই ঘরটা পেল। সকাল থেকেই মা ঘর সাজাচ্ছেন।নাবিল একবার বলেছে,মা তোমার হেল্প লাগবে?হেল্প হলো একটা ইংরেজি শব্দ।হেল্প এর মানে সাহা্য্য।নাবিল স্কুলে অনেক ইংরেজি শব্দ শিখেছে।মা বলেছেন,হেল্প লাগবে না ব্যাটা। মা তাকে সবসময় আদর করে ব্যাটা বলেন।ব্যাটা মানে হচ্ছে লোক।তবে ছোট বাচ্চাদের ব্যাটা বললে সেটার অর্থ লোক হয় না।সেটার অর্থ হয় আদরের চাঁদসোনা,লক্ষীসোনা,পুটুস পুটুস। ঘরটা এত সুন্দর করে সাজানো হলো যে নাবিলের প্রায় কান্না পেয়ে যেতে লাগলো।সে কেঁদেই ফেলতো।কিন্তু ছেলেদের কাঁদতে নেই বলে কাঁদলো না।ছোট মেয়েদের কাঁদলে অবশ্যি তেমন দোষ নেই।নাবিলের ছোট বোনের নাম এশা।সে খুব কাঁদে।মা যদি হাসি মুখে নাবিলকে কিছু বলেন তাতেও সে কাদবে।ঠোঁট বাকিয়ে নাকি সুরে বলবে,কেন তুমি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে হাসলে এ্যাঁ এ্যাঁ এ্যাঁ। বাবা প্রায়ই বলে, এশা আসলে পেত্নীদের ছানা।তারা ভুল করে আমাদের বাসায় রেখে গেছে।পেত্নীরা নাকে কথা বলে বলেই এশাও রেগে গেলে নাকে কথা বলে।এগুলি অবশ্যি বাবার বানানো কথা।বড়রা খুব বানিয়ে বানিয়ে কথা বলে। ঘর সাজানো হয়ে যাবার পর নাবিলের মা বললেন, 'তারপর ব্যাটা, একা একা যে ঘুমোবে ভয় পাবে না তো?' নাবিল বলল,'না।' 'ভয় পাবার কিছু নেই।আমরাতো পাশের ঘরেই আছি।তোমার দরজা থাকবে খোলা।আমাদের দরজাও থাকবে খোলা।ভয় পেলে ডাকবে।' 'আমি ভয় পাব না মা।' 'তোমার কি ঘর পছন্দ হয়ে ছে ব্যাটা?' 'হ্যাঁ' বেশি পছন্দ হয়েছে না অল্প পছন্দ হয়েছে?' 'বেশি পছন্দ হয়েছে মা।এতো বেশি পছন্দ হয়েছে যে আমার কেঁদে ফেলতে ইচ্ছে করছে।' মা হেসে ফেললেন।মাকে হাসতে দেখে এশা রেগে গিয়ে বলল,'মা,তুমি ভাইয়ার দিকে তাঁকিয়ে হাসবে না।আমার দিকে তাঁকিয়ে হাস।' মা তখন এশার দিকে তাকিয়ে হাসলেন। চলবে,,,,,,,, #হুমায়ুন আহমেদ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পরীর মেয়ে মেঘবতী-২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now