বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
আত্মার ক্রেতা [পর্ব ৩]
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)
X
লেখক:রহস্যময় হৃদয় [MH2]
সুখ বেশিদিন থাকে না,সুখের পরই আসে দুঃখ।তা প্রমাণ করার জন্যই একদিন রাতের বেলায় কিছু একটার শব্দ পেয়ে ঘুম ভাঙ্গল।আমার শরীরের নিচে ঠান্ডা অনুভব হচ্ছে,মনে হচ্ছে যেন আমি ফ্লোরে শুয়ে আছি।কিন্তু এটা কী করে হতে পারে??? আমি আমার খাটেই শুয়ে ছিলাম,আমি নিশ্চিত এ বিষয়ে।তাহলে কী আমি খাট থেকে পড়ে গিয়েছি??? এরকম তো কখনও হয় না।তবে হ্যা,মা বলত,ছোট বেলায় আমি নাকি গড়াতে গড়াতে এরকম করে পড়ে যেতাম।এতোদিন পর কী আবারও ওই অভ্যাস ফিরে আসল??? কিন্তু পড়েই যদি যাই তাহলে এতো শব্দ কেন হবে??? এরকম অনেক প্রশ্ন মনে নিয়ে জেগে উঠলাম। ধীরে ধীরে চোখ খুললাম, কারণ হঠাৎ করে যদি লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠি তাহলে আমার প্রচুর মাথাব্যাথা করে।সারাদিনও সেই মাথাব্যাথা ঠিক হতে চায় না।
চোখ খোলার পর আমি আবারও প্রচন্ড রকমের অবাক হয়ে গেলাম।কারণ এতোদিন পর আবারও সেই গলিতে চলে এসেছি আমি।সেই একই নর্দমা,সেই একই ভনভন শব্দ,দুর্গন্ধ, আর সোজা হয়ে চলা সেই অন্ধকার গলিটা।অনেকদিন ধরে আসার কারণে আমার কাছে গলিটা একদম চেনা হয়ে গিয়েছিল।আমি খাটে শুয়েছিলাম,তাহলে আজ আবারও কী করে এখানে আসলাম??? এসব ভাবতে ভাবতে হাতে ভর দিয়ে উঠে বসতে যাব এমন সময় আমার হাতে ব্যাথা অনুভব করলাম।মনে হচ্ছে আমার হাত প্রচুর জ্বলছে,পুড়ে গেলে ঠিক এইরকম অনুভূতি হয়।গলিটা অন্ধকার হলেও হালকা আলো থাকে সবসময়,সেই আলোতে চোখটাকে মানিয়ে নিতে সময় নিলাম,তারপর আমার হাতের দিকে তাকালাম, দেখলাম হাতের অনেকটা জায়গা পুড়ে গেছে।আর আমার হাতের তাবিজটা নেই,তাবিজের জায়গাটা পুড়ে গেছে।কবিরাজ বলেছিল তাবিজ যাতে না খুলি,আমি খোলিও নি,তাহলে কী আপনাআপনি খোলে গেল??? যাই হোক,এতোকিছু ভাবারও সময় পেলাম না,ঠক ঠক শব্দটা অনেক বেড়ে গেছে,এবং শব্দের উৎসও আমার একদম কাছে চলে এসেছে, আমি ওইদিনের মতো হঠাৎ শক্তি প্রাপ্ত হতে চাইলাম,প্রচন্ড গতিতে দৌড়াতে চাইলাম,কিন্তু পারলাম না।একটুও নড়তে পারছি না,মনে হচ্ছে কেউ একজন আমায় ধরে রেখেছে। এদিকে স্কন্ধকাটা আমার কাছে চলে আসল।স্কন্ধকাটার পেটের মাঝে থাকা চোখদুটো আজ কেমন যেন জ্বলজ্বল করছে।চোখদুটো মারাত্মক রকমের বিভৎস ।মনে হচ্ছে জগতের সব রাগ আর হিংসা সবটা ভরা আছে দুটো চোখের মাঝে।আমার কাছে এসেই আজ মারতে শুরু করল না,বরং দাড়িয়ে দেখতে লাগল।হালকা হাসির শব্দও পেতে লাগলাম,ভয়ংকর সেই হাসি, স্কন্ধকাটার তো মাথা নাই,আর পেটে যেই মুখটা থাকে তা সবসময় দেখা যায় না,তবে এখন দেখা যাচ্চে, বিভৎস সেই মুখ গহ্বরের ভিতর হতেই আসছে সেই শব্দটা।হাসির শব্দে কানটাকে মানিয়ে নিলাম,কিন্তু সে আমায় মানিয়ে নিতে দিল না,তার হাসি থামিয়ে গম্ভীর কর্কষ সুরে ব্যাঙ্গাত্মক কথা শুরু করল।
