বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- হ্যালো
- বারান্দায় আসো
- এতো রাতে ফাজলামো ভাল্লাগে না
- ফাজলামো না। আসো একটু
- পারবো না। ফোন দিছো ক্যান এতো রাতে ?
- এইবার পার্ট টা বেশী হয়ে যাচ্ছে নাহ ?
- হ্যাঁ আমিই তো সবসময় পার্ট নেই। আমার অনেক
পার্ট। জানো না ? ফোন দিছো ক্যান এখন এই
পার্টওয়ালী কে?
- আমি তোমার বাসার সামনে
- এতো রাতে মিথ্যা না বললে হয় না ? আর কতো
এরকম ? একটু বলবা প্লীজ ?
- এবার আমি মিথ্যা বলতেছি না
- রাত বাজে ৩ টা। এখন তুমি আমার বাসার সামনে ?
আমার নানী কবর থেকে উঠে আসলেও বিশ্বাস করবো
না !
- তোমাকে বিশ্বাস করতে কে বলতেছে ? শুধু বারান্দায়
আসতে বললাম একটু
- এরকম ফান কতো করছো তুমি আমার সাথে মনে
আছে ? কতবার তুমি আমাকে বারান্দায় আনছো ! আমি
কতো আশা নিয়ে বারান্দায় গেছি কিন্তু...
- আরে বাপ এইবার আইসা একটু দেখলেই তো পারো
নাকি ? আজব !
- আচ্ছা... কই তুমি ?
- তোমার হাতের ডান সাইডের গাছটার নিচে দ্যাখো
- কই ?
- গাছের পাশে একটা দেয়াল আছে দ্যাখো
- হ্যা দেয়াল দেখতেছি
- দেয়ালের পাশেই দ্যাখো
- সব তো অন্ধকার
- আচ্ছা মোবাইলের আলো দ্যাখো
- হ্যা হ্যা দেখছি দেখছি, তুমি সত্যিই আসছো
আরিফ ? এতো রাতে ? কীভাবে ? কখন ?
- রাখি এখন আমি
- আরে ফোন রাখতেছো কেন ? কি সমস্যা ?
- তো কি করবো এখন ? দাঁড়িয়ে থাকবো এরকম
অনাথের মতো ?
- তুমি এতো রাতে কেন আসতে গেলে ?
- নাহলে তো আপনার রাগ মাটিতে পড়তো না
- তাই বলে রাত ৩ টার সময় ! কীভাবে আসছো ?
- বন্ধুর সাইকেলে
- এতো রাতে যদি পুলিশ টুলিশ ধরতো ?
- এখন এতো চিন্তা মাথায় আসতেছে তোমার ! যখন
আমার ফোনের পর ফোন অনায়াসেই কেটে দিচ্ছিলে
তখন এতো চিন্তা আসে নাই মাথায় ?
- তুমি যে আমার গুষ্টিসুদ্ধ উদ্ধার করে দিলে ? রাগলে
তো মাথা ঠিক থাকে না তোমার
- এতো কিছু বোঝো তো একটু চুপ থাকতে পারো না ?
- কতক্ষণ আরিফ ?
- তুমি কি আবার শুরু করলা ? আমাকে মশায়
কামড়াইতেছে খুব
- আচ্ছা এখন বাসায় যাও। আমার আর এক ফোঁটাও
রাগ নাই তোমার উপর
- তোমাকে তো একটু দেখতেই পারলাম না
- অন্ধকার তো কীভাবে দেখবা ? আমিও তো তোমার
মোবাইলের আলো ছাড়া কিছুই দেখতেছি নাহ
- তোমার বাসায় চার্জার আছে নাহ ?
- হুম
- নিয়ে আসো
- ওইটা দিয়ে কি হবে ?
- আরে আনোই না
- দাঁড়াও একটু... হ্যা আনছি
- জ্বালাও
- চার্জার জ্বালাবো কীভাবে ?
- একটা চার্জার জ্বালাইতে পারো না ?
- মোবাইলের চার্জার কীভাবে জ্বালায় ?
- আরে ব্যাক্কল মোবাইলের চার্জারের কথা বলি নাই।
চার্জার চার্জার যেইটা কারেন্ট গেলে জ্বালায়
- ও ওইটা ? আমাকে ব্যাক্কল বলবা না। বুঝায়া বলতে
পারো না ?
- তো আমি রাত ৩ টার সময় মোবাইলের চার্জার দিয়ে
কি করবো ? বুঝো নাহ !
- আচ্ছা আনতেছি... হ্যা আনলাম এখন ?
- জ্বালাও
- বারান্দায় আলো দেখে যদি আব্বু আম্মু চলে আসে ?
- আচ্ছা কয়েক সেকেন্ডের জন্য ওইটা তোমার মুখের
সামনে ধরো যাতে আমি একটু দেখতে পাই তোমার
চেহারাটা
- আচ্ছা ওয়েট...
আলো জ্বলল। আরিফ এখন দেখছে তিথিকে। মুগ্ধ
চোখে আরিফ দেখছে গ্রিলের ফোকর থেকে। এতো
সুন্দর কখনোই লাগেনি তিথিকে। চারপাশে অন্ধকার
তার মাঝে একটু আলো। সেই আলোয় তিথির লজ্জা
লজ্জা চেহারাটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে আরিফ। তিথি
তাকিয়ে আছে অন্য দিকে। এই স্বল্প আলোতেও
আরিফ মনে মনে তিথির মুখের পাশের তিলটা খুঁজে
যাচ্ছে একমনে। হঠাৎ লাইট নিভে গেলো। আরিফের মনে
হল সে যেন হঠাৎ এক স্বপ্ন থেকে ছিটকে গেলো। এ
স্বপ্ন কি আর দেখা হবে কখনো কোনোদিন ? ভাবতে
ভাবতে অজান্তেই হাঁটা ধরল সে।
তিথি অন্ধকারেই খুঁজতে লাগলো আরিফ কে। কিন্তু
আরিফ কে দেখা যাচ্ছে না কোথাও। হঠাৎ দূরে চোখ
গেলো তিথির। একটা হালকা অবয়ব। আরিফ এক হাতে
সাইকেল নিয়ে ছোটো ছোটো পায়ে হেঁটে যাচ্ছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now