"কীরে??? ওই কবিরাজের তাবিজ তোকে বাঁচাতে পারল না??? ওটা এখন তোর হাতে নেই, এবার তোর থেকে তোর আত্মা নিয়ে নিতে আমারও কোনো বাধা নেই,হা হা হা,,,"
আমি আমার গলা দিয়ে শব্দ বের করতে চাইলাম, জোরে কিছু বলতে চাইলাম,প্রচন্ড ভয়ের কারণেই হোক বা কোনো অলৌকিক শক্তির কারনেই হোক আমার গলা দিয়ে একটা শব্দও বের হচ্ছে না,মনে হচ্ছে আমার ভোকাল কর্ড নামক কোনো অঙ্গই নেই। আমি নিরুপায় হয়ে শুধু শুনতে লাগলাম, স্কন্ধকাটার হাসি থামার পর আবার সে বলতে শুরু করল,,,
" আর দুইদিন পর পূর্ণিমা, দুইদিন পর রাত ১ টায় তোর শরীর আর আত্মা আলাদা করে দিব,তারপর থেকে তুই শুধু আমার হয়ে কাজ করবি। যা আজকে থেকে এই শেষ দুইদিন স্বাধীনভাবে জগতের শান্তি উপভোগ করে নে,,,"
এটুকু বলার পর সে চলে গেল,ঠকঠক শব্দটাও থেমে গেল ধীরে ধীরে,আমি সে জায়গায় নিশ্চল হয়ে বসে রইলাম,ধীরে ধীরে আমার চেতনা চলে গেল।সব কিছু অন্ধকার হয়ে আসতে লাগল,তারপর??? তারপর আর কিছু মনে নেই।
ফজরের আজান শুনে ঘুম ভাঙ্গল, আমি শক্ত কিছুর উপর শুয়ে আছি,আর হালকা ঠান্ডাও লাগছে। চোখ খুললাম, দেখলাম আমি ফ্লোরে শুয়ে আছি।প্রচুর ক্লান্ত মনে হতে লাগল নিজেকে। ধীরে ধীরে গতকাল রাতের কথা মনে পড়ল,কী হয়েছিল আমার সাথে। আর তখনই মনে পরল আমার হাত পুড়ে গেছে,উঠে বসলাম, হাতের দিকে তাকাতেই দেখলাম হাতে ফোস্কা পড়ে গেছে,আর তাবিজ নাই হাতে,তাবিজ কই আমার দৃষ্টি সেটা খুঁজতে লাগল।দেখলাম খাটের এক জায়গায় পড়ে আছে,আর তার সবটা মোম গলে গেছে, যেই তাপ এই তাবিজের মোম গলিয়েছে সেই তাবিজই আমার হাত পুড়িয়ে দিয়েছে, এর পিছনেও হয়তো স্কন্ধকাটা দায়ী।ধীরে ধীরে সব মনে পড়তে লাগল, আর এটাও মনে পড়ল যে আর মাত্র দুইদিন আমি বেঁচে আছি। মনটা প্রচুর খারাপ লাগছে। উঠে ফ্রেস হয়ে ওযু করে নামাজে গেলাম,তবে তার আগে হাতে ঔষুধ লাগিয়ে নিলাম।
নামাজ শেষে দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে প্রচুর কাঁদলাম,নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইলাম। নামাজ শেষে চলে আসব এমন সময় কেউ একজন আমার হাত ধরল, পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখলাম ইমাম সাহেব আমার হাত ধরেছেন।ইমাম সাহেবের সঙ্গে গত কয়েক মাসে ভালোই চেনা জানা হয়ে গেছে আমার।
"তোমার কিছু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।আগের সেই সমস্যা কী আবার চলে আসল নাকি???" ইমাম সাহেব জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন।
আমি হুজুরকে আগেই ঘটনাটা বলেছিলাম। আর আজ রাতে কী ঘটল তাও খোলে বললাম।ওনি চুপ করে শুনতে লাগলেন।আমার মনের গভীর একটা প্রশ্ন ওনাকে জিজ্ঞেস করতে মন চাইল,
"আচ্চা হুজুর,আমার হাতের তাবিজ পুড়ল কী করে???"
"ওই জ্বীন খুবই শক্তিশালী,ও পুড়িয়ে দিয়ে গেছে, আর ও দীর্ঘদিন থেকে এটার চেস্টা করছিল,তাই পেরে গেছে।"হুজুর বললেন।
আমি বললাম,"হুজুর,এর কি কোনে সমাধান নাই??? আমি কি সত্যিই মারা যাব???
উনি চিন্তিত ভঙ্গিতে বললেন," এর একটা সমাধান আছে।তুমি আয়াতুল কুরসী পার???"
আমি আয়াতুল কুরসী পারতাম, তাই মাথা নাড়লাম।তারপর হুজুর আমার কাছে এসে কিছু উপায় বললেন,আর বললেন মনে সাহস রাখতে।আর যা করার সব আজ রাতেই করতে হবে।কারণ আমাবস্যা আর পূর্ণিমায় নাকি জ্বীন বা এরকম অশরীরীদের শক্তি বেড়ে যায়।তাই পূর্ণিমা আসার আগেই সব করতে হবে।
আমাকে হুজুর কী কী করতে বলেছেন তা মনে করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি নিজেও জানি না।আমার ঘুম ভাঙ্গল ঠক ঠক শব্দ শুনে।আমি চোখ খোললাম,চোখ খোলেই প্রথমে আমার নজর পড়ল স্কন্ধকাটার উপর।স্কন্ধকাটার চোখদুটো জ্বলজ্বল করছে। আমাকে আজ মারবে বলে আমার মনে হলো, কারণ সে লাঠি উচিয়েছে।আমি মনেমনে আয়াতুল কুরসী পড়লাম, শরীরের মাঝে আর কোনো বাধা আছে বলে মনে হলো না, আমি নড়তে পারছিলাম।তাই সেই সুযোগে আমি উঠে দৌড়ুতে লাগলাম, আমার পিছনদিকে আজও সেই ঘোড়ার শব্দ শুনতে পারলাম,আমি আরও জোরে দৌড়াতে লাগলাম। হঠাৎ কিছু একটাতে পা লেগে পড়ে গেলাম আমি,আমার কলিজা গলার কাছে চলে আসছে বারবার,স্কন্ধকাটা এসেই আমায় মারতে শুরু করল।তারপর একসময় আমায় মেরে কাহিল করে চলে গেল রোজকার মতো।আমিও অজ্ঞান হয়ে গেলাম।
সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর আমার দুহাতের মুঠি খোললাম,দেখলাম জিনিস দুটো ঠিক আছে কিনা।দেখলাম জিনিসদুটো একদম ঠিকঠাক আছে। ফজরের নামাজের পর মসজিদের বারান্দায় বসে আছি,পকেট থেকে জিনিসদুটো আমার হাতের মুঠোয় নিলাম।হুজুরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগালাম,একটু পর হুজুর চলে আসলেন।
" আমি যা যা করতে বলেছিলাম করেছ??? আর জিনিস দুটো এনেছ???"হুজুর বললেন।
আমি আমার হাতের মুঠো খোলে দেখালাম।আমার একহাতে কিছু ধুলো আর আরেকহাতে কিছু চুল।
"বাহ ভালো কাজ করেছ।এবার বল সবটা কী করে করলে???" হাসিমুখে হুজুর বললেন।
আমি রাতের কথাগুলো মনে করে বলতে লাগলাম,,," হুজুর আপনার কথামতো আমি আয়াতুল কুরসী পড়েছিলাম,আর তারপর মনে হলো আমার শরীরে আর কোনো বাধা নাই,আমি দৌড়ুতে লাগলাম। একটা সময় এসে পড়ে গেলাম।সেই সময় স্কন্ধকাটার ঘোড়া এসে থামল আমার কাছে।আমি সাবধানে ঘোড়ার কিছু পশম আর স্কন্ধকাটার ছায়া যে জায়গায় পড়েছে সেই জায়গার মাটি নিয়ে এসেছি।তারপর অবশ্য আমায় প্রচুর পিটিয়েছে স্কন্ধকাটা।এগুলো ফেলে দিতে বলছিল,ফেলি নি।"
"ভালো করেছ, আজ মাগরিবের নামাজের পর আমার সাথে এসো।আজ এই ঘটনার অবসান হবে,,," হুজুর স্বস্তির সাথে বললেন।
আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে আসলাম।আমার নিজেরও ভালো লাগছে এটা বিশ্বাস করতে যে আগামীকাল থেকে আমি একদম স্বাধীন থাকব, মানুষ হয়েই বেঁচে থাকব, আর কেউ আমায় বিরক্ত করবে না,আর আমিও কারও দাস হবো না।মনে এই বিশ্বাস আপনাআপনি দৃঢ় হতে লাগল।বিশ্বাস যুক্তি মানে না তার বড় প্রমাণ এটা।
দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে আসল,,,
[কেমন লাগল গল্পটা??? আলসেমী ভেঙ্গে আবারও শুরু করলাম।ভেবেছিলাম এই পর্বে শেষ করব,কিন্তু শেষ হলো না।আর একটা পর্ব হবে এটার। পরে কী হলো জানতে পরের পর্বের অপেক্ষা করুন।আগের পর্ব দুটো না পড়লে বুঝবেন না কিছু।আমার প্রোফাইলে গিয়ে আগের পর্ব দুটো পড়ে নিন]
বি.দ্র.: যথেস্ট সময় আর শ্রম ব্যায় করে গল্প লিখি,তাই দয়া করে কপি করবেন না।
চলবে,,,
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now